Search This Blog

Friday, December 5, 2025

ঈসা খাঁ


মসনদে তখন ‘মহামতি’ আকবর। যার হুংকারে কাবুল থেকে কান্দাহার, কাশ্মীর থেকে দাক্ষিণাত্য। পুরো হিন্দুস্তান তটস্থ। রাজপুতরা পর্যন্ত মাথা নত করে আত্মীয়তা পাতিয়েছে। কিন্তু বাদশাহর ঘুমে শান্তি নেই। মানচিত্রের পূর্ব কোণের একটি নদীমাতৃক জনপদ তাঁর গলার কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে। নাম তার বাংলা। বলা ভালো ‘ভাটি বাংলা’। 

সেখানে মোগলদের বিশ্বজয়ী অশ্বারোহী বাহিনী অচল, বারুদভর্তি কামান অকেজো। মোগল সেনাপতিরা সেখানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। কারণ তাঁরা জানতেন না, এই মাটির বীরদের ধমনীতে রক্তের সাথে স্রোতও বয়। ইতিহাসের পাতায় এই অধ্যায় কেবল সাহসের নয়, বরং এক বিস্ময়কর সামরিক প্রকৌশল ও রণকৌশলের বিজয়গাঁথা। তথাকথিত ‘বিশাল মোগল বাহিনী’র বিরুদ্ধে ঈসা খাঁ ও বারো ভুঁইয়াদের সেই লড়াইয়ের গভীরে যাওয়া যাক। 

সম্রাট আকবর বুঝতে পারেননি, বাংলা কোনো পাঞ্জাব বা হরিয়ানার সমতল ভূমি নয়। ঈসা খাঁ, কেদার রায়, চাঁদ রায়রা জানতেন, মোগলদের প্রধান শক্তি তাদের ভারী অশ্বারোহী বাহিনী (Cavalry) এবং বিশাল সব হাতি। তাই তাঁরা যুদ্ধের জন্য বেছে নিলেন বর্ষাকাল এবং ‘ভাটি’ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা ও কুমিল্লা)। বর্ষায় যখন পথঘাট ডুবে যেত, তখন মোগলদের আরবি ঘোড়া আর ভারী কামানের চাকা কাদায় দেবে যেত। মোগলদের শক্তিই হয়ে দাঁড়াত তাদের বোঝা। একে বলা হতো ‘মাটির ফাঁদ’। এ ছিল প্রযুক্তির এক অসম লড়াই, যেখানে বুদ্ধির জোরে জিতেছিল বাংলা। 

মোগল নৌবহর বা ‘নওয়ারা’ সাজানো ছিল বিশাল আকৃতির ভারী যুদ্ধজাহাজ দিয়ে, যার নাম ছিল ‘গুরব’ বা ‘বজরা’। এগুলো গভীর পানি ছাড়া চলতে পারত না, ঘোরাতে সময় লাগত প্রচুর। এদিকে বারো ভুঁইয়ারা তৈরি করলেন এক বিশেষ ধরণের রণতরী ‘কোষা’। শাল ও সেগুন কাঠে তৈরি এই নৌকাগুলো ছিল দীর্ঘ, সরু এবং অত্যন্ত দ্রুতগামী। যা অগভীর জলেও তীরের বেগে ছুটত।

মোগলদের ভারী জাহাজগুলো যখন চরায় আটকে যেত, চারপাশ থেকে ঝপ করে ঘিরে ফেলত বাংলার ছোট ছোট ‘ঝালুয়া’ আর ‘কোষা’ নৌকা। শ্রীপুরের জমিদার কেদার রায় ছিলেন নৌযুদ্ধের জাদুকর। তিনি বুঝেছিলেন, শুধু সাহস দিয়ে হবে না, দরকার উন্নত আগ্নেয়াস্ত্র। তিনি তাঁর বাহিনীতে যুক্ত করলেন পর্তুগিজ নৌ-সেনাপতি ডমিনিক ডি কার্ভালোকে। 

কার্ভালোর কাছে ছিল ইউরোপীয় উন্নত কামানের প্রযুক্তি। ১৫৮৮ থেকে ১৬০৩ সময়টায় মেঘনা আর পদ্মায় কেদার রায় মোগলদের রক্তে জল লাল করে দিয়েছিলেন। মানসিংহের মতো সেনাপতিও কেদার রায়ের নৌশক্তির কাছে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন। 

সাল ১৫৯৭। বিক্রমপুর থেকে ১২ মাইল দূরে, বর্তমান কাঠরাবো এলাকা। মোগল সেনাপতি মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে পাঠালেন ঈসা খাঁকে চূড়ান্তভাবে দমন করতে। মোগলদের সাথে ছিল ভারী কামান। কিন্তু ঈসা খাঁ সম্মুখযুদ্ধে না গিয়ে ‘গেরিলা’ কায়দায় মোগল বাহিনীকে ঘিরে ফেললেন। মোগলদের কামানের পাল্লা যেখানে শেষ, ঠিক সেখান থেকে বারো ভুঁইয়ারা আক্রমণ শুরু করলেন। 

ফলাফল? মোগল নৌবহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেল। মানসিংহের নিজের ছেলে দুর্জন সিংহ এই যুদ্ধে নিহত হলেন। ছেলের মৃত্যু সংবাদ আর পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মানসিংহকে শূন্য হাতে আগ্রায় ফিরতে হয়েছিল। ইতিহাসবিদ আবুল ফজল ‘আকবরনামা’য় এই পরাজয়ের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। মোগলরা হাতির পিঠে বড় কামান (গজনাল) বহন করত যা লক্ষ্যভেদে ছিল ধীর। বিপরীতে বারো ভুঁইয়ারা নৌকায় ব্যবহার করতেন ছোট ও হালকা কামান (হাতনাল) এবং তোপ। যা দ্রুত লোড করা যেত এবং নিমিষেই দিক পরিবর্তন করে শত্রুকে ঘায়েল করা যেত। ঈসা খাঁ কেবল যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ।

তিনি জানতেন মোগল সাম্রাজ্যের বিশাল সম্পদের সাথে অনন্তকাল যুদ্ধ চালানো কঠিন। তাই তিনি যুদ্ধজয়ের পর অনেক সময় মৌখিক বশ্যতা স্বীকার করতেন বা উপহার পাঠাতেন, কিন্তু কখনোই নিজের ভূখণ্ডের খাজনা বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ দিল্লির হাতে তুলে দেননি। একেই বলে ‘কৌশলগত বিজয়’। 

সারকথা, আকবর তাঁর জীবদ্দশায় কখনোই ভাটি বাংলাকে পুরোপুরি বশ করতে পারেননি। জাহাঙ্গীরের আমল (১৬১০) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল এই জনপদকে পদানত করতে, এবং সেটাও হয়েছিল নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরির মাধ্যমে। বারো ভুঁইয়ারা প্রমাণ করেছিলেন, কেবল সৈন্যসংখ্যা দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না। মাটির বৈশিষ্ট্য চেনা, আবহাওয়াকে কাজে লাগানো এবং সঠিক রণকৌশলই পারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যকেও হাঁটু গেড়ে বসাতে। 

তাঁরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন, অস্ত্রের চেয়ে মেরুদণ্ড অনেক বেশি শক্তিশালী।

#Clarifying_Light_বাংলা_fc

"মগের মুল্লুক"


মেঘনার মোহনা, ভুলুয়া (বর্তমান নোয়াখালী)।

​পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ।

অমাবস্যার রাত, কিন্তু কোনো ঘরে প্রদীপ জ্বলছে না। মায়েরা শিশুদের মুখে কাপড় গুঁজে ধরে আছে, যেন কান্নার আওয়াজ বের না হয়।

বাতাসের শব্দেও গ্রামের পুরুষেরা আঁতকে উঠছে। তাদের হাতে লাঠিসোঁটা, কিন্তু চোখেমুখে মৃত্যুর ভয়।

​কারণ তারা আসছে।

নদীর বুকে দ্রুতগামী ‘জেলবা’ নৌকাগুলোর ছপ ছপ শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ওরা মগ। আরাকানের জলদস্যু। সাথে আছে তাদের দোসর, পর্তুগিজ হার্মাদরা।

​এরা লুঠ করতে আসে না। এরা আসে ‘শিকার’ করতে।

মানুষ শিকার।

​যাকে পাবে, তাকেই ধরে নিয়ে যাবে।

তারপর হাতের তালু ফুঁড়ে সরু বেতের রশি দিয়ে বেঁধে ফেলবে। জাহাজের অন্ধকার খোলে গাদাগাদি করে ফেলে রাখবে দিনের পর দিন। খাবার হিসেবে ছুড়ে দেবে মুঠোভরা কাঁচা চাল।

গন্তব্য, আরাকানের দাস বাজার। অথবা ওলন্দাজ বনিকদের জাহাজ, যারা এই বাঙালিদের পাঠিয়ে দেবে সুদূর ইন্দোনেশিয়ায়।

​বাংলার দক্ষিণ উপকূল তখন এক মৃত্যুপুরী।

যেখানে আইন নেই, বিচার নেই, শুধু আছে বাঁচার আর্তনাদ।

লোকেরা এই অরাজকতার নাম দিয়েছিল, "মগের মুল্লুক"।

​দিল্লির মসনদ তখন অনেক দূরে।

মোগল সুবাদাররা আসেন আর যান। ডাঙায় তাদের দাপট থাকলেও, জলের ওপর তারা অসহায়।

মোগলদের ভারী জাহাজগুলো মগদের ক্ষিপ্রগতির নৌকার সাথে পেরে ওঠে না।

​ঠিক এই চরম মুহূর্তে, ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার হয়ে এলেন এক বৃদ্ধ।

শায়েস্তা খান।

বয়স তেষট্টি। জীবনের শেষ সায়াহ্নে।

​সবাই ভেবেছিল, এই বয়োবৃদ্ধ শাসক আর কী করবেন? হয়তো কদিন পর তিনিও হাল ছেড়ে দেবেন।

কিন্তু শায়েস্তা খান জানতেন, শুধু তলোয়ার দিয়ে এই দস্যুদের দমানো যাবে না। এদের দমাতে হবে বুদ্ধি দিয়ে।

​তিনি এক অদ্ভুত ফরমান জারি করলেন।

"নৌকা বানাও।"

পুরো ঢাকা শহর এক বিশাল কারখানায় পরিণত হলো। কাঠমিস্ত্রি, কামার, কারিগর, দিনরাত এক করে কাজ করতে লাগল।

এক বছরের মধ্যে শূন্য থেকে গড়ে উঠল ৩০০ জাহাজের এক বিশাল নৌবহর।

​কিন্তু শায়েস্তা খান জানতেন, মগদের আসল শক্তি তাদের সাহস নয়, তাদের শক্তি হলো তাদের সাথে থাকা পর্তুগিজ ফিরিঙ্গিরা। এদের কাছে আছে উন্নত মানের কামানের জ্ঞান।

​শায়েস্তা খান এবার চাললেন এক মোক্ষম চাল।

তিনি সন্দ্বীপে থাকা পর্তুগিজ দলনেতাকে গোপনে প্রস্তাব পাঠালেন,

"আরাকানের রাজার গোলামি করে কী পাবে? আমার সাথে এসো। নিরাপত্তা, সম্পদ আর সম্মান, সব দেব।"

​লোভ আর ভয়, দুটোই কাজ করল। ফিরিঙ্গিরা মগদের পক্ষ ত্যাগ করে শায়েস্তা খানের দলে ভিড়ে গেল।

যুদ্ধের আগেই আরাকানের রাজার ডান হাত ভেঙে গেল।

​জানুয়ারি, ১৬৬৬ সাল।

কুয়াশাচ্ছন্ন কর্ণফুলী নদী।

​মগরা তাদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি চট্টগ্রামে বসে আছে। তারা নিশ্চিন্ত। গত একশো বছরে কেউ তাদের এই জলসীমায় হারাতে পারেনি।

কিন্তু তারা জানত না, দিগন্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসছে এক প্রলয়।

​সামনে ইবনে হোসেনের নেতৃত্বে মোগল নৌবহর ‘নওয়ারা’। আর জঙ্গল মাড়িয়ে ডাঙা পথে এগিয়ে আসছেন সুবাদারের পুত্র বুজুর্গ উমেদ খান।

​সাঙ্গু নদীর মোহনায় শুরু হলো সেই ঐতিহাসিক লড়াই।

মগরা তাদের ‘জেলবা’ আর ‘খালু’ নৌকা নিয়ে মরণকামড় দিতে চাইল।

কিন্তু এবার দৃশ্যপট ভিন্ন।

​মোগলদের নতুন নৌবহর আর ফিরিঙ্গিদের কামানের নিখুঁত নিশানায় মগদের জাহাজগুলো খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে লাগল।

টানা ছত্রিশ ঘণ্টা চলল কামানের গর্জন। নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে গেল।

​১৩৫টি মগ জাহাজ দখল করে নিল মোগলরা। বাকিগুলো আগুনে ভস্মীভূত হলো।

মগরা পালালো। তাদের অজেয় দুর্গ চুরমার হয়ে গেল।

​উদ্ধার হলো হাজার হাজার বাঙালি বন্দি। তাদের আনন্দাশ্রুতে ভিজে গেল চট্টগ্রামের মাটি।

দীর্ঘ দিন পর দক্ষিণ বাংলার মানুষ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল।

​শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম জয় করে নাম রাখলেন, ‘ইসলামাবাদ’।

​শায়েস্তা খান যখন ঢাকা ছেড়ে যান, তখন তিনি এক নতুন ইতিহাস রচনা করে গেছেন।

আমরা তাঁকে মনে রেখেছি টাকায় আট মণ চালের জন্য।

কিন্তু তাঁর আসল অবদান সস্তা চাল নয়।

​তিনি যদি সেদিন ওই বয়সে আরাম আয়েশ ছেড়ে এই অসম্ভব লড়াইয়ে না নামতেন, তবে আজকের সুন্দরবন আর দক্ষিণ বাংলা হয়তো জনমানবহীন জঙ্গল হয়েই থাকত।

তিনি মগদের বিতাড়িত করে বাংলাকে বাসযোগ্য করেছিলেন।

তিনি ‘মগের মুল্লুক’ শব্দটিকে চিরতরে একটি প্রবাদ বাক্যে পরিণত করে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছিলেন।

​আজ যখন আমরা নির্ভয়ে কুয়াকাটা বা পতেঙ্গার সৈকতে দাঁড়াই, তখন হয়তো আমরা ভুলেই যাই,

এই বাতাসের প্রতিটি ঝাপটায় মিশে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের ২০০ বছরের দীর্ঘশ্বাস,

আর একজন তেষট্টি বছরের বৃদ্ধের অদম্য জেদ।

#Clarifying_Light_বাংলা_fc

আওয়ামিলীগ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কে বিক্রি করে দিয়েছে ১৯৭১ এর বিজয় দিবসে........!!!!!!


আওয়ামিলীগ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কে বিক্রি করে দিয়েছে ১৯৭১ এর বিজয় দিবসে........!!!!!!
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধীনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী কে 🇧🇩, যদি সেদিন জেনারেল আরোরার জায়গায় জেনারেল ওসমানীকে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পত্রে স্বাক্ষর করতে দিতো। কিন্তু তা কেড়ে নিয়ে তুলে দেওয়া হলো ভারতের কোলে। 

ভারত আমাদের বন্ধু না শত্রু❓
১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এসে ভারতের প্রাপ্তি
লেখক: আরিফুল হক( সাবেক বিশিষ্ট নাট্যাভিনেতা)

ভারতের আর্থিক প্রাপ্তি (জাতিসংঘের মাধ্যমে):
১) যুক্তরাষ্ট্র থেকে: ৮,৯১৫,৭০০ ডলার
২) যুক্তরাজ্য থেকে: ৩,৮১১,২১৩ ডলার
৩) কানাডা থেকে: ২,৩২৬,৩৬০ ডলার
৪) সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে: ২০,০০০,০০০ ডলার
৫) মায়ামী থেকে: ১২৬ কোটি ডলার
৬) জাতিসংঘের ৬৮টি দেশ থেকে: ৫৭৪,১৬২ ডলার

এই অনুদানের মোট পরিমাণ ছিল তখনকার হিসেবে ১২,৩১২,৯৫২৯৪ টাকা।

পাকিস্তানের কাছ থেকে প্রাপ্তি:
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ: ৫৯,৩৫১,৪২৯৪ রুপি।  এসব কিছুই পেত বাংলাদেশ 🇧🇩, যদি সেদিন জেনারেল আরোরার জায়গায় জেনারেল ওসমানীকে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পত্রে স্বাক্ষর করতে দিতো।  কিন্তু তা কেড়ে নিয়ে তুলে দেওয়া হলো ভারতের কোলে। 

★ ২০২২-২৩ সালে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে তুমুল যু"দ্ধ হলো।  ৩০ বছর পর আজারবাইজান যু"দ্ধে জয়লাভ করে।  তার হারানো ভূমিসমূহ উদ্ধার করে নেয়। এ যু"দ্ধে আজারবাইজান এর পক্ষে মূল কারিগর  ছিল"" তুরস্ক ""।  আর "" পাকিস্তান """।  পাকিস্তানি এসএসজি কমান্ডোরা আজারবাইজানের পক্ষে যু"দ্ধ করে।  তুরস্ক তার বাইরাখতার টিভি টু ড্রোনের কারিশমা দেখায় সারা বিশ্বকে।  

অপরদিকে,  আর্মেনিয়ার পক্ষে রাশিয়া,  ভারত,  ইরান সহায়তা করে।  

যাইহোক,  এ যু"দ্ধের পর তুর্কী ও আজারবাইজান তাদের বিভিন্ন মহরা, সামরিক চুক্তি করে,  তবে তারা কি তুর্কী ও পাকিস্তানকে ঘাটি বা অতিরঞ্জিত কিছু করেছে?????  না করেনি। 

আবার,  তালেবানরা ২০২১ সালে আফগান পুনরায় দখল করে। আমেরিকার সেনারা পালিয়ে বাঁচে।  আফগানদের এ সাফল্য কি একার???  তারা কি অন্যদেশকে আমাদের মতো স্বামী-স্ত্রী তকমা দিয়ে অতিরিক্ত কিছু করেছে????  না সেটাও হয় নি...। 

আমরা যু"দ্ধ করেছি।  সুতরাং আমাদের স্বাধীনতার সহায়ক ভারত।  তবে যু"দ্ধ আমাদের,  র"ক্ত আমাদের। তাই পাকিরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কাছেই আত্মসমর্পণ করবে, যেমনটা "" বৃটিশরা ১৭৭৬ সালে জর্জ ওয়াশিংটন এর মার্কিনবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে, আমেরিকার স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়।  তখন আমেরিকা আজকের মতো বিশাল দেশ বা জাতি ছিল...????  না ছিল না।  

তাহলে,  ১৯৫ বছর পর "" বাংলাদেশের 🇧🇩 মহান মুক্তিযু"দ্ধ "" পাকিস্তানি মোট ১,০০,০০০ সেনারাও "" জেনারেল ওসমানীর নিকট আত্মসমর্পণ করতে পারতো।  কিন্তু কৌশলে তা হতে দিলো না,  মুক্তিযু"দ্ধে কোলকাতায় আরাম-আয়েশ করা  আমাদেরই নেতা নামক গাদ্দাররা। 

তাহলে আজ আমরা হতাম বীরের জাতি।  আমাদের হতো সম্মান।  আজ আমরা যতই বলি আমাদের মহান মুক্তিযু"দ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন হয়েছি, বিশ্ব জানে পাক- ভারতের যু"দ্ধে "" বাংলাদেশ 🇧🇩 "" স্বাধীন হয়েছে। 

যেমনটা ঃ ২য় বিশ্বযু"দ্ধে জার্মান-জাপান ও রাশিয়া- আমেরিকার  মধ্যে হলেও আরও বহুদেশের মধ্যে হয়েছে,  তা কি আমরা জানি??????  

যাইহোক..... 
পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া অ"স্ত্র ও সরঞ্জাম: কেবল ৮৭টি ট্যাঙ্কের মূল্যই ছিল প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার

শুধু খুলনা অঞ্চল থেকেই বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন মেশিনারিজ, মালামাল) লুটে নেওয়া হয়েছিল প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলারের

এছাড়া, দোকানপাট থেকে সোনার গহনা, ইলেকট্রনিকস, শিল্প কারখানার যন্ত্রাংশ, দামি গাড়ি ইত্যাদি শত শত ওয়াগনে করে নিয়ে যাওয়া হয়—যার সুনির্দিষ্ট হিসাব আজও নেই।

এর পাশাপাশি নদী, বন্দর, সড়ক, ব্রিজ এবং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতেও ভারতের প্রভাব বিস্তার ঘটে। তবুও আজ শুনতে হয়, আমরা নাকি ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ! আর তারপর, শেখ হাসিনা সরকার এত কিছু উজাড় করে দিয়েছে যে, ভারত হয়তো তা আজীবন মনে রাখবে!
>>>
মুক্তিযু"দ্ধের বিষয়টা বলতে গেলে এমন দাড়ায়,  যেমন ঃ আপনার বাসায় মেহমান দাওয়াত করলেন,  তাদের জন্য বাজার করলেন, রান্না করলেন, খাওয়ালেন,সবকিছু আপনার, খরচ আপনার, পেট ভরে খেয়েও গেল, আবার যাওয়ার সময় নিয়েও গেল, কিন্তু আপনারা রাতে ঝোল আর কোন রকমে ডিম ভাজি করে ভাত খেয়ে শুয়ে পড়লেন। 
বিষয়টি এমনই। 

আবার,  
আপনি বিয়ে করলেন।  বহু শখের বিয়ে। বহু খরচ করে জিনিষপত্র দিয়ে সাজিয়ে, লক্ষ টাকার কাবিন করে, ঘরে তুললেন।  কিন্তু বাসর করবেন।  ঘরে ঢুকে দেখলেন বউ পালিয়েছে।  সে রাতে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে বাসর হলো। 
সবকিছু আপনিই করলেন, কিন্তু মজা মারলো ফজা ভাই। 

মুক্তিযু"দ্ধের বিষয়টা তেমনই।  
যু"দ্ধে ভারত ট্রেইনিং দিয়ে আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করে তা ঠিক,  কিন্তু মুক্তিবাহিনীর তেমন কোন ভারী অ"স্ত্র ছিল না।  হালকা কামান, শর্ট রেঞ্জের মর্টার, আর গ্রে"নেড, আর কিছু রাই"ফেল,  হালকা এসএম"জি, এইতো।  

এ.জি. ওসমানী বহুবার ভারী অ"স্ত্র চেয়েছিলেন।  অস্হায়ী সরকারকে দিয়ে ভারত সরকারের কাছে অ"স্ত্র সরবরাহ  দাবী করে ছিলেন।  ফল শূন্য।

ভারত রিস্ক নিতে চায়নি। মিশন ব্যর্থ হলে সব যাবে জলে,  এই ভেবে।  তাদের চিন্তা ছিল, দীর্ঘ মেয়াদী গৃহযু"দ্ধ।  ফলে একদিকে পাকিস্তান দূর্বল হয়ে পড়বে এবং ভারত হবে এশিয়া কিং ও পাকিস্তান কাস্মীর বিষয়ে ভারতের সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হবে।  ভারত কখনো কল্পনাই করেনাই,  কালা, চিকনা- পাতলা, খাটা বাঙ্গালী.. ৫৬ ইঞ্চির চওড়া বুকের, লম্বা, ফর্সা, স্বাথ্যবান পাঠান পাকিস্তানিদের প্রায় খালি হাতেই হারিয়ে দিবে এক"" ওসমানীর """ সুদক্ষ নেতৃত্বে।  

৬৫ সালে শিয়ালকোটে এই কর্নেল ওসমানীর "" ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালী সেনাদের কাছে হারে, এই ওসমানীই ছিল ভারতের অসহ্যকর পাত্র।  নানাভাবে তাকে সরানোর চেষ্টা করে। একবার তো ওসমানী পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়ে সরে যেতে চেয়েছিলেন।  তবে অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ গ্রহণ না করে তাকে দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করেন।  কেননা, ওসমানী ব্যাতীত এ যু"দ্ধ চালানো সম্ভব হবে না। 

অ"স্ত্রের তেমন যোগান নাই  তবুও হাল ছাড়েনি ওসমানী বাহিনী। বীর বাঙ্গালি সেই স্বল্প অ"স্ত্র নিয়েই পাকিস্তানের ঘাটি দখল করতে থাকে, তাদের হতে উদ্ধারকৃত অ"স্ত্র নিয়ে লড়তে থাকে। 

এরই মধ্যে মুক্তিবাহিনীকে কাউন্টার করতে মামা বাহিনী, মুজিব বাহিনী  সহ নানান গেরিলা বাহিনী তৈরী করে। 

উদ্দেশ্য ঃ ভারতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা,  মুক্তিবাহিনীকে কাউন্টার করা, যাতে একেকভাবে সর্ব এলাকা কব্জা করতে না পারে, এবং পাক- সরকার ভারতের সাথে দরকষাকষিতে বাধ্য হয় ফলে একদিকে কাস্মীর নিরাপদ থাকবে অন্যদিকে পাক- সরকার বিছিন্নতাবাদীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে । 

★★★ হয়তো লেখা গুলো আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না,  তবে এটাই সত্যি। 

যাই হোক,  স্বাধীনতার থেকে ১৩ দিন যখন দূরে, ২রা ডিসেম্বর   পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যু"দ্ধ ঘোষণা করে বসে। এমনিতেই পূর্ব পাকিস্তানে কোনঠাসা, ভারত স্হল, আকাশ, সমুদ্রসীমা বন্ধ করে দেয় ফলে পাকিস্তান হতে আর সেনা, রসদ আসছিলো না।  যা ছিল শেষের পথে।  শেষদিকে,  আমেরিকা তার সপ্তম নৌবহর পাঠালে,  ভারতের মিত্র সোভিয়েত রাশিয়া নবম নৌবহর পাঠায়।  ফলে,  এ যাত্রায় আর তৃতীয় বিশ্বযু"দ্ধ লাগেনি। 

শেষ ভরসা,  চীনা বিমান আসার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক চাপে চীন আসতে পারেনি। 

ফলাফল ঃ ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ। 

যু"দ্ধ করলো বাংলার 🇧🇩 দামাল সন্তানরা।  আর গাদ্দারদের সহায়তার ভারত নিয়ে গেল স্বাধীনতার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরসহ সমস্ত ক্রেডিট ও লাভের অংশ। ও ২৫ বছর গোলামী চুক্তি  এবং সেনা রাখার নিশ্চয়তা, ভারত নির্দেশিতপররাষ্ট্র নীতি। 

এই হলোস্বাধীনতার নামে  পরাধীনতার লাল  স্বাধীনতা। 🤧🛩️🇧🇩 কপিরাইট। #বাংলাদেশের #ইতিহাস #স্বাধীনতা #ভারত #পাকিস্তান #যুদ্ধ #মুক্তিযোদ্ধা