I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
Search This Blog
Wednesday, April 27, 2022
যে জমিদারকে ব্রিটিশরাও ভয় পেত!
আজ থেকে প্রায় আড়াইশত বছর আগে এমন একজন জমিদার ছিলেন, যার নাম শুনলে আমলা-সদরপুর অঞ্চলে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খেতো। কালের বিবর্তনে তা বিলীন হয়ে গেছে। পড়ে আছে শুধুই স্মৃতিচিহ্ন। লোকমুখে শোনা যায়, জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে নাকি জুতা, সেন্ডেল, ছাতা এমনকি সাইকেল চালিয়ে যেতেও সাহস পেত না কেউ। পরাক্রমশালী জমিদারের নাম ছিলো রামানন্দ সিংহ রায়। ইংরেজি ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে যখন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হন, ঠিক তার পরপরই জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় জমিদারির ভার গ্রহণ করেন। তৎকালীন কাশীমনগর ও ৩১৭ রাজাপুর ছিল তার জমিদারির এলাকা। তারপর আস্তে আস্তে তার জমিদারি বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পদ্মার লালগোলা ঘাট পর্যন্ত তিনি জমিদারি লাভ করেন। তিনি তখন এ অঞ্চলের প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের এক বংশপরম্পরা কর্মচারী আব্দুর রহমান জানান, বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়ন ব্রিটিশ আমলে এম.জেড কোম্পানির নীল চাষের প্রধান এলাকায় পরিণত হয়। এ নীল চাষ নিয়ে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় ও প্যারী সুন্দরীর সাথে ব্রিটিশদের সাথে বিরোধ শুরু হয়। সেই বিরোধ আস্তে আস্তে দানা বেধে ওঠে। পরবর্তী সময়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যায়। এ অঞ্চলের মাটি নীল চাষের উপযোগী হওয়ায় তারা এখানে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করত। যেহেতু জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন, সেহেতু ব্রিটিশ সাহেবরা তার বাড়িতে যাওয়া-আসা করতো। জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের কোনো ছেলে সন্তান ছিলো না। তার দুটি সন্তানই ছিলো মেয়ে। বড় মেয়ে প্যারী সুন্দরী ও ছোট মেয়ে শ্যামা সুন্দরী। জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বড় মেয়েকে পছন্দ করেন তৎকালীন ব্রিটিশ এন.জেড কোম্পানির একজন কর্মকর্তা টমাস আইভান কেনি। তারপর তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। জমিদারের এত বিশাল প্রভাব ও তার মেয়ে খুব সুন্দরী হওয়ায় তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়। এদিকে ব্রিটিশ কর্মকর্তা টমাস আইভান কেনি জেদ করেন যে, তিনি প্যারী সুন্দরীকেই বিয়ে করবেন। ফলে, রাতের আঁধারে জমিদারের মেয়ে প্যারী সুন্দরীকে তুলে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেন ব্রিটিশ কর্মকর্তা। ব্রিটিশ সৈন্যরা যখন রাতের আঁধারে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বাড়িতে আক্রমণ করেন, তখন রামানন্দ সিংহ রায় তার বাড়ির ৩টি মেইন গেটের মধ্যে ২টি খুলে দেন। রামানন্দ সিংহ রায়ের বাড়ির গেটগুলো ছিলো এমন, যে তাতে একত্রে একজন লোক ছাড়া দুইজন প্রবেশ করতে পারবে না। একে একে ব্রিটিশ সৈন্যরা যখন বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে, ঠিক তখনই বাইরের তৃতীয় গেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন রামানন্দ সিংহ এবং তারই নির্দেশে জমিদারের লোকেরা ব্রিটিশদের উপর পাল্টা আক্রমণ করেছিলো। এক পর্যায়ে ১০০ ব্রিটিশ সৈন্যর মাথা কেটে জমিদার বাড়ির ড্রেন দিয়ে পাশের নদীতে ফেলে দিয়েছিলো। মানুষের রক্তে ঐ নদীর পানি লাল হয়ে গিয়েছিলো। তার পর থেকেই ঐ নদীর নাম হয় সাগরখালী নদী। আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু জানান, এক রাতে এত ব্রিটিশ সৈন্যর মৃত্যুর পর জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ব্রিটিশরা এবং তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন বৃটিশ সরকার। আর তাই জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় তার দুই মেয়েকে নিরাপদ স্থানে রেখে রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে ইংল্যান্ডে চলে যান। ইংল্যান্ডে তিনি মহারানী ভিক্টোরিয়ার কাছে আশ্রয় নেন। মহারানী তার সুন্দর ব্যবহার ও চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে তাকে তার সন্তান হিসেবে রেখে দেন। রামানন্দ সিংহ রায় মহারানীকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করতেন। এভাবে কিছুদিন থাকার পরে রামানন্দ সিংহ রায় মহারানী ভিক্টোরিয়াকে তার ১০০ ব্রিটিশ সৈন্য হত্যার সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। যেহেতু মহারানী ভিক্টোরিয়া রামানন্দ সিংহ রায়কে নিজের ছেলের মতো দেখতেন, সেহেতু মহারানী রামানন্দ সিংহ রায়কে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিজের ভুল শিকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেন। মহারানী ভিক্টোরিয়ার সুপারিশে ব্রিটিশ সরকার রামানন্দ সিংহ রায়কে ক্ষমা করে দেন এবং বছরে ৭টি খুন করলেও তার কিছু হবে না এবং ইসলামপুর, বেগমবাদ পরগনা তার জমিদারির অধীনে থাকবে। পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজে এ অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার জন্য কোটা পদ্ধতির ঘোষণা দেন ব্রিটিশ সরকার। বাংলা ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের জমিদারি তার নামেই থাকে। তারপর তার জমিদারি সমান দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রথমটি ইসলামপুর পরগনা (বর্তমানে পাবনা) এবং দ্বিতীয়টি বেগমাবাদ (বাস্তভিটা)। এক ভাগ পায় জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বড় মেয়ে প্যারী সুন্দরী এবং আরেক ভাগ পায় তার ছোট মেয়ে শ্যামা সুন্দরী। শ্যামা তার ইসলামপুর পরগনা জমিদারি চালাতে থাকেন। শ্যামা সুন্দরীর ৩টি ছেলে ছিলো। বড় ছেলে সুরেন্দ্র নারায়ন সিংহ, মেজ ছেলে সমোরেন্দ্র নারায়ন সিংহ এবং ছোট ছেলে ব্রজেন্দ্র নারায়ন সিংহ। তাদের মায়ের মৃত্যুর পর তারা জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষে সমোরেন্দ্র নারায়ন সিংহের নাতি দেবেন্দ্র নারায়ন সিংহ, সুরেন্দ্র নারায়ন সিংহের নাতি মেজেন্দ্র নারায়ন সিংহ জমিদারের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ১৩৫৩ সাল পর্যন্ত তারা জমিদারি ধরে রাখেন। পরবর্তী সময়ে শ্যামা সুন্দরীর সব সম্পত্তি ঋণের দায়ে নিলামে উঠে এবং সেই সম্পত্তি তাদের কাছ থেকে ক্রয় করেন রতন মোহন বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু রতন মোহন বন্দোপাধ্যায়ও এ সম্পত্তি বেশি দিন রাখতে পারেননি। তিন বছর পর তিনি এ সম্পত্তি বিক্রি করে দেন শিব চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের কাছে। শুরু হয় শিব চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের জমিদারি। কিন্তু তার এ জমিদারিও বেশি দিন স্থায়ীত্ব লাভ করতে পারেনি। কয়েক বছর যেতে না যেতেই তার এ সম্পত্তি সরকার নিলামে তোলে। নিলামে মোট সম্পত্তির এক ভাগের মালিক হন শিব চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের দুই ছেলে মৃণালিনি বন্দোপাধ্যায় ও কৃষ্ণ কমল বন্দোপাধ্যায়। আর অন্য এক ভাগের মালিক হন মোজাম্মেল হক চৌধুরী, গণি চৌধুরী, হক চৌধুরী, মেজবা চৌধুরী, মোশারফ হক চৌধুরী। এসময় শ্যামা সুন্দরীর পরিবারের সবাই ভারত চলে যান। আর এ অঞ্চলে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের পর তার সম্পত্তির এক অংশ নিয়ে জমিদারি শুরু করেন তার বড় মেয়ে প্যারী সুন্দরী। আর এভাবেই বাংলা ১৩৬০ সাল পর্যন্ত চলে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় ও তার বংশধরদের জমিদারি। তারপর তারা স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। তারপর তাদের সম্পত্তি নামে-বেনামে দখল হয়ে যায়। তাদের কোনো উত্তরসূরি আর এ দেশে নেই। প্যারী সুন্দরী বাংলার নীল বিদ্রোহের অবিস্মরণীয় এক চরিত্র। স্বদেশ প্রেমের অনির্বাণ শিখাসম এক নাম। আজীবন লড়েছেন মাটি ও মানুষের পক্ষে, দেশমাতৃকার স্বার্থে। অত্যাচারী নীলকরের নীল কমিশনের সাক্ষ্যে বারাসাতের ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাসলি ইডেন বলেছিলেন, ‘খুন, জখম, দাঙ্গা, ডাকাতি, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, মানুষ চুরি প্রভৃতি এমন কোনো অপরাধ নেই, যা নীলকরেরা করেনি।’ ব্রিটিশ কর্মকর্তা কেনির অত্যাচার ছিলো এদের চেয়েও মাত্রাতিরিক্ত। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান প্যারী সুন্দরী। কেনি ও প্যারী সুন্দরীর বিরোধের সূত্রপাত ভাড়ল-পোড়াদহ অঞ্চলের ধানের জমিতে জোরপূর্বক নীল চাষ করা নিয়ে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ কৃষক, প্রজা, চাষিরা প্যারী সুন্দরীর কাছে দিনের পর দিন প্রতিকারের জন্য নালিশ জানান। তিনি নায়েব রামলোচনকে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়োগ ও আক্রমণের পরামর্শ দেন। কেনির বাহিনীর কাছে তারা পরাজিত হন। ভাড়ল কুঠি লুণ্ঠিত হয়। কেনির অত্যাচার বৃদ্ধি পায়। এসময় পুনরায় প্যারী সুন্দরী নতুন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কেনির কুঠিতে আক্রমণ করে। কেনি কুঠিতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। মিসেস কেনি অজস্র কাঁচা টাকা ছড়িয়ে দিয়ে প্যারীর লাঠিয়ালদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। কেনি প্যারী সুন্দরীর বিরুদ্ধে কুঠি লুটের মামলা করেন। ভীত না হয়ে উল্টো, গর্ববোধ করেন প্যারী সুন্দরী। কেনির মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন এবং মিসেস কেনিকে বালা পরিয়ে বাঙালি বধু সাজানোর অঙ্গীকার করেন। বিপরীতে সরে দাঁড়ায় ইংরেজ সরকার। পরের বছর কুষ্টিয়াকে দেয়া হয় মহকুমার মর্যাদা। শুধু নামে নয়, চিরকুমারী প্যারী সুন্দরী জীবন ও কর্মেও ছিলেন দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক। বর্তমানে জমিদার ও প্রজাদরদী রামানন্দ সিংহ রায় ও তার কন্যা প্যারী সুন্দরীর বাস্তভিটার ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে কালের স্বাক্ষী হয়ে পড়ে আছে ব্রিটিশ নীল বিদ্রোহী ও ব্রিটিশ জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের শেষ বসত বাড়ি। যুগের পরিবর্তনে ভেঙ্গে ফেলে লুটপাট করা হয়েছে জমিদার বাড়িটি। মাটির উপরে যেটুকু ছিলো, তা রাতের আঁধারে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে এলাকাবাসী। জমিদারের জমিদারি তো অনেক আগেই শেষ হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে বাড়ি ঘরও। তাদের ইতিহাস বিলুপ্তির পথে। তবুও যেহেতু রয়ে গেছে প্যারী সুন্দরীর এই বাস্তুভিটা, সেহেতু সেটি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সংরক্ষণের দাবি।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
যে জমিদারকে ব্রিটিশরাও ভয় পেত!
আজ থেকে প্রায় আড়াইশত বছর আগে এমন একজন জমিদার ছিলেন, যার নাম শুনলে আমলা-সদরপুর অঞ্চলে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খেতো। কালের বিবর্তনে তা বিলীন হয়ে গেছে। পড়ে আছে শুধুই স্মৃতিচিহ্ন। লোকমুখে শোনা যায়, জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে নাকি জুতা, সেন্ডেল, ছাতা এমনকি সাইকেল চালিয়ে যেতেও সাহস পেত না কেউ। পরাক্রমশালী জমিদারের নাম ছিলো রামানন্দ সিংহ রায়। ইংরেজি ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে যখন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হন, ঠিক তার পরপরই জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় জমিদারির ভার গ্রহণ করেন। তৎকালীন কাশীমনগর ও ৩১৭ রাজাপুর ছিল তার জমিদারির এলাকা। তারপর আস্তে আস্তে তার জমিদারি বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পদ্মার লালগোলা ঘাট পর্যন্ত তিনি জমিদারি লাভ করেন। তিনি তখন এ অঞ্চলের প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের এক বংশপরম্পরা কর্মচারী আব্দুর রহমান জানান, বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়ন ব্রিটিশ আমলে এম.জেড কোম্পানির নীল চাষের প্রধান এলাকায় পরিণত হয়। এ নীল চাষ নিয়ে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় ও প্যারী সুন্দরীর সাথে ব্রিটিশদের সাথে বিরোধ শুরু হয়। সেই বিরোধ আস্তে আস্তে দানা বেধে ওঠে। পরবর্তী সময়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যায়। এ অঞ্চলের মাটি নীল চাষের উপযোগী হওয়ায় তারা এখানে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করত। যেহেতু জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন, সেহেতু ব্রিটিশ সাহেবরা তার বাড়িতে যাওয়া-আসা করতো। জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের কোনো ছেলে সন্তান ছিলো না। তার দুটি সন্তানই ছিলো মেয়ে। বড় মেয়ে প্যারী সুন্দরী ও ছোট মেয়ে শ্যামা সুন্দরী। জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বড় মেয়েকে পছন্দ করেন তৎকালীন ব্রিটিশ এন.জেড কোম্পানির একজন কর্মকর্তা টমাস আইভান কেনি। তারপর তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। জমিদারের এত বিশাল প্রভাব ও তার মেয়ে খুব সুন্দরী হওয়ায় তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়। এদিকে ব্রিটিশ কর্মকর্তা টমাস আইভান কেনি জেদ করেন যে, তিনি প্যারী সুন্দরীকেই বিয়ে করবেন। ফলে, রাতের আঁধারে জমিদারের মেয়ে প্যারী সুন্দরীকে তুলে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেন ব্রিটিশ কর্মকর্তা। ব্রিটিশ সৈন্যরা যখন রাতের আঁধারে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বাড়িতে আক্রমণ করেন, তখন রামানন্দ সিংহ রায় তার বাড়ির ৩টি মেইন গেটের মধ্যে ২টি খুলে দেন। রামানন্দ সিংহ রায়ের বাড়ির গেটগুলো ছিলো এমন, যে তাতে একত্রে একজন লোক ছাড়া দুইজন প্রবেশ করতে পারবে না। একে একে ব্রিটিশ সৈন্যরা যখন বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে, ঠিক তখনই বাইরের তৃতীয় গেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন রামানন্দ সিংহ এবং তারই নির্দেশে জমিদারের লোকেরা ব্রিটিশদের উপর পাল্টা আক্রমণ করেছিলো। এক পর্যায়ে ১০০ ব্রিটিশ সৈন্যর মাথা কেটে জমিদার বাড়ির ড্রেন দিয়ে পাশের নদীতে ফেলে দিয়েছিলো। মানুষের রক্তে ঐ নদীর পানি লাল হয়ে গিয়েছিলো। তার পর থেকেই ঐ নদীর নাম হয় সাগরখালী নদী। আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু জানান, এক রাতে এত ব্রিটিশ সৈন্যর মৃত্যুর পর জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ব্রিটিশরা এবং তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন বৃটিশ সরকার। আর তাই জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় তার দুই মেয়েকে নিরাপদ স্থানে রেখে রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে ইংল্যান্ডে চলে যান। ইংল্যান্ডে তিনি মহারানী ভিক্টোরিয়ার কাছে আশ্রয় নেন। মহারানী তার সুন্দর ব্যবহার ও চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে তাকে তার সন্তান হিসেবে রেখে দেন। রামানন্দ সিংহ রায় মহারানীকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করতেন। এভাবে কিছুদিন থাকার পরে রামানন্দ সিংহ রায় মহারানী ভিক্টোরিয়াকে তার ১০০ ব্রিটিশ সৈন্য হত্যার সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। যেহেতু মহারানী ভিক্টোরিয়া রামানন্দ সিংহ রায়কে নিজের ছেলের মতো দেখতেন, সেহেতু মহারানী রামানন্দ সিংহ রায়কে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিজের ভুল শিকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেন। মহারানী ভিক্টোরিয়ার সুপারিশে ব্রিটিশ সরকার রামানন্দ সিংহ রায়কে ক্ষমা করে দেন এবং বছরে ৭টি খুন করলেও তার কিছু হবে না এবং ইসলামপুর, বেগমবাদ পরগনা তার জমিদারির অধীনে থাকবে। পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজে এ অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার জন্য কোটা পদ্ধতির ঘোষণা দেন ব্রিটিশ সরকার। বাংলা ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের জমিদারি তার নামেই থাকে। তারপর তার জমিদারি সমান দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রথমটি ইসলামপুর পরগনা (বর্তমানে পাবনা) এবং দ্বিতীয়টি বেগমাবাদ (বাস্তভিটা)। এক ভাগ পায় জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের বড় মেয়ে প্যারী সুন্দরী এবং আরেক ভাগ পায় তার ছোট মেয়ে শ্যামা সুন্দরী। শ্যামা তার ইসলামপুর পরগনা জমিদারি চালাতে থাকেন। শ্যামা সুন্দরীর ৩টি ছেলে ছিলো। বড় ছেলে সুরেন্দ্র নারায়ন সিংহ, মেজ ছেলে সমোরেন্দ্র নারায়ন সিংহ এবং ছোট ছেলে ব্রজেন্দ্র নারায়ন সিংহ। তাদের মায়ের মৃত্যুর পর তারা জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষে সমোরেন্দ্র নারায়ন সিংহের নাতি দেবেন্দ্র নারায়ন সিংহ, সুরেন্দ্র নারায়ন সিংহের নাতি মেজেন্দ্র নারায়ন সিংহ জমিদারের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ১৩৫৩ সাল পর্যন্ত তারা জমিদারি ধরে রাখেন। পরবর্তী সময়ে শ্যামা সুন্দরীর সব সম্পত্তি ঋণের দায়ে নিলামে উঠে এবং সেই সম্পত্তি তাদের কাছ থেকে ক্রয় করেন রতন মোহন বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু রতন মোহন বন্দোপাধ্যায়ও এ সম্পত্তি বেশি দিন রাখতে পারেননি। তিন বছর পর তিনি এ সম্পত্তি বিক্রি করে দেন শিব চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের কাছে। শুরু হয় শিব চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের জমিদারি। কিন্তু তার এ জমিদারিও বেশি দিন স্থায়ীত্ব লাভ করতে পারেনি। কয়েক বছর যেতে না যেতেই তার এ সম্পত্তি সরকার নিলামে তোলে। নিলামে মোট সম্পত্তির এক ভাগের মালিক হন শিব চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের দুই ছেলে মৃণালিনি বন্দোপাধ্যায় ও কৃষ্ণ কমল বন্দোপাধ্যায়। আর অন্য এক ভাগের মালিক হন মোজাম্মেল হক চৌধুরী, গণি চৌধুরী, হক চৌধুরী, মেজবা চৌধুরী, মোশারফ হক চৌধুরী। এসময় শ্যামা সুন্দরীর পরিবারের সবাই ভারত চলে যান। আর এ অঞ্চলে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের পর তার সম্পত্তির এক অংশ নিয়ে জমিদারি শুরু করেন তার বড় মেয়ে প্যারী সুন্দরী। আর এভাবেই বাংলা ১৩৬০ সাল পর্যন্ত চলে জমিদার রামানন্দ সিংহ রায় ও তার বংশধরদের জমিদারি। তারপর তারা স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। তারপর তাদের সম্পত্তি নামে-বেনামে দখল হয়ে যায়। তাদের কোনো উত্তরসূরি আর এ দেশে নেই। প্যারী সুন্দরী বাংলার নীল বিদ্রোহের অবিস্মরণীয় এক চরিত্র। স্বদেশ প্রেমের অনির্বাণ শিখাসম এক নাম। আজীবন লড়েছেন মাটি ও মানুষের পক্ষে, দেশমাতৃকার স্বার্থে। অত্যাচারী নীলকরের নীল কমিশনের সাক্ষ্যে বারাসাতের ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাসলি ইডেন বলেছিলেন, ‘খুন, জখম, দাঙ্গা, ডাকাতি, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, মানুষ চুরি প্রভৃতি এমন কোনো অপরাধ নেই, যা নীলকরেরা করেনি।’ ব্রিটিশ কর্মকর্তা কেনির অত্যাচার ছিলো এদের চেয়েও মাত্রাতিরিক্ত। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান প্যারী সুন্দরী। কেনি ও প্যারী সুন্দরীর বিরোধের সূত্রপাত ভাড়ল-পোড়াদহ অঞ্চলের ধানের জমিতে জোরপূর্বক নীল চাষ করা নিয়ে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ কৃষক, প্রজা, চাষিরা প্যারী সুন্দরীর কাছে দিনের পর দিন প্রতিকারের জন্য নালিশ জানান। তিনি নায়েব রামলোচনকে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়োগ ও আক্রমণের পরামর্শ দেন। কেনির বাহিনীর কাছে তারা পরাজিত হন। ভাড়ল কুঠি লুণ্ঠিত হয়। কেনির অত্যাচার বৃদ্ধি পায়। এসময় পুনরায় প্যারী সুন্দরী নতুন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কেনির কুঠিতে আক্রমণ করে। কেনি কুঠিতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। মিসেস কেনি অজস্র কাঁচা টাকা ছড়িয়ে দিয়ে প্যারীর লাঠিয়ালদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। কেনি প্যারী সুন্দরীর বিরুদ্ধে কুঠি লুটের মামলা করেন। ভীত না হয়ে উল্টো, গর্ববোধ করেন প্যারী সুন্দরী। কেনির মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন এবং মিসেস কেনিকে বালা পরিয়ে বাঙালি বধু সাজানোর অঙ্গীকার করেন। বিপরীতে সরে দাঁড়ায় ইংরেজ সরকার। পরের বছর কুষ্টিয়াকে দেয়া হয় মহকুমার মর্যাদা। শুধু নামে নয়, চিরকুমারী প্যারী সুন্দরী জীবন ও কর্মেও ছিলেন দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক। বর্তমানে জমিদার ও প্রজাদরদী রামানন্দ সিংহ রায় ও তার কন্যা প্যারী সুন্দরীর বাস্তভিটার ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে কালের স্বাক্ষী হয়ে পড়ে আছে ব্রিটিশ নীল বিদ্রোহী ও ব্রিটিশ জমিদার রামানন্দ সিংহ রায়ের শেষ বসত বাড়ি। যুগের পরিবর্তনে ভেঙ্গে ফেলে লুটপাট করা হয়েছে জমিদার বাড়িটি। মাটির উপরে যেটুকু ছিলো, তা রাতের আঁধারে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে এলাকাবাসী। জমিদারের জমিদারি তো অনেক আগেই শেষ হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে বাড়ি ঘরও। তাদের ইতিহাস বিলুপ্তির পথে। তবুও যেহেতু রয়ে গেছে প্যারী সুন্দরীর এই বাস্তুভিটা, সেহেতু সেটি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সংরক্ষণের দাবি।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
Monday, April 18, 2022
পুরুষেরও হিজাব আছে।
পুরুষেরও হিজাব আছে। একথা হয়ত আমাদের অনেকেরই জানা নাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা নূরের ৩০নং আয়াতে পুরুষকে তার চোখের হিজাবের হুকুম দিয়েছেন। পুরুষের হিজাবের এই বিধানটি প্রথমে এসেছে। এরপরে ৩১নং আয়াতে এসেছে নারীর হিজাবের বিধান।
আল্লাহপাক বলেন, ‘হে নবী! মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ (সূরা নূর, আয়াত-৩০)
এই আয়াতে প্রথম নির্দেশনাটি হচ্ছে পুরুষের দৃষ্টি অবনত রাখার। আর পরেরটি হচ্ছে পুরুষের লজ্জাস্থান হেফাজত রাখার। নির্দেশনা দুটি একটি আরেকটির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রথমটির অনিবার্য পরিণতিই হচ্ছে শেষেরটি। অর্থাৎ দৃষ্টি নিয়ন্ত্রিত হলেই লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ সম্ভব।
একজন পুরুষের জন্য নিজ স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন নারীর সৌন্দর্যকে দেখা বা দেহের আকৃতি অন্তরে অনুভব করা সম্পুর্ন হারাম। অথচ আমাদের সমাজে নোংরা লোলুপ দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ রয়েছে। এদের চোখের কামুকতায় কন্যা শিশু থেকে বৃদ্ধা নারী পর্যন্ত কারোই যেন কোন রেহাই নাই। কেউ ধর্ষণ করলে স্বাক্ষী প্রমান থাকে। ইভটিজিং করলে স্বাক্ষী প্রমান থাকে। কিন্তু চোখের যিনার কোন স্বাক্ষী প্রমান থাকে না বলে এরা দিব্যি পার পেয়ে যায়। তবে এটা দুনিয়ার আইনে। কিন্তু আল্লাহর দরবারে চোখের যিনাকারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
প্রশ্ন আসতে পারে, আমাদের সমাজে পুরুষের পক্ষে সার্বক্ষণিক চোখ বাঁচিয়ে চলাচল করাটা তো কঠিন কাজ। এর উত্তরে সুন্দর একটি হাদিস রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একবার হজরত আলী (রাঃ)কে বলেন, ‘হে আলী! তুমি দৃষ্টির পর দৃষ্টি ফেলো না। হঠাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে যে দৃষ্টি পড়ে তার জন্য তুমি ক্ষমা পাবে। কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্য বৈধ নয়।’ (আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাউদ, দারেমী, মিশকাত: ৩১১০)
আসলে বাহ্যিক পর্দা দ্বারা যেমন দেহকে আবৃত করা জরুরী। তেমনিভাবে তাকওয়া বা আল্লাহ্ ভীতির দ্বারা আমাদের চোখ ও মনকে কন্ট্রোল ও হিফাজতে রাখাও জরুরী। এই উভয় প্রকার পদ্ধতি অবলম্বনের দ্বারাই নারী-পুরুষ উভয়ের পরিপূর্ণ পর্দার সংরক্ষণ সম্ভব।
তাই নারীর যেমন পর্দা প্রয়োজন। পুরুষেরও তেমনি চোখের পর্দা প্রয়োজন। এর দুটির কোনো একটির অভাবে সমাজে ধর্ষণ, ব্যভিচারীতা, পরকীয়া, অশ্লীলতা ও শ্লীলতাহানির মত বিভৎসতা প্রসার লাভ করতে বাধ্য।
তাই হারামে দৃষ্টি দেবার আগে আমরা যেন মনে রাখি, আল্লাহ কিন্তু আমাদের উপর সার্বক্ষণিক দৃষ্টি দিয়ে রেখেছেন।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
Thursday, April 14, 2022
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বমুখীতা
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বমুখীতার প্রতিবাদে আজকের হরতাল কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রীরা একদিকে যেমন হাসিঠাট্টা করছে। অন্যদিকে তাঁরাই আবার পুলিশ দিয়ে জলকামান ও নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছে। সরকারী দলও বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে হরতাল প্রতিহতের চেষ্টা চালিয়েছে।
একদিকে দ্রব্যমূল্যের আঘাতে জর্জরিত দেশের মানুষগুলো পঙ্গপালের মত টিসিবির গাড়ির পেছনে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুঁটছে। অন্যদিকে উন্নয়নের মহাসড়কের দাবীদার সরকার আগামীকাল জনগণকে জমকালো এক কনসার্ট উপহার দিচ্ছে। উৎসব আয়োজনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সরকার নিশ্চয়ই বামদের হরতালেও নিজের গদি হারানোর ভয়ে ভীত। নতুবা রাজপথে প্রতিবাদী এই নিরস্ত্র মানুষগুলোকে এভাবে পেটানো হলো কেন?
যে দেশের সরকার তার জনগণের একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিবাদকে পর্যন্ত মানতে না পেরে পুলিশ দিয়ে নির্বিচারে পেটায়। অভূক্ত জনগণের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে হাসিঠাট্টা ও রংতামাশা করে। তারা দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার হিসাবে কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
*সূরা ফাতিহা*
সাত আয়াতের সূরা ফাতিহা’র মধ্যে কি রয়েছে? এর মর্ম ও অর্থ আমরা সবাই হয়ত বুঝিনা। আল্লাহর কাছে আমরা কি চাচ্ছি। আল্লাহর কাছে কি বলছি। সেগুলো মুখস্ত বলছি ঠিকই। কিন্তু তার মানে হয়ত কিছুই জানি না। আসুন, জেনে নেই।
ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ رَبِّ ٱلْعَالَمِينَ
আলহামদুলিল্লা-হি রাব্বিল আ-লামীন।
সূরা ফাতিহার শুরুতে ‘আলহামদুলিল্লাহ’। অর্থাৎ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’ বললেও আসলেই কি আমাদের সমস্ত কিছুর জন্য আল্লাহকে প্রশংসার সবটুকু দিচ্ছি। নাকি জাগতিক তোষামোদি ও চাটুকারিতায় মানুষকেও এই প্রশংসায় শরীক করছি!
‘রাব্বিল আ’লামীন’ অর্থাৎ ‘সমস্ত সৃষ্টি জগত সমূহের প্রভূ’। ‘রব’ শব্দটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বেলায় প্রযোজ্য হতে পারে না। আর বিশ্ব জগত সমূহের উন্মেষ, স্থিতি ও স্থায়িত্ব শুধুমাত্র একক রবের মূখাপেক্ষী।
ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
আর রাহমা-নির রাহীম।
অর্থাৎ ‘পরম দাতা ও দয়ালু’।
مَالِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ
মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
অর্থাৎ ‘বিচার দিবসের মালিক’। ঐ দিবসকে প্রতিফল দিবস বলে। যে দিবসে পুরুস্কার ও তিরস্কার কার্যকর হবে।
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কানাসতা’ঈন।
‘ইয়্যাকা না’বুদু’ অর্থাৎ ‘আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি’। ‘ওয়া ইয়্যা-কানাসতা’ঈন’ অর্থাৎ ‘আমরা শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি’।আমরা প্রতি নামাজে একথা ঠিকই বলছি। কিন্তু নিজেকে একটু পরখ করি তো। আমরা কি সত্যিই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে কোন সাহায্য চাই না। জেনে না জেনে, ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক করছি কিনা।
ٱهْدِنَا ٱلصِّرَاطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ
ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
অর্থাৎ ‘আমাদেরকে সরল পথ দেখাও’। সরল পথ মানে সোজা রাস্তা, যাতে কোন আঁকা-বাকা নেই। যার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ‘ইসলাম’।
صِرَاطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
সিরা-তাল্লাযীনা আন’আম তা’আলাইহিম।
অর্থাৎ ‘তাঁদের পথে যারা আপনার নে’আমত বা অনুগ্রহ লাভ করেছে’। আল্লাহর করুণা সিক্ত বা অনুগ্রহ প্রাপ্ত প্রিয় ভাজন কারা আল্লাহ পাক নিজেই সূরা নিসা’র ৬৯নং আয়াতে জানিয়ে দিয়েছেন- “নে’আমত প্রাপ্তরা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও সালেহীনগণ।”
غَيۡرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا اَ۬لضَّآلِّينَ ص
গাইরিল মাগদূ বি’আলাইহীম ওয়ালাদ দ্বাল্লিন।
অর্থাৎ ‘যারা আপনার অভিসম্পাত গ্রস্ত বা গজব গ্রস্ত তাঁদের পথে নয়, তাদের পথেও নয় যারা পথভ্রষ্ঠ হয়েছে’। রাসূল (সাঃ) বলেন, যাদের প্রতি গজব অবতীর্ণ হয়েছে তারা ‘ইহুদী’, আর যারা পথভ্রষ্ঠ তারা ‘খৃষ্টান’।
আসুন এবার আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি। আমরা কি সত্যিই কোনভাবেই ইহুদী খৃষ্টানের মত চলতে চাই না। আমরা কি সত্যিই মনেপ্রানে চাই- নবীদের মত, আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দাদের মত, কিংবা শহীদদের মত করে চলতে।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সূরা ইখলাস []
মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে আল্লাহ্ তা'আলার বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল। যার জওয়াবে সূরা ইখলাস নাযিল হয়। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা আরও প্রশ্ন করেছিল। আল্লাহ তা'আলা কিসের তৈরী? স্বর্ণরৌপ্য অথবা অন্য কিছুর? এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে "তাফসির ইবনে কাসীর" এ বলা হয়েছে, যখন ইহুদিরা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র উযায়েরকে উপাসনা করি’। এবং খ্রিস্টানরা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র মাসীহ (ঈসা) এর উপাসনা করি’। এবং জুরোস্ত্রীরা বলে, ‘আমরা সূর্য ও চাঁদের উপাসনা করি’। এবং মুশরিকরা বলে ‘আমরা মূর্তিপূজা করি,'। তখন আল্লাহ তার রাসূলের প্রতি এই সূরাটি অবতীর্ণ করে বলছেন, "বলুনঃ তিনিই আল্লাহ এক। তিনিই এক, একক। তার কোন সমকক্ষ নেই, কোন সহকারী নেই, প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, বরং সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং তার কোন তুলনাও নেই।"
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সূরা ইখলাস এক-তৃতীয়াংশ কুরআনের সমান’। ‘নিশ্চয় সূরা ইখলাসের ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে’।
আসুন, জেনে নেই মাত্র চার আয়াতের এই প্রিয় সূরাটির মর্মাথ:-
قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ
‘ক্বুল্ হু ওয়াল্লাহু আহাদ্’
(বলুন, তিনিই আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়)।
‘আহাদ’- (আল্লাহ এক)। ইসলাম ব্যতীত অন্য সবগুলো ধর্মের লোকেরা আল্লাহর শরীক বা অংশীদার সাব্যস্ত করেছে। যেমন ইহুদীগণ ওযায়েরকে এবং খৃষ্টানগণ ঈসাকে ‘আল্লাহর পুত্র’ বলেছে (সূরা তওবা ৯/৩০)। ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী খৃষ্টানগণ আল্লাহকে ‘তিন উপাস্যের একজন’ বলেছে (সূরা মায়েদাহ ৫/৭৩)। অন্যদিকে ভারতীয় বহু ঈশ্বরবাদীদের তো ভগবানের কোন সংখ্যাসীমাই নেই। এইসব বে-দলীল ও কাল্পনিক কথার জবাব অত্র আয়াতে আল্লাহ ছোট্ট একটি শব্দ দিয়েছেন- ‘আহাদ’ অর্থাৎ আল্লাহ ‘এক’। ‘ওয়াহেদ’ ও ‘আহাদ’ দু’টি শব্দেরই অর্থ ‘এক’। তবে পার্থক্য এই যে, ওয়াহেদ-এর দ্বিতীয় অর্থ রয়েছে। কিন্তু আহাদ-এর কোন দ্বিতীয় অর্থ নেই। আল্লাহ লা-শারীক। এতে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহর একক হুকুমেই সৃষ্টিজগত পরিচালিত হয়। এতে অন্যের কোন অংশীদারিত্ব নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়।
اَللّٰهُ الصَّمَدُ
‘আল্লহুস্ স্বমাদ’
(আল্লাহ্ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)।
‘স্বমাদ’- আল্লাহ মুখাপেক্ষীহীন। যিনি সকলের থেকে মুখাপেক্ষীহীন। অথচ সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।
لَمۡ یَلِدۡ ۬ۙ وَ لَمۡ یُوۡلَدۡ
‘লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ’
(তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি)।
তাঁর কোন সন্তান নেই বা পিতা নেই বা কোন স্ত্রী নেই (ইবনে কাসীর)। তিনি কারো উত্তরাধিকারী নন এবং কেউ তাঁর উত্তরাধিকারী নয়। স্বয়ং আল্লাহ নিজেই তাঁর পরিচয় দিয়ে বলেন, “তিনিই আসমান ও যমীনের প্রথম সৃষ্টিকর্তা। কিভাবে তাঁর পুত্র সন্তান হবে? অথচ তাঁর কোন স্ত্রী নেই। আর তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই সকল বিষয়ে অবহিত” (সূরা আন‘আম ৬/১০১)। ‘এবং তিনি কারো জন্মিত নন’ বলার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তিনিই আদি সৃষ্টিকর্তা। তাঁর পূর্বে কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না।
وَ لَمۡ یَکُنۡ لَّهٗ کُفُوًا اَحَدٌ
‘ওয়া লাম ইয়া কুল্ লাহু কুফুওয়ান আহাদ’
(এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই)।
অর্থাৎ সত্তা ও গুণাবলীতে আল্লাহর সাথে তুলনীয় কিছুই নেই। আল্লাহ নিজেই বলেন, “তাঁর মত কোন কিছুই নেই।’’ (সূরা শুরা/১১)
স্বীয় সত্তা ও গুণাবলীতে আল্লাহ একক ও তুলনাহীন। এই নির্ভেজাল তাওহীদ বিশ্বাসকে যাবতীয় শিরকের কালিমা হ’তে মুক্ত রাখার আহবানই হ’ল সূরা ইখলাসের সারকথা।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সূরা আসর []
মাত্র তিন আয়াতের ছোট্ট এই সুরা। এতে আল্লাহ আমাদের সফলতার ফর্মূলা দিয়েছেন। মাত্র চারটি সহজ গুণের এই ফর্মূলা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শপথ করে বলছেন, এই চারটি গুণবিশিষ্ট মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতের সকল ক্ষতি থেকে মুক্ত। এই চারটি হলো, ঈমান, আমল, দাওয়াত ও সবর।
আসুন জেনে নেই সুরা আসরের সেই ফর্মূলাটি:-
১) وَالْعَصْرِ অল্ ‘আছ্রি
অর্থ্যাৎ ‘কালের শপথ’।
পবিত্র কুরআনে ৪০টি বিষয়ের শপথ করা হয়েছে। তন্মধ্যে ২০টি ভূমন্ডলীয় ও ২০টি নভোমন্ডলীয়। এই চল্লিশটি সৃষ্ট বস্ত্তর শপথের মধ্যে ‘আসর’ অর্থাৎ কালের শপথ হ’ল কুরআনের তারতীব অনুযায়ী সর্বশেষ শপথ।
২) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِيْ خُسْرٍ ইন্নাল্ ইন্সা-না লাফী খুস্রিন্
অর্থ্যাৎ ‘নিশ্চয়ই সকল মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে’।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘হে লোকসকল! জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য আমি তোমাদের কোমর ধরে আকর্ষণকারী। তোমরা জাহান্নাম থেকে আমার দিকে ফিরে এসো! তোমরা জাহান্নাম থেকে আমার দিকে ফিরে এসো! কিন্তু তোমরা আমাকে পরাস্ত করে জাহান্নামে ঢুকে পড়ছ’।[বুখারী হা/৬৪৮৩, মুসলিম হা/২২৮৪]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আমি তোমাদেরকে শত্রুবাহিনী থেকে ভয় প্রদর্শনকারী সতর্ককারীর ন্যায়। অতএব তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো! তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো’! [বুখারী হা/৬৪৮২, মুসলিম হা/২২৮৩]
কিন্তু এটাই বাস্তব সত্য যে, মানুষ জেনে-বুঝে নিজের ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। এজন্যই আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় সকল মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে’।
৩) إِلاَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া ‘আমিলুছ্ ছোয়া -লিহা-তি অতাওয়া- ছোয়াও বিল্ হাককি অ তাওয়া-ছোয়াওবিছ্ ছোয়াব্র্
অর্থ্যাৎ ‘তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে এবং পরস্পরকে ‘হক’-এর উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে’।
অর্থাৎ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে পারে কেবল চারটি গুণবিশিষ্ট মানুষ। যার মধ্যে প্রথম দু’টি হ’ল ব্যক্তিগত ও পরের দু’টি হ’ল সমাজগত।
প্রথম দু’টির প্রথমটি হ’ল ‘ঈমান’ এবং দ্বিতীয়টি হ’ল ‘আমল’। হৃদয়ে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়নের নাম হ’ল ঈমান। আর শরী‘আত অনুমোদিত নেক আমলকেই ‘সৎকর্ম’ বলা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের আপ্যায়নের জন্য জান্নাত হবে তাদের বাসস্থান’ (সূরা সাজদাহ, ১৯)। ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই হ’ল সৃষ্টির সেরা’। (সূরা বাইয়েনাহ, ৭)।
অন্যদিকে এই আয়াতে বর্ণিত দু’টি সমাজগত গুণের প্রথমটি হ’ল ‘পরস্পরকে হক-এর উপদেশ দেওয়া’। আল্লাহ বলেন, ‘ঐ ব্যক্তির চাইতে উত্তম কথা কার আছে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে…’ (সূরা হা-মীম সাজদাহ, ৩৩)।
সমাজগত গুণের দ্বিতীয়টি হ’ল, ‘পরস্পরকে সবরের উপদেশ দেওয়া’। আল্লাহ বলেন, ‘ধৈর্য্যশীল বান্দাদের বেহিসাব পুরস্কার দান করা হবে’ (সূরা যুমার, ১০)।
সবর তিন প্রকার : (ক) বিপদে সবর করা (খ) পাপ থেকে সবর করা অর্থাৎ বিরত থাকা (গ) আল্লাহর আনুগত্যে সবর করা অর্থাৎ দৃঢ় থাকা।
এই সূরায় বর্ণিত চারটি গুণের মধ্যে শেষোক্ত দু’টি গুণ হ’ল মুসলমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেটি আল্লাহ অন্যত্র ‘আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকার’ বলে অভিহিত করেছেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে এ জন্যে যে, তোমরা মানুষকে ন্যায়ের আদেশ দিবে ও অন্যায়ের নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখবে’ (সূরা আল ইমরান, ১১০)।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সূরা ফীল []
ছোটবেলা থেকেই পড়ে আসছি সূরা ফীলের ঘটনা। হাতিবাহিনী নিয়ে কা‘বাগৃহ ধ্বংস করার জন্য আবরাহার অভিযানের ঘটনা। ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট ছোট পাখি দিয়ে (যদিও আমরা এই পাখিকে ভুল করে আবাবীল বলে থাকি) কংকর নিক্ষেপ করে হাতিবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করার ঘটনা।
কিন্তু পুরো ঘটনাটি জানলে। সত্যিই আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাবেন। ঘটনাটি শুনুন:-
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্মের ৫০ বা ৫৫ দিন পূর্বে। ইয়ামেনের খ্রিষ্টান গভর্ণর আবরাহা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হস্তীবাহিনীসহ বিশাল সৈন্যদল নিয়ে কা‘বাগৃহ ধ্বংস করার জন্য এসেছিলো। আবরাহা ছিল বেঁটে ও দুর্বল। ফলে ইতিপূর্বে এক লড়াইয়ের সময়। আবরাহার প্রতিপক্ষ আরিয়াত্বের তরবারির আঘাতে তার নাক-মুখ কেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় আবরাহার গোলাম আতাওদাহ হামলা চালিয়ে আরিয়াত্বকে হত্যা করে। আবরাহা আহত অবস্থায় ফিরে আসেন। পরে সুস্থ হয়ে ইয়ামেনের একচ্ছত্র শাসক হন। যুদ্ধে নাক-মুখ কাটা হওয়ার কারণেই তাকে ‘আশরাম’ বলা হতে থাকে। তখন থেকে ‘নাককাটা আবরাহা’ নামে তিনি পরিচিত হন। আবরাহার পুরো নাম ছিল আবরাহা ইবনুছ ছাববাহ।
আবরাহা চিন্তা করলেন যে। আরবদেরকে মক্কায় হজ্জ বাদ দিয়ে ইয়েমেনের গীর্জায় হজ্জ করাতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে সর্বত্র ঘোষণা জারি করলেন যে, এবছর থেকে হজ্জ কা‘বাগৃহের বদলে ইয়েমেনের গীর্জায় হবে। তার এই ঘোষণা সর্বত্র দারুণ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করল। কুরায়েশরা রাগে ফেটে পড়ল। কথিত আছে যে, তাঁদের কেউ একজন এসে ঐ জাঁকজমকপূর্ণ ‘কুল্লাইস’ গীর্জায় গোপনে ঢুকে পায়খানা করে যায়। অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, কুরায়েশদের একদল যুবক ঐ গীর্জায় ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। যাতে গীর্জা পুড়ে ধূলিসাৎ হয়ে যায় (ইবনে কাসীর)।
এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আবরাহা বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করেন। কোন বর্ণনায় ২০ হাজার। কোন বর্ণনায় ৬০ হাজার সৈন্যের কথা এসেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল। লোহার শিকলের এক প্রান্ত কা‘বার দেওয়ালে বেঁধে অন্য প্রান্ত হাতির ঘাড়ে বাঁধা হবে। অতঃপর হাতিকে হাঁকিয়ে দেয়া হবে। যাতে পুরা কা‘বাগৃহ এক সাথে উপড়ে ভেঙ্গে পড়ে (ইবনে কাসীর)।
আবরাহার কা‘বা অভিযানের খবর শুনে সর্বত্র আতংক ছড়িয়ে পড়ল। কিছু সাহসী মানুষ তাকে প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিল। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইয়ামেনের সাবেক শাসক বংশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা “যূ-নফর”। তিনি তার নিজ সম্প্রদায় এবং সমস্ত আরব জনগণকে বায়তুল্লাহ রক্ষার পবিত্র জিহাদে তার সাথে শরীক হওয়ার আহবান জানান। ফলে বহু লোক তার পতাকাতলে সমবেত হয়। এবং আবরাহার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। কিন্তু অবশেষে তারা পরাজিত হয়। “যূ-নফর” বন্দী হলেন। কিন্তু আবরাহা তাকে হত্যা না করে সঙ্গে নিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর খাশ‘আম এলাকা অতিক্রমের সময় ‘নুফায়েল বিন হাবীব আল-খাশ‘আমী’ তার সম্প্রদায়ের লোকদের নিয়ে বাঁধা দিলেন। কিন্তু তুমুল যুদ্ধের পর তারাও পরাজিত হল। নুফায়েলকে হত্যা না করে আবরাহা তাকেও সাথে নিলেন পথপ্রদর্শক হিসাবে।
অতঃপর ত্বায়েফ অতিক্রম করার সময় সেখানকার প্রসিদ্ধ ছাক্বীফ গোত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলল। কিন্তু সেটা বায়তুল্লাহর স্বার্থে ছিল না। বরং তাদের ‘লাত’ প্রতিমা রক্ষার স্বার্থে ছিল। কারণ তারা ভেবেছিল যে। আবরাহা তাদের মূর্তি ধ্বংস করার জন্য আসছেন। পরে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারল। আবরাহার সম্মানার্থে একজন দক্ষ পথপ্রদর্শক হিসাবে ‘আবু রিগাল’ নামক জনৈক ব্যক্তিকে আবরাহার সাথে পাঠালো। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আবরাহা মক্কার অদূরবর্তী ‘মুগাম্মিস’ নামক স্থানে অবতরণ করলেন। অতঃপর তার বাহিনী মক্কার উট-দুম্বা ইত্যাদি গবাদিপশু লুট করা শুরু করল। যার মধ্যে মক্কার নেতা আব্দুল মুত্ত্বালিবের দুশো উট ছিল।
আল্লাহর ইচ্ছায় আবরাহার পথপ্রদর্শক আবু রিগাল মুগাম্মিসে অবতরণ করেই মৃত্যুবরণ করল। সেই থেকে আরবরা তার কবরে পাথর ছুঁড়ে মারে।
অতঃপর আবরাহা ‘হুনাত্বাহ আল-হিমইয়ারী’ নামক এক ব্যক্তিকে তার প্রতিনিধি হিসাবে মক্কায় পাঠান। এই কথা বলে যে, তিনি যেন মক্কার নেতাকে গিয়ে বলেন যে। আমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসিনি। আমরা এসেছি কা‘বাগৃহ ধ্বংস করতে। যদি তারা বাঁধা না দেন। তাহলে তাদের নেতা যেন তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। হুনাত্বাহ গিয়ে মক্কার নেতা আব্দুল মুত্ত্বালিবকে সব কথা খুলে বললেন। জওয়াবে আব্দুল মুত্ত্বালিব বললেন, আবরাহার বিশাল বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। এটি আল্লাহর ঘর ও তার বন্ধু ইবরাহীমের ঘর। আল্লাহ তার গৃহের হেফাযত করবেন।
অতঃপর তিনি তার কয়েকজন পুত্রসহ আবরাহার কাছে গেলেন। আব্দুল মুত্ত্বালিবের সুশ্রী, সুঠাম, সৌম্যকান্তি দেখে আবরাহা শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে। তার আসন থেকে নেমে এসে তার পাশে বিছানায় বসেন। পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলেন। আব্দুল মুত্ত্বালিব তাঁর লুট করা দুশো উট ফেরত চাইলেন। কিন্তু কা‘বাগৃহ সম্পর্কে কিছু বললেন না। এতে বিস্মিত হয়ে আবরাহা বললেন, ‘আপনাকে দেখে আমি শ্রদ্ধায় অবনত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমি বিস্মিত হচ্ছি এজন্য যে, আপনি কেবল আপনার স্বার্থের কথা বললেন। অথচ যে কা‘বাগৃহ আমরা ধ্বংস করতে এসেছি। যা আপনার ও আপনার পিতৃপুরুষের ইবাদতগৃহ। তার সম্পর্কে আপনি কিছুই বললেন না’।
তখন জবাবে আব্দুল মুত্ত্বালিব বললেন, ‘আমি মালিক উটের। আর ঐ গৃহের একজন মালিক আছেন। যিনি তাকে রক্ষা করবেন’ (তানতাভী)। আবরাহা বললেন, ‘আজ আমার হাত থেকে কাবাকে রক্ষা করার কেউ নেই’। আবদুল মুত্ত্বালিব বললেন, ‘এটা আপনার ও তাঁর (অর্থাৎ আল্লাহর) ব্যাপার’।
আবদুল মুত্ত্বালিব তাঁর দুশো উট নিয়ে ফিরে এলেন। অতঃপর সবাইকে মক্কা থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিতে বললেন। তারপর তিনি নিজে ও একদল সাথীসহ গিয়ে কা‘বাগৃহের দরজার চৌকাঠ ধরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকলেন। কাঁদতে থাকলেন।
অতঃপর আবরাহা যখন মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হওয়ার উদ্যোগ নেন। হাতিকে মক্কার দিকে হাঁকাতে চেষ্টা করেন, তখন হাতি বসে পড়ে। অতঃপর শত চেষ্টা করেও হাতিকে মক্কা মুখী করা যায়নি। অথচ ইয়ামেন মুখী করা হলেই কেবল হাতি দৌড় দেয়। মক্কা মুখী করলেই সে বসে পড়ে।
ইতিমধ্যে সাগরের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অচেনা পাখি আসতে শুরু করে। যাদের প্রত্যেকের মুখে একটি ও দু’পায়ে দু’টি করে কংকর ছিল। যা ডাল ও গমের মত সাইজের। এই কংকর যার মাথায় পড়েছে। সে ধ্বংস হয়েছে। সবাইকে লাগেনি। কিছু আঘাতপ্রাপ্তদের মরতে দেখে বাকী সবাই দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করে।
আবরাহা বাহিনী মক্কা থেকে পালিয়ে ইয়ামেন পর্যন্ত পথে পথে মরতে মরতে যায়। আবরাহা তার প্রিয় রাজধানী ছান‘আ শহরে পৌঁছে লোকদের কাছে আল্লাহর গযবের ঘটনা বলার পর মৃত্যুবরণ করে। এ সময় তার বুক ফেটে কলিজা বেরিয়ে যায়। ইবনু ইসহাক বলেন, এর পরপরই আল্লাহ তাঁর বিশেষ রহমত স্বরূপ কুরায়েশদের গৃহে তাঁর প্রিয়নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেন। এই ঘটনার পর দশ বছর মক্কার লোকেরা মূর্তিপূজা থেকে বিরত থাকে।
এবার সূরাটি পড়ে নেই:-
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ
(১) আলাম তারা কাইফা ফা'আলা রাব্বুকা বিআছহ্বা-বিল ফীল ।
তুমি কি দেখো নি, তোমার প্রভু হস্তীওয়ালাদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছিলেন?
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ
(২) আলাম ইয়া জ্বআ'ল কাইদা হুম ফী তাদ্বলীলিওঁ।
তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ
(৩) ওয়া আরসালা আ'লাইহিম ত্বইরান আবা-বীল ।
তিনি তাদের উপরে প্রেরণ করেছিলেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি।
تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ
(৪) তারমীহিম বিহ্বিজ্বা-রাতিম মিন সিজ্বজ্বীলিন।
যারা তাদের উপরে নিক্ষেপ করেছিল মেটেল পাথরের কংকর।
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ
(৫) ফাজ্বা'আলাহুম কা'আছফিম মা'কূল ।
অতঃপর তিনি তাদের করে দেন ভক্ষিত তৃণসদৃশ।
সারকথা :
বায়তুল্লাহর হেফাযত ও নিরাপত্তার দায়িত্ব আল্লাহর। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত পৃথিবীর কোন শক্তি একে ধ্বংস করতে পারবে না।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সূরা তাকাসুর []
তাকাসুর শব্দের অর্থ হলো, অধিক কামনা করা বা প্রাচুর্য নিয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতা করা। ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, প্রভাব প্রতিপত্তি এসবের অধিক কামনা এবং প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা আমাদের ভালো মন্দ ও ন্যায় অন্যায়ের মাঝে পার্থক্যের ক্ষমতাকে বিনষ্ট করে দেয়। তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। বৈধ পন্থা ব্যতীত অবৈধ পন্থায় সম্পদ সংগ্রহ করা, অবৈধ ক্ষমতা, ধন-সম্পদ, প্রভাব প্রতিপত্তির পেছনে এই যে আমাদের সার্বক্ষণিক পাগলের মত ছুঁটে চলা। কিংবা বৈধ সম্পদও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় না করা। আমাদের অসীম এই চাহিদা ও পরিতৃপ্তির যেন কোন শেষ নেই! আর এই ক্রমবর্ধমান প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা একসময় আমাদেরকে আল্লাহর হুকুম এবং আখেরাত হতে উদাসীন করে দিয়ে সোজা কবর পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে।
এ সম্পর্কে সূরা তাকাসুরে আল্লাহ বলছেন-
১: أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ “আল হাকুমুত তাকাসুর”
অর্থ: “প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।”
তাকাসুর কথাটির অর্থ ব্যাপক। যা টাকা পয়সা, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, সহযোগী-পৃষ্ঠপোষক, বংশ-গোত্র, ক্ষমতা, প্রভাব প্রতিপত্তি প্রভৃতি শামিল। প্রত্যেক ঐ বস্তু যার প্রাচুর্য ও আধিক্য মানুষের প্রিয়। যা অধিকভাবে পাবার প্রচেষ্টা ও কামনা মানুষকে আল্লাহর আহকাম এবং আখেরাত হতে উদাসীন করে দেয়। সেটাই এ আয়াতের উদ্দেশ্য। এখানে আল্লাহ তাআলা মানুষের সেই দুর্বলতাকে ব্যক্ত করেছেন, যার শিকার সর্বযুগে অধিকাংশ মানুষকে হতে হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, “আর জেনে রাখ, তোমাদের সম্পদ এবং সন্তান–সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা ছাড়া কিছু নয়, আর নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা পুরস্কার (যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তাদের জন্য)।” (সূরা আনফাল: ২৮)
২: حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ “হাত্তা যুরতুমুল মাকাবির”
অর্থ: “যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও।”
এর অর্থ হল, অত্যাধিক্য ধনসম্পদ উপার্জন করার উদ্দেশ্যে পরিশ্রম করতে করতে মৃত্যু তোমাদেরকে গ্রাস করে ফেলল এবং শেষ পর্যন্ত তোমরা কবরে গিয়ে পৌঁছলে!
৩: كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ “কাল লা, সাওফা তা’লামুন”
অর্থ: “কিন্তু শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।”
অর্থাৎ সত্য হচ্ছে এই যে মৃত্যু অতি নিকটে। এই পার্থিব জীবনের বাস্তবতা তোমাদের কাছে শীঘ্রই প্রকাশিত হয়ে পড়বে।
৪: ثُمَّ کَلَّا سَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ “সুম্মা কাল লা সাওফা তা’লামুন” অর্থ: “এবং অতঃপর তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।”
এখানে আল্লাহ একই কথা পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমে এ ব্যাপারটিকে জোড় দিচ্ছেন যে জীবনের বাস্তবতা বুঝতে পারার এই মুহূর্তটি অতি অতি নিকটে!
৫: كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ “কাল লা লাও তা’লামুনা ইলমাল ইয়াকিন।”
অর্থ: “যদি তোমরা নিশ্চিতভাবে জানতে!”
আমাদের যদি এই নিশ্চিত জ্ঞান থাকত, তাহলে এই জীবন পরীক্ষার বিষয় হত না। যদি মুমিনদেরকে নিশ্চিত জ্ঞান দেয়া হত, তবে তারা কখনও পথভ্রষ্ট হত না। তারা ফেরেশতায় পরিণত হত। কিন্তু আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করতে চান। বুখারী শরীফের হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা অল্পই হাসতে এবং অধিক ক্রন্দন করতে।”
৬: لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ “লা তারাউন্নাল জাহিম।”
অর্থ: “তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখতে পাবে।”
আমরা প্রত্যেকেই জাহান্নামের আগুন প্রত্যক্ষ করব। তবে এই জীবনে নয়, মৃত্যুর পরের জীবনে। আল্লাহ সূরা মারইয়ামে উল্লেখ করছেন:
“তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যাকে এর (জাহান্নামের আগুনের) নিকটে আনা হবে না…” (সূরা মারইয়াম : ৭১)
৭: ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ “সুম্মা লাতারাউন্নাহা আইনাল ইয়াকীন।”
অর্থ: “অতঃপর নিশ্চয়ই তোমরা একে (জাহান্নাম) স্বচক্ষে দেখবে।”
মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে আমরা জাহান্নাম স্বচক্ষে দেখতে পারব। আমরা একে নিশ্চিতভাবে দেখব: “আইনুল ইয়াকীন”। রাসূলুল্লাহ (সা) ব্যাখ্যা করেছেন, মুমিনগণ যখন জাহান্নামের আগুন দেখবে, তারা তা দেখে উৎফুল্ল হবে, কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে এ থেকে বাঁচিয়েছেন। তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়বে। কিন্তু অবিশ্বাসীদের এ দৃশ্য দেখানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের কষ্ট বৃদ্ধি করা। এ দৃশ্য দেখে তারা চরম দুঃখ, ক্ষোভ (নিজেদের মূর্খতার কারণে), হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে, একথা উপলব্ধি করে যে তাদেরকে এখানে থাকতে হবে চিরকাল!
৮: ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ “সুম্মা লাতুসআলুন্না ইয়াওমাইযিন আনইন্নাইম।” অর্থ: “অতঃপর সেদিন তোমরা অবশ্যই (পার্থিব) আনন্দ–উপভোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
কিয়ামতে এই জিজ্ঞাসা ঐ সকল নিয়ামত (সুখ-সম্পদ) সম্পর্কে হবে, যা দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে দান করে থাকেন। যেমন, চোখ, কান, হৃদয়, মস্তিষ্ক, শান্তি, সুস্থতা, মাল-ধন ও সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি। কোন কোন উলামাগণ বলেন, এই জিজ্ঞাসা কেবলমাত্র কাফেরদেরকেই করা হবে। আবার কেউ কেউ বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। কেননা, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসা করা আযাবের জন্য জরুরী নয়। বরং যারা এ সব নিয়ামতকে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী ব্যবহার করবে, তাকে প্রশ্ন করা সত্ত্বেও আযাব থেকে নিরাপদে রাখা হবে। আর যারা আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করবে, তারা আযাবে পতিত হবে।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সুরা হুমাযাহ []
নামাজের মধ্যে সুরা হুমাযাহ পড়ি। অথচ নামাজ শেষ করেই আবারো শুরু করে দেই ‘হুমাযাহ’ চর্চা। অর্থ না জানার কারনে বুঝতেই পারি না যে, ‘হুমাযাহ’ মানেটা কি।
‘হুমাযাহ’ হলো, যে মানুষকে মুখের উপরে নিন্দা ও অপদস্থ করে। আর ‘লুমাযাহ’ হলো, যে পিছনে গীবত করে। মহান আল্লাহ এই সূরায় এই হুমাযাহ ও লুমাযাহকারীকে ধ্বংসের হুশিয়ারী দিয়েছেন। সেই সাথে যে ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় খরচ না করে অর্থ সম্পদ জমায় ও তা গণনা করে রাখে, তারও ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। এদের সকলকে ‘হুত্বামাহ’ নামক জাহান্নামে নিক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। আসুন, ‘হুত্বামাহ’ জাহান্নামের আগুনের ভয়াবহতা ও এই সূরার অর্থ জেনে নেই:-
وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ
অইলুল্লি কুল্লি হুমাযা-তি ল্লুমাযা।
১) ধ্বংস এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনা সামনি) লোকদের ধিক্কার দেয় এবং (পেছনে ) নিন্দা করতে অভ্যস্ত৷
আরবী هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ (হুমাযাহ লুমাযাহ) শব্দ দুটি অর্থের দিক দিয়ে কখনো সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়৷ আবার কখনো দু ‘য়ের পার্থক্য হয়৷
আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাগণ, বেশী ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো কারণ কোন কোন ধারণা ও অনুমান গোনাহ ৷ দোষ অন্বেষন করো না ৷ আর তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে ৷ এমন কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছে, যে তার নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে ? দেখো, তা খেতে তোমাদের ঘৃণা হয় ৷ আল্লাহকে ভয় করো ৷ আল্লাহ অধিক পরিমাণে তাওবা কবুলকারী এবং দয়ালু ৷’ (সূরা হুজুরাত, ১২)
﴿الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ﴾
আল্লাযী জ্বামা‘আ মা-লাওঁ অ‘আদ্দাদাহ।
২) যে অর্থ জমায় এবং তা গুণে গুণে রাখে৷
আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করে, অথচ তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে কঠিন আযাবের সুসংবাদ দাও’। ‘সেদিন জাহান্নামের আগুনে মালগুলি উত্তপ্ত করা হবে। অতঃপর তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশ দগ্ধ করা হবে (এবং বলা হবে,) এগুলো সেই মাল, যা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করেছিলে। অতএব এখন তোমাদের সঞ্চয়ের স্বাদ গ্রহণ করো’ (সূরা তওবা, ৩৪-৩৫)।
﴿يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ﴾
ইয়াহ্সাবু আন্না মা- লাহূ য় আখ্লাদাহ্।
৩) সে মনে করে তার অর্থ -সম্পদ চিরকাল থাকবে ৷
অর্থ জমা করার এবং তা গুণে রেখে দেবার কাজে সে এত বেশী মশগুল যে নিজের মৃত্যুর কথা তার মনে নেই ৷
মহান আল্লাহতা’আলা বলেছেন-
‘এ ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের একটি সাময়িক সৌন্দর্য-শোভা মাত্র ৷ আসলে তো স্থায়িত্ব লাভকারী সৎকাজগুলোই তোমার রবের কাছে ফলাফলের দিক দিয়ে উত্তম এবং এগুলোই উত্তম আশা-আকাঙ্ক্ষা সফল হবার মাধ্যম ৷’ (সূরা কাহফ, ৪৬)
﴿كَلَّا ۖ لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ﴾
কাল্লা-লাইয়ুম্বাযান্না ফিল্ হুত্বোয়ামাহ্।
৪) কখনো নয়, তাকে তো ‘হুত্বামাহ’ বা চূর্ণ - বিচূর্ণকারী জায়গায় ফেলে দেয়া হবে৷
এমন বখীল ব্যক্তিকে ‘হুত্বামাহ’ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ‘হুত্বামাহ’ অর্থঃ ভেঙ্গে-চুরে ধ্বংস করা।
﴿وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ﴾
অমা-আদ্রা-কা মাল্ হুত্বোয়ামাহ্।
৫) আর তুমি কি জানো সেই ‘হুত্বামাহ’ বা চূর্ণ - বিচূর্ণকারী জায়গাটি কি ?
হুত্বামাহ কি? এই প্রশ্নসূচক বাক্য ‘হুত্বামাহ’ জাহান্নামের ভয়াবহতাকে ব্যক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, সেটা এমন ভয়ংকর আগুন হবে, যার প্রকৃতত্বে আমাদের জ্ঞান-বুদ্ধি পৌঁছতে পারে না এবং আমরা তা কোনভাবেই বুঝতে বা অনুভব করতে পারবো না।
﴿نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ﴾
না-রুল্লা-হিল্ মূক্বদাহ।
৬) আল্লাহর আগুন ,প্রচণ্ডভাবে উৎক্ষিপ্ত ,
কুরআন মজীদের একমাত্র এখানে ছাড়া আর কোথাও জাহান্নামের আগুনকে আল্লাহর আগুন বলা হয়নি ৷ এখানে এই আগুনকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করার মাধ্যমে কেবলমাত্র এর প্রচণ্ডতা ও ভয়াবহতারই প্রকাশ হচ্ছে না ৷ বরং এই সংগে এও জানা যাচ্ছে যে , দুনিয়ার ধন – সম্পদ লাভ করে যারা অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় মেতে ওঠে তাদেরকে আল্লাহ কেমন প্রচণ্ড ঘৃণা ও ক্রোধের দৃষ্টিতে দেখে থাকেন ৷ এ কারণেই তিনি জাহান্নামের এই আগুনকে নিজের বিশেষ আগুন বলেছেন এবং এই আগুনেই তাকে নিক্ষেপ করা হবে৷
﴿الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ﴾
আল্লাতী তাত্ত্বোয়ালিউ’‘আলাল্ আফ্য়িদাহ্।
৭) যা হৃদয় অভ্যন্তরে পৌঁছে যাবে ৷
অর্থাৎ, তার উষ্ণতা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। এমনিতেই পৃথিবীর সাধারণ আগুনের গুণ হল সমস্ত বস্তুকে জ্বালিয়ে ফেলা। কিন্তু পৃথিবীতে এই আগুন হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছনোর পূর্বেই মানুষের মৃত্যু ঘটে যায়। জাহান্নামে তা হবে না; বরং সেই আগুন হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আর মৃত্যুকে আহবান করা সত্ত্বেও মৃত্যু আসবে না।
﴿إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌ﴾
ইন্নাহা- ‘আলাইহিম্ মু’ছোয়াদাতাহ।
৮) তা তাদের ওপর ঢেকে দিয়ে বন্ধ করা হবে
﴿فِي عَمَدٍ مُّمَدَّدَةٍ﴾
ফী ‘আমাদিম্ মুমাদ্দাদাহ্।
৯) (এমন অবস্থায় যে তা ) উঁচু উঁচু থামে (ঘেরাও হয়ে থাকবো )৷
‘মুমাদ্দাদাহ’ অর্থ হল বন্ধ বা পরিবেষ্টিত। অর্থাৎ, জাহান্নামের সকল দরজা ও পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে; যাতে সেখান হতে কেউ বের হতে না পারে। তাদেরকে লোহার পেরেকের সাথে বেঁধে দেওয়া হবে; যা লম্বা লম্বা স্তম্ভের মত হবে। কোন কোন উলামার মতে, ‘আমাদিম’ অর্থ হলঃ বেড়ি বা লৌহবেষ্টনী এবং কারো মতে এর অর্থ হল স্তম্ভ বা থাম। যাতে বেঁধে জাহান্নামীদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সূরা মাঊন []
আমরা তো দীর্ঘদিন ধরেই সূরা মাঊন পড়ছি। কিন্তু ‘মাঊন’ কাকে বলে, তা কি জানি? যেমন ধরুন, আপনার প্রতিবেশী আপনার কাছে গৃহস্থলির ব্যবহার্য ছোটখাটো সামান্য কিছু জিনিস চাইলেন। অথচ আপনি তাকে নানান টালবাহানা দেখিয়ে বিদায় করে দিলেন। এই ধরনের সামান্য দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসকেই ‘মাঊন’ বলা হয়েছে। যারা এই ছোট-খাট নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী অন্যকে দিতে বিরত থাকে, যারা এতিমের হক মেরে খায় এবং তাদেরকে সম্পত্তি থেকে বেদখল করে, যারা মিসকীনকে খাদ্যদানে উদ্বুদ্ধ করে না, যারা নিজেদের নামাজ সম্পর্কে বেখবর এবং লোক দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে — আসুন এদের সম্পর্কে এ সূরায় আল্লাহ কি বলেছেন তা জেনে নেই:-
أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ
‘আরয়াইতাল্লাযী- ইয়ুকায্যিবু বিদ্দীন্।’ (আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে কর্মফলকে মিথ্যা বলছে)?
‘আপনি কি তাকে দেখেছেন’ বাক্যে এখানে বাহ্যত সম্বোধন করা হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে। আর “আদ্ দ্বীন” শব্দটি থেকে আখেরাতের কর্মফল বা শাস্তি ও পুরস্কারকে বুঝানো হয়েছে।
فَذَٰلِكَ ٱلَّذِى يَدُعُّ ٱلْيَتِيمَ
‘ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদু’উ’ল্ ইয়াতীমা’ (সে-ইতো সেই ব্যক্তি যে ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়)।
এর কয়েকটি অর্থ হয়। এক, সে এতিমের হক মেরে খায় এবং তার বাপের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে বেদখল করে তাকে সেখান থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। দুই, এতিম যদি তার কাছে সাহায্য চাইতে আসে তাহলে দয়া করার পরিবর্তে সে তাকে ধিক্কার দেয়। তিন, সে এতিমের ওপর জুলুম করে।
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ
‘অলা-ইয়াহুদ্ব্দু ‘আলা-তোয়া‘আ- মিল্ মিসকীন্।’ (আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উদ্বুদ্ধ করে না)।
সে মিসকিনকে খাবার দিতে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করে না। নিজের পরিবারের লোকদেরকেও উদ্বুদ্ধ করে না। এবং অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করে না যে, সমাজে যেসব গরীব ও অভাবী লোক অনাহারে মারা যাচ্ছে তাদের হক আদায় করা এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য কিছু করো।
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ
‘ফাওয়াইলুল্লিল্ মুছোয়াল্লীনা’। (অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুভোর্গ)।
ٱلَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
‘আল্লাযীনাহুম্ ‘আন্ ছলা-তিহিম্ সা-হূন্।’ (যারা নিজেদের নামাজ সম্পর্কে বেখবর)।
নামায পড়া ও না পড়া উভয়টিরই তাদের দৃষ্টিতে কোন গুরুত্ব নেই। কখনো তারা নামায পড়ে আবার কখনো পড়ে না। যখন পড়ে, যেন কোন আপদ তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটাই আখেরাতের প্রতি ঈমান না রাখার আলামত।
ٱلَّذِينَ هُمْ يُرَآءُونَ
‘আল্লাযীনা হুম্ ইয়ুরা-য়ূনা’ (যারা তা লোক দেখানোর জন্য করে)।
সৎকাজও তারা আন্তরিক সংকল্প সহকারে আল্লাহর জন্য করে না। বরং যা কিছু করে অন্যদের দেখাবার জন্য করে। আল্লাহ বলেন, “আর যখন তারা নামাযের জন্য ওঠে অবসাদগ্রস্তের ন্যায় ওঠে। লোকদের দেখায় এবং আল্লাহকে স্মরণ করে খুব কমই।” (সূরা নিসা ১৪২)
وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ
‘অইয়াম্ না‘ঊনাল্ মা-‘ঊন্।’ (এবং ছোট-খাট নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী অন্যকে দিতে বিরত থাকে)।
অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে, সাধারণত প্রতিবেশীরা একজন আর একজনের কাছ থেকে গৃহস্থালীর দৈনন্দিন যেসব জিনিস চেয়ে নিয়ে থাকে সেগুলোই মাঊনের অন্তর্ভুক্ত। এ জিনিসগুলো অন্যের কাছ থেকে চেয়ে নেয়া কোন অপমানজনক বিষয় নয়। কারণ ধনী-গরীব সবার এ জিনিসগুলো কোন না কোন সময় দরকার হয়। অবশ্য এ ধরনের জিনিস অন্যকে দেবার ব্যাপারে কার্পণ্য করা হীন মনোবৃত্তির পরিচায়ক। এই আয়াতের মূল বক্তব্য হচ্ছে, আখেরাত অস্বীকৃতি মানুষকে এতবেশী সংকীর্ণমনা করে দেয় যে, সে অন্যের জন্য সামান্যতম ত্যাগ স্বীকার করতেও রাজি হয় না।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সূরা ফালাক্ব []
সূরা ফালাক্ব। অন্ধকার (মিথ্যা, অন্যায়) ভেদ করে আলো (সত্য) প্রকাশের সূরা। এই সূরায় রাতের অন্ধকারের কথা এসেছে, যা সাধারনভাবে শয়তান বা খারাপ কিছুর পরিচায়ক। এরপর যাদুর কথা এসেছে, যা একটি কালো বস্তু (সম্পূর্ন হারাম কাজ)। শিরক একটি অন্ধকার পর্যায়। হিংসা; চরিত্রের একটি অন্ধকার দিক। সুতরাং এইসব অন্ধকারকে ভেদ করে আলোর প্রকাশকারী আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে এই সূরায়।
মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য সত্তা যেমন জিন, দেবী ও দেবতাদের কাছে এ ধরনের আশ্রয় চাইতো এবং আজো চায়৷ বস্তুবাদীরা এ জন্য বস্তুগত উপায় ও উপকরণের দিকে মূখ ফিরায়৷ কারণ, তারা কোন অতি প্রাকৃতিক শক্তিতে বিশ্বাসী নয় ৷ কিন্তু মু'মিনরা যেসব আপদ বিপদ ও বালা মুসিবতের মোকাবেলা করার ব্যাপারে নিজেকে অক্ষম মনে করে, সেগুলোর ব্যাপারে তারা একমাত্র মহান আল্লাহর দিকেই মুখ ফিরায়। এবং একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে৷
আসুন সূরাটি অর্থ সহ পড়ে নেই-
১) قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
“কুল্ আ‘ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্বি”
‘বলুন, আশ্রয় চাচ্ছি আমি প্রভাতের রবের।’
১ম শব্দ ‘ক্বুল’ এর তাৎপর্য অনেক। আল্লাহ এখানে ‘ক্বুল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন কারন আল্লাহ চান মানুষ তাঁর দূর্বলতাকে মুখে প্রকাশ করুক। মুখে প্রকাশ করা বা বলার মাধ্যমে অহংকার দূর হয়। আমার কোন সাহায্য, আশ্রয়ের দরকার নাই এমন চিন্তা দূরীভুত হয়। মুখে বলে আশ্রয় চাওয়ার কারনে রবকে মান্য করার বিষয়টি চলে আসে।
‘ফালাক’ শব্দটি কোন কিছু ভেদ করে নতুন কিছুর আত্মপ্রকাশ বুঝায়। যেকোন সৃষ্টির জন্যই এটি সত্য। বীজ মাটি ভেদ করে গাছ হিসাবে বের হয়। ঝরনা পাহাড় ভেদ করে। বৃষ্টি মেঘ ভেদ করে। মানুষসহ বিভিন্ন প্রানী গর্ভ ভেদ করে আবির্ভুত হয়। অস্তিত্ব জগতের প্রতিটি জিনিস কোন না কোনভাবে আবরণ ভেদ করার ফলে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব লাভ করে৷ এমনকি পৃথিবী ও সমগ্র আকাশ মণ্ডলও প্রথমে একটি স্তূপ ছিল৷ তারপর তাকে বিদীর্ণ করে পৃথক পৃথক অস্তিত্ব দান করা হয়েছে৷ যেমন, “এ আকাশ ও পৃথিবী সবকিছুই স্তূপীকৃত ছিল, পরে আমি এদেরকে আলাদা আলাদা করে দিয়েছি৷” ( আল আম্বিয়া ,৩০)
" রাব্বুল ফালাক " এর অর্থ যদি প্রভাতের রব ধরা হয়, তাহলে তাঁর আশ্রয় চাওয়ার মানে হবে, যে রব অন্ধকারের আরবণ ভেদ করে প্রভাতের আলো বের করে আনেন আমি তাঁর আশ্রয় নিচ্ছি৷ আর যদি এর অর্থ সৃষ্টিজগতের রব ধরা হয়, তাহলে এর মানে হবে, আমি সমগ্র সৃষ্টির মালিকের আশ্রয় নিচ্ছি৷ তিনি নিজের সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে আমাকে বাঁচাবেন৷
২) مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
“মিন্ শার রি মা-খলাক্ব”
‘তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে।’
অন্য কথায়, সমগ্র সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে আমি তাঁর আশ্রয় চাচ্ছি৷ এ বাক্যে অনিষ্টকারিতা সৃষ্টির ব্যাপারটিকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করা হয়নি৷ বরং বলা হয়েছে, আল্লাহ যেসব জিনিস সৃষ্টি করেছেন, তাদের অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি৷ এ থেকে জানা যায়, মহান আল্লাহ কোন সৃষ্টিকে অনিষ্টকারিতার জন্য সৃষ্টি করেননি৷ বরং তাঁর প্রত্যেকটি কাজ কল্যাণকর এবং কোন না কোন কল্যাণমূলক প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্যই হয়ে থাকে৷ তবে সৃষ্টির মধ্যে তিনি যেসব গুণ সমাহিত করে রেখেছেন। যেগুলো তাদের সৃস্টির উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন।সেগুলো থেকে অনেক সময় এবং অনেক ধরনের সৃষ্টি প্রায়ই অনিষ্টকারিতার প্রকাশ ঘটে৷
৩) وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
“অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্”
‘অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়।’
রাতের অন্ধকারের অনিষ্টকারতা থেকে বিশেষ করে পানাহ চাওয়ার নির্দেশ দেবার কারণ হচ্ছে এই যে, অধিকাংশ অপরাধ ও জুলুম রাতের অন্ধকারেই সংঘটিত হয়৷ আর এ আয়াতগুলো নাযিল হবার সময় আরবে রাজনৈতিক অরাজকতা যে অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল তাতে রাতের চিত্র তো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ৷ রাতের অন্ধকারে চাঁদর মুড়ি দিয়ে লুটেরা ও আক্রমণকারীরা বের হতো ৷ তারা জনবসতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তো, লুটতরাজ ও খুনাখুনি করার জন্য। যারা রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রাণ নাশের চেষ্টা করছিল, তারাও রাতের আঁধারেই উনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল৷ তাই রাতের বেলা যেসব অনিষ্টকারিতা ও বিপদ আপদ নাযিল হয় সেগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে৷
৪) وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
“অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্”
‘গিরায় ফুঁৎকারদানকারীদের (বা কারিনীদের) অনিষ্টকারিতা থেকে৷’
মুফাসসিরের মতে, গিরায় ফুঁক দেয়া শব্দটি যাদুর জন্য রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়৷ কারণ যাদুকর সাধারণত কোন সূতায় বা ডোরে গিরা দিতে এবং তাতে ফুঁক দিতে থাকে৷ কাজেই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আমি পুরুষ যাদুকর বা মহিলা যাদুকরদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য প্রভাতের রবের আশ্রয় চাচ্ছি৷ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ওপর যখন যাদু করা হয়েছিল, তখন জিব্রীল (আঃ) এসে উনাকে সূরা আল ফালাক ও আন নাস পড়তে বলেছিলেন৷
যাদুর ব্যাপারে অবশ্যই একথা জেনে রাখতে হবে যে, যাদুর মধ্যে অন্য লোকের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলার জন্য শয়তানের সাহায্য চাওয়া হয়৷ এ জন্য কুরআনে একে কুফরী বলা হয়েছে৷ যেমন, "সুলাইমান কুফরী করেনি৷ বরং শয়তানরা কুফরী করেছিল৷ তারা লোকদেরকে যাদু শেখাতো৷" ( আল বাকারা , ১০২ )
সাবধান!! যেকোন যাদুটোনা হারাম। এমনকি এগুলোর মধ্যে কোন কুফরী কালাম বা শিরকী কাজ না থাকলেও হারাম। তা সর্বাবস্থায় ও সর্বসম্মতিক্রমে সম্পুর্ন হারাম৷ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যাদুটোনাকে এমন সাতটি কবীরা গোনাহের অন্তরভুক্ত করেছেন, যা মানুষের আখেরাত সম্পূর্ন বরবাদ করে দেয়৷ আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।
৫) وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
“অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্”
‘এবং হিংসুকের অনিষ্টকারিতা থেকে, যখন সে হিংসা করে৷’
হিংসার মানে হচেছ-— কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ যে অনুগ্রহ, শ্রেষ্ঠত্ব বা গুণাবলী দান করেছে তা দেখে অপর ব্যক্তি নিজের মধ্যে জ্বালা অনুভব করে। এবং তার থেকে ওগুলো ছিনিয়ে নিয়ে সেগুলো তাকে দেয়া হোক। অথবা কমপক্ষে তার থেকে সেগুলো অবশ্যই ছিনিয়ে নেয়া হোক।এইসব আশা করতে থাকে৷
তবে কোন ব্যক্তি যদি আশা করে, অন্যের প্রতি যে অনুগ্রহ করা হয়েছে তার প্রতিও তাই করা হোক, তাহলে এটাকে হিংসার সংজ্ঞায় ফেলা যায় না৷
এখানে হিংসুক যখন হিংসা করে অর্থাৎ তার মনের আগুন নিভানোর জন্য নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে কোন পদক্ষেপ নেয়, সেই অবস্থায় তার অনিষ্টকারিতা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে৷
হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কোন রোগে আক্রান্ত হলে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে হাতে ফুঁক দিয়ে সর্বাঙ্গে বুলিয়ে দিতেন। ইন্তেকালের পূর্বে যখন উনার রোগযন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়, তখন আমি এই সূরাদ্বয় পাঠ করে উনার হাতে ফুঁক দিতাম। অতঃপর তিনি নিজে তা সর্বাঙ্গে বুলিয়ে নিতেন। আমার হাত উনার পবিত্ৰ হাতের বিকল্প হতে পারতনা। তাই আমি এরূপ করতাম।’ [বুখারী: ৫০১৬, মুসলিম: ২১৯২]
সারকথা এই যে, যাবতীয় বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকার জন্যে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস এই সূরাদ্বয়ের আমল করতেন।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
[] সূরা কাফিরুন []
মিলেমিশে একে অন্যের ধর্ম পালনের পদ্ধতি। কিংবা মিলেমিশে একে অন্যের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উদযাপনের পদ্ধতি। এগুলো নতুন কোন কৌশল নয়। রাসূল (সাঃ) মক্কায় তাওহীদের দাওয়াত দেয়া মাত্রই মক্কার কুরাইশগণ উনার উপর অমানষিক নির্যাতন শুরু করে। জুলুম নির্যাতন করেও যখন ইসলামের অগ্রযাত্রা রুখতে ব্যর্থ হয়। তখন তারা এক নতুন কৌশল আবিস্কার করে। আর সেটা হলো মিলেমিশে একে অন্যের ধর্ম পালন করার কৌশল। এটা ছিল অনেকটা বর্তমান সময়ের অনুরুপ তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ) ও কুফরীর মধ্যে একটা গোজামিলের ধর্মীয় আপোষ ও মীমাংসার প্রস্তাব।
কুরাইশদের কাফের সম্প্রদায় তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)কে আহবান করেঃ তিনি এক বছর তাদের মূর্তির পূজা করবেন। আর তারাও এক বছর আল্লাহর ইবাদত করবে (নাউজুবিল্লাহ)।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, কুরাইশদের কাফের সম্প্রদায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বললো : আমরা আপনাকে এত বেশী পরিমাণ ধন- সম্পদ দেবো যার ফলে আপনি মক্কার সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি হয়ে যাবেন। যে মেয়েটিকে আপনে পছন্দ করবেন তার সাথে আপনার বিয়ে দিয়ে দেবো। আমরা আপনার পিছনে চলতে প্রস্তুত । আপনি শুধু আমাদের একটি কথা মেনে নেবেন — আমাদের উপাস্যদের বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকবেন। এ প্রস্তাবটি আপনার পছন্দ না হলে আমরা আরও একটি প্রস্তাব পেশ করছি। এ প্রস্তাবে আপনার লাভ এবং আমাদেরও লাভ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞেস করেন, সেটি কি? এক বছর আপনি আমাদের উপাস্যদের ইবাদাত করবেন এবং আমরাও এক বছর আপনার উপাস্যকে ইবাদাত করবো। এর জবাবে মহান আল্লাহ সুরা কাফিরুন নাজিল করেন।
ইবনে আব্বাস (রাঃ)এর অন্য একটি রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে, কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বললো : “যদি আপনি আমাদের উপাস্য মুর্তিগুলোকে চুম্বন করেন তাহলে আমরা আপনার মাবুদের ইবাদাত করবো।” একথায় এই সূরাটি নাজিল হয়। (আবদ ইবনে হুমাইদ)
ওহাব ইবনে মুনাব্বাহ রেওয়ায়াত করেন, কুরাইশদের কাফের সম্প্রদায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বলে, যদি আপনি পছন্দ করেন তাহলে এই বছর আমরা আপনার দ্বীনে প্রবেশ করবো এবং এক বছর আপনি আমাদের ধর্ম পালন করবেন। (আবদ ইবনে হুমাইদ ও ইবনে আবী হাতেম)
এই অনৈতিক ও হাস্যকর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)এর উপর পবিত্র এই সূরাটি নাজিল করেন। এবং আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) যেন তাদের প্রস্তাব, তাদের আকিদা ও তাদের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেন।
আল্লাহ্ তা’আলা নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁর নবী (সাঃ)কে। তিনি যেন সুষ্পষ্ট ও প্রকাশ্য ভাবে কাফেরদের সামনে ঘোষণা করে দেন যে- আল্লাহকে বাদ দিয়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে তারা যাদের ইবাদত করে থাকে তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। শির্কের সাথে মিশ্রিত ইবাদত আল্লাহর কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আল্লাহ্ তা’আলা দু’দলের মধ্যে এভাবে পার্থক্য করে দিয়েছেনঃ (لكم دينكم ولي دين) “তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্য, আমার দ্বীন আমার জন্য।”
এই সূরায় যারা বিভিন্ন ধর্মের মাঝে দূরুত্ব কমিয়ে পরষ্পরের নিকটবর্তী হওয়ার কথা বলে। তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ইসলামই একমাত্র হক ধর্ম। তা ছাড়া অন্যান্য সকল ধর্ম বাতিল। ইমাম শাফেয়ী (রঃ) (لكم دينكم ولي دين) “তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্য, আমার দ্বীন আমার জন্য” - এ আয়াতটি থেকে এ দলিল নিয়েছেন যে, সকল কাফেরের ধর্ম একই। আসুন, এবার পুরো সূরাটি দেখে নেই:-
১।
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
‘ক্কুল ইয়া- আইয়্যূহাল কা-ফিরূন।’
বলুন, হে কাফের দল!
২।
لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
‘লা- ‘আবুদু মা- ‘তাবুদূন।’
আমি তার ইবাদত করি না, যার ইবাদত তোমরা কর।
৩।
وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
‘ওয়ালা- আন্তুম ‘আ-বিদূনা মা- ‘আবুদ।’
এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি।
৪।
وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ
‘ওয়ালা- আনা ‘আবিদূম্ মা- ‘আবাত্তুম।’
এবং আমি ইবাদতকারী নই তার, যার ইবাদত তোমরা করে থাক।
৫।
وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
‘ওয়ালা- আন্তুম ‘আ-বিদূনা মা- ‘আবুদ।’
এবং তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি।
৬।
لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ
‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন।’
তোমাদের দ্বীন (শিরক) তোমাদের জন্য এবং আমার দ্বীন (ইসলাম) আমার জন্য।
এ সূরায় শিক্ষনীয়:-
১) এককভাবে একমাত্র আল্লাহর জন্য সমস্ত ইবাদতকে খালেছ বা একনিষ্ঠ করাকে বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে।
২) সব ধরনের শির্ক এবং শির্কের অনুসারীদের থেকে সম্পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদ করাকে অতি অত্যাবশ্যক বলা হয়েছে।
৩) যারা বিভিন্ন ধর্মের মাঝে দূরুত্ব কমিয়ে, পরষ্পরের ধর্মীয় উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে সার্বজনীন দাবী করে। একে অন্যের ধর্মের নিকটবর্তী হওয়ার দাওয়াত দেয় তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা হক ও বাতিলের মাঝে সুষ্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং ইসলামই একমাত্র হক ধর্ম। তা ছাড়া অন্যান্য সকল ধর্ম বাতিল। হকের সাথে বাতিলের সামান্য মিশ্রণও যদি হয়, সেটা শির্ক। আর আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন, শির্কের গুনাহ ছাড়া।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
Sunday, April 10, 2022
আমাদের অনুকরন এমনই হওয়া উচিৎ
ঈদের আগের দিন খলিফা উমরের (রা) স্ত্রী নিজ স্বামীকে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে’।
আরব জাহানের শাসক খলিফা উমর (রা) বললেন, ‘আমার তো নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই’।
পরে খলিফা উমর (রা) তার অর্থমন্ত্রী আবু উবাইদা (রা) কে এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন।
সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা যিনি, যিনি সেই সময় প্রায় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করছেন, তাঁর এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদার (রা) চোখে পানি এসে গেল। উম্মতে আমীন আবু উবাইদা (রা) বাহককে টাকা না দিয়ে চিঠির উত্তরে লিখলেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে।
প্রথমত, আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না?
দ্বিতীয়ত, বেঁচে থাকলেও দেশের জনসাধারণ আপনাকে সেই মেয়াদ পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা?’
চিঠি পাঠ করে খলিফা উমর (রা) কোন প্রতি উত্তর তো করলেনই না, বরং এত কেঁদেছেন যে তাঁর চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজে গেলো। আর হাত তুলে আবু উবাইদার (রা) জন্য দোয়া করলেন- একজন যোগ্য অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পেরেছেন ভেবে।
I'm Raihan Ferdous Khan.i'm just an ordinary man .I just want the world we are living will be same workable for every human beings..
I am just a father of a cute daughter....
Subscribe to:
Posts (Atom)

