Search This Blog

Monday, September 28, 2026

কালাপানির বাঘ খ্যাত সত্যিকারের শের' শের আলী আফ্রিদি


কালাপানির বাঘ খ্যাত সত্যিকারের শের' শের আলী আফ্রিদি

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কিশোরযোদ্ধা ক্ষুদিরাম বসু বিহারের ভাগলপুর জেলার মোজাফ্ফরপুরের একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যা করতে গিয়ে ভুলক্রমে দুজন নিরীহ ব্রিটিশ মহিলাকে হত্যা করেছিলেন। “একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি,হাসি হাসি পড়ব ফাঁসি দেখবে জগৎ বাসী! , বড় লাটকে মারতে গিয়ে মারলাম আরেক ইংল্যান্ডবাসী।" সহ নানা গান, কবিতা, সিনেমা, নাটক রচিত হয়েছে ক্ষুদিরামকে নিয়ে। দেশবাসী ক্ষুদিরাম বসুর ত্যাগ ও অবদানের প্রতি সকলেই কৃতজ্ঞ। অথচ ক্ষুদিরাম ব্রিটিশ কোন বড় লাটকে মারেন নি, মারতেও যান নাই। মিসেস কেনেডি নামক নিরীহ ব্রিটিশ মহিলাকে হত্যার দায়ে তাঁর ফাঁসি হয়। তারপরও দেশপ্রেমের মানদন্ডে ত্যাগী ক্ষুদিরাম বসুর অবস্থান অনেক উঁচুতে!

কিন্তু,

সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়াদের প্রায় ২০০ বছর শাসনে একজন মাত্র বড় লাটকে হত্যা করা সম্ভব হয়েছিল। ভাইসরয় পদবির মানে হচ্ছে ব্রিটেনের রাণির প্রতিনিধি। ব্রিটেনের রাণী ও প্রধানমন্ত্রীর পরে ভারতে নিয়োজিত ভাইসরয় হচ্ছেন তাদের প্রশাসনের তৃতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। সেই বড় লাট লর্ড মেয়ো'কে হত্যাকারী উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের একমাত্র শের' বিপ্লবী শের আলী আফ্রিদি'র ইতিহাসকে কেন দাবিয়ে রাখা হয়েছে?
ছোটখাটো পুলিশ কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, বেসামরিক ব্রিটিশ নাগরিক, ইংলিশ ক্লাবে আক্রমন, কোন প্রদেশের জেলার মহকুমার অধীন কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যা করা কোন কোন বিপ্লবীকে নিয়ে হাজারো গান, কবিতা, শহীদ বেদি, স্থানের নাম করা হলেও কেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি বড় লাটকে হত্যা করেছেন, সেই বাঘের বাচ্চাকে নিয়ে কোন আলোচনা কেন হয়না?

কে ছিলেন এই শের আলী আফ্রিদি?

শের আলী আফ্রিদির আদি নিবাস পাকিস্তানের খাইবারপাস প্রদেশের নিকটবর্তি জামরুদ গ্রামে। পিতার নাম ঊলি আলি খান। ধারণা করা হয় তিনি ছিলেন কথিত ওয়াহাবী* আন্দোলনের সাথে যুক্ত।

প্রথম জীবনে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে মাউন্ট পুলিশে দক্ষতা ও সততার সাথে কাজ করেন। পরে কমিশনারের অধীনেও কাজ করেন।

১৮৬৭ সালে শীর্ষস্থানীয় ওয়াহাবী নেতা মৌলানা জাফর থানেশ্বরী সহ অন্যান্য বিপ্লবীকে ধরিয়ে দেওয়া ও পুলিশের গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে হায়দার আলি নামক এক যুবককে হত্যা করেন শের আলি। এতে সাজা হিশেবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন তিনি।
অনেক ইতিহাস আবার এটাকে পারিবারিক কলহে হত্যাকাণ্ড বলে চালিয়েছেন। কেননা, ওয়াহাবী আন্দোলনের কারণে ফাঁসি হলে শহীদ হিশেবে তিনি আরো অনেকের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন।
যাইহোক, তাকে পেশোয়ার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি প্রথম থেকেই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরপরাধ বলে দাবি করেন। পরে আপিলে তার সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। 
তাকে নির্বাসন করা হয় আন্দামানে।। বলা জরুরী যে, ইতোমধ্যে যারা ব্রিটিশদের বিরোদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিল তাদেরকে আন্দামানে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল।

শের আলী আফ্রিদি ছিলেন বেশ ধার্মিক ও দয়ালু। জেলখানায়ও তার ব্যবহার ছিল অনন্য। সদা শান্ত-শিষ্টভাবে থাকতেন। তিনি নাপিতের কাজ করে যা আয় করতেন তা জেলে থাকা সহযোগীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। জেলে তিনি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। কিন্তু তার হৃদয়ে জ্বলছিল আগুন। নির্জন দ্বীপে শত শত বিপ্লবীদের নির্বাসন ও অত্যাচারের বদলা নেওয়ার কথা ভাবতে থাকেন তিনি।

অবশেষে সে সুযোগও চলে আসলো। ১৮৭২ সালের ০৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লর্ড মেয়ো হ্যারিয়েট দ্বীপের সানসেট পয়েন্টে সূর্যাস্ত দেখতে যান।বসেসময় দেহরক্ষী বেষ্টিত থাকলেও তাকে অতর্কিতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন শের আলি। ভারতবর্ষের বৃট্রিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শের আলি খান এমন এক ব্যক্তি যিনিই একমাত্র ভারতের গভর্নর জেনারেল কে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার এই হত্যা, বৃটেন তথা ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়। 
ইতোমধ্যে শের আলী গ্রেফতার হন। বলা বাহুল্য যে, তিনি পালিয়ে যান নি। এবং বড় লাটের নিরাপত্তারক্ষীরাও কাছে ছিলেন। পরের দিন খুবই দ্রুততার সহিত বিচার কাজ শুরু হয়। আদালত তাকে জিজ্ঞাসা করে, লর্ড মেয়ো হত্যায় তার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা।
শের আলী বিশ্বাস করতেন স্বয়ং আল্লাহই তাকে বড় লাটকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুদা নে হুকুম দিয়া। মেরা শরীক কোই আদমি নেহি। মেরা শরীক খুদা হ্যায়।’ অর্থাৎ আমাকে একাজ করার জন্য খোদা হুকুম দিয়েছেন। আমার শরীক অন্য কেউ নাই, আমার শরীক হচ্ছেন খোদা।

বিচারে শের আলির ফাঁসি হয়। ১৮৭৩ সালের ১১ মার্চ আন্দামানের ভাইপার দ্বীপে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। ফাঁসির দিন ফাঁসির দড়িকে চুমু খেয়ে সেই দড়ি পড়ে নেন এবং"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু"এই কথা দুবার বলার পরই তাঁর শ্বাস রোধ হয়ে যায়। 

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের অমর শহীদ ‘শের আলী আফ্রিদি’।  
বড়লাটকে হত্যা করে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েও যিনি স্থান পান নি ইতিহাসের পাতায়! 
কারন বড় লাটকে হত্যা করা শের আলী কোন আর্যরা ছিলনা, নাম ছিল আলী, তিনি ছিলেন একজন মুসলিম! মুসলিম বলেই তাকে কেউ চিনে না বা চিনতে দেওয়া হয়নি। দাবিয়ে রাখা হয়েছে ইতিহাস। 

আচ্ছা, ইতিহাস দাবায়া রাখা যায়?

বিস্তারিত জানতে রেফারেন্সঃ

১ ) শের ই শহীদ দ্বীপ , লেখকঃ- নারায়ণ সান্যাল, দেব সাহিত্য কুটীর , কলকাতা ২০০৩। 
( ২) ক খ মুক্তির সংগ্রামে ভারত । বাংলা আকাদেমী পশ্চিমবঙ্গ ভারত ১৯৯৬। 
( ৩) "উনি বীর ; বাকীরা ?" আনন্দবাজার পত্রিকা , ২৪ শে ডিসেম্বর ২০১৭।
৪) কালাপানির কেচ্ছা, পর্ব ৬, বাংলা ট্রিবিউন।
৫) আন্দামানের আর্তনাদ, সাবিনা আহমদ, অন্যদিগন্ত।
৬) Delhi Red port Museum Gallay, Delhi, India.
৭) ভাইসরয়ের খুন, ইমরান রাইহান।

কলমেঃ 
মঈন উদ্দিন চিশতী, 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

ইতিহাসের নানা জানা-অজানা তথ্যাদি জানতে ও জানাতে যুক্ত হোন আমাদের ইতিহাস অন্বেষণ এ।

মোহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া: তিনি‌ ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র ।


মোহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া: তিনি‌ ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র । ১৮১৯ সালে মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া এই মহান পুরুষ ১৮৪০ সালে পিতার ওফাতের পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ নেন। 

সে সময় বাংলার নিপীড়িত কৃষকসমাজ একদিকে হিন্দু জমিদার, অন্যদিকে ইউরোপীয় নীলকরদের দ্বিমুখী শোষণে জর্জরিত ছিল। দুদু মিয়া নিরস্ত্র নিপীড়িত কৃষকদের সংগঠিত করে জমিদার ও নীলকরদের ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, এবং তাদের শক্তিমত্তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেন। ফলে ১৮৩৮ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশক ফরায়েজী অধ্যুষিত এলাকায় শান্তি বজায় ছিল।

দুদু মিয়ার সবচেয়ে বিপ্লবী ঘোষণা ছিল যে, জমি থেকে অন্যায় ভাবে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী। জমির হক একমাত্র কৃষকের। শ্রমের ওপরই যে জমির প্রকৃত মালিকানা নিহিত, এই মতবাদ সেকালের বাংলায় ছিল এক যুগান্তকারী চিন্তা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিপীড়িত কৃষকরা তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর পতাকাতলে সমবেত হয়। একইসাথে তিনি গ্রামীণ সমাজে নিজস্ব বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে ফরায়েজী খলিফার অনুমতি ছাড়া সরকারি আদালতে যাওয়া নিষিদ্ধ করেন। এটি ছিল এক ধরনের সমান্তরাল সামাজিক শাসনব্যবস্থা, যা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও স্বনির্ভর করে তোলে।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়, ১৮৬১ সালে মুক্তি পান এবং ১৮৬২ সালের ২৪/২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।

#searchinghistory 
#MuslimHistory 
#farayezimovement

মাত্র ১৫ মাস শাসন - এপ্রিল ১৭৫৬ থেকে জুন ১৭৫৭ - তবুও সিরাজ ইতিহাসে এত বড় কেন, তার ৩ টে কারণ আছে:


♦️মাত্র ১৫ মাস শাসন - এপ্রিল ১৭৫৬ থেকে জুন ১৭৫৭ - তবুও সিরাজ ইতিহাসে এত বড় কেন, তার ৩ টে কারণ আছে:
⚔️*১. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শুরুটা ওকে দিয়েই:*
সিরাজ হারলেন বলেই পলাশীর যুদ্ধ হলো, আর পলাশী থেকেই ব্রিটিশরা বাংলার দেওয়ানি পেলো, তারপর ২০০ বছরের শাসন। মানে ভারতে ব্রিটিশ রাজের দরজাটা সিরাজের পতন দিয়েই খুলেছিল। ও জিতলে ভারতের ইতিহাস অন্যরকম হতো। তাই ব্রিটিশরা নিজেরাই ওকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি লিখেছে।
🍁*২. বয়স আর বিশ্বাসঘাতকতার নাটক:*
গদিতে বসার সময় বয়স মাত্র ২৩। চারপাশে ছিল নিজের লোক - নানা আলিবর্দী খাঁ, মাসি ঘসেটি বেগম, সেনাপতি মীরজাফর, জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ। এত কম বয়সে সবার ষড়যন্ত্র সামলাতে পারেননি। এই অল্পবয়সী নবাবের বিশ্বাসঘাতকতায় মৃত্যুটা বাঙালির কাছে একটা ট্র্যাজেডি হয়ে গেছে, ইতিহাসের চেয়েও বেশি আবেগ।
🚨*৩. কলকাতা আর কৃষ্ণনগরের রাজনীতি:*
সিরাজ ইংরেজদের বিনা অনুমতিতে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ বানানো বন্ধ করতে বলেছিলেন, ইংরেজরা শোনেনি। তাই কলকাতা আক্রমণ করেন। তখনকার "অন্ধকূপ হত্যা"র কাহিনী ইংরেজরা সারা ইউরোপে প্রচার করে সিরাজকে নিষ্ঠুর বানিয়ে দেয়। আবার পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকরা - যেমন অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় - ওকেই আবার দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতার শেষ প্রদীপ বানিয়ে দেন।
📚মানে ১৫ মাসের শাসক হলেও, সিরাজ হলেন সেই মোড় - যেখানে বাংলা স্বাধীন ছিল আর পরদিন থেকে পরাধীন হয়ে গেল। তাই ৩০০ বছর পরেও বাঙালি ওকে ভুলতে পারে না।
#NawabSirajudDulah, #BattleOfPlassey, #BengalHistory, #BritishColonialism, #IndianLeaders, #HistoricalFigures, #ColonialResistance, #BengalNawabs, #IndiaHistory #fbpost

Saturday, September 26, 2026

১৫ মিনিটের জায়গায় ১০০ মিনিটের ভাষণ! বিশ্বনেতাদের সামনেই জাতিসংঘ সনদ ছিঁড়ে মেঝেতে ছুড়ে মেরেছিলেন গাদ্দাফি.....!😮


১৫ মিনিটের জায়গায় ১০০ মিনিটের ভাষণ! বিশ্বনেতাদের সামনেই জাতিসংঘ সনদ ছিঁড়ে মেঝেতে ছুড়ে মেরেছিলেন গাদ্দাফি.....!😮

মুয়াম্মার গাদ্দাফি ​ক্ষমতায় আসার দীর্ঘ ৪০ বছরে গাদ্দাফি কখনো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাননি। ২০০৯ সালে যখন প্রথমবার নিউইয়র্কে পা রাখলেন, পুরো বিশ্বই অনুধাবন করেছিলো, কিছু একটা ধামাকা হতে চলেছে। আর ঠিক সেটাই হয়েছিলো....
​
জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী প্রতি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্য দেওয়ার জন্য বরাদ্দ সময় থাকে মাত্র ১৫ মিনিট। কিন্তু গাদ্দাফি যখন পডিয়ামে উঠলেন, ​ঘড়ির কাঁটার তোয়াক্কা না করে অনর্গল আরবি ভাষায় কথা বলা শুরু করলেন তিনি। ১ মিনিট, ২ মিনিট করতে করতে সময় পার হয়ে গেল টানা ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট (প্রায় ১০০ মিনিট)!
​বেচারা জাতিসংঘের অফিশিয়াল লিবীয় দোভাষী ফুয়াদ জালিট গাদ্দাফির সেই হাই-ভোল্টেজ ভাষণ নন-স্টপ অনুবাদ করতে করতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, ভাষণের ৮০ মিনিটের মাথায় লাইভ মাইক্রোফোনেই প্রায় মূর্ছা যাওয়ার মতো অবস্থায় চিৎকার করে বলে ওঠেন, "আই কান্ট টেক ইট অ্যানিমোর!" (আমি আর পারছি না!)। এরপর বাধ্য হয়ে অন্য একজন দোভাষী এসে বাকি ২০ মিনিট সামলান! 😂
​
গাদ্দাফির মূল ক্ষোভটা ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি দেশের (আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন) একচেটিয়া "ভেটো" পাওয়ারের ওপর। তিনি সরাসরি পরাশক্তিগুলোর মুখের ওপর আ--ক্র--মণ করে বসেছিলেন।
​তিনি সোচ্চার কণ্ঠে বলেন, ১৯৪৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই নিরাপত্তা পরিষদ ছোট দেশগুলোকে কোনো নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তারা দিয়েছে শুধু যু**, আ-ক্র-ম-ণ আর নিষেধাজ্ঞা! এটাকে নিরাপত্তা পরিষদ বলা ভুল, এটা আসলে একটা স**সী পরিষদ!
​এখানেই শেষ নয়, তিনি আমেরিকার দিকে আঙুল তুলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হ** এবং ২০০৩ সালের অন্যায্য ইরাক যু**-এর আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন। এমনকি সেসময় ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস কোনো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা সামরিক জৈবাস্ত্র কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন!
​
ভাষণের একপর্যায়ে গাদ্দাফি তাঁর হাতে থাকা জাতিসংঘ সনদের অফিসিয়াল বইটা সবার সামনে উঁচিয়ে ধরেন। তিনি বলেন, এই সনদের প্রস্তাবনায় বিশ্বের সব দেশের সমান অধিকারের কথা লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবে পরাশক্তি দেশ
গুলোর কাছে ছোট দেশগুলোর এক পয়সারও দাম নেই!
​এই কথা বলতে বলতেই চরম ক্ষোভে বিশ্বনেতাদের সামনে জাতিসংঘ সনদের পাতা তোড়মোড় করে ছিঁড়ে ফেলেন! এরপর সেই ছিঁড়ে ফেলা কাগজের টুকরোগুলো চরম বিরক্তি নিয়ে সামনে বসা জাতিসংঘের সভাপতি ও কর্মকর্তাদের ডেস্কে ছুড়ে মারেন। পুরো হলরুমে তখন পিনপতন নীরবতা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা হা হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলেন!
​
গাদ্দাফি যেখানেই যেতেন, নিজের সাথে ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল ‘বেদুঈন তাঁবু’ নিয়ে যেতেন। নিউইয়র্কে এসেও তিনি কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে না থেকে তাঁবুতে থাকার বায়না ধরেন!
​ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু খাটানোর চেষ্টা করে যখন মার্কিন সিকিউরিটি টিমের কাছে বাধা পান, তখন তিনি সোজা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন একটা এস্টেটের লন ভাড়া নিয়ে বিশাল তাঁবু টাঙিয়ে দেন! পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন আইন ভঙ্গের নোটিশ দিলে রাতের আঁধারে সেই তাঁবু গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় তাঁর সিকিউরিটি টিম।

গাদ্দাফির এই ভাষণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে হয়তো পড়ে না। অনেকে একে তাঁর খামখেয়ালী বা পাগলামি বলতেই পছন্দ করেন। কিন্তু পরাশক্তিগুলোর দ্বিমুখী নীতি এবং জাতিসংঘের অকার্যকারিতা নিয়ে সেদিন ওই ১০০ মিনিটে তিনি যে যে তেতো সত্যগুলো বলে গিয়েছিলেন, তা আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা।

আজকে যেখানে পরাশক্তিগুলোর জুতো চা* *টতে আর তাদের পায়ের নিচে পড়ে থাকতে পছন্দ করে, নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জি-হুজুর করে চলে সেখানে গাদ্দাফির মতো বুক টান টান করে দাঁড়ানোর মতো সাহসী কলিজা কজনের আছে?
গাদ্দাফির লাইফস্টাইল বা রাজনীতি নিয়ে হাজারটা বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু আমেরিকার বুকের ভেতর ঢুকে তাদেরই নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে বিশ্বশোষণের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো ডেয়ারিং পাওয়ার মুভ ক'জনের আছে! আজকের বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালে বোঝা যায়,  দিনশেষে, ইতিহাস দাসদের মনে রাখে না, ইতিহাস মনে রাখে সিংহের মতো গর্জন করা এই রাজাদেরই! 🫡

​
​
   #diaryofshe #UNGeneralAssembly

Thursday, September 24, 2026

পাকিস্তানি সেনারা ২৫ মার্চ নিরীহ বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা একটা ফিকশনকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে তা হল বাঙালিরা একদম চুপচাপ ছিল। পাকিস্তানিরা নিরীহ বাঙালির উপর হামলা করে।


🖋পাকিস্তানি সেনারা ২৫ মার্চ নিরীহ বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা একটা ফিকশনকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে তা হল বাঙালিরা একদম চুপচাপ ছিল। পাকিস্তানিরা নিরীহ বাঙালির উপর হামলা করে।

তবে বাস্তবতা হল শেখ মুজিব একদিকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। অন্যদিকে ভারত থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তার ক্যাডার বাহীনিকে লেলিয়ে দেয় অবাঙালিদের পেছনে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ একটা ঘটনা উল্লেখ করেছেন(গর্ব সহকারে), ❝ ২৬ অক্টোবর (১৯৬৯) শেখ মুজিব কয়েক দিনের জন্য লন্ডন সফরে যান। সবাই জানত তিনি আগরতলা মামলা চলাকালে প্রবাসী বাঙালিদের এবং তাঁর কৌসুলি স্যার টমাস উইলিয়ামকে কৃতজ্ঞতা জানাতে লন্ডনে যাচ্ছেন । যাওয়ার আগে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর নীলক্ষেত-বাবুপুরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আজিমপুর-নিউ পল্টন ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তালুকদারকে ইঙ্গিতে বলেন, ‘লাল ফিতা পেলেই ধরবে।' লাল ফিতা বলতে তালুকদার বুঝলেন পাঞ্জাবি সেনা। ৩ নভেম্বর তালুকদার নীলক্ষেতে তাঁর অফিসে বসে কাজ করছিলেন। সেখানে মন্টু, খসরু এবং আরও কয়েকজন ছিলেন। খবর এল, নিউমার্কেটের ভেতরে সেনা ঢুকেছে । কয়েকজনের গায়ে ইউনিফর্ম, বাকিরা সাদাপোশাকে। তখন বেলা ১১টা। নিউমার্কেটের ১ নম্বর ও ২ নম্বর গেটের মাঝামাঝি জায়গায় তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা হলো । পিটিয়ে এবং ছুরি মেরে কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। ❞

১৯৭১ সালে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পরে। ২ মার্চ আওয়ামী লীগের ক্যাডারেরা নিউমার্কেট ও বায়তুল মোকাররমের অস্ত্র দোকানগুলো থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে। তারা এসব অস্ত্র ট্রাকে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্ররা একটি উন্মুক্ত ফায়ারিং রেঞ্জে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তারা অবাঙালিদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও সিনেমা হল লুট করতো।

এছাড়া তারা ঢাকা শহরে বিহারি, গুজরাটি, মনিপুরী, আসামি সহ সব অবাঙালিদের আবাসিক এলাকায় হামলা করে। মুক্তিপণ আদায়ে ধনী পশ্চিম পাকিস্তানিদের অপহরণ করা হয়। ফলে আতঙ্কিত বহু অবাঙালি সেনানিবাসে আশ্রয় গ্রহন করে। 

৩ মার্চ পল্টন ময়দানে এক সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার পক্ষে চার ছাত্র নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব এবং আবদুল কুদ্দুস মাখন শপথ বাক্য পাঠ শেষে ‘জয়বাংলা বাহিনী'র উপ-প্রধান (ডেপুটি চীফ) কামরুল আলম খান খসরু আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গান ফায়ার’ করে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা জানান।

একই দিনে ৩ মার্চ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীদের নেতৃত্বে উন্মত্ত জনতা ঢাকার নবাবপুর, ইসলামপুর ও পাটুয়াটুলির মতো জায়গায় হাজার হাজার অবাঙালির বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড চালায়। জিন্নাহ এভিনিউতে অবাঙালি মালিকানাধীন বহু দোকানপাট লুট করা হয়। শহরের উপকণ্ঠে একটি বস্তিতে অবাঙালিদের ৫০টি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাদের অনেকে জীবন্ত দগ্ধ হয়। আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের নির্দেশে ঢাকায় টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশনে পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তে রবীন্দ্রনাথের পূর্ব বাংলা বিরোধী গান ‘আমার সোনার বাংলা' বাজানো হয়।

৬ মার্চ ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে ৩৪১জন কয়েদী পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের সঙ্গে যোগ দেয়।  ককটেল এবং বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে ছাত্র লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরী ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে রাসায়নিক বিস্ফোরক লুট করে। 

১৬ থেকে ২৩ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের আড়ম্বরপূর্ণ শাসনতান্ত্রিক আলোচনার সময়ও আওয়ামী লীগ তাদের সমান্তরাল সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং ঢাকা ও তার আশপাশের কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দলীয় ক্যাডারদের প্রকাশ্যে প্রশিক্ষণ দেয়। অবাঙালিদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। একদল দাঙ্গাবাজ ক্যাডার ঢাকায় সেনাবাহিনীর একটি জীপে হামলা চালায় এবং জীপের আরোহী ৬ সৈন্যকে অপহরণ করে। শহরে পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র লুট করা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পাকিস্তানি সৈন্যদের কাছে খাদ্য সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

২৩ মার্চ চীনা কন্স্যুলেটে লীগের বানানো নতুন পতাকা উত্তোলন করতে গেলে লীগের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাধে। চীনারা তাদেরকে এ পতাকা উত্তোলনে বাধা দেয়। আওয়ামী লীগের বিক্ষোভকারীরা বহু স্থানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা টুকরো টুকরো করে এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি পায়ের নিচে পিষ্ট করে। ইপিআর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সপক্ষ ত্যাগ করায় আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

পুরো প্রদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়৷ ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি ছিল আরো ভয়াবহ। সর্বত্র অবাঙালিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চলে। কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের ক্যাডারেরা একজন লাহোরের অধিবাসী সরকারি কর্মকর্তা ওয়াকার নাসিম বাটের মাথা কেটে, কাটা মাথা নিয়ে আনন্দ মিছিল করে (ছবিতে)। 

খুলনা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহসহ সারা দেশে বিহারিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চলে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এর ভয়াবহতা ছিল সবচেয়ে বেশি। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, সৈয়দপুরে হাজার হাজার বিহারিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। 

বাঙালিদের প্রিয় সাংবাদিক এন্থনি মাসকোরেনহাস সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে লিখেছিলেন,

❝ Thousands of families of unfortunate Muslims, many of them refugees from Bihar were mercilessly wiped out. Women were raped or had their breasts torn out... Children did not escape the horror: the lucky ones were killed with their parents.... The real toll have been as may high as 100,000. ❞ 

বাঙালি ইতিহাসবেত্তা প্রফেসর তাজ হাশমি তার ক্যারিশমা দেখিয়েছেন এক লাইনে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে অবাঙালিদের অবস্থা কেমন ছিল তা বিশ্লেষণ করে। তবে বাঙালি সেই লাইন নিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। 

এ সময় আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা খোদ ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় ১৫ হাজার লোড করা রাইফেল লুট করে। গোটা ঢাকা শহর জুড়ে ব্যারিকেড ও সড়ক প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল বোমা, ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে আওয়ামী লীগ
 ২৬ মার্চ প্রত্যুষে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের সহায়তায় একটি সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটাতে যাচ্ছে। সশস্ত্র অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে ২৫ মার্চ গভীর রাতে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে আসে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রাদেশিক রাজধানীতে আওয়ামী লীগের অভ্যুত্থান নস্যাতে বেশ কয়েকটি জায়গায় আগেভাগে আঘাত হানে। 

বিস্তারিত পড়াশোনা:

১। ব্লাড এন্ড টীয়ার্স, কুতুবউদ্দিন আজিজ 
২। ডেড রেকনিং, শর্মিলা বোস
৩। 50 years of Bangladesh, Prof. Taj Hashmi, (Chapter 7)
৪। আওয়ামী লীগ, উত্থান পর্ব, মহিউদ্দিন আহমেদ পৃ: ২০৯

©️ একজন দেশপ্রেমিক

Wednesday, September 16, 2026

জিন্নাহর রাজনীতিটা না বুঝলে আপনি আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিটাই বুঝবেন না।


জিন্নাহর রাজনীতিটা না বুঝলে আপনি আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিটাই বুঝবেন না। কে কার সাথে কী করতেসে, কেন করতেসে, কোন কথাটা কোন জায়গা থেকে আসতেসে, কিছুই ধরতে পারবেন না। আপনি ঘটনা ঘটতে দেখবেন আর হাঁ কইর‍্যা তাকাইয়া থাকবেন।

আজ বাংলাদেশের সামনে যেই চ্যালেঞ্জটা দাঁড়াইয়া আছে, ওইটার মোকাবেলা করতে হইলে আপনাকে জিন্নাহর রাজনীতিটাই করতে হবে। কোনো রাখঢাক ছাড়া। আনএপোলোজিটিক্যালি। কোন গ্লানি ছাড়া। কোন ব্যখ্যা দেয়া ছাড়াই।

জিয়াউর রহমান ঠিক ওইটাই করসেন। শুনতে খারাপ লাগবে। জিয়ার রাজনীতির এসেন্স যে জিন্নাহর পলিটিক্যাল মিশন এইটা প্রমাণ কইর‍্যা দেওয়া যাবে।
আর এইজন্যই ভারতমাতা জিন্নাহকে অপ্রাসঙ্গিক কইর‍্যা রাখতে চায়। লোকটা মইর‍্যা গেসে আটচল্লিশ সালে। আটাত্তর বছর হইয়া গেল। তবু ছবি টাঙাইলে ছিঁড়তে হয়। কেন?

কারণ প্রশ্নটা জিন্নাহর না। প্রশ্নটা হইলো একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর আলাদা রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকতে পারে কিনা। জিন্নাহকে বৈধ মানলে ওই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ। আর ওই উত্তরটা দিল্লির চলবে না।

জিন্নাহ ঘৃণা কোনো বাংলাদেশের নিজস্ব জিনিস না। ওইটা হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি। আমদানি করা, প্যাকেট খুইল্যা আপনার হাতে ধরাইয়া দেওয়া, আর আপনি ওইটারে চেতনা বইল্যা বুকে জড়াইয়া ধরসেন। আপনাকে কী কী মনে রাখতে বলা হয়, আর কী কী ভুলতে বলা হয়। মনে রাখতে বলা হয় ক্ষতটা। ভুলতে বলা হয় ক্ষতটা কে তাজা রাইখ্যা লাভ করে। মনে রাখতে বলা হয় ভারতমাতার বন্ধুত্ব। ভুলতে বলা হয় সেই বন্ধু আপনাকে কী দিসে।

মনে রাখতে বলা হয় কৃতজ্ঞতা। ভুলতে বলা হয় কৃতজ্ঞতার মেয়াদ থাকে, নাগপাশের থাকে না।

মনে রাখতে বলা হয় আপনি বাঙালি। ভুলতে বলা হয় ওইপারের বাঙালি আপনাকে কোনোদিন নেয় নাই। আপনাকে বাঙ্গালি বলে স্বীকারই করে নাই। কারণ আপনি গরু খাওয়া মুসলমান।

ভারতমাতা এই মন্ত্রটা রোজ আপানার কানে পড়ে। ষোলো কোটি মানুষ ওই মন্ত্র শুনতে শুনতে বড় হইসে। শোনাটা এতো স্বাভাবিক হইয়া গেসে যে ওইটা যে একটা মন্ত্র, ওইটাও আর টের পাওয়া যায় না।

একবার ওই বয়ানের জোয়ালটা ঘাড় থেকে নামান। বুলন্দ আওয়াজে নামান, চুপচাপ না। নিজের সার্বভৌমত্বটা নিজেরা উদযাপন করেন, কারো অনুমতি না নিয়া।

তাইলে দেখবেন ওই প্রেতাত্মাটা আর নাই। ইন্ডিয়ার বয়ান, প্রগতিশীলতার বয়ান, জিন্নাহ ঘৃণা আর আওয়ামী লীগের বয়ান, দুইটা আসলে একটাই জিনিস, আর ওইটার খাদ্য একটাই। আপনার ইতিহাসের ভুল বোধ। খাওয়া বন্ধ করেন॥

Sunday, September 13, 2026

ইতিহাসের বই আমাদের শেখায়, ভারত ভাগ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। কিন্তু এটি আংশিক সত্য কথা।


ইতিহাসের বই আমাদের শেখায়, ভারত ভাগ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। কিন্তু এটি আংশিক সত্য কথা।

ভারত ভাগের আসল দলিল সই হয়েছিল তারও ২৭ বছর আগে, ১৯২০ সালের এক ধুলোমলিন বিকেলে।

নাগপুরের এক জনাকীর্ণ প্যান্ডেলে সেদিন প্রায় ৫ হাজার মানুষের সামনে একজন মানুষকে অপমান করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সেই মানুষটি কোনো পাল্টা চিৎকার করেননি। তিনি শুধু শান্ত পায়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন তিনি একা বের হননি, তার সঙ্গে বেরিয়ে গিয়েছিল ভারতের অখণ্ডতা।

কে ছিলেন সেই ব্যক্তি। আর কংগ্রেসের অন্দরমহলে ঠিক কী ঘটেছিল, যা একজন হিন্দু মুসলিম ঐক্যের দূতকে বানিয়ে দিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় খলনায়ক।

১৯২০ সালের নাগপুর অধিবেশন-

সাল ১৯২০, ডিসেম্বর মাস। স্থান নাগপুর। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন চলছে। প্যান্ডেলের নিচে প্রায় ৫ হাজার মানুষ। বাতাসে ধুলো আর চরম উত্তেজনা।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন একজন মানুষ। পরনে লন্ডনের সেভিল রো থেকে বানানো দামি স্যুট, চোখে মুখে আভিজাত্যের ছাপ। তিনি কথা বলতে চাইলেন, কিন্তু ৫ হাজার মানুষের জনসমুদ্র তাকে থামিয়ে দিল।

চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে টিটকারি, চিৎকার এবং অপমান।

মঞ্চে দাঁড়ানো লোকটির অপরাধ, তিনি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে মহাত্মা ডাকতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন মিস্টার গান্ধী। অপমানে ও ক্ষোভে সেই ব্যক্তি মঞ্চ থেকে নেমে সোজা বেরিয়ে গেলেন অধিবেশন থেকে। আর কখনো তিনি কংগ্রেসে ফিরে আসেননি।

যিনি বেরিয়ে গেলেন, তিনি আর কেউ নন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

ঐতিহাসিকদের পর্যবেক্ষণ

অথচ মাত্র চার বছর আগেও এই কংগ্রেসেই তাকে ডাকা হতো হিন্দু মুসলিম ঐক্যের দূত বলে। ইতিহাসের পাতায় এই ঘটনাটি কেবল একজন নেতার দলত্যাগ নয়। ঐতিহাসিকরা বলেন, ১৯২০ সালের সেই নাগপুর অধিবেশনই আসলে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের বীজ বুনে দিয়েছিল।

কিন্তু কেন কংগ্রেসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি নিজের ঘরেই এমন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

জিন্নাহর প্রারম্ভিক রাজনীতি ও লখনৌ চুক্তি

গল্পের শুরুটা কিন্তু এমন ছিল না। ১৯১৫ সাল পর্যন্ত জিন্নাহ ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি ছিলেন একজন পুরোদস্তুর সাংবিধানিক রাজনীতিবিদ। ধর্ম বা আবেগ নয়, তিনি বিশ্বাস করতেন যুক্তি আর তর্কে।

বিখ্যাত কবি ও রাজনীতিবিদ সরোজিনী নাইডু তখন জিন্নাহ সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি হিন্দু মুসলিম ঐক্যের প্রকৃত দূত, লম্বা, রাজকীয় এবং আমাদের ভবিষ্যতের আশা।

১৯১৬ সালে জিন্নাহর হাত ধরেই ঐতিহাসিক লখনৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ, দুই মেরুর দুই দলকে তিনি এক মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন। তখন জিন্নাহর পরিচয় কোনো মুসলিম নেতা হিসেবে ছিল না। তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী।

গান্ধীর উত্থান ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

কিন্তু রাজনীতিতে খুব শীঘ্রই এমন এক ঝড় আসতে চলেছিল, যার জন্য জিন্নাহ নিজেও প্রস্তুত ছিলেন না। সেই ঝড়ের নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গান্ধী ফিরলেন এক নতুন মন্ত্র নিয়ে। তার রাজনীতি ড্রয়িং রুমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি রাজনীতিকে নিয়ে গেলেন রাস্তায়, কৃষক আর শ্রমিকদের মাঝে।

জিন্নাহ ছিলেন যুক্তিবাদী ব্যারিস্টার, আর গান্ধী ছিলেন আধ্যাত্মিক পপুলিস্ট। জিন্নাহ কথা বলতেন ইংরেজিতে সংবিধান নিয়ে, আর গান্ধী কথা বলতেন অন্তরাত্মা ও ধর্ম নিয়ে।

বিখ্যাত ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি ওলপার্ট তার জিন্নাহ অব পাকিস্তান বইয়ে এই সময়টাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, জিন্নাহ গান্ধীর রাজনীতিকে মনে করতেন বিশৃঙ্খল।

চরকা কাটা কিংবা ভজন গাওয়া, এগুলো জিন্নাহর কাছে রাজনীতি ছিল না। জিন্নাহ বিশ্বাস করতেন, সাধারণ জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন না করে রাস্তায় নামালে তা কেবল অরাজকতাই ডেকে আনবে।

কংগ্রেসের সাধারণ কর্মীরা ধীরে ধীরে গান্ধীর জাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল, আর যুক্তিবাদী জিন্নাহ ক্রমশ একা হয়ে পড়লেন।

খিলাফত আন্দোলন ও ধর্মের রাজনীতি

কিন্তু আসল ফাটলটা ধরল যখন রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনা হলো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খলিফাকে রক্ষার জন্য ভারতে শুরু হলো খিলাফত আন্দোলন।

গান্ধীজি দেখলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে মুসলিমদের সমর্থন দরকার। তাই তিনি হিন্দুদের নেতা হয়েও এই ইসলামী আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন দিলেন।

এখানেই জিন্নাহ থমকে গেলেন। তিনি ছিলেন একজন সেক্যুলার মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো মানে বারুদের স্তূপে আগুন দেওয়া।

ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লেখক জাসবন্ত সিং তার বইয়ে জিন্নাহর এই অসহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, জিন্নাহ গান্ধীকে সাবধান করে বলেছিলেন, আপনি আগুনের সঙ্গে খেলছেন। মোল্লাতন্ত্রকে রাজনীতিতে ডেকে এনে আপনি এমন এক শক্তিকে জাগিয়ে তুলছেন, যাকে পরে আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

কিন্তু গান্ধীজি সেই সতর্কবার্তা শোনেননি।

সংবিধানের জনক বি আর আম্বেদকরও পরবর্তীকালে জিন্নাহর এই অবস্থানের প্রশংসা করে লিখেছিলেন, মিস্টার জিন্নাহ ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি খিলাফতের বিরোধিতা করার সাহস দেখিয়েছিলেন।

কংগ্রেস যখন মুসলিমদের খুশি করতে ব্যস্ত, তখন জিন্নাহ একা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ধর্মীয় উন্মাদনা দিয়ে দেশের মুক্তি আসতে পারে না। কিন্তু কংগ্রেস তখন সংখ্যার লোভে জিন্নাহর যুক্তি শুনল না। তিনি নিজ দলেই হয়ে পড়লেন বহিরাগত।

চূড়ান্ত অপমান ও বিদায়

অবশেষে এলো সেই দিন, ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাস, নাগপুর অধিবেশন। গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব আনলেন। জিন্নাহ এর বিরোধিতা করতে মঞ্চে উঠলেন। তিনি চাইলেন আবেগের বদলে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে।

মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে জিন্নাহ বললেন, আমি মিস্টার গান্ধীর প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি।

মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ চিৎকার করে উঠল, মিস্টার গান্ধী নয়, মহাত্মা বলো, মহাত্মা বলো।

জিন্নাহ থামলেন। কিন্তু তিনি ভিড়ের কাছে মাথা নোয়ানোর পাত্র নন। তিনি আবার বললেন, আমি মিস্টার গান্ধীর কথা বলছি।

এবার ভিড় আরও হিংস্র হয়ে উঠল। কেউ জুতো ছুড়ল, কেউ বা গালি দিল।

জিন্নাহর প্রথম জীবনীকার হেক্টর বলিথো এই দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক হার ছিল না। এটি ছিল জিন্নাহর জন্য চূড়ান্ত ব্যক্তিগত অপমান।

জিন্নাহ কোনো পাল্টা চিৎকার করলেন না। তিনি বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে সোজা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করলেন।

বলা হয়, জিন্নাহর সঙ্গে সেদিন তার স্ত্রী রুট্টি জিন্নাহও ছিলেন। তারা দুজন যখন ধীর পায়ে সেই কোলাহলপূর্ণ প্যান্ডেল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কংগ্রেসের সঙ্গে জিন্নাহর সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল।

স্বেচ্ছা নির্বাসন ও উপসংহার

সেদিন রাতেই জিন্নাহ নাগপুর থেকে বোম্বাইয়ের ট্রেন ধরেন। সাংবাদিকরা যখন তাকে প্রশ্ন করলেন, তিনি বিষণ্ণ মনে বলেছিলেন, আমি কংগ্রেস এবং গান্ধীর সঙ্গ ত্যাগ করলাম, কারণ আমি জনতার উন্মাদনা দিয়ে রাজনীতি করায় বিশ্বাসী নই।

এরপর জিন্নাহ প্রায় এক দশকের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে লন্ডনে চলে গেলেন স্বেচ্ছা নির্বাসনে। কিন্তু সেই ১৯২০ সালের অপমান তিনি কোনোদিনও ভুলতে পারেননি।

ঐতিহাসিক আয়েশা জালাল তার বিশ্লেষণে বলেন, জিন্নাহর কংগ্রেস ত্যাগ ছিল যুক্তিবাদী রাজনীতির বিদায়। জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অতিরিক্ত মাত্রায় সেক্যুলার, যিনি গান্ধীর ধর্মীয় পপুলিজমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেননি।

ট্র্যাজেডি হলো, যে মানুষটি ধর্মকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন, সেই মানুষটিকেই ইতিহাসের ফেরে পড়ে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করতে হলো।

নাগপুরের সেই মঞ্চে যদি জিন্নাহকে কথা বলতে দেওয়া হতো, তাকে অপমান না করা হতো, তবে হয়তো ভারতের ইতিহাস অন্যরকম হতো।

১৯২০ সালে কংগ্রেস জিন্নাহকে কোণঠাসা করেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই কোণঠাসা বাঘটিই ফিরে এসে ১৯৪৭ সালে মানচিত্র ছিঁড়ে তার জবাব দিয়েছিলো।

-সাদিক রহমান।

#fyp #viral #trending #reach #foryou #followers #following #everyone #highlights #writer #writing

Friday, September 11, 2026

শের আলী আফ্রিদি - যে নামটি ব্রিটিশরা মুছে ফেলতে চেয়েছিল


আসুন আমরা গৌরবের ইতিহাস পড়ি ৷ 
কতকাল আর মিথ্যে ইতিহাসের কবলে পড়ে মিথ্যেকে লালন করে আত্মহত্যার মত পাপ করবেন !! গৌরব না করে নিরক্ষর ব্যক্তির মত তেলবাজি বাদ দিয়ে সাদাকে সাদা,কালোকে কালো বলতে শিখুন ৷ 
—————————————————————————————শের আলী আফ্রিদি - যে নামটি ব্রিটিশরা মুছে ফেলতে চেয়েছিল

ব্রিটিশ ভারতের ২০০ বছরের ইতিহাসে ভাইসরয় ছিল সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তাকে বলা হতো ভারতের মুকুটহীন সম্রাট। তার নিরাপত্তা ছিল নিশ্ছিদ্র, তার আদেশে লাখো মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতো। সেই ইতিহাসে মাত্র একবার, মাত্র একজন মানুষ সেই অজেয় ক্ষমতার বুকে ছুরি বসাতে পেরেছিলেন। তার নাম শের আলী আফ্রিদি। 

অথচ আশ্চর্যের বিষয়, যে ইতিহাসে ব্যর্থ বিপ্লবীদের নিয়েও মহাকাব্য লেখা হয়, সেখানে সফল হওয়া এই একমাত্র বীরের নামটি আজ বিস্মৃত।
পেশোয়ারের পাহাড় থেকে ব্রিটিশ ঘোড়সওয়ার
শের আলী আফ্রিদির জন্ম ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশোয়ার জেলার খাইবারের তিরাহ উপত্যকায়। তিনি ছিলেন আফ্রিদি গোত্রের একজন খাঁটি পাঠান। পাঠানদের রক্তে যে স্বাধীনচেতা জেদ আর তেজ থাকে, শের আলীর মধ্যেও তার কোনো কমতি ছিল না।

যৌবনে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঞ্জাবের একটি অশ্বারোহী বাহিনীতে যোগ দেন। নিজের যোগ্যতায় তিনি ঘোড়সওয়ার থেকে পদোন্নতি পেয়ে অফিসারও হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশ বাহিনীতেও কাজ করেন। অর্থাৎ তিনি ব্রিটিশ সিস্টেমের ভেতর থেকেই ব্রিটিশদের চিনেছিলেন।

কিন্তু পাহাড়ি সমাজের চিরন্তন ব্যাধি - পারিবারিক শত্রুতা। ১৮৬৭ সালে নিজের বংশের শত্রু হায়াত নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ব্রিটিশ আদালত তাকে গ্রেফতার করে। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। আর শাস্তি ভোগের জন্য বেছে নেওয়া হয় তখনকার সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা - কালাপানি, আন্দামানের সেলুলার জেল।
কালাপানি - যেখানে মানুষ জীবন্ত কবর পেত
তখন আন্দামান ছিল পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন এক নরক। যাকে সেখানে পাঠানো হতো, ধরে নেওয়া হতো সে আর কখনো মূল ভূখণ্ডে ফিরবে না। 

শের আলীকে প্রথমে সেলুলার জেলে রাখা হলেও পরে তার ভালো আচরণের জন্য তাকে পোর্ট ব্লেয়ারের হোপটাউন এলাকায় কিছুটা খোলামেলা জায়গায় কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি কখনো বাবুর্চির কাজ করতেন, কখনো নাপিতের। এই স্বাধীনভাবে চলাফেরার কারণেই তিনি জেলের অন্য এক জগতের সাথে পরিচিত হন।

সেখানে তিনি দেখা পান ওয়াহাবি আন্দোলনের বন্দী, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের বেঁচে যাওয়া সৈনিক এবং বাংলার বিভিন্ন রাজনৈতিক বন্দীদের। তাদের মুখে তিনি শুনতেন কীভাবে ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষকে লুট করছে, কীভাবে মসজিদের আজান বন্ধ করা হচ্ছে, কীভাবে কৃষকের ফসল কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশদের সম্পর্কে তার যে ক্ষোভ ছিল, তা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ থেকে হয়ে উঠল জাতীয় চেতনা। তিনি বুঝতে পারলেন, তার শত্রু শুধু একজন নয়, পুরো ব্রিটিশ শাসন।

তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন, যেন মৃত্যুর আগে দেশের জন্য বড় কিছু করে যেতে পারেন।
লর্ড মেয়ো - অহংকারের প্রতীক
অন্যদিকে, ১৮৬৯ সালে ভারতের ভাইসরয় হয়ে আসেন লর্ড মেয়ো, পুরো নাম রিচার্ড সাউথওয়েল বোর্ক। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অহংকারী, কঠোর এবং আয়ারল্যান্ডে কৃষক বিদ্রোহ দমনে কুখ্যাত একজন শাসক।

তিনি ঠিক করলেন আন্দামানের জেল ব্যবস্থা কতটা উন্নত হয়েছে তা তিনি নিজে পরিদর্শন করবেন। তার এই সফর ছিল মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি প্রদর্শনের সফর।

১৮৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বিশাল লটবহর নিয়ে আন্দামানে আসেন। তার সাথে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা, গভর্নর, পুলিশ প্রধান। চারপাশে কড়া নিরাপত্তা।
৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭২ - সেই সন্ধ্যা
সারাদিন ধরে তিনি মাউন্ট হ্যারিয়েট পাহাড়, রস দ্বীপ এবং বিভিন্ন কয়েদি স্টেশন পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি জেটিতে ফিরে আসেন। তার স্ত্রী লেডি মেয়ো জেটির কাছেই একটি স্টিম বোটে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

সূর্য ডুবে গেছে, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু মশালের আলো জ্বলছে। ভাইসরয় জেটি দিয়ে বোটের দিকে হাঁটছেন। তার দুই পাশে দুইজন উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ অফিসার, পেছনে সশস্ত্র দেহরক্ষী।

আর ঠিক সেই অন্ধকারের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শের আলী। তিনি আগে থেকেই জানতেন আজ বড়লাট আসবে। তিনি তার লুঙ্গির ভাঁজে একটি ধারালো ছুরি এবং একটি নাপিতের ক্ষুর লুকিয়ে রেখেছিলেন।

নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেদ করে তিনি বাঘের মতো লাফিয়ে পড়লেন লর্ড মেয়োর উপর। কেউ কিছু বোঝার আগেই তিনি উপর্যুপরি দুবার আঘাত করলেন। একটি আঘাত পিঠে, আরেকটি ঘাড়ে। এতটাই গভীর ছিল আঘাত যে লর্ড মেয়ো আর্তনাদ করে অগভীর পানিতে পড়ে গেলেন।

মুহূর্তের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে গেল। রক্ষীরা শের আলীকে ধরে ফেলল এবং মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর শুরু করল। লর্ড মেয়োকে রক্তাক্ত অবস্থায় তুলে বোটে নেওয়া হলো, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বোটেই তার মৃত্যু হয়।

ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম, একজন কর্মরত ভাইসরয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভারতীয় প্রতিনিধি, একজন ভারতীয়ের হাতে নিহত হলেন।
জবানবন্দি ও শাহাদাত
ধরা পড়ার পর যখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো, তিনি একটুও ভয় পাননি। ব্রিটিশ বিচারক যখন জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কেন তাকে হত্যা করলে?"

শের আলী অত্যন্ত শান্ত গলায় জবাব দিয়েছিলেন, "আমি অনেক দিন ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম, যেন আমি কোনো বড় কাফেরকে মারতে পারি। আল্লাহ আজ আমার দোয়া কবুল করেছেন। আমি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জন্য মারিনি, আমি আমার দেশের শত্রুকে মেরেছি। এটা খোদার হুকুম ছিল।"

ব্রিটিশরা ভেবেছিল এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে। কিন্তু তদন্তে কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি একাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এরপর কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র এক মাসের মধ্যে বিচার শেষ করা হয়। ১৮৭৩ সালের ১১ মার্চ আন্দামানের ভাইপার দ্বীপে তাকে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কেন আমরা তাকে মনে রাখিনি?
আজ আমাদের পাঠ্যবইয়ে আমরা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের গল্প পড়ি, যিনি পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবে হামলা করে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমরা ক্ষুদিরাম বসুর গল্প পড়ি, যিনি কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে ভুল করে দুজন নিরপরাধ ইংরেজ নারীকে মেরে ফেলেছিলেন।

তাদের আত্মত্যাগ অবশ্যই শ্রদ্ধার যোগ্য, তাদের সাহস নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু তারা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে সফল হতে পারেননি।

অথচ শের আলী আফ্রিদি, যিনি সফল হয়েছিলেন, যিনি করে দেখিয়েছিলেন যা আর কেউ পারেনি, তাকে আমরা ভুলে গেছি। কারণ কি তিনি মুসলিম ছিলেন বলে? কারণ কি তিনি পাঠান ছিলেন বলে? নাকি কারণ ব্রিটিশদের লেখা ইতিহাসে ইচ্ছা করেই একজন মুসলিম বীরকে জায়গা দেওয়া হয়নি, আর স্বাধীনতার পরেও আমরা সেই ব্রিটিশদের লেখা ইতিহাসই আঁকড়ে ধরে আছি?

এটাই আমাদের বড় ব্যর্থতা। আমরা আমাদের নিজেদের স্বর্ণালী ইতিহাস জানি না, আর যে ইতিহাস আমাদের জানানো হয়, তা অর্ধেক সত্য আর অর্ধেক মিথ্যা।

তথ্যলিপি
#simantosokun

Saturday, September 5, 2026

সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ


মুসলিমরা দক্ষিন এশিয়া শাসন করেছে ৮০০ বছরেরও অধিক। কিন্তু একমাত্র বাংলা ছাড়া এর আশেপাশে আর কোথাও মুসলিম মেজরিটি নেই। ১৮৮১ সালের গননায় ধরা পরে বাংলা মুসলিম মেজরিটি। বাংলায় ৯৯% ই ধর্মান্তরিত মুসলিম, যাদের পুর্ব পুরুষ এক সময় হিন্দু বা বৌদ্ধ ছিলো। কারোর মনে কি আসে না সারা ভারতের এতোগুলো রাজ্যের মধ্যে বাংলা কিভাবে মুসলিম মেজরিটি হল? কি ছিলো সে একটা আসল ফ্যাক্টর যার জন্য হিন্দু বাংলা মুসলিম বাংলায় রুপান্তর হলো?
.
এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে একজন ব্যাক্তি। রাজা গণেশের পুত্র যদু তথা জালালউদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ। রাজা গনেশ ছিলো হিন্দু জমিদার। সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের শাসন আমলে সে অনেক প্রতাপশালী হয়ে উঠে এবং ছলচাতুরির মাধ্যমে সুলতানকে হত্যা করে ক্ষমতা নেয়। তার শাসনামলে মুসলিম সুফি ও আলেমদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হতে থাকে। গনেশ ধর্মীয় বিদ্দেষ এর কারনে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ ভেংগে দেয়। অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বাংলার বিখ্যাত সুফি সাধক নূর কুতুবুল আলম তখন জৌনপুরের সুলতান ইব্রাহিম শর্কীকে বাংলা আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান। এই চরম সংকটের মুহূর্তে রাজা গণেশ আপস করতে বাধ্য হন। সুফি সাধক শর্ত দেন গনেশকে মুসলিম হতে হবে। গনেশ বলে এই বুড়ো বয়সে সে পাপ করতে পারবে না। তখন গনেশ তার পুত্র যদুকে জোর করে মুসলিম বানায় এবং পাপেট হিসাবে ক্ষমতায় বসায়। ইব্রাহিম শার্কি চলে গেলে গনেশ আবার ক্ষমতা নিয়ে আগের রুপে আসে এবং আবারও মুসলিমদের উপর অত্যাচার শুরু করে।
.
যদুকে আবারও হিন্দু বানানোর জন্য সে স্বর্নের গরুর মুর্তি বানিয়ে যজ্ঞ করে। কিন্তু এইবার যদু বেকে বসে। সে হিন্দু হতে অস্বীকার করলে গনেশ যদুকে জেলে ঢুকিয়ে রাখে। বলা হয় বাংলায় অরাজের সুযোগে শক্তিশালি আমর্ত্যদের সাহায্যে যদু তার পিতার মৃত্যু হলে বাংলার ক্ষমতা নিজের আয়ত্বে নেয়। সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ নাম দিয়ে তার ১৭ বছরের ঐতিহাসিক বাংলা শাসনের শুরু করে। বাংলার সুলতানদের মধ্যে তিনিই প্রথম মক্কা ও মদীনায় অর্থ প্রেরণ করে সেখানকার খলিফার স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন। পিতা যত মসজিদ ভেঙ্গেছিল , তিনি তার দ্বিগুন মসজিদ তৈরি করেন।

প্রাচীন প্রবাদ রয়েছে, "যথা রাজা, তথা প্রজা"। রাজা গণেশের মতো প্রতাপশালী হিন্দু রাজার ছেলের স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ তৎকালীন হিন্দু সমাজে বিশাল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, রাজার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেসময় বহু উচ্চপদস্থ হিন্দু রাজকর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য, সামাজিক মর্যাদা লাভ এবং বর্ণপ্রথার প্রভাব থেকে মুক্ত হতে এই সময়ে ব্যাপক ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটে। জালালউদ্দিন কেবল ধর্ম পরিবর্তনই করেননি, তিনি বাংলার স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে ইসলামী প্রশাসনের এক চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তিনি ফার্সি ও আরবি ভাষার পাশাপাশি স্থানীয় বাংলা ভাষারও পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার এই স্থানীয়করণের নীতির কারণে সাধারণ হিন্দু-বৌদ্ধ কৃষক ও মজুর শ্রেণি মুসলিম শাসনকে নিজেদের শাসন বলে মেনে নেয়, যা সামাজিক স্তরে ইসলামের প্রসারকে আরও দ্রুত ও সহজ করে দেয়।
.
ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জেমস ওয়াইজ তার এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেংগল (১৮৯৪) বই তে উল্লেখ করেন "তার শাসনে বাংলায় যত মানুষ মুসলিম হয়, তা পরবর্তী ৩০০ বছরের চাইতেও বেশী" । গোটা দক্ষিন এশিয়াতে একমাত্র মুসলিম বাংলার পেছনে তার অবদান আছে।
.
Collected

শতশত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীকে হত্যা করেছিলো আওয়ামী লিগ আর ইন্ডিয়া যৌথভাবে


মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে  শতশত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীকে  হত্যা করেছিলো আওয়ামী লিগ আর ইন্ডিয়া যৌথভাবে। শরনার্থীদের রিলিফের টাকা আর বাংলাদেশকে বিকিয়ে দেয়ার ৭ দফা গোলামি চুক্তিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করেন জহির রায়হান। তখনো তিনি তা প্রকাশ করেননি। আওয়ামীরা ডকুমেন্টারির ব্যাপারে জেনে যায় এবং তা প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ আসতে থাকে।  ইতিমধ্যেই তার ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার গুমের শিকার হন।  জহির রায়হান নিশ্চয়ই জানতেন এই গুমের পেছনে কারা জড়িত। ভাইকে ফেরৎ পাওয়ার জন্য তিনি এই ডকুমেন্টারি প্রকাশের হুমকি দেন। তখন কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। দেশ চালায় ইন্ডিয়া। মিরপুর থানা ইন্ডিয়ান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।  থানা থেকে ফোন আসে ভাইকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ভাইকে ফেরৎ আনতে থানায় গিয়ে গুম হন জহির রায়হান।
সাগর-রুনি দম্পতি সাংবাদিক হিসেবে নিশ্চয়ই জানতেন পিলখানা হত্যাকান্ডের পেছনে কারা জড়িত। দেশপ্রেমিক হিসেবে এই রহস্য জনসমক্ষে আনার জন্য ডকুমেন্টারি তৈরি করেন। আর প্রকাশের আগেই আওয়ামী লিগ ও ইন্ডিয়ার অপকর্ম গোপন রাখতেই নৃশংসভাবে তাদের খুন করা হয়।
কপি

Facebook Meta
#Jahirraihan #sagarruni #AwamiLeague #AwamiLeague  #KillerHasina

Saturday, August 29, 2026

The main reason why Pakistan lost in 1971


Question: 
One of the reasons why #Pakistan lost in 1971 was the distance from #Bangladesh to the main Pakistan. If #India attacks us this time, how will Pakistan overcome that distance barrier, meaning what is their military strategy this time?

Answer: 

The main reason why Pakistan lost in 1971 was not distance. Pakistan lost due to the rebellion of the East Bengal Regiment and EPR. Pakistan created the EPR and East Bengal Regiment to protect East Pakistan. Those two forces, instead of protecting East Pakistan in 1971, started a proxy war on behalf of India. 

When the soldiers of their own army kill their commanding officer and rape his 8-month-old pregnant wife, then no army in the world can win a war. When an officer of their own air force renders his subordinate student unconscious with chloroform, kidnaps the student and hijacks the plane, then even the most powerful air force in the world is bound to collapse. 

The ratio of Bengalis and West Pakistanis at the pilot level of the Pakistan Air Force was about 40 vs 60. After the Matiur Rahman incident, the Pakistan Air Force did not dare to give planes to any Bengalis. As a result, it could not fly skilled pilots and planes like Saiful Azam. When the best pilots of its own air force have to be kept in place, then the war cannot be won. 

The Mecca Agreement will work only if the Bangladesh Army and the BGB resist. But it turned out that at the beginning of the war, these two forces sided with India like in 71, then no agreement will work. If the East Bengal Regiment and EPR had not rebelled, Pakistan would not have lost in 71.

প্রশ্নঃ 
একাত্তরে পাকিস্তান হেরে যাবার অন্যতম কারণ মূল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের দুরত্ব। এবার যদি ভারত আমাদের আক্রমণ করে, তাহলে পাকিস্তান কীভাবে সেই দুরত্বের বাঁধা অতিক্রম করবে, মানে তাদের এবারের সামরিক স্ট্রেটেজিটা কী?

উত্তরঃ 

৭১ সালে পাকিস্তানের হেরে যাবার প্রধান কারণ  দূরত্ব ছিল না। পাকিস্তান  হেরেছিল ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট ও ইপিআর এর বিদ্রোহের কারণে। পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য পাকিস্তান ইপিআর আর ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট তৈরি করেছিল। সেই দুই বাহিনী ৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করার বদলে নিজেরাই ভারতের হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করে। 

যখন নিজ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা তাদের কমান্ডিং অফিসারকে হত্যা করে, তার ৮ মাস বয়সী প্রেগন্যান্ট স্ত্রীকে রেপ করে, তখন দুনিয়ার কোন সেনাবাহিনীর পক্ষেই যুদ্ধে জেতা সম্ভব না। যখন নিজ বিমান বাহিনীর অফিসার তার অধঃস্থন ছাত্রকে ক্লোরোফরম দিয়ে অজ্ঞান করে, ছাত্রকে অপহরণ করে এবং বিমান ছিনতাই করে, তখন দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীও ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য। 

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাইলট পর্যায়ে বাঙ্গালি আর পশিম পাকিস্তানির অনুপাত ছিল প্রায় ৪০ বনাম ৬০। মতিউর রহমানের ঘটনার পরে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী আর কোন বাঙ্গালীকে বিমান দেবার সাহস করছিল না। ফলে সাইফুল আজমের মত দক্ষ বৈমানিক ও বিমান উড়াতে পারে নাই। যখন নিজ বিমান বাহিনীর সেরা পাইলটকে বসিয়ে রাখতে হয়, তখন যুদ্ধে আর জেতা যায় না। 

মক্কা চুক্তি তখনই কাজে দিবে যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি প্রতিরোধ করবে। কিন্ত দেখা গেল যুদ্ধ শুরুর সময়ে এই দুই বাহিনী ৭১ এর মত করে ভারতের পক্ষে চলে গেল, তাহলে কোন চুক্তি কাজে দিবে না। যদি ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট ও ইপিআর বিদ্রোহ না করত, তবে পাকিস্তান ৭১ সালে হারত না।

Friday, August 7, 2026

💔 ড. আফিয়া সিদ্দিকী: উম্মাহর হৃদয়ে জমে থাকা এক অশ্রুভেজা ইতিহাস 💔



💔 ড. আফিয়া সিদ্দিকী: উম্মাহর হৃদয়ে জমে থাকা এক অশ্রুভেজা ইতিহাস 💔

ড. আফিয়া সিদ্দিকী— একটি নাম, যা শুধু একজন মেধাবী নিউরোসায়েন্টিস্টের পরিচয় নয়; বরং মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে জমে থাকা এক গভীর ব্যথা, এক অশ্রুভেজা ইতিহাস।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কথা বলা হয় একটি স্বপ্নকে কেন্দ্র করে— যেখানে তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে দেখেন। স্বপ্নে তিনি কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করেন— “আমি এখানে আর কতদিন থাকব? আমার এই দুর্দশা কবে শেষ হবে?” তখন নবীজি (সা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন— “এটি তোমার পরীক্ষা নয়, এটি আমার উম্মতের পরীক্ষা।”

এই একটি বাক্যই যেন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কষ্টের ব্যাখ্যা নয়— বরং পুরো উম্মাহর জন্য এক গভীর বার্তা। অন্যায়, নির্যাতন, এবং নীরবতার বিরুদ্ধে এক নীরব চিৎকার।

আফিয়া সিদ্দিকী ছিলেন একজন অত্যন্ত মেধাবী বিজ্ঞানী। তাঁর স্বপ্ন ছিল ইসলামি মূল্যবোধে জ্ঞানচর্চা করা, কুরআনের আলোকে সমাজকে আলোকিত করা, এবং মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) এবং ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই বিজ্ঞানীর মেধা ও যোগ্যতা ছিল অনন্য।

কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁর সেই স্বপ্নগুলো বন্দি হয়ে পড়ে এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে।আজ টেক্সাসের কার্সওয়েল ফেডারেল মেডিকেল সেন্টারের নির্জন সেল থেকে ড. আফিয়ার যে আর্তনাদ ভেসে আসে, তা কেবল একজন বন্দি নারীর ক্রন্দন নয়। এটি বিশ্ববিবেক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতার এক জীবন্ত দলিল। যে মেধা বিশ্বমানবতার কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারত, তা আজ বছরের পর বছর ধরে অন্যায় ও নির্মম নির্যাতনের শিকার।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই ঐতিহাসিক স্বপ্নবাণী আজ প্রতিটি বিবেকবান মুসলিমকে এক কঠিন কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। "এটি আমার উম্মতের পরীক্ষা"— এই বাক্যটি প্রমাণ করে যে, ড. আফিয়া সিদ্দিকী আজ কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং তিনি নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর এক প্রতীকী কণ্ঠস্বর। তাঁর এই দীর্ঘ বন্দিত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো পুরো উম্মতের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। আল্লাহ উনাকে মুক্তি দান করুন। আমীন। 🤲

#DrAafiaSiddiqui #FreeAafiaSiddiqui #MuslimUmmah #JusticeForAafia #HumanRights #IslamicValues

লালবাগ কেল্লার মোড়



🕰️ ২১০ বছরের ব্যবধানে—একই জায়গা, বদলে গেছে শুধু সময়! ❤️
১৮১৬ সালের চার্লস ডি'অয়লির আঁকা স্কেচ আর ২০২৬ সালের লালবাগ কেল্লার মোড়—দুটি ছবির মাঝে প্রায় ২১০ বছরের ইতিহাস। চারপাশ বদলে গেলেও মুঘল আমলের সেই ঐতিহাসিক বুরুজ আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

একসময় এই বুরুজের পাশ দিয়েই বয়ে যেত বুড়িগঙ্গা নদী। নদীপথে শত্রুর গতিবিধি নজরে রাখতে এখানে বসানো ছিল কামান। আজ সেখানে নদীর ঢেউয়ের বদলে শোনা যায় রিকশা আর গাড়ির ব্যস্ত শহরের শব্দ।

আপনি কি জানতেন লালবাগ কেল্লার এই ইতিহাস? কমেন্টে আপনার মতামত জানান। ❤️

📍 লোকেশন: লালবাগ কেল্লা মোড়, পুরান ঢাকা

#পুরান_ঢাকা #লালবাগ_কেল্লা #OldDhaka

১৮৮০ সালের বাবুবাজার ঘাট ও ঐতিহাসিক বাবুবাজার ঘাট মসজিদ 🕌



📜 ১৮৮০ সালের বাবুবাজার ঘাট ও ঐতিহাসিক বাবুবাজার ঘাট মসজিদ 🕌

পুরান ঢাকার ইতিহাসের এক দুর্লভ সাক্ষী—১৮৮০ সালের এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে বাবুবাজার ঘাট, যার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক বাবুবাজার ঘাট মসজিদ। সময় বদলেছে, চারপাশ বদলেছে, কিন্তু এই স্থান আজও বহন করে চলেছে পুরান ঢাকার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের স্মৃতি।

💬 আপনি কি জানেন, এই ঐতিহাসিক মসজিদটি আজও কোথায় অবস্থিত? কমেন্টে জানান।

#পুরান_ঢাকা #বাবুবাজার_ঘাট #OldDhaka

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বড় কাটারা — ১৯০৬ সাল 📜



🏛️ পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বড় কাটারা — ১৯০৬ সাল 📜

এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ধারণ করা এই দুর্লভ আলোকচিত্র আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বড় কাটারার সঙ্গে। মুঘল আমলের এই স্থাপনাটি একসময় বণিক, ভ্রমণকারী ও অতিথিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরাইখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। শত বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করে আজও বড় কাটারা আমাদের অতীতের গৌরবময় স্মৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

🕌 ইতিহাসকে ভালোবাসুন, ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করুন।

📍স্থান: বড় কাটারা, পুরান ঢাকা
📅 সাল: ১৯০৬

আপনার কি কখনও বড় কাটারা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে? মন্তব্যে আপনার অভিজ্ঞতা জানাতে ভুলবেন না। ❤️
#পুরান_ঢাকা #বড়_কাটারা #OldDhaka

১৮৬৩ সালের নিমতলী প্রাসাদের তোরণ—আজও দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকার নায়েব-নাজিমদের রাজকীয় প্রবেশদ্বার! ✨



🏛️ ১৮৬৩ সালের নিমতলী প্রাসাদের তোরণ—আজও দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকার নায়েব-নাজিমদের রাজকীয় প্রবেশদ্বার! ✨

পুরান ঢাকার ইতিহাসের পাতায় নিমতলী প্রাসাদ এক অনন্য ঐতিহ্যের নাম। আজ আপনাদের জন্য তুলে ধরছি ১৮৬৩ সালে অঙ্কিত নিমতলী প্রাসাদের ঐতিহাসিক তোরণের একটি বিরল জলরঙের চিত্রকর্ম। প্রায় ১৬৩ বছর আগের এই শিল্পকর্ম আমাদের জানিয়ে দেয়, সেই সময় এই রাজকীয় প্রবেশদ্বারটি কেমন ছিল।

🔍 ছবিতে যা দেখা যায়
🏛️ রাজকীয় তোরণ: মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিশাল প্রবেশদ্বারটি খিলান, অলংকরণ ও দেয়ালে জন্মানো লতাগুল্মের সৌন্দর্যে আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।

🚶 তৎকালীন ঢাকার জীবনচিত্র: তোরণের সামনে ছাতা হাতে ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত কয়েকজন পথচারীকে দেখা যায়, যা সেই সময়ের ঢাকার দৈনন্দিন জীবনের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

📜 ইতিহাসের পাতা থেকে
অষ্টাদশ শতকে ঢাকার নায়েব-নাজিম জেসারত খান নিমতলী প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সময়ের প্রবাহে প্রাসাদের অধিকাংশ অংশ বিলুপ্ত হলেও, এই ঐতিহাসিক তোরণটি আজও “নিমতলী দেউড়ি” নামে পুরান ঢাকায় সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে এটি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এবং একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ঢাকার ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

💬 আপনি কি আগে জানতেন, ১৮৬৩ সালে এই তোরণটি আজও পুরান ঢাকায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে?
আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

#OldDhaka #DhakaHistory #NimtaliDeuri

১৮৬৩ সালের নিমতলী প্রাসাদের তোরণ—আজও দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকার নায়েব-নাজিমদের রাজকীয় প্রবেশদ্বার! ✨



🏛️ ১৮৬৩ সালের নিমতলী প্রাসাদের তোরণ—আজও দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকার নায়েব-নাজিমদের রাজকীয় প্রবেশদ্বার! ✨

পুরান ঢাকার ইতিহাসের পাতায় নিমতলী প্রাসাদ এক অনন্য ঐতিহ্যের নাম। আজ আপনাদের জন্য তুলে ধরছি ১৮৬৩ সালে অঙ্কিত নিমতলী প্রাসাদের ঐতিহাসিক তোরণের একটি বিরল জলরঙের চিত্রকর্ম। প্রায় ১৬৩ বছর আগের এই শিল্পকর্ম আমাদের জানিয়ে দেয়, সেই সময় এই রাজকীয় প্রবেশদ্বারটি কেমন ছিল।

🔍 ছবিতে যা দেখা যায়
🏛️ রাজকীয় তোরণ: মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিশাল প্রবেশদ্বারটি খিলান, অলংকরণ ও দেয়ালে জন্মানো লতাগুল্মের সৌন্দর্যে আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।

🚶 তৎকালীন ঢাকার জীবনচিত্র: তোরণের সামনে ছাতা হাতে ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত কয়েকজন পথচারীকে দেখা যায়, যা সেই সময়ের ঢাকার দৈনন্দিন জীবনের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

📜 ইতিহাসের পাতা থেকে
অষ্টাদশ শতকে ঢাকার নায়েব-নাজিম জেসারত খান নিমতলী প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সময়ের প্রবাহে প্রাসাদের অধিকাংশ অংশ বিলুপ্ত হলেও, এই ঐতিহাসিক তোরণটি আজও “নিমতলী দেউড়ি” নামে পুরান ঢাকায় সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে এটি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এবং একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ঢাকার ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

💬 আপনি কি আগে জানতেন, ১৮৬৩ সালে এই তোরণটি আজও পুরান ঢাকায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে?
আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

#OldDhaka #DhakaHistory #NimtaliDeuri

Monday, June 1, 2026

ইতিহাস না জেনেই ভারত বিরোধীতা করবেন না

ইতিহাস না জেনেই ভারত বিরোধীতা করবেন না.. আমাদের কে কিভাবে বাঁশ দিসে 

১. যুদ্ধ শেষে প্রায় দুইশো ওয়াগন রেলগাড়ী ভর্তি করে ২৭০০ কোটি টাকার অস্ত্রসস্ত্র লুটের অভিযোগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার।
(সূত্রঃ দৈনিক অমৃতবাজার, ১২ মে,১৯৭৪)
২. শস্য লুটঃ
★ধান-চাল-গম (৭০-৮০ লাখ টন, গড়ে ১০০ টাকা ধরে): ২১৬০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।
★পাট(৫০ লাখ বেলের উপরে): ৪০০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
★ত্রাণ-সামগ্রী পাচার: ১৫০০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।
★যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ: ১০০০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।
সর্বমোট: ৫০০০ কোটি টাকা যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার।
(সূত্র: জনতার মুখপাত্র, ১ নভেম্বর ১৯৭৫)
৩.বাংলাদেশের শিল্প কারখানা থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করে আগরতলায় পাঁচটি নতুন পাটকল স্থাপন! (সূত্রঃ আখতারুল আলম, দু:শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃষ্ঠা: ১১৫-১১৬)
৪.যুদ্ধের পর সীমান্তের ১০ মাইল এলাকা ট্রেডের জন্য উম্মুক্ত ঘোষনা। এর ফলে চোরাচালানের মুক্ত এলাকা গড়ে উঠে। পাচার হয়ে যায় দেশের সম্পদ।
( সূত্রঃ আবুল মনসুর আহমদ: আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, পৃষ্ঠা: ৪৯৮)
৫.ভারতে বাংলাদেশী জাল টাকা ছেপে এদেশে ছেড়ে দেয়া হত। অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ সে সময় বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে’।
(সূত্রঃ আব্দুর রহিম আজাদ: ৭১ এর গণহত্যার নায়ক কে: পৃষ্ঠা: ৫২)
৬.আমাদের চোখের সামনে চাল-পাট পাচার হয়ে গেছে সীমান্তের ওপারে, আর বাংলার অসহায় মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে। (মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম: :দুঃশাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃষ্ঠা: ১১৯-১২৬)
৭.১৯৭১ এর অবাঙ্গালীদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তির হরিলুট (সূত্রঃ এম এ মোহায়মেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ, পৃষ্ঠা ১৪, ৪৪)
৮. ফারাক্কা বাধের নামে মরুভূমি করার চক্রান্ত, টাকা বিনিময়ের নামে জাল টাকা ছড়ানো, বর্ডার বানিজ্যের নামে ভারতের বস্তাপঁচা মালের বাজার সৃষ্টি।
(সূত্রঃ আখতারুল আলম, দু:শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃষ্ঠা: ১১৫-১১৬)
৯.জয়দেবপুর অর্ডিনেন্স ফ্যাক্টরী থেকে অস্ত্র নির্মানের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভারতে স্থানান্তরিত হয়। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ‘৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)
১০.❝ ঢাকায় এতসব বিদেশী জিনিস পাওয়া যায়! এসব তো আগে  দেখেনি ভারতীয়রা। রেফ্রিজারেটর, টিভি, টু-ইন-ওয়ান, কার্পেট, টিনের খাবার-এইসব ভর্তি হতে লাগলো ভারতীয় সৈন্যদের ট্রাকে। ❞ — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পূর্ব-পশ্চিম, পৃ: ৯২৩
এই তথ্যগুলো মোটামুটিভাবে সবার জানা আছে।  
ভবিষ্যতে কেউ ভারতের এই অবদান, ওই অবদান বললে এই তথ্যগুলা দেখিয়ে দেবেন রেফারেন্স সহ। 
তারপরও আবার উল্লেখ করার কারন খুব চিন্তা হয়.... ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের  সময়ে ভারত দ্বারা লুট করে নিয়ে যাওয়া এই সম্পদ রক্ষা করতে যেয়েই, অস্ত্র জমা না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ বিদ্রোহ করেছিল,  তার ফলাফল কথিত আছে , ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিহত বা গুম হয়েছিল। 
এখন স্বাধীনতা তথা পুরো দেশটাই লুট করতে চাচ্ছে,  কত রক্ত ঝরবে  ???

Wednesday, May 6, 2026

সিংহের মত এক দিন বাঁচা শেয়ালের মত একশ বছর বাঁচার চেয়ে শ্রেয়”— টিপু সুলতান


“সিংহের মত এক দিন বাঁচা শেয়ালের মত একশ বছর বাঁচার চেয়ে শ্রেয়”— টিপু সুলতান

আজ ৪মে ঠিক এই দিনে, ১৭৯৯ সালে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতেই শাহাদাত বরণ করেন টিপু সুলতান। ইতিহাসে “মহীশূরের বাঘ” নামে পরিচিত এই মহান শাসক শুধু একজন যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, সংস্কারক এবং উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক।

টিপু সুলতানের প্রকৃত নাম ছিল ফতেহ আলী খান। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭৫০ সালে দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যে। তাঁর পিতা হায়দার আলী ছিলেন মহীশূরের শক্তিশালী শাসক এবং একজন দক্ষ সামরিক নেতা। শৈশব থেকেই টিপু সুলতান যুদ্ধকৌশল, প্রশাসন ও কূটনীতির শিক্ষা লাভ করেন। পিতার সান্নিধ্যে থেকে তিনি অল্প বয়সেই যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন এবং দ্রুতই নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৭৮২ সালে হায়দার আলীর মৃত্যুর পর তিনি মহীশূরের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং শাসনভার গ্রহণ করেন।

শাসক হিসেবে টিপু সুলতান ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও প্রগতিশীল। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে ভারতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যান। তাঁর শাসনামলে মহীশূর একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, রাজস্বব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দেন।

টিপু সুলতানের অন্যতম বড় অবদান ছিল সামরিক প্রযুক্তিতে নবতর উদ্ভাবন। তিনি লোহার নলযুক্ত রকেট অস্ত্রের উন্নত ব্যবহার করেন, যা সে সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত আধুনিক। এই রকেট প্রযুক্তি ব্রিটিশদের বিস্মিত করে এবং পরবর্তীতে তারা এই প্রযুক্তি অনুসরণ করে ইউরোপে নতুন ধরনের রকেট উদ্ভাবন করে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর কৌশল, সাহসিকতা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে ব্রিটিশদের অন্যতম ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করে।

তাঁর জীবনের সঙ্গে “বাঘ” প্রতীকটি বিশেষভাবে জড়িত। কথিত আছে, একবার শিকারের সময় তিনি খালি হাতে একটি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে তাকে হত্যা করেন, এরপর থেকেই তিনি “শের-ই মহীশুর" তথা মহীশূরের বাঘ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর সিংহাসন, রাজকীয় পোশাক, অস্ত্র এবং সামরিক পতাকায় বাঘের প্রতীক ব্যবহৃত হতো, যা তাঁর সাহস ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও টিপু সুলতান ছিলেন সক্রিয়। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট গঠনের উদ্দেশ্যে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। যদিও সেই জোট বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও এটি তাঁর দূরদর্শিতা ও কৌশলগত চিন্তাভাবনার প্রমাণ বহন করে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, নতুন ক্যালেন্ডার প্রবর্তন, রেশম শিল্পের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে মহীশূর অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।

টিপু সুলতান নিজেকে মুসলিম বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন এবং সে সময়ে উসমানীয় খলিফা ৩য় সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সমর্থন ও বৈধতা অর্জন করা।
তিনি ওসমানীয় দরবারে দূত পাঠান এবং চিঠির মাধ্যমে নিজের সালতানাতকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা করেছিলেন যে, খলিফার সমর্থন পেলে ভারতের মুসলিমদের মধ্যে তাঁর প্রভাব আরও বাড়বে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, উসমানীয় সুলতান টিপুর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাকে সম্মানজনকভাবে গ্রহণ করেন। তবে বাস্তবিক সামরিক সহায়তা বা জোট গঠন তেমন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ সে সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য নিজেই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল।

১৭৯৯ সালে শ্রীরঙ্গপত্তনম-এ সংঘটিত যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ফলে মহীশূরের পতন ঘটে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিপু সুলতান যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেন এবং বীরের মতো শহীদ হন। তাঁর এই শাহাদাত তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

#searchinghistory
#muslimhistory 
#TipuSultan

Saturday, May 2, 2026

ইতিহাস কি তবে আমাদের ভুল শেখাচ্ছে? বাংলাদেশের আজকের অবকাঠামো কি পাকিস্তান আমলেরই দান?

ইতিহাস কি তবে আমাদের ভুল শেখাচ্ছে?
বাংলাদেশের আজকের অবকাঠামো কি পাকিস্তান আমলেরই দান?

‎ব্রিটিশ ২০০ বছর শাসন আমলে পূর্ব বাংলায় মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল "ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়। সেটিরও বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কলকাতার প্রভাবশালী মহল।
‎
‎ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছরে পূর্ব বাংলায় কোনো উন্নয়ন করেনি। যদি কিছু করার উদ্যোগও নেওয়া হতো, সেগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত কলকাতার দাদা-বাবুরা। কলকাতাকে তারা ভারতের রাজধানী বানিয়েছিল।
‎
‎বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের শেখানো হয় যে পাকিস্তান ২৪ বছর আমাদের শোষণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন গুলো পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল। 
‎
‎ পাকিস্তান আমলে মোট ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
‎
‎◾রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩)
‎
‎◾চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬)
‎
‎◾জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০)
‎
‎◾জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮)
‎
‎◾পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিঃ) (১৯৬১)
‎
‎▶ পাকিস্তান আমলে মোট ৪ টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
‎
‎◾বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৯৬২ সাল
‎
‎◾রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১৯৬৪ সাল
‎
‎◾চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১৯৬৮ সাল
‎
‎◾খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৯৬৯ সাল
‎
‎উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে মোট ৫ টা, যার মধ্যে ৪ টাই পাকিস্তান আমলের। আর পরবর্তী ৫০ বছরে হয়েছে ১ টা। 
‎
‎ ▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার মোট ৮৭ টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে৷ যার মধ্যে রয়েছে 
‎
‎◾নটর ডেম কলেজ, ঢাকা (১৯৪৯)
‎
‎◾সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (১৯৪৯)
‎
‎◾বাঙলা কলেজ (১৯৬২)
‎
‎◾ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ
‎
‎উল্লেখ্য বর্তমানে ঢাকা শহরে মোট ৩৯ টি কলেজ আছে, যার ভেতর ৮ টি তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে, ২১ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান আমলে, আর মাত্র ১০ টি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে। 
‎
‎▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৮ টা সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। 
‎
‎◾চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭)
‎
‎◾রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮)
‎
‎◾ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
‎
‎◾সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
‎
‎◾স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩)
‎
‎◾স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বর্তমান নামঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) (১৯৬৬)
‎
‎◾শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮)
‎
‎◾রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০)
‎
‎উল্লেখ্য ইংরেজ শাসন আমলের ২০০ বছরে মোট ১টি মেডিকেল তৈরি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ৷ 
‎
‎ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৭ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়। 
‎
‎▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ১৭ টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯টি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে করেছে ১৭ টি। আর বাংলাদেশ সরকার ৫০ বছরে করেছে ৩২টি৷ 
‎
‎▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৪ টি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। 
‎
‎◾ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ(১৯৫৮)
‎
‎◾মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ(১৯৬৩)
‎
‎◾ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ( ১৯৬৩)
‎
‎◾রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (১৯৬৫)
‎
‎উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ আছে ১২ টা এর ভেতর ৪ টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। 
‎
‎▶ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী, নৌ অফিসার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার জন্য ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনী কর্তিক এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর নাম "বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (BMA)" 
‎
‎▶ এছাড়াও প্রতিষ্ঠা হয়েছে.... 
‎
‎◾ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’ (১৯৫০) যার বর্তমান নাম "বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)"। 
‎
‎◾ চট্টগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
‎
‎◾এরকম আরো অনেক বিশেষায়িত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। এছাড়া দেশ ব্যাপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাই স্কুল। 
‎
‎★অনেকেই অভিযোগ করেন পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে পুর্ব পাকিস্তান পিছিয়ে ছিলো, কারন পূর্ব পাকিস্তানে কম উন্নয়ন করা হয়েছে। লক্ষ করুন, ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র ১ টা, বিপরিতে পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৮ টা। অর্থাৎ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির আগ থেকেই আমরা উচ্চ শিক্ষার দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ১৮ গুন পিছিয়ে ছিলাম আমরা!
‎
‎১৯৪৭ সালের পরবর্তী ১০ বছরে পুর্ব পাকিস্তানে যদি ১০ টা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হতো আর পশ্চিম পাকিস্তানে যদি একটাও তৈরি করা না হতো, তবুও তো আমরা পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়েই থাকতাম। আসলে ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা পাকিস্তানের তুলনায় এত বেশি পিছিয়ে ছিলাম, যার ফলে এই অঞ্চল কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে উন্নয়নের দৌড়ে খাপ খাওয়াতে পারেনি।
‎
‎★ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার ছিলো মাত্র ১২%। ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে স্বাক্ষরতার হার দাড়ায় ২৪.৭%। অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছরে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার দ্বীগুন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের আদমশুমারী না হওয়ায় পাকিস্তান আমলের প্রকৃত স্বাক্ষরতার হার জানা যায়নি।
‎
‎▶শিল্প প্রতিষ্ঠান, মিল ও কল-কারখানা
‎
‎◾ বাংলাদেশ সচিবালয় ( ১৯৭১ সালের পর এ সচিবালয়ের পুরাতন ৬ নং ভবনটি ভেঙ্গে ২০ তলা ভবন তৈরী করা হয়)
‎
‎◾ পাকিস্তানের সেকেন্ড ক্যাপিটাল হিসাবে শেরেবাংলা নগর কে পরিকল্পিতভাবে তৈরী
‎
‎◾ সংসদ ভবন
‎
‎◾ বাইতুল মোকাররম মসজিদ 
‎
‎◾ বাংলা একাডেমি 
‎
‎◾ ইসলামিক একাডেমি (বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন) 
‎
‎◾ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
‎
‎◾ কমলাপুর রেলস্টেশন (পূর্বতন রেলস্টেশন টি ছিলো গুলিস্তান-ফুলবারিয়ায়)
‎
‎◾ মীরপুর চিড়িয়াখানা 
‎
‎◾ কুর্মিটোলা বিমানবন্দর (ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
‎
‎◾ যমুনা সেতু (১৯৬৬ সনে সংসদে অনুমোদিত) 
‎
‎◾ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ( ১৯৬১ সালে এর পরিকল্পনা গ্রহন করে তখনকার পূর্বপাকিস্তানের অনেক কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষনে প্রেরণ করা হয়, যারা এখন ইরান ইরাকে কর্মরত। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়)
‎
‎◾ শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
‎
‎◾ আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র 
‎
‎◾ কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র 
‎
‎◾ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল 
‎
‎◾ গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প
‎
‎◾ রামপুরা টেলিভিশন ভবন
‎
‎◾ ঢাকা স্টেডিয়াম
‎
‎◾ ঢাকা যাদুঘর (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন)
‎
‎◾ WAPDA এবং এর অধিনে শতশত বাধ ও সেচ প্রকল্প
‎
‎◾ ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বনানী প্রভৃতি আবাসিক এলাকা গঠন ও নগরায়ন 
‎
‎◾ শত শত পাট ও কাপড়ের কল যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
‎
‎◾ শিল্পায়নের জন্য গড়ে তোলা হয় East Pakistan Industrial Development Corporation (EPIDC)
‎
‎◾ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখান
‎
‎◾ গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি 
‎
‎◾ মংলা সামুদ্রিক বন্দর ( চট্টগ্রাম বন্দরটি মুঘল আমলে তৈরী)
‎
‎◾ঢাকার নিউমার্কেট সহ বিভাগীয় শহরে একটি করে নিউমার্কেট তৈরী
‎
‎◾তেজগাঁও শিল্প এলাকা
‎
‎◾হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প এলাকা
‎
‎◾খালিশপুর শিল্প এলাকা।
‎
‎◾আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ): ১৯৫১
‎
‎◾খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস: ১৯৫৯
‎
‎◾চিটাগং ড্রাই ডক: ১৯৬০
‎
‎◾ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৬৮
‎
‎◾ঢাকা জুট মিলস লিমিটেড: ১৯৫০ এর দশক
‎
‎◾ আমিন জুট মিলস লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৫৩
‎
‎◾ খুলনা জুট মিলস: ১৯৫০ এর দশক
‎
‎◾ ইস্পাহানী কটন মিলস: পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
‎
‎◾ কাপ্তাই জল বিদ্যুত - ১৯৬২
‎
‎◾ চন্দ্রঘোনা পেপার মিল - ১৯৫৩
‎
‎◾ কর্ণফূলী রেয়ন মিল – ১৯৫৩
‎
‎◾ প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজ – ১৯৫৩
‎
‎◾বাংলাদেশে একটিমাত্র তেল শোধনাগার সেটিও পাকিস্তান করে দিয়েছে।
‎
‎১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তান ঘাস খেয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ একটি পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে।
‎
‎তাদের বিমান বাহিনীর আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের কারণে দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীর মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ১৪৩৪ টি যুদ্ধবিমান ও রনকৌশল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। যার মেরুদণ্ড হিসেবে আছে আমেরিকান এফ-১৬, জেএফ-১৭ থান্ডার এবং আধুনিক চীনা জে-১০সি।
‎
‎তাদের কাছে আছে শাহীন-৩ (২,৭৫০ কিমি পর্যন্ত পাল্লার), গৌরী এবং গজনভীর মতো একাধিক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তাদের কাছে বাবর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং যা স্থল ও সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
‎
‎তাদের সেনাবাহিনীর কাছে ২,৬০০টিরও বেশি প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কের একটি বহর রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত খালিদ, ভিটি-৪ এবং টি-৮০ইউডি ট্যাঙ্ক।
‎
‎দেশটি তার প্রতিরক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে গিয়েছে। চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে নিজস্ব জঙ্গি বিমান বানিয়েছে। তাদের কাছে বুরাকের মতো উন্নত ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে এবং উইং লুং ড্রোনের জন্য চীনের সাথে সহযোগিতা করে। 
‎
‎তাদের কাছে আটটি সাবমেরিন রয়েছে, উপকূলরেখা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য নৌবহরে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট এবং দ্রুতগামী মিসাইল বোট রয়েছে।
‎
‎এছাড়াও তাদের কাছে ৩,০০০টিরও বেশি কামান (টানা ও স্ব-চালিত উভয়ই) এবং একাধিক রকেট লঞ্চার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
‎
‎এমনকি পাকিস্তানের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পেয়েছে। শিক্ষার মানেও পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশটি বড় খেল দেখিয়েছে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে। তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি তে নিজেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে কূটনীতি ও সামরিক পার্সপেক্টিভে। যারা আমেরিকা এবং ইরানকে ও এক টেবিলে বসাতে পারছে। 
‎
‎আর ১৯৭১ সালে বিজয়ী বাংলাদেশের যুদ্ধ করে দাসত্বের সার্টিফিকেট নিয়েছে। তারা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়ে পৃথিবীর প্রথম চেতনা বোমা বানিয়েছে। যা চীনের হাইড্রোজেন বোমার চেয়েও ভয়ংকর। 
‎
‎ এই পর্যন্ত সংসদের মতো একটা স্থানে চেতনা বড় নাকি আধুনিকতা বড়! এই নিয়ে কয়েকশ অধিবেশন চলছে।আফসোস🙂
‎#কপিপোষ্ট

Friday, May 1, 2026

ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আল-গজনবি রাহি.। তিনি ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের সুলতান।



আজ ৩০ এপ্রিল ঠিক এই দিনে, ১০৩০ সালে ইন্তেকাল করেন মুসলিমদের ইতিহাসে 'ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আল-গজনবি রাহি.। তিনি ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের সুলতান। তার সাম্রাজ্য মূলত আধুনিক আফগানিস্তান, ইরান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার জীবদ্দশায় তিনি ১৭বার ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ঐতিহাসিক সূত্রে সুলতান মাহমুদকে ইসলামের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে দেখা যায়। আব্বাসীয় খলিফার আনুগত্য স্বীকার করে তিনি 'ইয়ামিন-উদ-দৌল্লা এবং আমিন-উল-মিল্লাত' উপাধি ধারণ করেছিলেন।

সুলতান মাহমুদ একজন অসাধারণ সামরিক কৌশলবিদ, ইনসাফপরায়ণ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তার সামরিক দক্ষতা এতটাই উন্নত ছিল যে তিনি তার ১৭টি ভারত অভিযানের একটিতেও পরাজিত হননি। তিনি একটি সুসংহত এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে তুর্কি, আরব এবং ভারতীয় সৈন্যদের সমন্বয় ছিল। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জ্ঞানী ও গুণীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার দরবারে বিখ্যাত পণ্ডিত ও কবি যেমন আল-বেরুনী এবং ফেরদৌসী সমাদৃত ছিলেন।

ভারতে প্রেরিত সুলতান মাহমুদ গজনবীর ১৭টি সফল অভিযানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

১. ১০০০: খ্রিস্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদের প্রথম ভারত অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে তিনি খাইবার গিরিপথে অবস্থিত ভারতের সীমান্ত দুর্গ ও কয়েকটি সীমান্ত নগরীর অধিকার করেন।

২. ১০০১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবের হিন্দু শাহী শাসক জয়পাল। মাহমুদ পেশোয়ারের কাছে তাকে পরাজিত করেন এবং বিপুল ধনসম্পদ লাভ করেন। জয়পাল বন্দি হন, তবে পরে মুক্তি পান এবং অপমানে আত্মহত্যা করেন।

২. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ মুলতান আক্রমণ করেন। সেখানকার শাসক দাউদ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন এবং মাহমুদ প্রচুর কর আদায় করেন।

৩. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ ভাতিন্ডার শাসক বিজয় রায়কে পরাজিত করেন। ভাটিণ্ডার রাজার সাথে মাহমুদের পিতার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাহমুদের আমলে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজয় রায়। ফলস্বরূপ পরাজিত হতে হয় তাকে এবং তিনিও আত্মহত্যা করেন।

৪. ১০০৫ খ্রিস্টাব্দ: তিনি মুলতানের শাসনকর্তা বিদ্রোহী ইসমাইলী শাসক আবুল ফতেহ দাউদকে দমন করেন এবং সাথে সাথে মুলতানও অধিকৃত করেন।

৫. ১০০৭ খ্রিস্টাব্দ: এ সময় সুলতান মাহমুদ সুখপালের বিরুদ্ধে তার পঞ্চম অভিযান পরিচালনা করেন।

৬. ১০০৮ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানটি ছিল রাজা আনন্দপালের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। আনন্দপাল কনৌজের প্রতিহার শাসক এবং অন্যান্য ভারতীয় রাজাদের সাথে জোট গঠন করেও মাহমুদের কাছে পরাজিত হন।

৭. ১০০৯ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ  নগর কাটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তেমন কোন বাধা না পাওয়ায় খুব সহজেই এ শহর জয় করেন এবং বিপুল পরিমাণ গনিমত লাভ করেন।

৮. ১০১০ খ্রিষ্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদ মুলতানে আরো একটি অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানকার বিদ্রোহী শিয়া মুসলিমদের বিতাড়িত করেন।

৯. ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ নন্দনা অধিকার করেন এবং ত্রিলোচন পালকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।

১০. ১০১৪ খ্রিস্টাব্দ: মাহমুদ থানেশ্বর আক্রমণ করেন এবং সেখানকার হিন্দুরা তার বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হয়।

১১. ১০১৫-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ দুবার কাশ্মীর আক্রমণ করেন, তবে দুর্গম ভূখণ্ড এবং প্রবল প্রতিরোধের কারণে তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

১২. ১০১৮-১০১৯ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। তিনি কনৌজ আক্রমণ করেন এবং সেখানকার প্রতিহার শাসক রাজ্যপাল পালিয়ে গেলে কনৌজ সহজেই মাহমুদের হস্তগত হয়। 

১৩. ১০২০-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ বুন্দেলখণ্ডের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ করেন। চান্দেল্ল শাসক গণ্ড দেব প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুহূর্তে সে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যায়।

১৪. ১০২১-১০২২ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ গোয়ালিয়রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে গোয়ালিয়রের রাজা তার বশ্যতা স্বীকার করে।

১৫. ১০২৩ খ্রিস্টাব্দ: গোয়ালিয়রের রাজা সুলতান মাহমুদের বশ্যতা স্বীকার করার পর তিনি ১০২৩ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় হিন্দু রাজা নন্দার বিরুদ্ধে সৈন্যসামন্ত নিয়ে কালিঞ্জর আক্রমণ করেন। এই অভিযানকালে তিনি গোন্ডার বিখ্যাত দুর্গ অবরাধে করেন। কালিঞ্জরের রাজা তখন বার্ষিক কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

১৬. ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিযান। তিনি গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা করেন। হিন্দুরা এখানে তীর্থ করতে আসত। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ছিল অশ্লীল চিত্র দ্বারা শোভিত। সোমনাথ বিগ্রহের খ্যাতি ছিল সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী এবং কর্মরত ব্রাহ্মণগণ মনে করতেন যে, বিগ্রহসমূহের অলৌকিক ক্ষমতা মাহমুদের আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। হিন্দুদের বিশ্বাস যে ভ্রান্তিমূলক ছিল, তা প্রমাণ করার জন্যই সুলতান মাহমুদ সোমনাথ জয় করতে মনস্থ করেছিলেন। ইবনে খালদুন, ফিরিস্তা এবং ডব্লিউ হেগ প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ এই মত সমর্থন করেন।

১৭. ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ: সোমনাথ অভিযানের পর ফেরার পথে মাহমুদ জাঠদের দ্বারা আক্রান্ত হন। এই অভিযানে তিনি জাঠদের পরাজিত করেন।

সুলতান মাহমুদ এর ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য–
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: পৌত্তলিকতার ধ্বংস সাধন করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সুলতান মাহমুদ ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ইসলামের এই সুমহান দায়িত্ব পেয়ে মাহমুদ হিন্দুস্তানে ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্রত ছিলেন। ফলস্বরূপ এ সকল অভিযানে কয়েকজন রাজাসহ অসংখ্য হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। তবে তিনি উদার এবং ইনসাফরায়ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কারও উপর ধর্ম চাপিয়ে দেননি কখনো। যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ ব্যতীত অবৈধ লুটতারাজ তার দ্বারা হয়নি।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: একথা সত্য যে সুলতান মাহমুদ গজনী সম্রাজ্যের বিস্তারে জোর দিয়েছিলেন। গজনিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তৃতে রাজ্য দখল তার জন্য অপরিহার্য ছিল। এছাড়াও উপমহাদেশের হিন্দু রাজন্যবর্গ কর্তৃক চুক্তিভঙ্গ, আনুগত্যহীনতা, শত্রুকে সাহায্য দান ও বিশ্বাসঘাতকতা সুলতান মাহমুদকে বারবার অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য করেছে। 

অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য: প্রতিটি অভিযানেই সুলতান মাহমুদ বিপুল পরিমাণ গনিমত অর্জন করতেন। মধ্য এশিয়ার শত্রু দমন করা ও গজনীকে কেন্দ্র করে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য এর সম্পদের প্রয়োজন ছিল।

এত বড় মুসলিম বিজেতা হয়েও সুলতান মাহমুদ কখনো অহংবোধ করেননি। বরঞ্চ আল্লাহর সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি যুদ্ধের নিয়মের বাইরে কখনো শত্রুকে হত্যা করেননি। অসীম সাহসিকতার মাধ্যমে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। হিন্দুত্ববাদীরা সবসময় সুলতান মাহমুদকে হিংস্র, বর্বর ও ধ্বংসকারী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও প্রকৃত ইতিহাসবিদদের কলমে সুলতান মাহমুদ একজন আল্লাহভীরু দ্বীনদার শাসক হিসেবেই অমর হয়ে আছেন, যিনি যুদ্ধের ময়দানেও নফল সালাত আদায় করেছেন এবং যার রাত্রি কেটেছে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।

#searchinghistory 
#muslimhistory 
#mahmudgaznavi

Thursday, March 5, 2026

❝ভারতবর্ষে স্বাধীনতার সূর্যোদয় ও একজন বীর হাবিলদার রজব আলী খান❞

❝ভারতবর্ষে স্বাধীনতার সূর্যোদয় ও একজন বীর হাবিলদার রজব আলী খান❞

প্রায় দুশো বছরের ব্রিটিশ বেনিয়াদের শাসন-শোষণ ও পরাধীনতাকে কাটিয়ে ভারতবর্ষে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা ছিল প্রায় অসম্ভব। কিন্তু দেশমাতৃকার টানে যারা জীবন দেওয়ার জন্য ছিল সদা প্রস্তুত, তারা এই অসম্ভবতাকে পরোয়া করেনি কখনো। শত সহস্র বিপ্লবীর রক্ত বিলানো আত্মত্যাগের বিনিময়ে অকল্পনীয় স্বাধীনতার স্বাদ আমরা নিতে পারছি। বাংলার দামাল ছেলেরা প্রথম থেকেই ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরোদ্ধে লড়েছে। পথ দেখিয়েছে বিপ্লবের।

আজকে জানবো এমন এক অসম সাহসী বিপ্লবীর কথা। যার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম সম্পূর্ণরুপে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হয়ে পড়ে। টানা ৩০ ঘণ্টা চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ মুক্ত রাখতে সক্ষম হন। চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে বঙ্গোপসাগরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ব্রিটিশ বেনিয়াশক্তি।

মানুষের অগোচরে থাকা এমন এক সূর্যসন্তান হাবিলদার রজব আলী।
যাকে উৎসর্গ করে বাংলার বিখ্যাত কবি মোহিনী চৌধুরী রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কালজয়ী কবিতা:
“মুক্তির মন্দির সোপান তলে
কত প্রাণ হল বলিদান
লেখা আছে অশ্রু জলে।”

হাবিলদার রজব আলীর জন্ম নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। 
অনেক ইতিহাস গবেষক ও বিশ্লেষকদের মতে, হাবিলদার রজব আলী সন্দ্বীপের আবার, কারো মতে তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাইদগাঁও কিংবা আরো কয়েকজন গবেষকের মতে লোহাগাড়া এর চক্রশালা চট্টগ্রাম-এর অধিবাসী। তার জন্মসাল, পরিবার, বংশপরিচয় সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় না।

হাবিলদার রজব আলী তরুন বয়সে সিপাহী হিশেবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিদ্রোহের আগে ৪ নম্বর কোম্পানির হাবিলদার পদে উত্তীর্ণ হন এই বীর সিপাহি।
কোম্পানির সেনাবাহিনীর ৩৪ নম্বর নেটিভ বেঙ্গল পদাতিক বাহিনীর ১২০ জন হাবিলদার ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে পরহেজগার ও আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি রজব আলী ছিলেন তাদের একজন। ক্যাপ্টেন পিএইচকে ডিউলের অধীনে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী সংলগ্ন প্যারেড গ্রাউন্ডের সেনানিবাসে থাকতেন তিনি।

১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নানাদিক কূটচাল ও স্বদেশী জগৎশেঠ, মীর জাফরদের বিশ্বাসঘাতকতায় অস্ত হয় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। বাংলার আপামর দেশপ্রমী জনতা মর্মন্তুদ,নির্মম ও বেদনাবিধুর এই ঘটনা কখনোই ভুলেনি। তাই তো ১৮৫৭ সালে দেশপ্রেমী সিপাহীরা শুরু করে পরিকল্পিত ভাবে ব্রিটিশ বেনিয়াদের থেকে স্বদেশমুক্তির সশস্ত্র সংগ্রাম। হাবিলদার রজব আলী ৩৪ নং নেটিভ বেঙ্গল পদাতিক বাহনীর বিপ্লবে নেতৃত্ব প্রদান করেন, সাথে ছিলেন আরেক সিপাহী জামাল খান।

১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে হাবিলদার রজব আলী পূর্ববঙ্গে বিপ্লবের সূচনা করেন। দেশপ্রেমে সমুজ্জ্বল প্রায় চারশত সিপাহী রজব আলীর নেতৃত্বে বন্দর নগরীর অস্ত্রাগার এবং কোষাগার দখল করেন। তারা ফেনী নদী অতিক্রম করে সীতাকু- হয়ে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। নোয়াখালী এবং কুমিল্লায় অবস্থানরত কোম্পানির শক্তিশালী বাহিনীকে এড়িয়ে দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে রজব আলী ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যদিয়ে জটিল পাহাড়ি পথ বেয়ে ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকেন।
কলকাতার ব্যারাকপুরে ও বহরমপুরের বিদ্রোহ ছিলো বিচ্ছিন্ন। কিন্তু, চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন রজব আলী খাঁন। ১৮৫৭ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বিদ্রোহীরা গুলি ছুঁড়ে বিদ্রোহের জানান দেন। তারা প্রথমেই জেলের তালা ভেঙে আটক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মুক্ত করে। বিদ্রোহের ডামাডোলে চট্টগ্রামে থাকা ব্রিটিশরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পালিয়ে গিয়ে সমুদ্রে জাহাজে আশ্রয় নেন। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল মূলত ১২ নভেম্বর হতে। এবং তা পূর্ণতা লাভ করে ১৮ নভেম্বর রাতে।
হাবিলদার রজব আলী খানের নেতৃত্বে বিদ্রোহ বা বিপ্লব এতটাই তীব্র ছিল যে চট্টগ্রাম প্রায় ত্রিশ ঘন্টা বৃটিশ শাসনমুক্ত রাখা হয়েছিল। এই বিদ্রোহের সময় গুলি বিনিময়কালে একাধিক সৈনিক শাহাদাত-সুধা পান করেন। যাঁদের কবর দেয়া হয় ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের আঙ্গিনায়। পরে মসজিদ সম্প্রসারণের সময় তা সরিয়ে নেওয়া হয়।

তাঁরা ঢাকায় ৭৩ নম্বর দেশীয় পদাতিক বাহিনীর সাথে মিলে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের পরিকল্পনা করেন। সে মোতাবেক ১৯ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম পিলখানা থেকে হাতি নিয়ে সদলবলে ঢাকা রওনা হন। তবে কুমিল্লা ও নোয়াখালিতে শক্তিশালী ব্রিটিশ বাহিনী এড়াতে দুর্গম পার্বত্য ত্রিপুরা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ত্রিপুরার রাজার অসহযোগিতায় ছোট ছোট লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয় তাদের। 

এরই মধ্যে ২২ নভেম্বর সকালেই ঢাকার ৭৩ পদাতিক বাহিনীর অস্ত্র কেড়ে নিতে শুরু করে ইংরেজরা। সরকারি খাজাঞ্চিখানার সিপাহীদের অস্ত্র কেড়ে নিলেও লালবাগ কেল্লায় প্রতিরোধের মুখোমুখি হয় তারা। সামান্য জনবল আর রসদের বলেই প্রতিরোধের দুঃসাহস এই সিপাহীদের নির্মম পরিণতি ডেকে আনে। বুলেট আর বেয়নেটের আঘাতে অনেকেই নিহত হয়। দুর্গের পুকুরে তাদের ফেলে দেওয়া হয়। আর বন্দি যারা তাদের চকবাজার ও আন্টাঘরের ময়দানে গাছে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়। লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় বেশ কয়েক দিন।

দেশীয় গাদ্দার ও বেঈমানদের চরম অসহযোগীতা ও বিরোধীতায় পরতে পরতে বিভিন্ন যুদ্ধের মুখোমুখি হন এসব দেশপ্রেমী বিপ্লবীরা। রসদ সংকট ও তীব্র ক্ষুধায় এই অসম লড়াইয়ে দেশপ্রেমী বিপ্লবীরা একে একে শাহাদাতের অমীয় শুধা পান করতে থাকেন। হাবিলদার রজব আলী সহ তিন বা চারজন সিপাই শেষ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। ইংরেজ বাহিনীর অব্যাহত অনুসরনের মুখে তারা গহীন পাহাড়ী জঙ্গলে হারিয়ে যান। লোকচক্ষুর অন্তরালেই একসময় হাবিলদার রজব আলীর জীবনের সমাপ্তি ঘটে। কোথায় চট্টগ্রামের এই সূর্যসন্তানের মৃত্যু হয়েছে তা আজো জানা যায়নি।

ইতিহাসে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হলেও কোন অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়ে যান চট্টগ্রামের এই বীর কেশরী বিপ্লবী হাবিলদার রজব আলী খান। যে দেশমাতৃকার জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দুঃখের কথা হলো সেই দেশেই বিস্মৃতির অতলে, মানুষের অগোচরে বীর হাবিলদার রজব আলী খাঁন। জাতি যদি আমাদের জাতিসত্তার শেকড়স্বরুপ এই মহানায়কদের যদি ভুলে যায় এ জাতি শিখরে পৌঁছাতে পারবে তো?

কলমেঃ
মঈন উদ্দিন চিশতী,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি উনার বক্তব্যে শহীদ হাবিলদার রজব আলীর কথা উল্লেখ করে বলেছেন হাবিলদার রজব আলীকে আমরা গোপন করে ফেলেছি। উনাকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়না। হ্যাঁ, এটাই সত্য কথা। হাবিলদার রজব আলী খাঁ যতটা প্রচার পাওয়ার কথা, তাকে নিয়ে যতটা আলাপ হওয়ার কথা তা হয় না। শহীদ হাদির সম্মানার্থে আমাদের লেখাটি পুনঃপোস্ট করলাম। শহীদ হাদি অমর হোক। 

আরো জানতে রেফারেন্সঃ
১) হাবিলদার রজব আলী — এ.কে এম মহিউদ্দিন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)
২। Rare 1857 reports on Bengal uprisings | Times of India.
৩। সত্যেন সেন: মহাবিদ্রোহের কাহিনী
৪। The Political History of Muslim Bengal: An Unfinished Battle of Faith | Mahmudur Rahman
৫। মাস্টারদা সূর্য সেন ও সূর্যসাথীরা- জামাল উদ্দিন, 
৬। ঢাকায় সিপাহী বিদ্রোহ, অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ |
৭। হাবিলদার রজব আলী ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম- মুনশী আবদুল মান্নান,
৮। বৃটিশ বিরুদ্ধে সেদিন চট্টগ্রাম সেনা নিবাসে দাবানল জ্বেলেছিলেন হাবিলদার রজব আলী খাঁ - মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান,
৯। হাবিলদার রজব আলী খাঁ ও তাঁর সংগ্রামী জীবনের নানা কথা,মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, কবি, প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যম কর্মী।
১০। হাবিলদার রজব আলী ও অধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম- মুনশী আবদুল মান্নান
১১। জাতীয় সংগ্রামের মহানায়ক হাবিলদার রজব আলী, জিয়া হাবীব আহ্সান, দৈনিক সংগ্রাম, নভেম্বর ১১,২০২২

Saturday, February 28, 2026

৩০ লাখ শহীদের তালিকা কোথায়?


৩০ লাখ শহীদের তালিকা কোথায়?
সাহাদত হোসেন খান
এমন কোনো যুদ্ধ খঁুজে পাওয়া যাবে না যেখানে হ*ত্যা*যজ্ঞ ও নারী নির্যাতন ঘটেনি। যুদ্ধে উভয়পক্ষ হ*ত্যা*যজ্ঞ চালায়। একপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। আরেক পক্ষের ক্ষতি হয় কম। পার্থক্য শুধু এতটুকুই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশে গণহ**ত্যা সংঘটিত হয়েছে। তবে শুরুতেই নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সংখ্যাটি একেবারে অসম্ভব। ৬৭৫৭ শহীদ পরিবার সরকারি ভাতা পাচ্ছে। তাদের মধ্যে আবার ১৩৯৯ পরিবার ভাতা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে কার্যত ৫৩৫৮ পরিবার ভাতা নিচ্ছে। যদি সত্যিই ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়ে থাকে তাহলে বাকি ২৯ লাখ ৯৩ হাজারেরও বেশি শহীদ পরিবারের কোনো খোঁজ নেই কেন? 
  শহীদদের তালিকা করা না হলেও রাজাকারের তালিকা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজাকার ছিল ৮০৬০, পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজাকার ছিল ১০২৪ এবং জামায়াতের রাজনীতির  সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজাকার ছিল মাত্র ৩৭ জন।  আওয়ামী লীগ কখনো আশা করেনি যে, রাজাকারের তালিকায় তাদের দলের লোকের পাল্লা ভারি হবে। তখন তড়িঘড়ি করে এ তালিকা চাপা দেয়া হয়। শহীদদের সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হচ্ছে। অব্যক্ত মনোভাব যাচাই করলে বুঝা যায় যে,  শহীদদের তালিকা করা হলে প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ পাবে এবং ৩০ লাখের মিথ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। তাই আজ পর্যন্ত কোনো সরকার শহীদদের তালিকা করার গরজ দেখায়নি।  
   ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ বা তিন মিলিয়ন আক্ষরিক অর্থে সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। শেখ মুজিবুর রহমানের মুখ ফসকে বের হয়ে যাওয়া তিন মিলিয়নকে বেদবাক্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি কিভাবে এবং কোন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এ সংখ্যা প্রকাশ করেছেন তা উল্লেখ করেননি। ক্ষমতার দাপটে তিনি এ উদ্ভট দাবি করেছেন এবং জাতি দশকের পর দশক এ অলীক সংখ্যা মুখ বুজে মেনে নিয়েছে। এ সংখ্যা নিয়ে তর্ক করা যাবে না, গবেষণা করা যাবে না, প্রশ্ন তোলা যাবে না। প্রশ্ন তোলা অথবা সন্দেহ প্রকাশ করা হলে হয়তো আইনি ঝামেলায় পড়তে হয় নয়তো দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। বিদ্রুপ করা হয়। 
     এ প্রজন্মের যেকোনো গবেষক অবশ্যই এ প্রশ্ন উত্থাপন করবেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ৩০ লাখ লোককে হত্যা করে থাকলে বেলুচিস্তান, সোয়াত অথবা করাচিতে সামরিক অভিযানে গণহত্যা চালায়নি কেন? একই দেশের সেনাবাহিনী দুরকম আচরণ করতে পারে না। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৯ মাসে বাংলাদেশে ৩০ লাখ লোক হত্যা করে থাকলে উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং বেলুচিস্তান তো অনেক আগেই জনশূন্য হয়ে যাওয়ার কথা। ২০০১ সালে সোয়াত উপত্যকা এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তানে রীতিমতো যুদ্ধ চলছে। সেখানে সন্ত্রাসী ছাড়া সাধারণ মানুষ হত্যার কোনো নজির নেই। ৩০ লাখের কল্পকথা নিয়ে আলোচনা করলে সদুত্তর পাওয়া যায় না। আমরা বিশ্বাস করছি যে, একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্যরা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে এবং ২ লাখ মা বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে। একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে চার লাখ বেসামরিক বাঙালি এবং ২৮ হাজার বাঙালি সৈন্য অবস্থান করছিল। এখন প্রশ্ন হলো, পাকিস্তানি সৈন্যরা পূর্বাঞ্চলে ৩০ লাখ লোক মেরে ফেললেও হাতের মুঠোর ভেতরে একজন বাঙালিকেও হত্যা না করার কারণ কি। রহস্যের একটি বাতাবরণে সত্য চাপা পড়ে আছে। আমাদেরকে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে।
শেখ মুজিব ৩ লাখ বলতে গিয়ে ভুলে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ বলেছেন। এই একটি উক্তি গোটা মুসলিম ইতিহাসকে বিপজ্জনক অবস্থায় নিক্ষেপ করেছে। মুসলিম বিদ্বেষীরা পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে গিয়ে মুসলিম সভ্যতাকে কলঙ্কিত করেছে। পৃথিবীতে হাজার হাজার যুদ্ধ হয়েছে। তবে মাত্র ৯ মাসে ৩০ লাখ লোকের মৃত্যুর পরিসংখ্যান ইতিহাসে কোথাও খঁুজে পাওয়া যাবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬০ লাখ ইহুদি নিধন বা হলোকাস্ট সংঘটিত হয়েছে। তবে ৬০ লাখ ইহুদির মৃত্যু হয়েছে ৬ বছরে। আমরা প্রমাণ ছাড়া দাবি করছি, পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা ৩০ লাখ বাঙালি মুসলমানকে হত্যা করেছে। ইসলামের দুশমনদের জন্য তার চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছু হতে পারে না। মুসলমান হয়ে আমরা স্বাধীনতার জন্য আমাদের মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। তারপরও আমরা মুসলমান হিসেবে গর্ব করি। আমাদের কি গর্ব করার নৈতিক অধিকার আছে?
 স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর ২০২৪ সালে জাতীয় স্বার্থে শহীদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ এবং তাদের নিভুর্ল সংখ্যা বের করা খুবই জরুরি। একটি জাতি ঐতিহাসিক এবং পরিকল্পিত মিথ্যাচারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) শহীদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৭৯৫ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ উক্তির মধ্য দিয়ে মন্ত্রী একটি পুরনো উপাখ্যানকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নথিভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. মরহুম জাফরুল্লাহ চৌধুরীর একটি উক্তি উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেছিলেন যে, জাতির এই বেহাল অবস্থার জন্য অনুভূতিহীন স্তাবক ও দালালরা কম দায়ী নয়। প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ডা. চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩ মিলিয়ন দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, নিউ এজের বিশেষ প্রতিবেদক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, অধ্যাপক ড. তাজ হাশমী, নিউইয়র্কভিত্তিক লেখক এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমীর্ ডা. মিনা ফারাহ এবং বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, নীলুফার চৌধুরী মনি এবং ফাহিমা নাসরিন মুন্নি প্রমুখ এ সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ম্যাসাকার: দ্য ট্র্যাজেডি অব বাংলাদেশের লেখক রবার্ট পেইনের একটি রিপোর্ট থেকে তিন মিলিয়নের উপ্যাখানের জন্ম হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। 
     ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে আসার পর বিবিসির সাংবাদিক সিরাজুর রহমান প্রথম শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। তাকে হিথ্রো বিমান বন্দর থেকে ক্লারিজ হোটেলে নিয়ে এসেছিলেন লন্ডনে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার আপা ভাই পান্থ। পরপরই বিবিসির বাংলা বিভাগের উপপ্রধান সিরাজুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন। মিস্টার পান্থ ‘ইওর এক্সিলেন্সি’ বলে সম্বোধন করায় মুজিব অবাক হচ্ছিলেন। সিরাজুর রহমান তাকে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে এবং তার অনুপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। একথা শুনে মুজিব বিস্মিত এমনকি স্তম্ভিত হয়েছিলেন। স্পষ্টত তিনি এমন ধারণা নিয়েই লন্ডনে এসেছিলেন যে, পূর্ব পাকিস্তানিদের হয়তো পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়েছে।২০১১ সালের ২৩ মে লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সিরাজুর রহমান বলেন: I explained that no accurate figure of the casualties was available but our estimate, based on information from various sources, was that up to "three lakh" (3,00000) died in the conflict. To my surprise and horror he told David Frost later that "three millions of my people" were killed by the Pakistanis. Whether he mistranslated "lakh" as "million" or his confused state of mind was responsible I don't know, but many Bangladeshis still believe a figure of three million is unrealistic and incredible. 
অথার্ৎ আমি তার কাছে ব্যাখ্যা দেই যে, হতাহতের নিভুর্ল সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের অনুমান, যুদ্ধে তিন লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে পরবর্তীতে ডেভিড ফ্রস্টকে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা ‘আমার তিন মিলিয়ন মানুষকে’ হত্যা করেছে। তিনি ‘লাখকে’ ‘মিলিয়নের’ সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন নাকি চিত্তবিভ্রমের জন্য এ সংখ্যা উল্লেখ করেছিলেনআমি তা নিশ্চিত নই। বহু বাংলাদেশি এখনো বিশ্বাস করে, তিন মিলিয়ন সংখ্যাটি অবাস্তব এবং অবিশ্বাস্য।
বিবিসির সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মুজিব বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতার প্রশংসা করেন। তাদের মধ্যে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন, জন এফ কেনেডি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল, সোভিয়েত নেতা ভস্নাদিমির লেনিন ও জোসেফ স্টালিন, চীনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হক, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. আহমদ সুকর্নো। কিন্তু তিনি পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাম মুখে আনেননি। অন্যদিকে, মাইকেল এইচ হার্ট ইতিহাসের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ঠাঁই দিয়েছেন এবং র‌্যাংকিংয়ে জিন্নাহ হলেন গান্ধী ও নেহরুর উপরে।
   ৩ মিলিয়নের উপাখ্যান প্রথম প্রচার করেছিল সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘প্রাভদা’ এবং পরে শেখ মুজিব। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর মুজিব যখন ঢাকায় অবতরণ করেন তখন তিনি তাজউদ্দিন আহমদকে জিজ্ঞেস করেন মুক্তিযুদ্ধে কতজন নিহত হয়েছেন। তাজউদ্দিন আহমদ উত্তর দেন, তিন লাখ। কিন্তু শেখ মুজিব ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ত্রিশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। গণহত্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একটি কমিশন গঠন করে। কিন্তু এ কমিশন গণহত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া পায়নি। পূর্ব পাকিস্তানে একটি গণকবরও পাওয়া যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের লোকসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। এখন যদি গড়ে প্রত্যেক পরিবারে পাঁচ জন করে সদস্য থাকে তাহলে ১৯৭১ সালে মোট পরিবারের সংখ্যা ছিল গড়ে দেড় কোটি। ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা মেনে নিলে বলতে হবে সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে চার শতাংশ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ ৬০ হাজার পরিবারে কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করেছে। ৩০ লাখকে মেনে নিলে আমাদেরকে মেনে নিতে হবে ২৬৭ দিনের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিদিন এগারো হাজার এক শো এগারো জনকে হত্যা করা হয়েছে। এত লোক মৃত্যুবরণ করলো। কিন্তু তাদের কবর কোথায়? অবাঙালিদের গণকবরকে বাঙালি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়। 
   ১৯৭১ সালে ৪৮০টি ছিল থানা। ৩০ লাখের উপাখ্যান সঠিক হলে প্রতি থানায় নিহত হওয়ার কথা সাড়ে ৬ হাজার। এ হিসাবে প্রতিটি থানায় প্রতিদিন ২৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। একই হিসাবে প্রতিদিন প্রতি ইউনিয়নে ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে যে, ৬ বছরে নাৎসি জার্মানি ৬ মিলিয়ন ইহুদিকে হত্যা করেছিল। এ হিসাবে  প্রতিদিন ২ হাজার ৭৪০ জন নিহত হয়েছিল। ইহুদি নিধনের সংখ্যা ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিদিন নিহত বাঙালিদের সংখ্যার চেয়ে কম। বৈজ্ঞানিক জরিপ ছাড়াই পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ৩ মিলিয়নকে তাদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অভ্রান্ত সত্যি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। যত প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন, ইতিহাসকে জিম্মি করা যাবে না। একটি সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভুল জরিপ চালানো হলে সংখ্যাটি কম বেশি যাই হোক, একটি চূড়ান্ত মীমাংসায় পেঁৗছানো সম্ভব।
   পূর্ণাঙ্গ গণনা করা না হলে রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ সব বাংলাদেশি প্রশ্ন উত্থাপন করতে থাকবে এবং ৩ মিলিয়নকে চ্যালেঞ্জ করবে। ২০১৭ সালে প্রখ্যাত পাকিস্তানি শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ ড. জুনাইদ আহমেদ ‘১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নারী ধর্ষণের মিথ’ শিরোনামে এক নিবন্ধে বলেছেন, ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর শহীদের সংখ্যা ৩ মিলিয়ন এবং ২ লাখ বাঙালি নারীকে ধর্ষণের উপযুর্পরি দাবি বন্ধ হয়ে যায়। জেনারেল জিয়া, জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এবং পরে খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতো। গাণিতিকি হিসাবেও তিন মিলিয়নকে শুদ্ধ প্রমাণ করা সম্ভব নয়। পূর্ব পাকিস্তানে ২৬ মার্চ থেকে সামরিক অভিযান শুরু হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়। হাসিনা সরকার ভারতকে তুষ্ট এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ৩ মিলিয়ন শহীদের অতিরঞ্জিত মিথ্যাকে ব্যবহার করেছে।  
 ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ইসলামাবাদে কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ: মিথস এক্সপ্লোডেড’ শিরোনামে বইয়ের লেখক ইতিহাসবিদ ড. জুনাইদ আহমেদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আরো বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার পর শেখ মুজিব ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারি নিহতের সঠিক সংখ্যা নিরূপণে ১২—সদস্যের একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। এ  কমিশন প্রায় দুই বছর অনুসন্ধানের পর ৫৮ হাজার থেকে ৬৫ জনের কাছাকাছি একটি সংখ্যা প্রকাশ করে। অজানা ও রহস্যজনক কারণে কমিশনের কাজ পরবতীর্তে আর অগ্রসর হয়নি। ১৯৭২—৭৩ সালের দিকে শেখ মুজিব বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির সেক্রেটারিকে (গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন চেয়ারম্যান) ১৯৭১ সালে নিহতের সংখ্যা নিরূপণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রায় ৯ মাস গবেষণার পর তারা প্রায় ৬০ হাজার লোকের মৃত্যুর তালিকা করতে সক্ষম হয়। মুজিব তখন তাদের গণনা বন্ধ এবং কাগজপত্র ধ্বংস করতে বলেছিলেন এবং তারা সেই অনুযায়ী কাজ করেন। তারপর থেকে আর কোনো জরিপ করা হয়নি। এ মতবিনিময়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইটে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার তাজ বলেন, নিহতের সংখ্যা ৩০ হাজারের  বেশি হতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ হাজার ছাত্র নিহত হওয়ার পরিসংখ্যান পুরোপুরি মিথ্যা। পাকিস্তান বিদ্বেষী ভারতীয় এবং বাংলাদেশিরা এ গুজব রটিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার ছাত্র অবস্থান করে কিভাবে? যারা অবস্থান করছিল তারা ছিল সশস্ত্র মুক্তিবাহিনীর লোক।
  অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ড. শর্মিলা বসু দাবি করেছেন যে, যুদ্ধের সময় উভয় পক্ষের সৈন্য এবং বেসামরিক লোকসহ নিহতের মোট সংখ্যা সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে।
    ৩০ লাখ বাঙালির প্রাণ দেয়ার যে কথা আওয়ামী লীগাররা প্রচার করেন, সেই সংখ্যাটি কাল্পনিক। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কাল্পনিক না বলে আমি বরং বলবো, এ ৩০ লাখের কথাটি তারা পেয়েছেন ছেঁায়াচে রোগের মতো। এজন্য তাদের কোনো মেহনত করতে হয়নি। একজন থেকে কয়েকজন, কয়েকজন থেকে বহুজন, অতঃপর কোটি কোটি জনে ছড়িয়ে পড়েছে। যারা ৩০ লাখ, ৩০ লাখ বলে চিৎকার করেন, তাদের যেকোনো একজনের কাছে অথবা সকলের কাছে চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রশ্ন করছি যে, এ সংখ্যাটি ভুল। আপনারা কখন এবং কিসের ভিত্তিতে হিসাব কষে এ সংখাটি নিরূপণ করেছেন তা কি বলতে পারবেন? আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি যে, তারা আমার এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।
  ১৯৯০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ‘ভাষা দিবস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তৎকালীন মুজিবনগর সরকারের এমপি এবং ভাষা সৈনিক আবদুল মোহাইমেন বলেন, ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের কাছে সাক্ষাৎকার দানকালে শেখ মুজিবুর রহমানের মুখ থেকে ভুলক্রমে ফসকে যাওয়া একটি শব্দের জন্য দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিহতের সংখ্যা তিন লাখের স্থলে ৩০ লাখ হয়ে গেছে।
   ১৯৯০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক তারকালোকে আওয়ামী লীগ নেতা এমএ মোহাইমেন একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে ঘোষণা দিয়েছি তাতে আমরা নিহতের সংখ্যা তিন লাখ ঘোষণা করেছিলাম এবং এই হিসাবও আমরা তখন কলকাতায় বসে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে খবরাখবর নিয়ে একটি আনুমানিক সংখ্যা দাঁড় করিয়েছিলাম। পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে আমরা নিহতদের সংখ্যা নিরূপণের প্রয়াস পাই। তখন বৃহত্তর নোয়াখালীর মৃতদের সংখ্যা বের করার দায়িত্ব গণপরিষদের সদস্য হিসেবে আমাকে দেওয়া হয়েছিল। আমি বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করে যে সংখ্যা পেয়েছিলাম, সেটা সাত হাজারের কম। নিহত রাজাকারদের সংখ্যা ধরেও সাড়ে সাত হাজারের বেশি দাঁড়ায়নি। তখন বাংলাদেশে ঊনিশটি জেলা ছিল। সবকটি জেলায় যুদ্ধ সমভাবে হয়নি। যেসব জেলায় যুদ্ধের প্রকোপ বেশি হয়েছিল, তার মধ্যে নোয়াখালী ছিল একটি। তাই নোয়াখালী জেলার মৃতের সংখ্যা যা দাঁড়িয়েছিল, গড়ে ঐ সংখ্যাও যদি সব জেলায় ধরা যায় তাতেও লাখ সোয়া লাখের বেশি মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় না। কিন্তু ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শেখ মুজিবুর রহমান তিন মিলিয়ন বলে ফেলেন। তারপর থেকেই চালু হয়ে গেল ৩০ লাখ লোক মারা গিয়েছে। মুজিববাহিনী ও রক্ষীবাহিনীর ভয়ে কেউ এ সংখ্যা শোধরাননি কিংবা প্রতিবাদ করেননি। এমন কি তখনকার সময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী জহিরুল কাইয়ুম একটি সাক্ষাৎকারে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩ লাখ লোক নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা—কমীর্ প্রতিবাদ করেননি। ৩০ লাখ লোক যে মরেনি তার আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি। ১৯৭২ সালে সরকারের তরফ থেকে প্রতি নিহত জনের জন্য ২০০০ টাকা করে ঘোষণা করা হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যতটুকু জানা গেছে, মাত্র ৭২ হাজার দরখাস্ত পরেছিল। তার মধ্যে ৫০ হাজার নিহতের আত্মীয়দের ঘোষিত অর্থ দেয়া হয়েছে। এই ৭২ হাজারের মধ্যে আবার বহু ভুয়া দরখাস্তও ছিল এমনকি অনেক রাজাকারও ছিল।
  নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর বড় ভাই ব্যারিস্টার শরৎ চন্দ্র বসুর নাতনি শর্মিলা বসু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আসলে কত লোক নিহত হয়েছে তা নির্ণয় করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চালান। তিনি তার লেখা ‘ডেড রেকনিং শিরোনামে গ্রন্থে বলেন, The number three million appears to be nothing more than a gigantic rumour. From the available evidence discussed in this study, it appears possible to estimate with reasonable confidence that at least 50,000-100,000 people perished in the conflict in East Pakistan/Bangladesh in 1971, including combatants and non-combatants, Bengalis and non-Bengalis, Hindus and Muslim, Indians and Pakistanis
 অর্থাৎ তিন মিলিয়ন সংখ্যাটি একটি বিশাল গুজব ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে হচ্ছে। এই গবেষণায় আলোচিত প্রমাণ থেকে যুক্তিসঙ্গত অনুমান যে, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান/বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কমপক্ষে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ লোক মারা গিয়েছিল। নিহতদের মধ্যে সৈন্য এবং বেসামরিক লোক, বাঙালি ও অবাঙালি, হিন্দু ও মুসলমান, ভারতীয় ও পাকিস্তানি ছিল।
   ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর একটি দৈনিকের সম্পাদকীয়তে ৩০ লাখের উল্লেখ থাকায় পরীক্ষা—নিরীক্ষা ছাড়াই ‘ইউরেকা’ ‘ইউরেকা’ বলে একটি মহল লাফাতে শুরু করে। জানতে চেষ্টা করা হয়নি এই পত্রিকা এবং পত্রিকার সম্পাদক সাহেবের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধে কি ছিল। এই পত্রিকায় প্রকাশিত ‘৩০ লাখ’ সংখ্যাটি নিয়ে যারা লাফালাফি শুরু করেন তাদের বিরুদ্ধে ৯ মাস পত্রিকাটি ‘বিশেষ ভূমিকা’ পালন করেছে। আলোচ্য পত্রিকার মালিকের নাগরিকত্ব পর্যন্ত মুক্তিযুুদ্ধের পরপর কেড়ে নেয়া হয়। এ মালিকের মালিকানাধীন পত্রিকার প্রিয়ভাজন সম্পাদক ৩০ লাখ সংখ্যাটি নিজের ৯ মাসের পাপ স্ফলণের জন্য উপহার দেন। আর  আওয়ামী—বাকশালীরা এমনকি শেখ মুজিবুর রহমান পর্যন্ত তা গ্রহণ করে নিলেন। সেই সময় থেকে শুরু হয় ৩০ লাখের উচ্চারণ। কেউ জিজ্ঞেস করেনি এবং জানতেও চায়নি এ সংখ্যাটি কোন ফ্যাক্টরিতে তৈরি হয়ে বাজারজাত হলো। 

ভিয়েতনাম যুদ্ধ ৩০ লাখের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে 
 কেউ বলবেন না যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিয়েতনামের মুক্তিসংগ্রামের চেয়ে  বেশি রক্তক্ষয়ী ছিল। ভিয়েতনাম দু’দফা বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করেছে। ১৯৫৪ সালে ফরাসিরা ইন্দোচীন ছেড়ে যাওয়ার পর আমেরিকা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সামরিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ভিয়েতনামে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ ১৯৫৫ সালের পহেলা নভেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল সায়গনের পতন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ যুদ্ধ ‘দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।  এ সময় সরকারিভাবে উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের মধ্যে লড়াই হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন এবং অন্যান্য কমিউনিস্ট দেশ উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড এবং অন্যান্য কমিউনিস্টবিরোধী দেশ দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন দেয়। 
      ১৯৬৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যক্ষভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধেজড়িত হয় এবং ১৯ বছর যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিষিদ্ধ নাপাম বোমা ব্যবহার করেছে এবং দৈত্যাকৃতির বোমারু বিমান বি—৫২ মোতায়েন করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। যুদ্ধে বেসামরিক দক্ষিণ ভিয়েতনামী নিহত হয় এক লাখ ৯৫ হাজার থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার। বেসামরিক উত্তর ভিয়েতনামী নিহত হয় ৫০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ লাখ। ১৯৬০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ভিয়েতনামী সৈন্য নিহত হয় আনুমানিক ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ জন। আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামে ৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৫ জন কমিউনিস্ট সৈন্য নিহত হয়। আমেরিকান সৈন্য নিহত হয় ৫৮ হাজার ২২০ জন এবং আহত হয় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪ জন। দীর্ঘস্থায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ১২ লাখ ৫২ হাজার ৯৭৭ জন। ৩০ বছর স্থায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ হলে বাংলাদেশের ৯ মাসের মুক্তিযুুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ হয় কিভাবে? আলজেরিয়ায় ১০ বছরের দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামে নিহতের সংখ্যা ১০ লাখ। আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা ১০ লাখ না হয়ে ১০ কোটি হওয়া উচিত ছিল।   
    হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ২৬ হাজার লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শুধু বাঙালি নয়, পাকিস্তানি, বিহারী ও অনুগত বাঙালিও রয়েছে। এ ব্যাপারে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি মেজর জেনারেল হাকিম আরশাদ কোরেশীর একটি ভাষ্য উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কোরেশী ২৬ এফএফের (ফ্রন্টিয়ার ফোর্স) কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘দ্য নাইনটিন হান্ড্রেড সেভেনটি ওয়ান: ইন্দো—পাক ওয়ার’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। এ বইয়ে তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সৈন্যদের গণহত্যার অভিযোগ খণ্ডন করে লিখেছেন: Can 60 thousand soldiers kill three million people, supported by 100,000 armed personnel and innumberable agents from across the border? Unlikely, unless the majority decide to line up with their hands over their heads and allow themselves to be shot. But human beings sense danger and do their best to get out of harm’s any way as they did with alacrity, whenever we moved in. In order to kill three million the Pakistan army would have had to kill 11,494 persons a day non-stop from 26 March onwards.If on the other hand, they were to kill one million people, their daily killing would come to 3,831. Seen in another way, for 60,000 Pakistan army to kill three million and rape three thousand women, each and every one of them had to kill 50 persons and rape 5 women. 
 অর্থাৎ ৬০ হাজার সৈন্য কি ৩০ লাখ লোককে হত্যা করতে পারে যাদের পেছনে ছিল এক লাখ সশস্ত্র লোকের সমর্থন এবং সীমান্তের ওপার থেকে আগত অগণিত এজেন্ট? সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক যদি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের হাত মাথার উপরে তুলে গুলি করার সুযোগ দানের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সম্ভব। কিন্তু মানুষ বিপদ অঁাচ করতে পারে এবং বিপদ থেকে পালিয়ে যেতে সর্বোত্তম চেষ্টা করে। আমরা অগ্রসর হওয়া মাত্র রুদ্ধশ্বাসে তারা পালিয়ে গেছে। ৩০ লাখ লোককে হত্যা করতে হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ২৬ মার্চ থেকে পরবতীর্ দিনগুলোতে বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন ১১ হাজার ৪৯৪ জনকে হত্যা করতে হতো। অন্যদিকে ১০ লাখ লোক হত্যা করতে হলে তাদেরকে দৈনিক ৩ হাজার ৮৩১ জনকে হত্যা করতে হতো। অন্যভাবে দেখতে গেলে ৬০ হাজার সৈন্য যদি ৩০ লাখ লোক হত্যা এবং ৩ লাখ মহিলাকে ধর্ষণ করে থাকে তাহলে তাদের প্রত্যেককে ৫০ জনকে হত্যা এবং ৫ জন মহিলাকে ধর্ষণ করতে হতো।

অবাঙালি হ*ত্যা*কাণ্ড
আমরা শুধু বাঙালি গণহত্যার ইতিহাস জানি। জানি না কেবল অবাঙালিদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার করুণ কাহিনী। আমাদের লেখকরা ইতিহাসের এ অধ্যায়কে চাপা দিয়ে রেখেছেন। ১৯৭১ সালে অবাঙালিদের ওপর নৃশংসতার মর্মবেদনার কথা আমাদের এ অঞ্চলের লোকেরা জানে না। সবাই বিজয়ীদের প্রশস্তি গায়। অন্যদিকে পরাজিতদের বেদনা, তাদের যন্ত্রণার প্রতি সবাই চোখ বন্ধ রাখে। কিন্তু সব মানুষের যন্ত্রণা সমান বেদনাদায়ক। হতে পারে তারা অবাঙালি। কিন্তু তারাও মানুষ। তারাও মুসলমান। মুসলিম পরিচিতি তাদের রক্ষাকবচ হতে পারেনি। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে এমন কোনো অবাঙালি পরিবার ছিল না যে পরিবারে অন্তত দুই তিনজন প্রাণ হারায়নি। কোনো কোনো পরিবারে ৫ জন বা ১০ জন নিহত হয়েছে। নারীরা পাইকারিভাবে সম্ভ্রম হারিয়েছে। উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী আবেগে সংখ্যালঘু অবাঙালিরা নির্মূল হয়ে গেছে। তাদের সহায় সম্পত্তি কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের জন্য কারো দয়া হয়নি। নির্মমতা প্রদর্শন করা ছিল তখন বাঙালি দেশপ্রেমের মানদণ্ড। 
    ১৯৪৭ সালের আগে আমরা ব্রিটিশের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি। এ লড়াইয়ের ইতিহাসে সব গালি ইংরেজদের দেয়া হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের পরবর্তী স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রত্যেকটি গালি দেয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানি মুসলমানদের। আমাদের এ ভূখণ্ডে মুসলিম পরিচিতি নিয়ে বিহারীরা বসবাস করতো। এ দেশকে তারা অন্তর দিয়ে ভালোবাসতো। কিন্তু তাদেরকে বাঙালিরা কচুকাটা করেছে। পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ছিল তাদের একমাত্র অপরাধ। ভাইকে হ*ত্যা করেও আমরা মুসলমান! সত্যি আমাদের তুলনা হয় না। একই বিশ্বাসের অংশীদার মুসলমান আমাদের শত্রু হয়ে গেল। আর আল্লাহ ও তার রসূলের (সা.) দুশমন কাফেররা হয়ে গেল আমাদের বন্ধু, আমাদের মিত্র। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে গেলে আপনাকে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পড়তেই হবে। কিন্তু আপনি আমাদের কোনো বইয়ে তার কারণ খুঁজে পাবেন না। পহেলা মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত অবাঙালি হত্যাযজ্ঞ ছিল ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনা করার একমাত্র কারণ। 
(লেখাটি আমার ‘ভারতে মুসলিম—বিরোধী রায়ট’ থেকে নেয়া)

🖊️©️ লেখা শাহাদাত হোসাইন খান ফেসবুক আইডি