Search This Blog

Friday, December 5, 2025

ঈসা খাঁ


মসনদে তখন ‘মহামতি’ আকবর। যার হুংকারে কাবুল থেকে কান্দাহার, কাশ্মীর থেকে দাক্ষিণাত্য। পুরো হিন্দুস্তান তটস্থ। রাজপুতরা পর্যন্ত মাথা নত করে আত্মীয়তা পাতিয়েছে। কিন্তু বাদশাহর ঘুমে শান্তি নেই। মানচিত্রের পূর্ব কোণের একটি নদীমাতৃক জনপদ তাঁর গলার কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে। নাম তার বাংলা। বলা ভালো ‘ভাটি বাংলা’। 

সেখানে মোগলদের বিশ্বজয়ী অশ্বারোহী বাহিনী অচল, বারুদভর্তি কামান অকেজো। মোগল সেনাপতিরা সেখানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। কারণ তাঁরা জানতেন না, এই মাটির বীরদের ধমনীতে রক্তের সাথে স্রোতও বয়। ইতিহাসের পাতায় এই অধ্যায় কেবল সাহসের নয়, বরং এক বিস্ময়কর সামরিক প্রকৌশল ও রণকৌশলের বিজয়গাঁথা। তথাকথিত ‘বিশাল মোগল বাহিনী’র বিরুদ্ধে ঈসা খাঁ ও বারো ভুঁইয়াদের সেই লড়াইয়ের গভীরে যাওয়া যাক। 

সম্রাট আকবর বুঝতে পারেননি, বাংলা কোনো পাঞ্জাব বা হরিয়ানার সমতল ভূমি নয়। ঈসা খাঁ, কেদার রায়, চাঁদ রায়রা জানতেন, মোগলদের প্রধান শক্তি তাদের ভারী অশ্বারোহী বাহিনী (Cavalry) এবং বিশাল সব হাতি। তাই তাঁরা যুদ্ধের জন্য বেছে নিলেন বর্ষাকাল এবং ‘ভাটি’ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা ও কুমিল্লা)। বর্ষায় যখন পথঘাট ডুবে যেত, তখন মোগলদের আরবি ঘোড়া আর ভারী কামানের চাকা কাদায় দেবে যেত। মোগলদের শক্তিই হয়ে দাঁড়াত তাদের বোঝা। একে বলা হতো ‘মাটির ফাঁদ’। এ ছিল প্রযুক্তির এক অসম লড়াই, যেখানে বুদ্ধির জোরে জিতেছিল বাংলা। 

মোগল নৌবহর বা ‘নওয়ারা’ সাজানো ছিল বিশাল আকৃতির ভারী যুদ্ধজাহাজ দিয়ে, যার নাম ছিল ‘গুরব’ বা ‘বজরা’। এগুলো গভীর পানি ছাড়া চলতে পারত না, ঘোরাতে সময় লাগত প্রচুর। এদিকে বারো ভুঁইয়ারা তৈরি করলেন এক বিশেষ ধরণের রণতরী ‘কোষা’। শাল ও সেগুন কাঠে তৈরি এই নৌকাগুলো ছিল দীর্ঘ, সরু এবং অত্যন্ত দ্রুতগামী। যা অগভীর জলেও তীরের বেগে ছুটত।

মোগলদের ভারী জাহাজগুলো যখন চরায় আটকে যেত, চারপাশ থেকে ঝপ করে ঘিরে ফেলত বাংলার ছোট ছোট ‘ঝালুয়া’ আর ‘কোষা’ নৌকা। শ্রীপুরের জমিদার কেদার রায় ছিলেন নৌযুদ্ধের জাদুকর। তিনি বুঝেছিলেন, শুধু সাহস দিয়ে হবে না, দরকার উন্নত আগ্নেয়াস্ত্র। তিনি তাঁর বাহিনীতে যুক্ত করলেন পর্তুগিজ নৌ-সেনাপতি ডমিনিক ডি কার্ভালোকে। 

কার্ভালোর কাছে ছিল ইউরোপীয় উন্নত কামানের প্রযুক্তি। ১৫৮৮ থেকে ১৬০৩ সময়টায় মেঘনা আর পদ্মায় কেদার রায় মোগলদের রক্তে জল লাল করে দিয়েছিলেন। মানসিংহের মতো সেনাপতিও কেদার রায়ের নৌশক্তির কাছে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন। 

সাল ১৫৯৭। বিক্রমপুর থেকে ১২ মাইল দূরে, বর্তমান কাঠরাবো এলাকা। মোগল সেনাপতি মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে পাঠালেন ঈসা খাঁকে চূড়ান্তভাবে দমন করতে। মোগলদের সাথে ছিল ভারী কামান। কিন্তু ঈসা খাঁ সম্মুখযুদ্ধে না গিয়ে ‘গেরিলা’ কায়দায় মোগল বাহিনীকে ঘিরে ফেললেন। মোগলদের কামানের পাল্লা যেখানে শেষ, ঠিক সেখান থেকে বারো ভুঁইয়ারা আক্রমণ শুরু করলেন। 

ফলাফল? মোগল নৌবহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেল। মানসিংহের নিজের ছেলে দুর্জন সিংহ এই যুদ্ধে নিহত হলেন। ছেলের মৃত্যু সংবাদ আর পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মানসিংহকে শূন্য হাতে আগ্রায় ফিরতে হয়েছিল। ইতিহাসবিদ আবুল ফজল ‘আকবরনামা’য় এই পরাজয়ের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। মোগলরা হাতির পিঠে বড় কামান (গজনাল) বহন করত যা লক্ষ্যভেদে ছিল ধীর। বিপরীতে বারো ভুঁইয়ারা নৌকায় ব্যবহার করতেন ছোট ও হালকা কামান (হাতনাল) এবং তোপ। যা দ্রুত লোড করা যেত এবং নিমিষেই দিক পরিবর্তন করে শত্রুকে ঘায়েল করা যেত। ঈসা খাঁ কেবল যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ।

তিনি জানতেন মোগল সাম্রাজ্যের বিশাল সম্পদের সাথে অনন্তকাল যুদ্ধ চালানো কঠিন। তাই তিনি যুদ্ধজয়ের পর অনেক সময় মৌখিক বশ্যতা স্বীকার করতেন বা উপহার পাঠাতেন, কিন্তু কখনোই নিজের ভূখণ্ডের খাজনা বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ দিল্লির হাতে তুলে দেননি। একেই বলে ‘কৌশলগত বিজয়’। 

সারকথা, আকবর তাঁর জীবদ্দশায় কখনোই ভাটি বাংলাকে পুরোপুরি বশ করতে পারেননি। জাহাঙ্গীরের আমল (১৬১০) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল এই জনপদকে পদানত করতে, এবং সেটাও হয়েছিল নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরির মাধ্যমে। বারো ভুঁইয়ারা প্রমাণ করেছিলেন, কেবল সৈন্যসংখ্যা দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না। মাটির বৈশিষ্ট্য চেনা, আবহাওয়াকে কাজে লাগানো এবং সঠিক রণকৌশলই পারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যকেও হাঁটু গেড়ে বসাতে। 

তাঁরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন, অস্ত্রের চেয়ে মেরুদণ্ড অনেক বেশি শক্তিশালী।

#Clarifying_Light_বাংলা_fc

"মগের মুল্লুক"


মেঘনার মোহনা, ভুলুয়া (বর্তমান নোয়াখালী)।

​পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ।

অমাবস্যার রাত, কিন্তু কোনো ঘরে প্রদীপ জ্বলছে না। মায়েরা শিশুদের মুখে কাপড় গুঁজে ধরে আছে, যেন কান্নার আওয়াজ বের না হয়।

বাতাসের শব্দেও গ্রামের পুরুষেরা আঁতকে উঠছে। তাদের হাতে লাঠিসোঁটা, কিন্তু চোখেমুখে মৃত্যুর ভয়।

​কারণ তারা আসছে।

নদীর বুকে দ্রুতগামী ‘জেলবা’ নৌকাগুলোর ছপ ছপ শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ওরা মগ। আরাকানের জলদস্যু। সাথে আছে তাদের দোসর, পর্তুগিজ হার্মাদরা।

​এরা লুঠ করতে আসে না। এরা আসে ‘শিকার’ করতে।

মানুষ শিকার।

​যাকে পাবে, তাকেই ধরে নিয়ে যাবে।

তারপর হাতের তালু ফুঁড়ে সরু বেতের রশি দিয়ে বেঁধে ফেলবে। জাহাজের অন্ধকার খোলে গাদাগাদি করে ফেলে রাখবে দিনের পর দিন। খাবার হিসেবে ছুড়ে দেবে মুঠোভরা কাঁচা চাল।

গন্তব্য, আরাকানের দাস বাজার। অথবা ওলন্দাজ বনিকদের জাহাজ, যারা এই বাঙালিদের পাঠিয়ে দেবে সুদূর ইন্দোনেশিয়ায়।

​বাংলার দক্ষিণ উপকূল তখন এক মৃত্যুপুরী।

যেখানে আইন নেই, বিচার নেই, শুধু আছে বাঁচার আর্তনাদ।

লোকেরা এই অরাজকতার নাম দিয়েছিল, "মগের মুল্লুক"।

​দিল্লির মসনদ তখন অনেক দূরে।

মোগল সুবাদাররা আসেন আর যান। ডাঙায় তাদের দাপট থাকলেও, জলের ওপর তারা অসহায়।

মোগলদের ভারী জাহাজগুলো মগদের ক্ষিপ্রগতির নৌকার সাথে পেরে ওঠে না।

​ঠিক এই চরম মুহূর্তে, ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার হয়ে এলেন এক বৃদ্ধ।

শায়েস্তা খান।

বয়স তেষট্টি। জীবনের শেষ সায়াহ্নে।

​সবাই ভেবেছিল, এই বয়োবৃদ্ধ শাসক আর কী করবেন? হয়তো কদিন পর তিনিও হাল ছেড়ে দেবেন।

কিন্তু শায়েস্তা খান জানতেন, শুধু তলোয়ার দিয়ে এই দস্যুদের দমানো যাবে না। এদের দমাতে হবে বুদ্ধি দিয়ে।

​তিনি এক অদ্ভুত ফরমান জারি করলেন।

"নৌকা বানাও।"

পুরো ঢাকা শহর এক বিশাল কারখানায় পরিণত হলো। কাঠমিস্ত্রি, কামার, কারিগর, দিনরাত এক করে কাজ করতে লাগল।

এক বছরের মধ্যে শূন্য থেকে গড়ে উঠল ৩০০ জাহাজের এক বিশাল নৌবহর।

​কিন্তু শায়েস্তা খান জানতেন, মগদের আসল শক্তি তাদের সাহস নয়, তাদের শক্তি হলো তাদের সাথে থাকা পর্তুগিজ ফিরিঙ্গিরা। এদের কাছে আছে উন্নত মানের কামানের জ্ঞান।

​শায়েস্তা খান এবার চাললেন এক মোক্ষম চাল।

তিনি সন্দ্বীপে থাকা পর্তুগিজ দলনেতাকে গোপনে প্রস্তাব পাঠালেন,

"আরাকানের রাজার গোলামি করে কী পাবে? আমার সাথে এসো। নিরাপত্তা, সম্পদ আর সম্মান, সব দেব।"

​লোভ আর ভয়, দুটোই কাজ করল। ফিরিঙ্গিরা মগদের পক্ষ ত্যাগ করে শায়েস্তা খানের দলে ভিড়ে গেল।

যুদ্ধের আগেই আরাকানের রাজার ডান হাত ভেঙে গেল।

​জানুয়ারি, ১৬৬৬ সাল।

কুয়াশাচ্ছন্ন কর্ণফুলী নদী।

​মগরা তাদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি চট্টগ্রামে বসে আছে। তারা নিশ্চিন্ত। গত একশো বছরে কেউ তাদের এই জলসীমায় হারাতে পারেনি।

কিন্তু তারা জানত না, দিগন্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসছে এক প্রলয়।

​সামনে ইবনে হোসেনের নেতৃত্বে মোগল নৌবহর ‘নওয়ারা’। আর জঙ্গল মাড়িয়ে ডাঙা পথে এগিয়ে আসছেন সুবাদারের পুত্র বুজুর্গ উমেদ খান।

​সাঙ্গু নদীর মোহনায় শুরু হলো সেই ঐতিহাসিক লড়াই।

মগরা তাদের ‘জেলবা’ আর ‘খালু’ নৌকা নিয়ে মরণকামড় দিতে চাইল।

কিন্তু এবার দৃশ্যপট ভিন্ন।

​মোগলদের নতুন নৌবহর আর ফিরিঙ্গিদের কামানের নিখুঁত নিশানায় মগদের জাহাজগুলো খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে লাগল।

টানা ছত্রিশ ঘণ্টা চলল কামানের গর্জন। নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে গেল।

​১৩৫টি মগ জাহাজ দখল করে নিল মোগলরা। বাকিগুলো আগুনে ভস্মীভূত হলো।

মগরা পালালো। তাদের অজেয় দুর্গ চুরমার হয়ে গেল।

​উদ্ধার হলো হাজার হাজার বাঙালি বন্দি। তাদের আনন্দাশ্রুতে ভিজে গেল চট্টগ্রামের মাটি।

দীর্ঘ দিন পর দক্ষিণ বাংলার মানুষ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল।

​শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম জয় করে নাম রাখলেন, ‘ইসলামাবাদ’।

​শায়েস্তা খান যখন ঢাকা ছেড়ে যান, তখন তিনি এক নতুন ইতিহাস রচনা করে গেছেন।

আমরা তাঁকে মনে রেখেছি টাকায় আট মণ চালের জন্য।

কিন্তু তাঁর আসল অবদান সস্তা চাল নয়।

​তিনি যদি সেদিন ওই বয়সে আরাম আয়েশ ছেড়ে এই অসম্ভব লড়াইয়ে না নামতেন, তবে আজকের সুন্দরবন আর দক্ষিণ বাংলা হয়তো জনমানবহীন জঙ্গল হয়েই থাকত।

তিনি মগদের বিতাড়িত করে বাংলাকে বাসযোগ্য করেছিলেন।

তিনি ‘মগের মুল্লুক’ শব্দটিকে চিরতরে একটি প্রবাদ বাক্যে পরিণত করে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছিলেন।

​আজ যখন আমরা নির্ভয়ে কুয়াকাটা বা পতেঙ্গার সৈকতে দাঁড়াই, তখন হয়তো আমরা ভুলেই যাই,

এই বাতাসের প্রতিটি ঝাপটায় মিশে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের ২০০ বছরের দীর্ঘশ্বাস,

আর একজন তেষট্টি বছরের বৃদ্ধের অদম্য জেদ।

#Clarifying_Light_বাংলা_fc

আওয়ামিলীগ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কে বিক্রি করে দিয়েছে ১৯৭১ এর বিজয় দিবসে........!!!!!!


আওয়ামিলীগ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কে বিক্রি করে দিয়েছে ১৯৭১ এর বিজয় দিবসে........!!!!!!
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধীনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী কে 🇧🇩, যদি সেদিন জেনারেল আরোরার জায়গায় জেনারেল ওসমানীকে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পত্রে স্বাক্ষর করতে দিতো। কিন্তু তা কেড়ে নিয়ে তুলে দেওয়া হলো ভারতের কোলে। 

ভারত আমাদের বন্ধু না শত্রু❓
১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এসে ভারতের প্রাপ্তি
লেখক: আরিফুল হক( সাবেক বিশিষ্ট নাট্যাভিনেতা)

ভারতের আর্থিক প্রাপ্তি (জাতিসংঘের মাধ্যমে):
১) যুক্তরাষ্ট্র থেকে: ৮,৯১৫,৭০০ ডলার
২) যুক্তরাজ্য থেকে: ৩,৮১১,২১৩ ডলার
৩) কানাডা থেকে: ২,৩২৬,৩৬০ ডলার
৪) সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে: ২০,০০০,০০০ ডলার
৫) মায়ামী থেকে: ১২৬ কোটি ডলার
৬) জাতিসংঘের ৬৮টি দেশ থেকে: ৫৭৪,১৬২ ডলার

এই অনুদানের মোট পরিমাণ ছিল তখনকার হিসেবে ১২,৩১২,৯৫২৯৪ টাকা।

পাকিস্তানের কাছ থেকে প্রাপ্তি:
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ: ৫৯,৩৫১,৪২৯৪ রুপি।  এসব কিছুই পেত বাংলাদেশ 🇧🇩, যদি সেদিন জেনারেল আরোরার জায়গায় জেনারেল ওসমানীকে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পত্রে স্বাক্ষর করতে দিতো।  কিন্তু তা কেড়ে নিয়ে তুলে দেওয়া হলো ভারতের কোলে। 

★ ২০২২-২৩ সালে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে তুমুল যু"দ্ধ হলো।  ৩০ বছর পর আজারবাইজান যু"দ্ধে জয়লাভ করে।  তার হারানো ভূমিসমূহ উদ্ধার করে নেয়। এ যু"দ্ধে আজারবাইজান এর পক্ষে মূল কারিগর  ছিল"" তুরস্ক ""।  আর "" পাকিস্তান """।  পাকিস্তানি এসএসজি কমান্ডোরা আজারবাইজানের পক্ষে যু"দ্ধ করে।  তুরস্ক তার বাইরাখতার টিভি টু ড্রোনের কারিশমা দেখায় সারা বিশ্বকে।  

অপরদিকে,  আর্মেনিয়ার পক্ষে রাশিয়া,  ভারত,  ইরান সহায়তা করে।  

যাইহোক,  এ যু"দ্ধের পর তুর্কী ও আজারবাইজান তাদের বিভিন্ন মহরা, সামরিক চুক্তি করে,  তবে তারা কি তুর্কী ও পাকিস্তানকে ঘাটি বা অতিরঞ্জিত কিছু করেছে?????  না করেনি। 

আবার,  তালেবানরা ২০২১ সালে আফগান পুনরায় দখল করে। আমেরিকার সেনারা পালিয়ে বাঁচে।  আফগানদের এ সাফল্য কি একার???  তারা কি অন্যদেশকে আমাদের মতো স্বামী-স্ত্রী তকমা দিয়ে অতিরিক্ত কিছু করেছে????  না সেটাও হয় নি...। 

আমরা যু"দ্ধ করেছি।  সুতরাং আমাদের স্বাধীনতার সহায়ক ভারত।  তবে যু"দ্ধ আমাদের,  র"ক্ত আমাদের। তাই পাকিরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কাছেই আত্মসমর্পণ করবে, যেমনটা "" বৃটিশরা ১৭৭৬ সালে জর্জ ওয়াশিংটন এর মার্কিনবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে, আমেরিকার স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়।  তখন আমেরিকা আজকের মতো বিশাল দেশ বা জাতি ছিল...????  না ছিল না।  

তাহলে,  ১৯৫ বছর পর "" বাংলাদেশের 🇧🇩 মহান মুক্তিযু"দ্ধ "" পাকিস্তানি মোট ১,০০,০০০ সেনারাও "" জেনারেল ওসমানীর নিকট আত্মসমর্পণ করতে পারতো।  কিন্তু কৌশলে তা হতে দিলো না,  মুক্তিযু"দ্ধে কোলকাতায় আরাম-আয়েশ করা  আমাদেরই নেতা নামক গাদ্দাররা। 

তাহলে আজ আমরা হতাম বীরের জাতি।  আমাদের হতো সম্মান।  আজ আমরা যতই বলি আমাদের মহান মুক্তিযু"দ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন হয়েছি, বিশ্ব জানে পাক- ভারতের যু"দ্ধে "" বাংলাদেশ 🇧🇩 "" স্বাধীন হয়েছে। 

যেমনটা ঃ ২য় বিশ্বযু"দ্ধে জার্মান-জাপান ও রাশিয়া- আমেরিকার  মধ্যে হলেও আরও বহুদেশের মধ্যে হয়েছে,  তা কি আমরা জানি??????  

যাইহোক..... 
পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া অ"স্ত্র ও সরঞ্জাম: কেবল ৮৭টি ট্যাঙ্কের মূল্যই ছিল প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার

শুধু খুলনা অঞ্চল থেকেই বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন মেশিনারিজ, মালামাল) লুটে নেওয়া হয়েছিল প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলারের

এছাড়া, দোকানপাট থেকে সোনার গহনা, ইলেকট্রনিকস, শিল্প কারখানার যন্ত্রাংশ, দামি গাড়ি ইত্যাদি শত শত ওয়াগনে করে নিয়ে যাওয়া হয়—যার সুনির্দিষ্ট হিসাব আজও নেই।

এর পাশাপাশি নদী, বন্দর, সড়ক, ব্রিজ এবং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতেও ভারতের প্রভাব বিস্তার ঘটে। তবুও আজ শুনতে হয়, আমরা নাকি ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ! আর তারপর, শেখ হাসিনা সরকার এত কিছু উজাড় করে দিয়েছে যে, ভারত হয়তো তা আজীবন মনে রাখবে!
>>>
মুক্তিযু"দ্ধের বিষয়টা বলতে গেলে এমন দাড়ায়,  যেমন ঃ আপনার বাসায় মেহমান দাওয়াত করলেন,  তাদের জন্য বাজার করলেন, রান্না করলেন, খাওয়ালেন,সবকিছু আপনার, খরচ আপনার, পেট ভরে খেয়েও গেল, আবার যাওয়ার সময় নিয়েও গেল, কিন্তু আপনারা রাতে ঝোল আর কোন রকমে ডিম ভাজি করে ভাত খেয়ে শুয়ে পড়লেন। 
বিষয়টি এমনই। 

আবার,  
আপনি বিয়ে করলেন।  বহু শখের বিয়ে। বহু খরচ করে জিনিষপত্র দিয়ে সাজিয়ে, লক্ষ টাকার কাবিন করে, ঘরে তুললেন।  কিন্তু বাসর করবেন।  ঘরে ঢুকে দেখলেন বউ পালিয়েছে।  সে রাতে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে বাসর হলো। 
সবকিছু আপনিই করলেন, কিন্তু মজা মারলো ফজা ভাই। 

মুক্তিযু"দ্ধের বিষয়টা তেমনই।  
যু"দ্ধে ভারত ট্রেইনিং দিয়ে আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করে তা ঠিক,  কিন্তু মুক্তিবাহিনীর তেমন কোন ভারী অ"স্ত্র ছিল না।  হালকা কামান, শর্ট রেঞ্জের মর্টার, আর গ্রে"নেড, আর কিছু রাই"ফেল,  হালকা এসএম"জি, এইতো।  

এ.জি. ওসমানী বহুবার ভারী অ"স্ত্র চেয়েছিলেন।  অস্হায়ী সরকারকে দিয়ে ভারত সরকারের কাছে অ"স্ত্র সরবরাহ  দাবী করে ছিলেন।  ফল শূন্য।

ভারত রিস্ক নিতে চায়নি। মিশন ব্যর্থ হলে সব যাবে জলে,  এই ভেবে।  তাদের চিন্তা ছিল, দীর্ঘ মেয়াদী গৃহযু"দ্ধ।  ফলে একদিকে পাকিস্তান দূর্বল হয়ে পড়বে এবং ভারত হবে এশিয়া কিং ও পাকিস্তান কাস্মীর বিষয়ে ভারতের সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হবে।  ভারত কখনো কল্পনাই করেনাই,  কালা, চিকনা- পাতলা, খাটা বাঙ্গালী.. ৫৬ ইঞ্চির চওড়া বুকের, লম্বা, ফর্সা, স্বাথ্যবান পাঠান পাকিস্তানিদের প্রায় খালি হাতেই হারিয়ে দিবে এক"" ওসমানীর """ সুদক্ষ নেতৃত্বে।  

৬৫ সালে শিয়ালকোটে এই কর্নেল ওসমানীর "" ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালী সেনাদের কাছে হারে, এই ওসমানীই ছিল ভারতের অসহ্যকর পাত্র।  নানাভাবে তাকে সরানোর চেষ্টা করে। একবার তো ওসমানী পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়ে সরে যেতে চেয়েছিলেন।  তবে অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ গ্রহণ না করে তাকে দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করেন।  কেননা, ওসমানী ব্যাতীত এ যু"দ্ধ চালানো সম্ভব হবে না। 

অ"স্ত্রের তেমন যোগান নাই  তবুও হাল ছাড়েনি ওসমানী বাহিনী। বীর বাঙ্গালি সেই স্বল্প অ"স্ত্র নিয়েই পাকিস্তানের ঘাটি দখল করতে থাকে, তাদের হতে উদ্ধারকৃত অ"স্ত্র নিয়ে লড়তে থাকে। 

এরই মধ্যে মুক্তিবাহিনীকে কাউন্টার করতে মামা বাহিনী, মুজিব বাহিনী  সহ নানান গেরিলা বাহিনী তৈরী করে। 

উদ্দেশ্য ঃ ভারতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা,  মুক্তিবাহিনীকে কাউন্টার করা, যাতে একেকভাবে সর্ব এলাকা কব্জা করতে না পারে, এবং পাক- সরকার ভারতের সাথে দরকষাকষিতে বাধ্য হয় ফলে একদিকে কাস্মীর নিরাপদ থাকবে অন্যদিকে পাক- সরকার বিছিন্নতাবাদীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে । 

★★★ হয়তো লেখা গুলো আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না,  তবে এটাই সত্যি। 

যাই হোক,  স্বাধীনতার থেকে ১৩ দিন যখন দূরে, ২রা ডিসেম্বর   পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যু"দ্ধ ঘোষণা করে বসে। এমনিতেই পূর্ব পাকিস্তানে কোনঠাসা, ভারত স্হল, আকাশ, সমুদ্রসীমা বন্ধ করে দেয় ফলে পাকিস্তান হতে আর সেনা, রসদ আসছিলো না।  যা ছিল শেষের পথে।  শেষদিকে,  আমেরিকা তার সপ্তম নৌবহর পাঠালে,  ভারতের মিত্র সোভিয়েত রাশিয়া নবম নৌবহর পাঠায়।  ফলে,  এ যাত্রায় আর তৃতীয় বিশ্বযু"দ্ধ লাগেনি। 

শেষ ভরসা,  চীনা বিমান আসার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক চাপে চীন আসতে পারেনি। 

ফলাফল ঃ ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ। 

যু"দ্ধ করলো বাংলার 🇧🇩 দামাল সন্তানরা।  আর গাদ্দারদের সহায়তার ভারত নিয়ে গেল স্বাধীনতার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরসহ সমস্ত ক্রেডিট ও লাভের অংশ। ও ২৫ বছর গোলামী চুক্তি  এবং সেনা রাখার নিশ্চয়তা, ভারত নির্দেশিতপররাষ্ট্র নীতি। 

এই হলোস্বাধীনতার নামে  পরাধীনতার লাল  স্বাধীনতা। 🤧🛩️🇧🇩 কপিরাইট। #বাংলাদেশের #ইতিহাস #স্বাধীনতা #ভারত #পাকিস্তান #যুদ্ধ #মুক্তিযোদ্ধা

Saturday, November 29, 2025

বাঙালি জাতির নেপাল বিজয়; সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের নেপাল বিজয়ের ৬৭৫তম বিজয়বার্ষিকী।


বাঙালি জাতির নেপাল বিজয়; সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের নেপাল বিজয়ের ৬৭৫তম বিজয়বার্ষিকী।

১৩৫০ সালের ২৭ নভেম্বর,
বাংলার সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ নেপালের তরাই অঞ্চলে এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন। ইতঃপূর্বে কোনো মুসলিম বাহিনী, কোন বাংলার শাসক, বাংলার অধিবাসী এ অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে নি। তিনি রাজধানী কাঠমুন্ডু পর্যন্ত অগ্রসর হন এবং বিপুল ধনসম্পদ নিয়ে ফিরে আসেন।
নেপাল রাজ বংশাবলিতে পূর্ব দেশীয় সুলতান শামসুদ্দীনের নেপাল আক্রমণের উল্লেখ আছে ।
কাঠমণ্ডুর নিকটস্থ স্বয়ম্ভুনাথের মন্দিরে প্রাপ্ত শিলালিপিতে এই আক্রমণের প্রমান পাওয়া যায় এবং এই লিপিতে আক্রমণের তারিখ ৪৭০ নেওয়ারী সম্বৎ (১৩৫০খৃষ্টাব্দ) বলে উল্লিখিত আছে ।

মধ্যযুগের বাংলার সুলতানদের মধ্যে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। তিনি শুধুমাত্র ইলিয়াস শাহী বংশেরই প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি বাঙালী জাতীয়তাবাদেরও জনক। তিনিই প্রথম বাঙ্গালি জাতিকে বাঙ্গালি হিসেবে পরিচিত করেন। তিনি উড়িষ্যা ও নেপাল এলাকার ত্রিহুত পর্যন্ত বাংলার সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর প্রভাব কাশী-বেনারস পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনিই প্রথম ‘‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’’ উপাধি ধারন করেন। তিনিই প্রথম শাসক যিনি বাংলা নামক বর্তমান যে অঞ্চলগুলোকে বোঝানো হয় সেসব অঞ্চলকে সর্বপ্রথম ভৌগলিকভাবে একীভূত করার কৃতিত্বের দাবীদার। এর আগে বাংলার বিভিন্ন এলাকা বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল, যেমন গৌড়, রাঢ়, পুন্ড্রবর্ধণ, সমতট ইত্যাদি। তাদের শাসন ব্যবস্থাও ছিল আলাদা আলাদা। তিনি ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত রাজত্বকালে উড়িষ্যা, নেপাল এবং কামরূপ বাংলার সাম্রাজ্যভুক্ত করে এতদাঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এ সম্মিলিত রাজ্যের নামকরণ করেন বাঙ্গালাহ এবং এর অধিবাসীদের বাঙালী নামে অভিহিত করেন।

ইলিয়াস শাহ পূর্ব পারস্যের সিজিস্তানের অধিবাসী ছিলেন। তার পিতার নাম ছিল সুলতান। প্রাথমিক জীবনে তিনি দিল্লীর মালিক ফিরোজের অধীনে চাকরী করতেন। কিন্তু সেখানে কোন এক অপরাধ করে তিনি বাংলায় পালিয়ে আসেন এবং সাতগাঁও এর শাসক ইজ্জুদ্দীন ইয়াহইয়ার অধীনে চাকরী নেন। নিজ যোগ্যতাবলে তিনি মালিক পদে উন্নীত হন। পরবর্তীতে ইজ্জুদ্দীনের মৃত্যুর পরে তিনি ১৩৩৮ সালে সাতগাঁওয়ের অধীশ্বর হন। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ সনে বাংলার ক্ষমতায় আরোহণ করেন। বাংলার রাজধানী তিনি লক্ষণাবতী (গৌড়) থেকে পান্ডুয়ায় সরিয়ে নেন। পান্ডুয়ার অবস্থান ছিল গৌড়ের ৩২ কিলোমিটার উত্তরে। তারপর থেকে পান্ডুয়া একটি গুরুত্বপূর্ন নগর হিসেবে গড়ে ওঠে। পান্ডুয়ার বর্তমান অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায়।

তিনি যখন সিংহাসনে বসেন তখন দিল্লীতে তুঘলক বংশের ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসন চলতেছিল। গিয়াসউদ্দীন তুঘলক বাংলাকে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন যেমন– (ক) লক্ষ্মণাবতী; (খ) সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম; (গ) সোনারগাঁও। এই তিন প্রদেশের রাজধানীও ছিল আলাদা এবং শাসনকর্তা ছিলেন তিনজন। এরা ছিলেন দিল্লির অধিনস্ত এবং এই তিনজন শাসনকর্তার মধ্যে বিরোধ অব্যাহত ছিল। সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এই সুযোগটি গ্রহন করলেন। তিনি ১৩৫২ সালে ইখতিয়ারউদ্দীন গাজী শাহকে পরাজিত করে সোনারগাও দখল করেন। এরূপে তিনি সমগ্র বাংলা অঞ্চলের অধিপতি হন। বাংলার তিনটি প্রদেশ জয় করে বাংলাকে একীভূত করে ‘শাহ–ই–বাঙ্গালিয়ান’ উপাধি গ্রহন করলেন। বাংলার ইতিহাসে বাংলা এই প্রথম ‘বাঙ্গলা’ নামে পরিচিত হল। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা সন্দেহ নেই। কেননা, এর আগে বাংলা প্রাচীন কাল থেকে গৌড়, পুন্ড্র, বঙ্গ এসব জনপদে বিভক্ত ছিল।
এর পূর্বে ১৩৪৪ সালে ত্রিহুত ও ১৩৫০ সালে নেপাল অভিযান করেন। বাংলা অঞ্চলকে একীভূত করার সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে তিনি জাজনগর (উড়িষ্যা) আক্রমন করেন। অতঃপর ইলিয়াস শাহ ১৩৫৩ সালে বিহার আক্রমন করেন। বিহারের পরেও তিনি তাঁর কর্তৃত্ব চম্পারন, গোরখপূর, ও বেনারস পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। রাজত্বের শেষদিকে ১৩৫৭ সালে তিনি কামরূপ দখল করেন।

ইলিয়াস শাহ তাঁর সাম্রাজ্য সম্প্রসারন করতে গিয়ে দিল্লীর শাসক ফিরোজ শাহ তুঘলকের বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন, ফিরোজ শাহ তাকে দমন করার জন্য বাংলা অভিযান করলে অভিজ্ঞ কূটনীতিকের মত সময় ও সুযোগের অপেক্ষা করে তাঁর দিল্লীর আক্রমন মোকাবিলা করেছেন। সাহসী যোদ্ধা ইলিয়াস শাহ সফল সামরিক গুনের অধিকারী ছিলেন। তিনি বাংলা ও বাংলার বাইরে তাঁর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৃতিত্বপূর্ন বিজয় অর্জন করেন।

সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ শুধুমাত্র বাংলা অঞ্চলকে একীভূত করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি এতদাঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন এবং বাংলার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে জনসমর্থন লাভে প্রয়সী হন। স্থানীয় জনগনকে উদারভাবে সুযোগ সুবিধা দিয়ে শাসনব্যাবস্থাকে গনশাসনে রূপ দেন। তিনিই সর্বপ্রথম স্থানীয় জনগনকে অধিক সংখ্যায় সামরিক বাহিনীতে চাকরীর সুযোগ দেন।

বাঙালী জাতির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনিই সর্বপ্রথম লক্ষ্মণাবতী, সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম এবং সোনারগাঁও এই তিন অঞ্চলে বিভক্ত বাংলাকে একত্রিত করে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত করেন।
জিয়াউদ্দীন বারানীই হলেন প্রথম মুসলিম ঐতিহাসিক যিনি ইকলিম-ই-বাঙ্গালাহ অথবা দিয়ার-ই-বাঙ্গালাহ (যার দ্বারা তিনি বাংলাকে বুঝিয়েছেন) শব্দগুলি ব্যবহার করেন। ইলিয়াস শাহ কর্তৃক লখনৌতি,সাতগাঁও এবং সোনারগাঁও একত্রিত হওয়ার পর শামস-ই-সিরাজ ইলিয়াস শাহকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’, ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ’ এবং ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইলিয়াস শাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন সালতানাত প্রায় দুশ বছর টিকে ছিল এবং এ সময় বাঙ্গালাহ নামের বহুল পরিচিতি ঘটে। এ অঞ্চলে মুগলদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মুগলগণ বাঙ্গালাহকে মুগল সাম্রাজ্যে একটি সুবাহ (প্রদেশ) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং এ প্রদেশ সুবাহ-ই-বাঙ্গালাহ নামে পরিচিতি লাভ করে। এ নামই পর্তুগিজ বিবরণে বেঙ্গালা রূপে দেখা যায়। ইংরেজরা বেঙ্গলাকে বেঙ্গল বলে অভিহিত করেন। এভাবে দেখা যায় যে, চৌদ্দ শতক থেকেই বাঙ্গালাহ নামের পরিচিতি ঘটে এবং এ অঞ্চল বলতে বর্তমানের বাংলাদেশ ও ভারতীয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশের অন্তর্গত প্রায় সব ভূভাগকেই বোঝায়।

তথ্যসূত্র:
১। ভারতবর্ষের ইতিহাস-কোকো আন্তোনোভা,
২। শাসসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও বাঙালীজাতিয়তাবাদ-সানাউল্লাহ সামি,
৩। তারিখ-ই-ফিরোজশাহী-জিয়াউদ্দিন বারানী,
৪। বাংলার ইতিহাস-সুলতানি আমল-আবদুল করিম
৫। বাংলার ইতিহাসের দুশো বছর-শ্রীসুখময় মুখোপাধ্যায়

কলমেঃ শেখ নজরুল 

ইতিহাসের নানা জানা-অজানা তথ্যাবলি জানতে ও জানাতে যুক্ত হতে পারেন আমাদের পেজ ইতিহাস অন্বেষণ এ।

Friday, November 21, 2025

সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর


আজ ১৯ নভেম্বর, সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর এর ১৯৪ তম শা'হাদাত বার্ষিকী....

বি'প্লবী ও বি'দ্রোহী মীর নিসার আলী সর্বাধিক পরিচিত শ'হিদ তিতুমীর হিসাবে। তিনি শুধু ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেননি, বাংলার জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বাঁশের কেল্লা থেকে। তিনিই সর্বপ্রথম ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই করে শা'হাদাত বরণ করেন। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মীর নিসার আলী তিতুমীরের নাম উজ্জল হয়ে আছে।

সমাজ সংস্কার ও বিপ্ল'বের চেতনায় আলোকোজ্জ্বল একটি নাম: তিতুমীর। যুগ যুগ ধরে অন্যায়, জুলুম ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে এ নাম বিদ্রো'হের প্রেরণা হয়ে থাকবে। ❤️

Poster Design & Edit: Md Ashraf Ullah
#ঐতিহাসিক_উক্তি #Titumir #Freedom #Birturk

Thursday, October 30, 2025

মুসলমানদের আবদার কতটুকু?


অনেক কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক, অমুসলিমদের বলতে শুনি আরবরা নাকি শুধুই মরুর ডা-কা-ত, যা-যা-ব-র। এই পথভ্রষ্ট গুলো তাদের নিয়ে অনেক ট্রল, কটাক্ষ, ব্যাঙ্গ করে অথচ তাদের দেশে গিয়ে ওরা কামলা না খাটলে? ওদের দেশের অর্থনীতিই পঙ্গু হয়ে যাবে। থাক ঐদিকে যাচ্ছি না, আজ কথা বলতে চাচ্ছি আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তিতে মুসলমানদের আবদার কতটুকু? চলুন দেখে আসি আরব সভ্যতা মানবজাতিকে কী কী উপহার দিয়েছে।
আরব সভ্যতা মানবজাতিকে উপহার দিয়েছে শূন্য (Zero), বীজগণিত (Algebra), এলগরিদম (Algorithm) এবং আমরা আজ যেভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) জানি, তার ভিত্তিও তারাই স্থাপন করেছিলেন। এরপর আছে- সুগার, জিরো, সাইফার, জেনিথ, নাদির, অ্যাডমিরাল, এপ্রিকট, অ্যালজেবরা এগুলো সবেই অ্যারাবিক আবিষ্কার' শব্দ গুলোও আরবি। আরবরা আমাদের দিয়েছে কাগজ ও কপি সংস্কৃতি, যেটার মাধ্যমে জ্ঞান সংরক্ষণ সহজ হয়েছিল। মুসলিম বিজ্ঞানিদের আবিষ্কার সমূহ-

১]-(ইবনে আল-হাইথাম)- তিনি ছিলেন সেই মহান বিজ্ঞানী যিনি নিউটনের ৬০০ বছর আগেই বুঝে ফেলেছিলেন যে মহাবিশ্বের সব বস্তুর মধ্যেই মাধ্যাকর্ষণ বল (Gravitational Force) কাজ করে। তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির (Scientific Method) কথা বলেছিলেন যা ইউরোপীয় যেকোনো বিজ্ঞানীদের ৬০০ বছর আগেই। তিনি নিউটনের প্রথম গতিসূত্রের ধারণা দিয়েছিলেন নিউটনের জন্মের ৬০০ বছর আগে, তিনিই কেপলারের গতিসূত্রের ধারণা দিয়েছিলেন কেপলারের জন্মের ৫০০ বছর আগে।

এই ইবনে আল-হাইথামই বিশ্বের প্রথম লেন্স (Lens) তৈরি করেছিলেন এবং তিনিই বিশ্বের প্রথম ক্যামেরা (Camera Obscura) আবিষ্কার করেন।

২]-(ইবনে সিনা)- আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক। তার গবেষণার মাধ্যমেই মানুষ জানতে পারে, হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব সম্পর্কে। তার লেখা বই ৬০০ বছর ধরে ইউরোপে পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হয়েছিল। 

৩]-(আল-জাজারি)- বিশ্বের সর্বপ্রথম রোবোটিক যন্ত্রের আবিষ্কারক। রোবোটিক চাকর (Automatic Servant): তিনি এমন এক যন্ত্র তৈরি করেন যা অতিথিদের হাতে পানীয় পরিবেশন করত সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নড়াচড়া করত, টাইম অনুযায়ী কাজ করত। এটি ইতিহাসের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট (মানবাকৃতির যন্ত্র)।, তিনিই বিশ্বের সর্বপ্রথম ঘড়ি (যান্ত্রিক ঘড়ি) আবিষ্কার করেন ১২শ শতকে। তিনি ১২০৬ সালে "Castle Clock" নামে বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করেন।, তিনিই প্রথম স্বয়ংক্রিয় জলতোলার যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা বিদ্যুৎ ছাড়াই পানি তুলে সেচের কাজে ব্যবহার হতো।

পরে ইউরোপীয় ইঞ্জিনিয়াররা এই নকশা থেকে আধুনিক পাম্প তৈরি করেন।, তিনিই প্রথম হ্যান্ড ওয়াশিং মেশিন আবিষ্কার করেন যা পানির পাত্রে সেন্সর টাইপ সিস্টেম ছিল কেউ হাত রাখলে পানি বের হতো, আবার থামত অর্থাৎ, ১২শ শতকে আল-জাজারি “সেন্সর-ভিত্তিক সিস্টেম” তৈরি করেন!

আল-জাজারি ছিলেন বিশ্বের প্রথম রোবোটিক্স, হাইড্রলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও অটোমেশনের জনক। তিনি উপাধি পেয়েছিলেন- Father of Robotics and Mechanical Engineering." আধুনিক বিজ্ঞানীরা যেমন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বা আইজ্যাক নিউটন তারা পরবর্তীকালে আল-জাজারির কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হন।

৪]-(জাবির ইবনে হাইয়ান)- আধুনিক রসায়ন Chemistry-র জনক, তিনিই বিশ্বের প্রথম (Nitric, Sulphuric) এসিড তৈরি করেন পরীক্ষাগারে, তিনিই প্রথম ডিস্টিলেশন পদ্ধতিতে আধুনিক পারফিউম ও ঔষধ তৈরির ভিত্তি স্থাপন করেন।

৫]-(ইবনে খালদুন)- ইতিহাস বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞানের জনক (Father of Sociology) তিনিই প্রথম  অর্থনীতি তত্ত্বের ধারণা  শ্রম ও উৎপাদনের ওপর বিশ্লেষণ করেন। 

৬]-(আব্বাস ইবনে ফিরনাস)- উড়োজাহাজের ধারণার জনক। তিনিই ইতিহাসে আকাশে উড়া প্রথম ব্যাক্তি।  

৭]-(আল- বাত্তানি)- গ্রহের গতি বিশ্লেষণ করে সূর্য ও চাঁদের গতিপথ নির্ণয় করেন।

৮]-(মারিয়াম আল-আস্তুরলাবি)-(নারী বিজ্ঞানী)- 

অ্যাস্ট্রোল্যাব (Astrolabe) উন্নয়ন আর ন্যাভিগেশন যন্ত্র উন্নত করেন।

যতটা সম্ভব সংক্ষেপে লেখার চেষ্টা করেছি এরকম আরো অসংখ্য মুসলিম বিজ্ঞানির আবিষ্কারের ইতিহাস আছে। যাদের প্রত্যেকের আবিষ্কার নিয়ে বিস্তারিত লিখতে গেলে, একেকটা বিশাল বিশাল রচনা লেখা সম্ভব। তবুও কেমন করে যেন, পৃথিবীর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আরব সভ্যতার এই বিশাল অবদানগুলোকে এমন ভাবে মুছে দিয়েছে, যেন তারা কখনো ছিলই না। অথচ তাদের হাত ধরেই এই আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনা হয়েছিল।

মধ্যযুগকে ইউরোপিয়ানরা অন্ধকার যুগ বলে প্রচার করে যেন মুসলিম বিজ্ঞানীদের ঢেকে দেওয়া যায়, অনেক আবিষ্কারই তারা চুরি করেছে সুতরাং আসল ঘটনা ঢাকতেই হতো। স্পেন আন্দালুসিয়া থেকে শুরু করে আব্বাসীয় বাগদাদ, ততকালীন আব্বাসীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা চায়নায় পুরোটা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার হয়েছে মধ্যযুগে, ইসলাম ধর্ম শুধু ছড়ায়নি পাশাপাশি আবিষ্কার, সার্জারি, বিজ্ঞান সবকিছু ছড়িয়েছে। যখন রোমানরা স্পেনে হস্তক্ষেপ করে তখন ভবিষ্যতে প্রজন্মের উন্নয়নের উদ্দেশ্য মুসলিম বিজ্ঞানিদের লেখা প্রায় ১০ লক্ষ+ বই থাকা সমস্ত ল্যাব লাইব্রেরী ধ্বংস করে দেওয়া হয়। আর চেঙ্গিস খানের বাহিনী ধ্বংস করে জ্ঞানে আলো বাগদাদ। 

আন্দালুসিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী পিয়ের কুরী বলেছিলেন- মুসলমানদের আন্দালুসিয়া রাজ্য থেকে মাত্র ৩০টা বই উদ্ধার হয়ে আমাদের হাতে এসেছিল। সেগুলোর সাহায্যে আমরা পরমাণু পর্যন্ত দ্বিখণ্ডিত করতে সক্ষম হয়েছি। যদি পুড়ে যাওয়া ১০ লক্ষ বইয়ের মধ্যে অর্ধেকও বেঁচে যেত, তাহলে হয়তো আজ আমরা গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াতাম।”

Saturday, August 30, 2025

The Bangladesh....


The Bangladesh....

90% of the history we have been learning for the last 53 years is a history imposed by India on us by lies.

The Bangladesh government published the names of 10,789 Razakars/albadar/alsam who collaborated with the Pakistani army, Pakistani army was 90 thousand , and the independence war was held for 9 month/270 days, so must have to kill almost 12,000 people each day, and each person has to kill 30 person at least. that is impossible ,

in 2nd world war Nazi's killed 60,00000 in 6 year's /2160 days so the killed 2778 persons each day they were most advanced arms. If Nazi's can't killed more then 2778 each day so how can Pak Army can killed each day 12,000. It's really funny theory. And awami and indian no prove about 3 millions numbers of killed in 1971.

30,00000 killed in 1971 is totally false , most of the international calculation is 1.5 laks-2 laks in this calculation 60,000 bihari killed by mokti foz included.

Also it's false that 2laks reaped , totally false information.

There is no exact figure available on how much money India looted from Bangladesh in 1971, but different individuals and media have presented different and contradictory information on this issue, such as some saying the figure was 30 thousand crores of taka, that mean 250 million us dollar, and can you imagine what is the value of 1971's 250 millions USD in 2025?

Was it the Pakistani Army or the Indian Army that killed the intellectuals in 1971's?  
This is also something to think about, 

Pakistan lost that battle with Bangladesh not India, So  they don't have to kill more people, But think about another perspective, Bangladesh is a new nation which is Surrounded by India if this nation hasn't any intellectuals then it's easy to capture and add to the indian map in future so easily.

We have to think again...so we can live , we can definitely defeat India, because India is our main enemy.....

Tuesday, August 19, 2025

রাজনীতির ৫০ বছর"৪৭ আপনাকে শুধু স্বাধীনতা দেয় নাই, ৪৭ আপনাকে দিয়েছে মানুষের মর্যাদা।



এক সময় এই দেশে মুসলমানের ছেলেদের রাস্তা ছেড়ে দিতে হত।

শুধু মুসলমান হওয়ার "অপরাধে"।

বানিয়ে বানিয়ে বলছি না। কাছাকাছি ঘটনা পাবেন আবুল মনসুর আহমেদ এর "আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর" বইতে।

সেখানে আবুল মনসুর আহমদ এর বেয়াদবির জন্য উনার বাবাকে হিন্দু জমিদারের কাছে হাত জোড় করে মাফ চাইতে হয়েছিল।

৪৭ আপনাকে শুধু স্বাধীনতা দেয় নাই, ৪৭ আপনাকে দিয়েছে মানুষের মর্যাদা।

৪৭ আগ পর্যন্ত আপনি ছিলেন প্রজা।

আপনাকে জমিদারের কাছে যেয়ে তার দয়া ভিক্ষা করতে হত।

দশ হাত দূরে দাঁড়ানো লাগত।

এ দেশে মুসলমানরা লেখাপড়া করতে পারে নাই কেন জানেন?

বেশিরভাগ স্কুলে মুসলমানের বাচ্চাদের বসতে দেওয়া হত না। 

অনেক স্কুলে ভর্তিই নিত না। 

নাটোরের একটা এলাকায় গেলে দেখবেন মুসলমানের ছেলের নাম গোপাল। 

কেন? 

কারন ওখানে মুসলমানদের বাচ্চার নাম রাখার অধিকার পর্যন্ত ছিল না। মুসলমানের ছেলে হলে সেই ছেলে কোলে নিয়ে দূরে দাঁড়াতে হত। 

হিন্দু জমিদার নিজের ইচ্ছামতো নাম দিয়ে দিতেন। 

পাকিস্তান হওয়ার পর এই এলাকাতে কাজী নাজির নামে একজন ম্যাজিস্ট্রেট যান। 

তিনিই প্রথম একজনের নাম রাখেন আব্দুর রহমান।

তিনিই প্রথম মুসলমানের ছেলেদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেন।

তার আগ পর্যন্ত মুসলমানের ছেলে হলে স্কুলে জায়গা হত না। অশুচি হয়ে যায় তাই। 

৪৭ আপনাকে আপনার নাম দিয়েছে। 

৪৭ আপনাকে আপনার লেখাপড়ার সুযোগ দিয়েছে। 

৪৭ এর ১৪ আগস্টের আগে আপনি ছিলেন একজন অশুচি প্রজা, ৪৭ এর ১৪ আগস্ট থেকে আপনি প্রজা থেকে নাগরিক হয়েছেন। 

এই ইতিহাসগুলো কেউ আপনাকে বলবে না। 

বাট আপনার জানতে হবে। 

আপনার জানতে হবে, একটা পাকিস্তানের জন্য কেন আমাদের বাপ দাদারা ২০০ বছরের সংগ্রাম করলো? 

আপনার দেখতে হবে আসাম, দেখতে হবে কাশ্মীর, দেখতে হবে গুজরাট।

তারপর আপনি বুঝবেন, স্বাধীনতা কত বড়।

আপনার দেখতে হবে আসামের সেই দলিতকে। গরুর মাংস বহনের অভিযোগে যাকে কিছুদিন আগে হত্যা করা হয়েছে। 

জিন্নাহ আর শেরে বাংলারা শুধু আপনার নাম দেয় নাই, দিয়েছে আপনার খাওয়ার অধিকারও।

সেই তিতুমীর ,মজনু শাহ, হাজী শরীয়তুল্লাহ, দুদু মিয়া। তিতুমীর রক্ত দিলেন। সেই রক্তে লাল হয়ে গেল বুড়ি গঙ্গার পানি। 

দাঙ্গা লাগিয়ে দেয়া হলো। 

কোনভাবেই পাকিস্তান হইতে দেওয়া যাবে না। 

অত্যাচার জুলুম করে জমিদারি চালানোর এই মজা কে ছাড়তে চায়? 

মুসলমানের ছেলের নাম গোপাল রাখার মজা কে ছাড়তে চায়? 

তাই বারবার বুড়ি গঙ্গা আর

Saturday, May 10, 2025

সমাজের বাস্তবতা


১৯৫৫ সালে ইতালির বিখ্যাত গায়িকা"জুলিয়া মার্কিন" শহরের এক মোড়ে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর থেকে "ব্রা" খুলে বলেন -- "এটা নিলাম করতে চাইছি,,,বলুন কতো টাকা দেবেন ??"উপস্থিত জনগণ ব্রা কেনার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
নিলামে ৩০০০ ডলার পর্যন্ত দাম ওঠে।।গায়িকা অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন।।তিনি বলেন -- "তোমরা অত্যন্ত বোকা মানুষ।। যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না,, এটা জেনেও আমার ব্রা কেনার জন্য ৩০০০ ডলার খরচ করতে চাইছো??""
অথচ,,কোনো দরিদ্র অভুক্ত মানুষ সামান্য খাদ্য চাইলে,,তাকে এক ডলার ও দিতে চাইবে না।।""তোমাদের মনমানসিকতা দেখে আমি অত্যন্ত লজ্জিত, দুঃখিত।এটাই আমাদের সমাজের বাস্তবতা।
ধর্মের কাজে ডোনেশন চাইলে ওরা অভাবে থাকে।
সামাজিক কাজে ডোনেশন চাইলে ওরা দেনায় থাকে।কিন্তু যখনই নাচ গানের আয়োজন হয়,ওরাই থাকে প্রথম সারিতে।
তখন ডোনেশনের অভাব হয়না।
👉সংগৃহীত

Friday, March 21, 2025

এই গেমে হাসনাত ভাই হাইরা যাবেন, আমি জানি।


এই গেমে হাসনাত ভাই হাইরা যাবেন, আমি জানি।

কাল থেকেই হাওয়া থেকে, আসমান থেকে দুর্নীতি বা নারী কেলেঙ্কারির নিউজ আসতে থাকবে। ফরম্যাট এক থাকবে। নিউজ এক থাকবে। খালি মিডিয়া আলাদা।

বাট ফ্যাক্ট কী জানেন?

যেই মিটিং থেকে উঠে আসছে, ঐটা এক্সেপ্ট করলেই ৫০০০ কোটির ফান্ড পাইয়া যাইতো। 

বোকা মানুষ। 

টাকাও ছাইড়া আসছে। এখন আবার ঐ দুর্নীতির নিউজেই ফাঁসবে। 

বাংলাদেশে এমনই হয় সাধারণত। আজ পর্যন্ত ঐ প্রেসক্রিপশনের বাইরে গিয়ে কেউ রাজনীতি করতে পারে নাই। 

হাসনাত পারলে ভালো। না পারলে ছেলেমেয়েদের আজকের এই গল্পটা শোনাবো আমি। শোনাবো আমাদের এক জার্সি পরা ক্যাপ্টেন ছিলো...।

হ্যা, কাপ্তানই তো। যখন হাজার কোটির ডিলিংসে ক্যাশপ্রেমিকরা দেশপ্রেমিকের সার্টিফিকেট বিক্রি করেছে, তখন এই ছেলেটা একটা জার্সি পরে সেইটা সবাইকে বলে দিয়েছে। 

সবাই যখন ক্যাশ নিয়ে আরো আরামের জীবনের খোঁজে ব্যস্ত ছিলো, এই ছেলেটা তখন সাহস করে বলেছিল, যদি মরে যাই, সবাই জানুক, কেন মরতে হয়েছে। 

বাংলাদেশের রাজনীতি গরীবের হক মেরে আরো ভালো করে বাঁচার রাজনীতি। এই রাজনীতিতে মরার জন্য খুব কম মানুষই এসেছে আজ পর্যন্ত। হাসনাত ঐ কম মানুষদেরই একজন।

স্যালুট, ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ!

— সাদিকুর রহমান খান।

Friday, March 7, 2025

জাতির মুখের ভাষা ‘বাংলা’কে কেড়ে নিয়েছিলো

হাজার বছর আগে বাঙ্গালি জাতির মুখের ভাষা ‘বাংলা’কে কেড়ে নিয়েছিলো দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন রাজারা। সেন রাজাদের হিন্দু পণ্ডিতরা ফতওয়া জারি করেছিলো, “যারা বাংলা ভাষা বলবে ও শুনবে তারা ‘রৌরব’ নামক নরকে যাবে।” ঐ সময় তুর্কি বংশোদ্ভূত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী নির্যাতিত বাঙালীদের মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং ১২০৪ সালে মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ারী নিয়ে সেন রাজাকে পরাজিত করে বাংলাকে স্বাধীন করেন। বক্তারা বলেন, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলাজীর বাংলা বিজয়ের মাধ্যম দিয়ে সেইদিন শুধু ভূমির বিজয় হয়নি, সাথে মুক্ত হয়েছিলো বাঙ্গালীদের মুখের ভাষা ‘বাংলা’।

ভাষাবিদ দীনেশ চন্দ্র সেন বলেন, “মুসলমান সম্রাটগণ বর্তমান বঙ্গ-সাহিত্যের জন্মদাতা বললে অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ-সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গ-ভাষা বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা।” অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এদেশে আরো কয়েক শতকের জন্য পূ্র্বের শাসন অব্যাহত থাকতো, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত ও বিস্মৃত-প্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।”

মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষার যে সাহিত্য চর্চা শুরু হয়, তার মাধ্যমে বাংলা ভাষা একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার যোগ্যতা অর্জন করে।

বাংলা ভাষাকে কলুষিত করার চেষ্টা পরবর্তীতে যুগে যুগে আরো হয়। ১৮শ’ সনে ব্রিটিশরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষার আরবী ও ফারসী শব্দ বাদ দিয়ে সংস্কৃত শব্দ প্রবেশের উদ্দেশ্যে সাহিত্য চর্চা শুরু করে। তারা দেখাতে চায়, “বাংলা ভাষার সাথে মুসলমানদের কোন সম্পর্ক নেই”।

মুসলিমদের হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রচার করা হয়, বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফ অনুবাদ নাকি গিরিশ চন্দ্র সেন করেছে। অথচ ১৮৮৬ সালে গিরিশ চন্দ্র সেনের অনুবাদের বহু পূর্বে ১৮০৮ সালে বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া। এরপর ১৮৩৬ সনে মৌলভী নাঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজীদের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। অথচ এ ইতিহাস প্রচার করা হয় না।

মওলানা ভাসানীর


লাগেজ বলতে মওলানা ভাসানীর আজীবনের সাথী একটি মাত্র স্যুটকেস। দৈর্ঘ্য ষোল ইঞ্চি। সম্পদ বলতে তার মধ্যে থাকে একটি গামছা, একটি লুঙ্গি, একটি খদ্দরের পাঞ্জাবি, মাথার একটা টুপি, কিছু তামাক পাতা ও চুনের একটি ডিব্বা। এসব নিয়েই পূর্ব বাংলার শহরে-গ্রামে সফর করেন এবং এসব নিয়েই তিনি গেছেন ইউরোপ সফরে।

চিরসাথী স্যুটকেসটিতে তার তালা নেই। সে বস্তু বিদায় নিয়েছে বহুদিন আগেই। ফলে চির উন্মুক্ত স্যুটকেসটি দড়ি বা শাড়ির পাড় দিয়ে বেঁধে নিয়ে এখানে সেখানে যেতে হয়। 

ঢাকা থেকে যে দড়ি দিয়ে তার একমাত্র লাগেজ বেঁধে আনা হয়েছিলো লন্ডনে, একদিন সেটা হারিয়ে গেলো। অনেক খোঁজাখুজির পর দেখা গেলো সেটা ডাস্টবিনে শোভা পাচ্ছে। বাসার ঝাডুদার রাবিশ মনে করে সেটা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলো।

একদিন তার ইউরোপ সফর সঙ্গিরা বললো, 'হুজুর, এটা ফেলে দিয়ে একটা নতুন স্যুটকেস  কিনে নেন না কেনো?
উত্তরে তিনি বললেন, 'জীবনের বহুদিনের সঙ্গী  আমার এই স্যুটকেসটি। বিদেশবিভুঁইয়ে ওকে না ফেলে দিয়ে দেশে গিয়েই না হয় বদলানো যাবে।'

লন্ডন থেকে স্টকহোমে যাওয়ার পথেও ছেঁড়া লুঙ্গির একাংশ দিয়ে বেঁধে স্যুটকেসটি নিয়ে  যাওয়া হলো। স্টকহোম থেকে পুনরায় লন্ডনে  ফিরার পথেও সেই ছেড়া লুঙ্গির বাঁধন। কিন্তু  লন্ডন এয়ারপোর্টে এসে রহস্যজনক ভাবে  স্যুটকেসটি হারিয়ে যায়।

স্যুটকেসটি হারানোর ফলে সফর সঙ্গিরা খুব খুশি হয়। সিদ্ধান্ত হলো একটা নতুন ক্রয় করা হবে।

যেদিন স্যুটকেস কেনার জন্য বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন ঠিক তখনি মওলানার সাথে কয়েকবার জেলখাটা সেই স্যুটকেসটি নিয়ে হাজির বৃটিশ এয়ারওয়েজ এর লোক। 

বললো, 'মনে কিছু করবেন না স্যার, স্যুটকেসটি  ভুলক্রমে ব্রাসেলসে চলে গিয়েছিলো। আমরা দুঃখিত।'

মওলানার তখনও বেলজিয়াম দেখার সুযোগ হয়নি অথচ তার জেলখাটা স্যুটকেসটি সে দেশটা এক চক্কর ঘুরে এসেছে।

পুরোনো সাথী পেয়ে হুজুরের আনন্দ আর ধরে না। তিনি আরো খুশি হলেন দেখে যে, বিমান কোম্পানী  তার ভাঙা স্যুটকেসটি মেরামত করে তাতে একটা তালা লাগিয়ে একজোড়া ঝুলিয়ে দিয়েছে।
 
[ভাসানী যখন ইউরোপে, খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস]

Friday, February 21, 2025

Bengali language (বাংলা ভাষা)


Thousands of years ago, the Sena kings who came from South India took away the spoken language of the Bengali people, 'Bangla'. The Hindu scholars of the Sena kings issued a fatwa, "Those who speak and listen to the Bengali language will go to the hell called 'Rourab'." At that time, Ikhtiyar Uddin Muhammad Bakhtiyar Khilji, of Turkish origin, came forward to liberate the oppressed Bengalis and in 1204, with only 18 horsemen, defeated the Sena king and liberated Bengal. The speakers said that through the conquest of Bengal by Ikhtiyar Uddin Muhammad Bakhtiyar Khilji, not only the land was conquered that day, but also the spoken language of the Bengalis, 'Bangla', was liberated.

Linguist Dinesh Chandra Sen said, "It is not an exaggeration to say that the Muslim emperors are the fathers of the present Bengali literature. Bengali literature was created by Muslims, Bengali language is the mother tongue of Bengali Muslims.” Professor and researcher Mohammad Asaduzzaman said, “If the Muslim conquest of Bengal had not been accelerated and the Eastern rule had continued in this country for a few more centuries, the Bengali language would have become extinct and would have been neglected and almost forgotten, sinking into the womb of the past.”

Through the literary practice of Bengali language that began under the royal patronage of Muslim rulers in the Middle Ages, Bengali language gained the ability to emerge as a complete language.

Attempts to corrupt Bengali language were made more and more over the centuries. In the 18th century, the British established Fort William College in Calcutta and started literary practice with the aim of eliminating Arabic and Persian words from Bengali language and introducing Sanskrit words. They wanted to show that “Muslims have no relation with Bengali language”.

To humiliate Muslims, it is propagated that the first translation of the Quran Sharif into Bengali was done by Girish Chandra Sen. However, long before Girish Chandra Sen's translation in 1886, Maulana Amiruddin Basunia had partially translated the Quran Sharif into Bengali in 1808. Then in 1836, Maulvi Naimuddin completed the Bengali translation of the complete Quran Majeed. However, this history is not propagated.

হাজার বছর আগে বাঙ্গালি জাতির মুখের ভাষা ‘বাংলা’কে কেড়ে নিয়েছিলো দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন রাজারা। সেন রাজাদের হিন্দু পণ্ডিতরা ফতওয়া জারি করেছিলো, “যারা বাংলা ভাষা বলবে ও শুনবে তারা ‘রৌরব’ নামক নরকে যাবে।” ঐ সময় তুর্কি বংশোদ্ভূত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী নির্যাতিত বাঙালীদের মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং ১২০৪ সালে মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ারী নিয়ে সেন রাজাকে পরাজিত করে বাংলাকে স্বাধীন করেন। বক্তারা বলেন, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলাজীর বাংলা বিজয়ের মাধ্যম দিয়ে সেইদিন শুধু ভূমির বিজয় হয়নি, সাথে মুক্ত হয়েছিলো বাঙ্গালীদের মুখের ভাষা ‘বাংলা’।

ভাষাবিদ দীনেশ চন্দ্র সেন বলেন, “মুসলমান সম্রাটগণ বর্তমান বঙ্গ-সাহিত্যের জন্মদাতা বললে অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ-সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গ-ভাষা বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা।” অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এদেশে আরো কয়েক শতকের জন্য পূ্র্বের শাসন অব্যাহত থাকতো, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত ও বিস্মৃত-প্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।”

মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষার যে সাহিত্য চর্চা শুরু হয়, তার মাধ্যমে বাংলা ভাষা একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার যোগ্যতা অর্জন করে।

বাংলা ভাষাকে কলুষিত করার চেষ্টা পরবর্তীতে যুগে যুগে আরো হয়। ১৮শ’ সনে ব্রিটিশরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষার আরবী ও ফারসী শব্দ বাদ দিয়ে সংস্কৃত শব্দ প্রবেশের উদ্দেশ্যে সাহিত্য চর্চা শুরু করে। তারা দেখাতে চায়, “বাংলা ভাষার সাথে মুসলমানদের কোন সম্পর্ক নেই”।

মুসলিমদের হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রচার করা হয়, বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফ অনুবাদ নাকি গিরিশ চন্দ্র সেন করেছে। অথচ ১৮৮৬ সালে গিরিশ চন্দ্র সেনের অনুবাদের বহু পূর্বে ১৮০৮ সালে বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া। এরপর ১৮৩৬ সনে মৌলভী নাঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজীদের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। অথচ এ ইতিহাস প্রচার করা হয় না।

Friday, January 31, 2025

*Bangla Sultanate*

**Bangla Sultanate**! The Bangla Sultanate, also known as the Bengal Sultanate, was an independent medieval Islamic kingdom that ruled Bengal (modern-day Bangladesh and the Indian state of West Bengal) from the 14th to the 16th century. Here are some key points about it:

1. **Founding**: The Bengal Sultanate was established in **1352** by **Shamsuddin Ilyas Shah**, who unified the region and declared independence from the Delhi Sultanate.

2. **Capital**: The capital of the Sultanate was initially in **Gaur** (also known as Lakhnauti), and later shifted to **Pandua** and then **Sonargaon**.

3. **Golden Age**: The Sultanate reached its peak during the reign of **Alauddin Hussain Shah** (1494–1519), a period often referred to as the "Golden Age" of Bengal. It was a time of cultural, economic, and architectural prosperity.

4. **Economy**: Bengal was a wealthy region due to its thriving trade, especially in textiles (like muslin), rice, and spices. It had strong trade connections with Southeast Asia, the Middle East, and China.

5. **Culture**: The Bengal Sultanate was known for its syncretic culture, blending Islamic, Hindu, and local Bengali traditions. It contributed significantly to Bengali literature, art, and architecture.

6. **Architecture**: The Sultanate left behind impressive architectural landmarks, such as the **Adina Mosque** in Pandua and the **Sixty Dome Mosque** in Bagerhat (now a UNESCO World Heritage Site).

7. **Decline**: The Sultanate began to decline in the early 16th century due to internal conflicts and external invasions. It was eventually conquered by the **Mughal Empire** in **1576** under Emperor Akbar.

 **Bengal Sultanate**. It was a fascinating period in history, marked by a unique blend of Islamic, Hindu, and indigenous Bengali traditions. Let’s dive deeper:

---

### **Social Structure**
1. **Religious Harmony**:
   - The Bengal Sultanate was known for its religious tolerance and syncretism. While the rulers were Muslim, the majority of the population was Hindu. The Sultanate promoted coexistence, and many Hindus held high administrative positions.
   - Sufi saints played a significant role in spreading Islam in Bengal, often through peaceful means and cultural integration.

2. **Caste System**:
   - The Hindu caste system existed, but the Sultanate’s policies often softened its rigidity. People from lower castes found opportunities in trade, administration, and the military.

3. **Urban and Rural Life**:
   - Urban centers like **Gaur**, **Pandua**, and **Sonargaon** were bustling with trade, crafts, and cultural activities.
   - Rural areas were primarily agrarian, with rice cultivation being the backbone of the economy. Villages were self-sufficient and had strong community ties.

---

### **Cultural Achievements**
1. **Language and Literature**:
   - The Bengal Sultanate played a crucial role in the development of the **Bengali language**. Persian was the official language of the court, but Bengali flourished as a literary and cultural language.
   - The Sultanate patronized Bengali poets and writers. For example, **Maladhar Basu** wrote the *Sri Krishna Vijaya*, a Bengali adaptation of the *Bhagavata Purana*, under the patronage of Sultan **Ruknuddin Barbak Shah**.

2. **Music and Art**:
   - Music and dance were integral to both Hindu and Islamic traditions. Sufi music and devotional songs (like *Baul* and *Kirtan*) became popular.
   - Artisans produced exquisite textiles, pottery, and metalwork, which were highly sought after in international markets.

3. **Architecture**:
   - The Bengal Sultanate is renowned for its distinctive architectural style, which blended Islamic and indigenous Bengali elements. Key features included curved roofs, terracotta ornamentation, and large domes.
   - Notable examples include:
     - **Adina Mosque** (Pandua): One of the largest mosques in South Asia.
     - **Sixty Dome Mosque** (Bagerhat): A UNESCO World Heritage Site.
     - **Eklakhi Mausoleum** (Pandua): A unique example of Sultanate-era architecture.

4. **Festivals and Traditions**:
   - Both Hindu and Islamic festivals were celebrated with great enthusiasm. For example, **Eid**, **Muharram**, **Durga Puja**, and **Pohela Boishakh** (Bengali New Year) were widely observed.
   - The Sultanate’s rulers often participated in or patronized these festivals, fostering a sense of unity among the people.

---

### **Economic and Social Impact**
1. **Trade and Commerce**:
   - Bengal was a major hub for trade, exporting textiles (especially muslin), rice, sugar, and spices. The Sultanate’s ports, such as **Chittagong**, were bustling with merchants from Arabia, Persia, China, and Southeast Asia.
   - The wealth generated from trade contributed to the flourishing of art, culture, and architecture.

2. **Education and Learning**:
   - Madrasas and schools were established to promote Islamic education, while traditional Hindu *pathshalas* (schools) continued to thrive.
   - Scholars and poets from across the Islamic world were attracted to the Sultanate’s court, making it a center of learning and intellectual exchange.

---

### **Legacy**
The Bengal Sultanate left a lasting impact on the region’s culture and identity. Its syncretic traditions laid the foundation for modern Bengali culture, which continues to celebrate its diverse heritage. The architectural marvels from this period remain a testament to the Sultanate’s grandeur and creativity.

---

Sunday, January 12, 2025

ঢাকা প্রায় ২৫০০ বছর ধরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র ছিল।


ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৬১০ সালে বাংলাদেশের বর্তমান রাজধানী ঢাকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলা অঞ্চলে নিযুক্ত মুঘল সুবাহদার ইসলাম খান। ১৬০৮ সালে রাজমহল থেকে তিনি রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন৷ আর এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। কিন্তু মুসা খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তার এখানে আগমন দুই বছর পিছিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঢাকাকে কমপক্ষে আরও চারবার এই অঞ্চলের রাজধানী নামকরণ করা হয়। প্রথমবার ১৯৬০ সালে মীর জুমলা, দ্বিতীয়বার ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরে।

কিন্তু এখন পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন এক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, এই সময়ের আগেও অন্তত দুইবার ঢাকা ছিল এই অঞ্চলের রাজধানী। এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে 'পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন: ঢাকার উৎপত্তির বিশ্লেষণ' শীর্ষক একটি পাবলিক বক্তৃতায় নতুন এই তথ্য জানানো হয়।

আগের ইতিহাসের বইগুলিতে বলা হয়েছে যে, ঢাকা ৪০০ বছরের পুরোনো শহর। তবে আবিষ্কারটি থেকে জানা যায়, ঢাকা প্রায় ২৫০০ বছর ধরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র ছিল।

খননের কাজ যেভাবে শুরু
আবিষ্কারটি সাধারণভাবে বলতে একেবারে 'নতুন' নয়। অনুসন্ধানটি ২০১৬-১৭ সালে শুরু হয়েছিল; পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করার পর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিরাপত্তা সেবা বিভাগ 'পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ' নামে একটি প্রকল্প চালু করে।

এক্ষেত্রে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও তার দলকে খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অধ্যাপক সুফি বলেন, "ইসলাম খান ঢাকায় আসার পর একটি দুর্গে বসবাস করতেন। অনেক স্থানীয় ঐতিহাসিক এই দুর্গটিকে মুঘল দুর্গ বলে উল্লেখ করেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "কিন্তু খানের একজন অ্যাডমিরাল মির্জা নাথান 'বাহারিস্তান-ই-গায়বি' (অদৃশ্যের বাগান) নামে একটি বই লিখেছেন। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকায় আগে থেকেই একটি দুর্গ ছিল।"

ঢাকায় প্রথমবারের মতো মানব বসতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এটিই প্রথম দাবি যে, ঢাকা সিল্ক রুটের সাথে যুক্ত ছিল।"

অধ্যাপক সুফি মনে করেন, ইসলাম খানের আগমনের আগে ঢাকা বাংলা অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে অন্তত দুইবার ছিল। প্রথমবার ঐতিহাসিক যুগে (আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ) আর অন্যটি ১৫ শতকে।

ঢাকা কেন বারবার রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে?

অধ্যাপকের সুফির মতে, ঢাকাকে রাজধানী ও ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে এই অঞ্চলের অবস্থান ও জলবায়ু ছিল দুটি মূল কারণ।

অধ্যাপক সুফি বলেন, "ঢাকার ভৌগোলিক অবস্থান খুবই অনন্য। যা বিশ্বের অন্যসব শহরের মতো নয়। যদিও ঢাকা বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত বলে মনে করা হয়। তবে ঢাকার মধ্য দিয়ে প্রায় ৫০টি নদী ও খাল প্রবাহিত ছিল।"

অধ্যাপক আরও বলেন, "ঢাকা থেকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতই ছিল বেশ সহজ। একইসাথে বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো ব্যাপার এই যে, এই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি বন্যামুক্ত। যা এটিকে চট্টগ্রামের মতো অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা সুবিধা দিয়েছে।"

কার্টেসি – মতিউর রহমান জীবন