Search This Blog

Sunday, September 26, 2021

আমাদের প্রজন্ম ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে পারবে

Saturday, September 25, 2021

পরলোকগত কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ যারাল্লাহ র মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া কিছু অনুভূতি -



"মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।"

তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে,

আমাকে গোসল করাবে,

(তারপর) আমাকে কাফন পড়াবে,

আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে,

আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে,

আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে,

অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে,

কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে না,

আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো,

আমার চাবির গোছাগূলো,

আমার বইপত্র,

আমার ব্যাগ,

আমার ‍জুতোগুলো,

হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে,

এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, এই দুনিয়া তোমার জন্য দু:খিত হবে না অপেক্ষাও করবে না,

এই দুনিয়ার ছুটে চলা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাবে না,

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু চলতে থাকবে,

আমার দায়িত্ব (কাজ) অন্য কেউ সম্পাদন করা শুরু করবে,

আমার ধনসম্পদ বিধিসম্মত ভাবে আমার ওয়ারিসদের হাতে চলে যাবে,

অথচ এর মাঝে এই সম্পদের জন্য আমার হিসাব-নিকাশ আরম্ভ হয়ে যাবে,

ছোট এবং বড়….অনুপরিমাণ এবং কিয়দংশ পরিমান, (সবকিছুর হিসাব)

আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম যা (হারাতে) হবে, তা আমার নাম!!!

কেননা, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, কোথায় “লাশ”?

কেউ আমাকে আমার নাম ধরে সম্বোধন করবে না,

যখন তারা আমার জন্য (জানাযার) নামাজ আদায় করবে, বলবে, “জানাযাহ” নিয়ে আসো,

তারা আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করবে না….!

আর, যখন তারা দাফন শুরু করবে বলবে, মৃতদেহকে কাছে আনো, তারা আমার নাম ধরে ডাকবে না…!

এজন্যই দুনিয়ায় আমার বংশপরিচয়, আমার গোত্র পরিচয়, আমার পদমযার্দা, এবং আমার খ্যাতি কোনকিছুই আমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে,

এই দুনিয়ার জীবন কতই না তুচ্ছ, আর, যা কিছু সামনে আসছে তা কতই না গুরুতর বিষয়…

অতএব, (শোন) তোমরা যারা এখনো জীবিত আছো,….জেনে রাখো, তোমার (মৃত্যুর পর) তোমার জন্য তিনভাবে দু:খ করা হবে,

১. যারা তোমাকে বাহ্যিক ভাবে চিনতো, তারা তোমাকে বলবে হতভাগা,

২. তোমার বন্ধুরা বড়জোর তোমার জন্য কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন দু:খ করবে, তারপর, তারা আবার গল্পগুজব বা হাসিঠাট্টাতে মত্ত হয়ে যাবে,

৩. যারা খুব গভীর ভাবে দু:খিত হবে, তারা তোমার পরিবারের মানুষ, তারা এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, একমাস, দুইমাস কিংবা বড় জোর একবছর দু:খ করবে। এরপর, তারা তোমাকে স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেবে!!!

মানুষদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাবে, অত:পর, তোমার জীবনের নতুন গল্প শুরু হবে, আর, তা হবে পরকালের জীবনের বাস্তবতা,

তোমার নিকট থেকে নি:শেষ হবে (তোমার):

১. সৌন্দর্য্য

২. ধনসম্পদ

৩. সুস্বাস্থ্য

৪. সন্তান-সন্তদি

৫. বসতবাড়ি

৬. প্রাসাদসমূহ

৭. জীবনসঙ্গী

তোমার নিকট তোমার ভালো অথবা মন্দ আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না,

শুরু হবে তোমার নতুন জীবনের বাস্তবতা,

আর, সে জীবনের প্রশ্ন হবে: তুমি কবর আর পরকালের জীবনের জন্য এখন কি প্রস্তুত করে এনেছো?

*ব্স্তুত: এই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে তোমাকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন,*

এজন্য ‍তুমি যত্নবান হও,

১. ফরজ ইবাদতগুলোর প্রতি

২. নফল ইবাদতগুলোর প্রতি

৩. গোপন সাদাকাহ’র প্রতি

৪. ভালো কাজের প্রতি

৫. রাতের নামাজের প্রতি

যেন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারো….

এই লিখাটির মাধ্যমে তুমি মানুষকে উপদেশ দিতে পারো, কারণ তুমি এখনো জীবিত আছো, এর ফলাফল আল্লাহ’র ইচ্ছায় তুমি কিয়ামত দিবসে মিজানের পাল্লায় দেখতে পাবে,

আল্লাহ বলেন: ((আর স্মরণ করিয়ে দাও, নিশ্চয়ই এই স্মরণ মুমিনদের জন্য উপকারী))

তুমি কি জানো কেন মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ প্রদানের আকাঙ্খা করবে, যদি আর একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরতে পারতো?

আল্লাহকে বান্দা  বলবে: ((হে আমার রব! যদি তুমি আমাকে আর একটু সুযোগ দিতে দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাবার, তাহলে আমি অবশ্যই সাদাকাহ প্রদান করতাম….))

তারা বলবে না,

উমরাহ পালন করতাম,

অথবা, সালাত আদায় করতাম,

অথবা, রোজা রাখতাম,

আলেমগণ বলেন: মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ’র কথা বলবে, কারণ তারা সাদাকাহ প্রদানের ফলাফল তাদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে,

আর, গুরুত্ববহ এই সাদাকাহ’র কাজটি তুমি এই কথাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে করতে পারো, যদি তোমার উদ্দেশ্য হয় এর মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ প্রদান করা। কারণ, উত্তম কথা হল এক ধরণের সাদাকাহ।।।
-সংগৃহীত

Wednesday, September 15, 2021

'বেগম' চুরি: বাংলাদেশের গন্ডারেরা কেন হারাল?



সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণকর্মী ও বাঘ গবেষক এবং সুন্দরবনে আদি সভ্যতার প্রত্নস্থলের আবিষ্কারক ইসমে আজম ঋজু গন্ডারের বিলুপ্তি এবং তার সর্বশেষ বসবাসের অবস্থান নিয়ে জানান, ১৮৭৬ সালে কুমিল্লায় একটি দুইশিঙ্গি গন্ডার গুলি করে মারা হয়। ১৮৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম থেকে একটি গন্ডার ধরা হয়। যেটি ছিল দুইশিঙ্গি গন্ডার। এটি বাংলাদেশের শেষ জীবিত গন্ডার ‘বেগম’। ১৮৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের দক্ষিণের কোন একস্থানে এটি মানুষের হাতে বন্দি হয়। চোরাবালিতে আটকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল গন্ডারটি। স্থানীয় লোকজন গন্ডারটিকে চোরাবালি থেকে তুলে আটকে রেখে প্রশাসনকে জানায়। ব্রিটিশ সরকারের ক্যাপ্টেন হুড ও মি. উইকস আটটি হাতি নিয়ে ১৬ ঘণ্টা কঠোর চেষ্টার পর এটিকে বন্দি করে। অর্থের লোভ সামলাতে পারেনি ব্রিটিশ কর্মকর্তা। ১৮৭২ সালে বাংলাদেশের জীবিত শেষ গন্ডারটিকে ৫ হাজার পাউন্ডে কিনে লন্ডন চিড়িয়াখানা বিক্রি করেন। নিজ বসতভিটা ছেড়ে বেগম বন্দি হলো লন্ডনের খাঁচায়। এই গন্ডারের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়েছে আমাদের গন্ডার প্রজাতি।
প্রথম আলো , তথ্য ঋণ

🔸ছবিটি দুই শিংবিশিষ্ট গন্ডারের, যেটি ছিল বাংলাদেশের শেষ জীবিত গন্ডার 'বেগম'। ১৮৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের দক্ষিণের কোনো এক স্থানে এটি মানুষের হাতে বন্দী হয়। তার পর ইতিহাস!!!!

Monday, September 13, 2021

মধুর ক্যান্টিন!

মধুর ক্যান্টিনঃ খাবারের দোকান ছাপিয়ে ইতিহাস হয়ে উঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের সামনে দিয়ে কখনো যদি আপনি যান কিংবা ডাকসু ভবনের মূল ফটকে যদি আপনি পা মাড়ান তবে হলদে রঙা মঠ সদৃশ একটি স্থাপনা আপনার দৃষ্টি এড়িয়ে যাবেনা। পোস্টারের তোপে ছেয়ে থাকা এই ছোট্ট দালানটির সামনে একটি আবক্ষ মূর্তিও দেখা যাবে। তিনি মধুদা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে খুঁজে বার করে জগন্নাথ হলের মাঠে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। এই মধুদার নামেই গড়ে উঠা রেস্তোরা ইতিহাসে প্রসিদ্ধ মধুর ক্যান্টিন নামে। মূলত ক্যান্টিন হলেও এই ভবনটি এক ধরণের অঘোষিত রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের। শ্লোগান আর মিছিল মিটিং এ সয়লাব থাকা মধুর ক্যান্টিন কিভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের আষ্টেপৃষ্টের সাথে জড়িয়ে পড়ল সেই গল্পই আমাদের আজকের নৈবেদ্য।

মধুর ক্যান্টিন প্রতিষ্ঠার সূত্রপাত হয় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আজকে আমরা মধুর ক্যান্টিনের যে রূপ দেখি সেটি ছিল প্রকৃতপক্ষে ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহর জলসাঘর। সে আমলে নবাব আহসানউল্লাহর মালিকানায় থাকা ঢাকার তিনটি বাগানবাড়ির একটি ছিল শাহবাগে। আর এই শাহবাগের বাগানবাড়ির এই দালানটিতে বসত নবাবী নাচের আসর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পেলে ব্যবসায়িক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আদিত্য চন্দ্র দে নামের একজন ব্যবসায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের পাশে খাবারের ব্যবসা শুরু করে দেন। তখনকার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ বিল্ডিং ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ব্রিটিশরা যখন পলাশী থেকে পুলিশ ব্যারাক প্রত্যাহার করে নেয় তখন আদিত্য চন্দ্র পুলিশের কাছ থেকে ২০ টাকায় দুটি ছনের ঘর কিনে নেন। এর একটিতে তিনি নিজে থাকতেন এবং অন্যটিকে ব্যবহার করতে থাকেন খাবারের দোকান হিসেবে। ১৯৩৪ সালের দিকে আদিত্য চন্দ্রের পুত্র মধু দোকানে বাবার সাহায্যকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৩৯ সালে আদিত্য চন্দ্র মারা গেলে মধু তার ব্যবসার দায়িত্ব নেন। ঘটনা পরম্পরায় ডাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় মধুর রেস্তোরা। নবাবের সেই জলসাঘর ধীরে ধীরে পরিণত হয় ছাত্র রাজনীতির আঁতুড়ঘরে।

মধুর ক্যান্টিনঃ খাবারের দোকান যখন রাজনৈতিক কার্যালয়

মধুর ক্যান্টিন জাতীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল ১৯৪৮ সাল থেকে। ৪৮ পরবর্তী যত জাতীয় আন্দোলন হয়েছে বাংলাদেশে তার সব কটাতে মধুদার ক্যান্টিন ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছিল ক্যান্টিন থেকে আরো বেশি কিছুতে। বাংলাদেশের অনেক প্রখ্যাত রাজনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, সাহিত্যিক, সমাজকর্মী নিজেদের জীবনের সেরা সময়গুলো কাটিয়েছেন এই ক্যান্টিনে। নিষ্পেষিত পাক শাসনে বিদ্রোহের ঝান্ডাধারী ছাত্ররা এখানে বসে জাতীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। আন্দোলন পরিকল্পনা, গোপন সিদ্ধান্ত এবং সর্বোপরি জন অভ্যূত্থানের পেছনে সাহস ও শক্তির কুটির ছিল সবার ভালবাসার মধুদার ক্যান্টিন৷ ক্যান্টিন লাগোয়া গোলঘরে চলত ব্যানার পোস্টার তৈরির কাজ। ভয় ছিল ধরপাকড়ের, তখন মধুর ক্যান্টিনের উপর নজর পড়েছিল পাকিস্তানিদের। তাই সতর্ক থাকতে হত। ছোট ছোট মিষ্টি আর চা বিস্কুটের এই খাবার দোকান যেন পরিণত হয়েছিল ছাত্র রাজনীতির সদর দপ্তরে যেখানে বীজ উপ্ত হয়েছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

বেশিরভাগ ছাত্রই  খেয়ে বিল দিতেন না!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মধুর ক্যান্টিনে খাবারের বিল না দেয়ার প্রসঙ্গের স্মৃতিচারণ করেছেন এভাবে,

"মধুর দোকানে বাকি খাওয়া ছাত্রদের একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল তার জীবদ্দশায়। খাতায় নামাঙ্কিত ছাত্ররা খেয়ে চলে যেত। বন্ধুদের আপ্যায়ন করে বিদায় নিত। এক সময় মধু খাতা নিয়ে বসে জানতে চাইতেন কে কে এসেছিল। তাদের নামের পাশে ধার্য্য হত একটা অঙ্ক। ছাত্ররা বলত, মধুও কবুল করতেন,  এই বেহিসেবি হিসেবে কখনো লাভ হতো তাদের কখনো মধুর। কৃত্রিম বাদানুবাদও হত মাসের পাওনা নিয়ে। তাতে কোন পক্ষেরই জয় পরাজয় হতো না। ছাত্রদের ঋণ গড়াতো মাসের পর মাসে; মধুর চাপ ছিল যত, আদায় তত ছিল না। বহুজন জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে পরিশোধ করেছেন মধুর ঋণ"

ছাত্ররা খাচ্ছে, কেউ বিল দিচ্ছে তো কেউ দিচ্ছে না। এই নিয়ে অবশ্য মধুদার তেমন ভ্রুক্ষেপও বোধহয় ছিল না৷ এমনিভাবে তিনি মিশে গিয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে। বাংলা ভাষার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বুদ্ধদেব বসু বিল না দেবার প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করেছেন,

"দাম দেবার জন্য পকেটে হাতড়াবার প্রয়োজন নেই, লিখে রাখো এই বলেই যথেষ্ট। এই আদিত্যের এবং আমার পুরনো পল্টনের মুদিখানায় সিগারেটের দেনা সম্পূর্ণ শোধ না করে আমি ঢাকা ছেড়েছিলাম। সে কথা ভেবে আজকের দিন আমার অনুশোচনা হয়"।

মধুদার প্রয়াণ

রাজনীতি না করেও মধুদা হয়ে উঠেছিলেন আপাদমস্তক রাজনৈতিক চরিত্র।
সৎ ও বন্ধুবাৎসল মধুদা ছিলেম সবার আপন। তিনি নিজে অনেক সময় রাজনৈতিক পোস্টার দেয়ালে সেঁটেছেন, রেখেছেন নিজের সংগ্রহে। স্বাভাবিকভাবেই চক্ষুশূল হয়েছেন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী খুঁজে খুঁজে বের করে মধুদাকে। জগন্নাথ হলের পাশের ফ্ল্যাটে থাকা মধুদার পরিবারের প্রথম শিকার তার স্ত্রী, গুলি করা হয় তার এক পুত্রবধূ ও কন্যাকে। গুলি চালানো হয় মধুর শরীরেও। কিন্তু তখনো তিনি বেঁচেছিলেন। এক বিহারি এই খবর সেনাবাহিনীর কাছে পৌছে দেয়। ফিরে এসে জগন্নাথ হলের মাঠে হত্যা করা হয় তাকে। বিদ্রোহী যুবকদের ভ্রমর মধুদা নাম লেখান ইতিহাসে।  মধুতাকে স্মরণে স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন মধুস্মৃতি কবিতা।

আপনার নীল লুঙ্গি মিশেছে আকাশে
মেঘে ভাসমান কাউন্টার। বেলা যায়,
বেলা যায় ত্রিকালজ্ঞ পাখি ওড়ে, কখনো স্মৃতির খড়কুটো ব্যাকুল জমায়।
আপনার স্বাধীন সহিষ্ণু মুখ
হায় আমরা তো বন্দি আজো-মেঘের কুসুম থেকে জেগে উঠো ক্যাশবাক্স রঙিন বেলুন হয়ে ওড়ে।
বিশ্বাস করুন,
ভার্সিটি পাড়ায় গিয়ে আজো মধুদা মধুদা বলে খুব ঘনিষ্ঠ ডাকতে সাধ হয়।

লেখকঃ উবায়দুর রহমান রাজু

একটা জাতি কি সারা জীবন নির্মাণশ্রমিক ও শার্ট-সোয়েটার তৈরি করবে: মনজুরুল ইসলাম

 অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম  বলেন.... ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বড় ভুল হচ্ছে, আমরা শিক্ষার্থীদের জগতের জন্য তৈরি করছি না। আমরা নানা বাজারের জন্য তৈরি করছি। কিন্তু বাজারগুলোর পরিবর্তন হয়। আমরা যেমন গার্মেন্ট শিল্প করে টিকে আছি, কুড়ি বছর পর সেখানে টিকতে পারব না। কারণ, সবই তো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চলে যাবে। যে কাজগুলো শ্রমিকেরা করছেন, সেই কাজ যন্ত্র নিশ্চিন্তভাবে করে যাবে। তখন এত শ্রমিকের চাকরি আমরা কোথায় দেব? এখন থেকে আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করে বছরে ‘১৫ বিলিয়ন’ ডলার আয় করার কথা তুলে ধরেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তাঁরা কেন এ রকম জীবন কাটাচ্ছেন, সে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমরা ঝাড়ুদার তৈরি করছি। এটা কোনো কথা হলো? একটা জাতি কি সারা জীবন নির্মাণশ্রমিক তৈরি করবে? শার্ট আর সোয়েটার তৈরি করবে সমস্ত জীবন? উচ্চ প্রযুক্তি কোথায় গেল আমাদের?’
একসময় চীন এসব কাজ করলেও তারা এখন সেই জায়গায় নেই উল্লেখ করে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘চীন তো এখন সারা পৃথিবীকে প্রযুক্তির খেলা দেখাচ্ছে। তারা কি আমাদের থেকে খুব এগিয়ে ছিল একসময়? দক্ষিণ কোরিয়া কি আমাদের থেকে বেশি এগিয়ে ছিল? কখনো না। অথচ এক স্যামসাং যত টাকা ইনকাম করে, আমাদের সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের কয়েক গুণ বেশি আয় করে স্যামসাং ফোন থেকে। এই স্যামসাং ফোনটা তো আমরাও করতে পারতাম। পারতাম যদি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা গতিশীলভাবে করা যেত। যেখানে বিজ্ঞানীদের কদর ছিল একসময়। এখন আমাদের বিজ্ঞানীদের কদর নেই।’
চাকরি একজন মানুষের প্রধান বিবেচনা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে পারতাম, শিক্ষকদের আমরা এতখানি গুরুত্ব দিতে পারতাম, এতখানি অবস্থানে নিতে পারতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। তাহলে আমরা মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে পারতাম। মেধাবী প্রজন্মের একটা সুবিধা আছে। তারা নিজেদের মতো করে ভাবে, নিজেদের মতো করে চিন্তা করে এবং পথ আবিষ্কার করে। আমরা যে শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছি, যে সমাজব্যবস্থা তৈরি করেছি, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে পেছনযাত্রা হয়েছে। তাতে একজন প্রকৌশলী চাকরি না পেয়ে অবশ্যই সরকারি চাকরি নিতেই পারেন। তিনি সততার সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি দিনের শেষে শান্তি পাবেন, আমি অন্তত সৎভাবে কাজটা করছি। এ রকম প্রচুর মানুষ কাজ করছেন। তাঁদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করলাম। যেখানে একজন প্রকৌশলীকে তাঁর পেশা বদল করতে হয়। একজন বিজ্ঞানী তাঁর বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কেন চাকরি খুঁজে পাবেন না।’
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু কম্পিউটার টেকনোলজি যদি কেউ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন, কমিউনিকেশন টেকনোলজি যদি আয়ত্ত করতে পারেন, সেখান থেকে আমরা আয় করতে পারি। আমরা যদি হাই টেকনোলজির বিষয় উৎপাদন করতে পারি, তাহলে সেটাও আমাদের পক্ষে বিশাল কাজ হবে। আমি হিসাব করে দেখেছি, আমরা যেসব জিনিসপত্র ইমপোর্ট করি, এই যে কম্পিউটার, এই যে মোবাইল, এগুলো আমরা চেষ্টা করলে আমরা দেশেই তৈরি করতে পারতাম। সেই মেধার সম্মেলন যদি আমরা ঘটাতে পারতাম। এখানে তো কয়েক বিলিয়ন ডলার চলে যায়। আমরা তো সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি।’

Saturday, September 11, 2021

আজীবন গণমানুষের নেতা




ব্রিটিশ শাসিত ভারত। সিরাজগঞ্জ শহরের উপকন্ঠে ইছামতি নদীর তীর ঘেষে প্রায় সব ধরণের গাছগাছালি, ঘন বনজঙ্গল ঘেরা এক অপূর্ব  সুন্দর বিরাট সবুজ গ্রাম ছিল দিয়াড় পাঁচিল। দইভাঙা খাল হয়ে স্রোতস্বিনী যমুনার একটি উপশাখা ব'য়ে গেছে গ্রামটির সামনে দিয়ে। যমুনার এ শাখাকে গ্রামের লোকজন খাল বলেই ডাকে। খালের পাড়েই গ্রামের মসজিদ আর মসজিদের পাশেই নৌকা বাঁধার ঘাট। সেখানে বাঁধা আছে জমিদারের কাচারির বিরাট ছইওয়ালা নৌকা। জমিদারের নায়েব পাইক পেয়াদা নিয়ে খাজনা আদায়ে এসেছে। অনাদায়ী খাজনা না দিতে পারায় গ্রামের রইসউদ্দিনকে বেঁধে নৌকায় তোলা হয়েছে। গ্রামের বহু মানুষ জড়ো হয়ে করজোড়ে নায়েব সাহেবকে কাকুতি মিনতি করছে রইস উদ্দিনকে না নিয়ে যেতে কিন্তু পাথরের মূর্তির মতন অনড় নায়েব সাহেব রইসউদ্দিনকে ছাড়বেন না। আরও কয়েকবার তাকে সময় দেয়া হয়েছে কিন্তু সে খাজনা পরিশোধ করেনি। তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে গেল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না।
নৌকার পাশেই কয়েকটি নয় দশ বছরের বালক পানিতে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে গোসল করছিল। ওই কান্নার রোল শুনে তাদের ভেতর থেকে একটি স্বাস্থ্যবান বালক হঠাৎ ভেঁজা শরীরে নৌকায় ওঠে এসে বলল, না, কিছুতেই ওনারে নিয়া যাইবার দিমু না। ওনারে ছাইড়া দ্যান।" গর্জে উঠল নায়েব, ধর্ হারামজাদারে।' তেড়ে এলো এক পেয়াদা। সঙ্গে সঙ্গে বালক ছুটে গিয়ে নায়েবকে এক ধাক্কায় পানিতে ফেলে দিল আর নৌকার বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পেয়াদাকেও নৌকা থেকে পানিতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করল। মুক্ত করে নিয়ে এলো রইসউদ্দিনকে। সারা এলাকায় বিদ্যুৎতের মতন ছড়িয়ে গেল এই খবর। ধন্যধন্য পড়ে গেল রফাত সরকারের নাতির সাহসের। কিন্তু প্রমাদ গুণল পরিবারের লোকেরা, না জানি কী ফরমান জারি হয় জমিদার বাহাদুরের। সরকার কতৃক 'সরকার' উপাধি পাওয়া রফাত সরকারের ঠিকই ডাক পড়ল পরদিন জমিদারের কাচারিতে। সারা গ্রামের মানুষের চোখে মুখে আতংকের কালো ছায়া নেমে এলো। দুরন্ত নাতির জন্য কী বেইজ্জতি যে হন, দশ গ্রামের মানি লোকটা! কিন্তু না, হাসি মুখে ফিরে এলেন তিনি। শাস্তি বা জরিমানা দূরে থাক উল্টো এমন দুর্দান্ত সাহসী নাতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ জমিদার বাহাদুর। আর খাজনা মওকুফ করে দিলেন রইসউদ্দিনের। রাতরাতি যেন হিরো হয়ে গেল রফাত সরকারের ডানপিটে নাতি!
সেই বালক একটু বড় হয়ে বাড়ি পালিয়ে যোগ দিলেন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে। সেখান থেকে যোগ দিলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে। নাম লেখালেন নেতাজী সুবাস বোসের 'আজাদ হিন্দ ফৌজে'। নেতাজীর সাক্ষাৎ শিষ্য হয়ে রুখে দাঁড়ালেন কোলকাতার হিন্দু মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে। শিয়ালদহ 'সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি'র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে 'যুব বিগ্রেড' গড়ে তুলে দাঙ্গা প্রতিরোধে রাতদিন নিরলস পরিশ্রম করেন। প্রতিষ্ঠা করেন 'শিয়ালদহ বাস্তহারা সমিতি মার্কেট'। '৪৭-এর দেশ বিভাগের পর তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজে এলাকার যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে তোলেন। তাঁর কর্মমুগ্ধ জনগণ নিজেদের অর্থায়নে তাঁকে দাঁড় করিয়ে দেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। প্রথমে সদস্য পরে সদস্যদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৬২-তে ইশ্বরদিতে উত্তরবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের সম্মেলন আহব্বান করলে তিনি সিরাজগঞ্জে একটি হাসপাতাল এবং জুট মিলস্ স্থাপনের দাবি তোলেন। আইয়ুব খান সে দাবি মেনে নেন। প্রতিষ্ঠিত হয় সিরাজগঞ্জ কওমী জুট মিলস্ এবং খোকশাবাড়ি হাসপাতাল। পরবর্তিতে দীর্ঘকাল চেয়ারম্যান থাকাকালে এলাকার রাস্তাঘাট, বাজার-হাট, স্কুল, মক্তব, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, ফুটবল টিম প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজসেবা কাজে আজীবন সম্পৃক্ত রাখেন নিজেকে। খরস্রোতা যমুনার সর্বনাশা ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জকে রক্ষার জন্য তিনিই প্রথম শৈলাবাড়ি গ্রোইন বাঁধ নির্মাণ করেন। তাঁরই ব্রেইন চাইল্ড এই বাঁধের অনুসরণেই পরবর্তীকালে সিরাজগঞ্জ শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়।
বালক বয়সে জমিদারের খাজনা আদায়ের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সিরাজগঞ্জের একটি গ্রাম থেকে উঠে আসা  সাধারণ মানুষের অসাধারণ এই নেতা আর কেউ নন সিরাজগন্জ খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মানব দরদী মরহুম ফরহাদ হোসেন।  তাঁর জীবনেে নানা ঘটনা, গণমানুষের জন্য নিবেদিত কর্মকাণ্ডের অসংখ্য  কাহিনী আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। উদ্বেলিত করে নতুন প্রজন্মকে। 
আজ তার ৩১তম মৃত্যু বার্ষিকী। সকাল ৮টায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত খোকশাবাড়ি হাসপাতালের সবুজ আঙিনায় চির নিদ্রায় শায়িত তাঁর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হয় দিনটির কর্মসূচি। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতাকারে বিকাল ৫টায় খলিসাকুড়াতে আলোচনা ও দোয়ার অনুষ্ঠান।
১০.০৯.২০২১

Wednesday, September 8, 2021

"কুষ্টিয়া শহরে কি আছে?



"কুষ্টিয়া শহরে কি আছে?

কিছুই নাই!

মজমপুর বাসস্টান্ড থেকে উঠবেন আটোতে, দশ মিনিট পড়ে ৫ টাকা দিয়ে বড়বাজার রেলগেটে নামবেন। কুষ্টিয়া শহর ঘুরে দেখা শেষ।

তারমাঝে রথখোলার মন্দির পাড় হওয়ার সাথে সাথে পুরাতন কলকাতার আবহাওয়া পাবেন হালকা। যারা পুরাতন কলকাতাতে ঘুরেছেনে তারা বুঝবেন। আশে পাশের বিল্ডিং গুলা, দোকানের প্যাটার্নের, রাস্তার পানিপুরি ফুচকার মাঝে এ আমেজটা আছে।

বড় বাজার রেলগেটে নেমেই দেখবেন হাতের ডানে গান্ধী হোটেল। হাতে অফুরন্ত সময় থাকলে ধাম করে ডাবল ডিমের একটা মোগলাই এখানে খাওয়া যেতেই পারে। গান্ধী হোটেলর অপরদিকে কচুরী পাবেন খেতে৷

বড় বাজার থেকে ইচ্ছা হলে দুই মিনিট হেটে গড়াই নদীর তীরে যেতে পারেন, আবার আরেকটা অটো নিয়ে লালন শাহ এর মাজার ঘুরে দেখতে পারেন। মাঝ রাস্তাতে পড়বে টেগর লজ! রবী ঠাকুরের বাড়িতে উকি দিতেই পারেন। আর পুরা এই এলাকার মাঝে আছে, এক সময়কার এশিয়ার সব থেকে বড় বস্ত্রকল 'মোহিনী মিল'।

মোহিনী মিলের গেটের পাশেই কিন্তু পাবেন বিখ্যাত তিলের খাজার কারখানা। সাহস নিয়ে ঢুকে পড়বেন। ধীম ধাম গরম তিলের খাজা চালান করবেন পেটে। কুমিল্লার রসমালাই অনেক বিখ্যাত! খুব টেস্ট, বিশ্বাস করেন কুষ্টিয়া রসমালাই বিশেষ করে অশোকের রসমালাই খাওয়ার পড়ে, আপনাকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে৷ কুমারখালীর দই খাওয়ার পড়েও আপনাকে বগুড়ার দই-এর টেস্টের সাথে একটা পরীক্ষা করা লাগতেই পারে।

যেখানে শাহের বারাম খানা!! সেখানে গিয়ে গান শুনবেন। খানেক জিড়াবেন। একটা কুলফি খাবেন৷ অতঃপর রানীর ঘাটে বসে কালী নদীর শান্ত পানির দোলনের সাথে হাওয়া দেখবেন বাতাস খাবেন।

কুষ্টিয়াতে কিন্তু আবার গরুর দুধের চা বেশী চলে। আমরা মাঝে মাঝেই চা খেতে চলে যাই মোল্লা তেঘরিয়ার মোরে,কখনো রাহিনীতে আবার কখনো কাটাইখানা মোড়ে।ইচ্ছে হলে চা এর সাথে টা হিসেবে আপনি পোড়া রুটিও খেতে পারেন।আহা কি স্বাদ!অমৃতের মতো৷ গরম গরম পেটিস খেতে হলে হরিবাসোর মোরে মন্দিরের পাশে! বিকালে আড্ডাবাজির জন্য সরকারি কলেজের পুকুর হচ্ছে বেস্ট।সেখানকার ঝালমুড়ি খেয়ে দেখতে পারেন।মন্দ নয়!

বিকালে আগে ঘোরার জায়গা ছিলো রেইনউইক বাধ! এখন সেটা হরিপুর শেখ রাসেল ব্রীজ। ব্রীজে এপার ওপার দুইপারে জনসমুদ্র! এই জনসমুদ্র ভালো না লাগলে হুট করে চলে যাবেন মোহনায়! পদ্মার পেট ফুড়ে গড়াই এখানেই জন্মেছে! আহা কি তার রুপ! মনে হয় সাগর। শহরের দিকে গড়াই শুকনা।এটা কিন্ত কুষ্টিয়ার মিনি কক্সবাজার।

কুষ্টিয়া গিয়ে খুব টাইম ট্রাভেল এ ভ্রমণ করতে মন চাইলে হুট করে চলে যাবেন কুমারখালী!! এই শহরের আনাচে কানাচে এমন ভাবে অতীতকে আকড়ে ধরে আছে, আপনি না চাইলেও চলে যাবেন ব্রিটিশ আমলে। কুমারখালী গেলে রমেশের সন্দেশ কিন্তু মাস্ট। আর হ্যা, কুমারখালীর মটকা সাথে মটকা চা। এইটা কিন্তু এন্ডেমিক জিনিস ভাইয়া। লুংগি গামছা আর বেডশীট নিতে ভুলেন না কুমারখালী আসলে।একটু মশল্লা গুড় চেখে দেইখেন এখানকার।

হুম, জগতি! জগতিতেও যাবেন কিন্তু! দেশের সব থেকে প্রাচীন দুইটা রেল স্টেশনের একটা সে৷ আর দেখবেন চিনিকল। শহরের মাঝে দাঁড়িয়ে গ্রামে দেখার সৌভাগ্য জগতিতে গেলেই হবে। আর গড়াই রেলব্রীজ? বাংলাদেশের সব থেকে পুরাতন!! ১২০ হবে তার বয়স জলদিই।

দেশের অন্যতম বৃহত্তর চালের আরত খাজা নগর, আর অন্যতম প্রাচীন পোড়াদহ জংশন দেখতে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে, বাংলাদেশের জায়েন্ট বিআরবি কেবলস এর সবগুলা ইন্ড্রাস্ট্রিই। পোড়াদহের রসগোল্লাটাও একটু খেয়ে নিয়েন বিরতিতে।

কুষ্টিয়া মানুষগুলা খুব রাফ! তবে এদের স্বভাব মুখে মধু অন্তরে বিষ টাইপের না। আমাদের কাছে মধু মানে মধুই, আর বিষ মানে বিষই। মাঝামাঝি পন্থা কুষ্টিয়ানদের মাঝে নেই। যেটা পিছে বলি সেটা সামনে বলতেও দ্বীধা নেই আমাদের।

কুষ্টিয়ার আসল মজা কিন্তু গড়াইয়ের তীরে না, রেনউইক বাধেও না। কুমারখালিতেও না। সেই মজা নেই সাইজির আখড়া বাড়িতেও। সেই মজা পাবেন না কুঠি বাড়ি, টেগর লজ কিংবা মীর মশাররফ হোসেন কাঙাল হরিনাথের বাড়িতেও।

কুষ্টিয়ার আসল মজা হচ্ছে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সড়ক। আমি না চোখ বুঝে, একটা জীবন এই তিন কিলো মিটার দীর্ঘ সড়কে কাটিয়ে দিতে পারি। কুষ্টিয়ার যে কাউকে জিজ্ঞাসা করেন। সবার আগে এন এস রোডের কথাই বলবে। একরাস্তার উপরের একটা শহর।

কুলফি হাতে এনএস রোডে ঘুরাঘুরি, রথখোলার পানিপুরি, এখন আবার মোটামুটিভাবে সব হোটেলেই পাবেন লুচি সবজি।আধুনিক ছোয়া লাগলেও কুষ্টিয়া আজো বড্ড পুরাতন!! তাই মায়া কুষ্টিয়াতে ঢুকলে লাগবেই। একটা জেলা শহর, একটা প্রাচীন শহর! এত নিস্তব্ধ! অথচ চারিদিকে কত প্রাণ!! এইটাই বুঝি এই শহরের সব থেকে বড় বৈশিষ্ট!!

এন এস রোডের সূচনা হচ্ছে পৌরসভার গেট থেকে!! প্রায় দেড়শ বছরের পুরাতন এই ভবনকে দেখে রাজপ্রাসাদ বলে ভ্রম হতেই পারে। শহরের প্রায় অর্ধেক থেকে এই ভবন আর এই গেট দেখা যায়। এক অনিন্দ্য মনরম এই ভবন। আহা!! অতীত আর বর্তমানের মেল বন্ধন।ভালো কথা,কুষ্টিয়ার বিখ্যাত লাল রঙা দেওয়াল কিন্ত পৌরসভাতেই বেশী পাবেন।

সাথে শাহী মসজিদ,মডেল মসজিদ,ছোট খাটো ইকো-শিশুপার্কগুলিও ঘুরে এসেন।ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় আর ইসলামিয়া কলেজ সাথে সরকারি কলেজে একটু পদাপর্ণ কইরেন।কিছু তো ফিল হবেইইই।

অনেক কিছুই বললাম। বাদ গেলো অনেক কিছুই।কুষ্টিয়া আসলেই একটা মায়ার শহর! যারা কুষ্টিয়ার লোক না, কিন্তু কুষ্টিয়া একবার হলেও বেড়াতে গেছে, তারাও এই মায়াটা অনুভব করে। আহা! কুষ্টিয়া!

 কুষ্টিয়ার তুলনা কুষ্টিয়া নিজেই!!

তারপরেও কুষ্টিয়া শহরে কি আছে?
কিছুই নেই!

না ভুল, কুষ্টিয়া শহরে মায়া আছে! কুষ্টিয়া মায়া নগর। কুষ্টিয়া আরশীনগর।"
 ভালোলাগা আর ভালোবাসা নিয়ে ফিরবেন। দাওয়াত রইল আমার শহরে..

Monday, September 6, 2021

#আমরা_কিসের_চর্চা_করছি?? #আর_কি_লালন_করছি??



:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::★
পরীমণি যেদিন জামিন পেলেন, সেদিন এশিয়ার নোবেল খ্যাত ম্যাগসেসে পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের কৃতি বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী। অথচ ফেসবুক জুড়ে ছবি, প্রোফাইল পিকচার, গল্প, কাহিনী, স্ট্যাটাস এমনকি পত্র-পত্রিকায় শুধুই পরীমণি আর হুডখোলা জিপে যেন তাঁর দিগ্বিজয়ী হাস্যোজ্জ্বল ছবি।

তাঁরা দুজনেই নারী। কিন্তু, ডঃ ফেরদৌসী কাদরী'র তেমন কোন খবর নেই। সংবাদের শিরোনামে তিনি নেই, নেই সংবাদপত্রের প্রথম পাতায়। মানব কল্যাণে তাঁর কতটা অবদান, তা নিয়ে নেই কোন আলোচনা!

ভিনদেশী নুসরাতের ছেলের বাবা কে? — এ-ই আমাদের আলোচনার বিষয়!

অপূর্ব কয় বিয়ে করলেন, কনের বাড়ি কোথায় সেটাও প্রথম পাতায়, বিনোদন পাতায়। অথচ ক্যাপটেন নওশাদ, যিনি নিজে জীবন দিয়ে বিমান ভর্তি যাত্রীদের জীবন বাঁচিয়ে গেলেন, তা আর প্রথম পাতায় জায়গা পেল না।

আজ আমাদের চর্চার বিষয় হলো পরীমণি, পিয়াসা, মৌ, পাপিয়া, হিরো আলম, অনন্ত জলিল, সেফুদা, আনভীর, শাহেদ, ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ডেসটিনি!!

প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের ডেসটিনি কোথায়??

বলতে দ্বিধা নেই, আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিখ্যাত বিজ্ঞানী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি কিংবা ডাক্তার তৈরি হওয়ার সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। কারন, আমরা জ্ঞানের কদর করছি না তাই। আর বেড়ে যাবে, ফেইসবুকার, মোটিভেশনাল স্পিকার আর ইউটিউবারের সংখ্যা।

কথায় আছে, "যেদেশে জ্ঞানীর কদর হয় না, সেদেশে গুণী জন্মায় না"।

#Cartasy from online.

Thursday, September 2, 2021

#নৈতিকতার অভাব!!!!

নৈতিকতার অভাব!
নৈতিকত শিক্ষার অভাব! সনদপত্র আমরা সবাই পাইতেসি কিন্তু শিক্ষিত হচ্ছি কই! হইছি সনদপত্র ধারি শিক্ষিত মূর্খ!
অশিক্ষিত মুর্খ হতেও অধিক অধম এবং অধিকতর ক্ষতিকর, এক জন জালেম হতে !
সশিক্ষিত বা সুশিক্ষিত মানুষ  হতে পারিনি! 
আর সাশক রা অস্থিতিশীল করে এই  মূরখ দেরকে নিয়ে শোষন করতেছে.....
সাথে অাছে নোববো রাজার অাকার ধারি সব দালাল....
এরা এদানিং নিজেদের নাকি বুদ্ধিজিবী মনে করে 
হাস্যকর.....হা..হা..হা..অাজোব....! নির্লজ্জ বেহায়া.…...!
  আমরা আমাদের পরিবারকে হারাম টাকাই লালন পালন করতেছি তবে নৈতিকত আদর্শ সততা আসবেইবা কিকরে!
 পরিক্ষার আগে আমারা আমাদের সন্তানকেও কিনে দিতেছি
প্রশ্নপত্র GPA 5 পাওয়ার জন্য সে সন্তান নৈতিকতা পাবেইবা কোথাথেকে!?
অপরাধিকে আমরা এদানিং অনুকরনিও হিসেবে নিতে শুরু করেছি তাকে নায়ক বা নায়িকা মহা মানব বানাতে শুরু করেছি! 
কিছু হলেই  দেশের দোষ!  দোষ দেওয়ার আগে এটাকি কখনও ভেবে দেখেছেন নিজে কি নৈতিকতা  দিয়েছেন আপনার  নিজের সন্তান কে,  কি দিয়েছেন এ দেশকে!????????? কখনও কি এসব অন্যয় এর প্রতিবাদ করেছেন!  করেননি বরং মেরুদণ্ড হীন দালাল পা-চাটা কুত্তার মতো পা চাটতে গেছেন দূর্নীতি করে অর্থ আয়ত্ত করতে গেছেন! তাহলে কি আশা করেন আপনি?  আপনি করবেন অন্যয় দূর্নীতি আর আপনার সাথে অন্যরা করবে ন্যয় আর সৎ কর্ম, বিষয়টি কেমন হাস্যকর নায়কি! 
আপনি মনগড় ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে পারেন না কোনো দিনও না.... 
ইতিহাস কখনো পরিবর্তন করাজায়না। ইতিহাস সাক্ষী আছে যারা ইতিহাস পরিবর্তন করতে গেছেন তারা নিজেরাই আজ ইতিহাস এ-র ভিলেন রুপে ইতিহাস হয়ে গেছে। 
দোষ দেওয়া টা খুব সহজ তবে সমাধান করাটা ততোটাই কঠিন! দোষ দেওয়া বাদ দিয়ে পরিবর্তন করুন নিজেকে সমাধান চলে আসবে..... (ইনশাআল্লাহ)