Search This Blog

Thursday, October 30, 2025

মুসলমানদের আবদার কতটুকু?


অনেক কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক, অমুসলিমদের বলতে শুনি আরবরা নাকি শুধুই মরুর ডা-কা-ত, যা-যা-ব-র। এই পথভ্রষ্ট গুলো তাদের নিয়ে অনেক ট্রল, কটাক্ষ, ব্যাঙ্গ করে অথচ তাদের দেশে গিয়ে ওরা কামলা না খাটলে? ওদের দেশের অর্থনীতিই পঙ্গু হয়ে যাবে। থাক ঐদিকে যাচ্ছি না, আজ কথা বলতে চাচ্ছি আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তিতে মুসলমানদের আবদার কতটুকু? চলুন দেখে আসি আরব সভ্যতা মানবজাতিকে কী কী উপহার দিয়েছে।
আরব সভ্যতা মানবজাতিকে উপহার দিয়েছে শূন্য (Zero), বীজগণিত (Algebra), এলগরিদম (Algorithm) এবং আমরা আজ যেভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) জানি, তার ভিত্তিও তারাই স্থাপন করেছিলেন। এরপর আছে- সুগার, জিরো, সাইফার, জেনিথ, নাদির, অ্যাডমিরাল, এপ্রিকট, অ্যালজেবরা এগুলো সবেই অ্যারাবিক আবিষ্কার' শব্দ গুলোও আরবি। আরবরা আমাদের দিয়েছে কাগজ ও কপি সংস্কৃতি, যেটার মাধ্যমে জ্ঞান সংরক্ষণ সহজ হয়েছিল। মুসলিম বিজ্ঞানিদের আবিষ্কার সমূহ-

১]-(ইবনে আল-হাইথাম)- তিনি ছিলেন সেই মহান বিজ্ঞানী যিনি নিউটনের ৬০০ বছর আগেই বুঝে ফেলেছিলেন যে মহাবিশ্বের সব বস্তুর মধ্যেই মাধ্যাকর্ষণ বল (Gravitational Force) কাজ করে। তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির (Scientific Method) কথা বলেছিলেন যা ইউরোপীয় যেকোনো বিজ্ঞানীদের ৬০০ বছর আগেই। তিনি নিউটনের প্রথম গতিসূত্রের ধারণা দিয়েছিলেন নিউটনের জন্মের ৬০০ বছর আগে, তিনিই কেপলারের গতিসূত্রের ধারণা দিয়েছিলেন কেপলারের জন্মের ৫০০ বছর আগে।

এই ইবনে আল-হাইথামই বিশ্বের প্রথম লেন্স (Lens) তৈরি করেছিলেন এবং তিনিই বিশ্বের প্রথম ক্যামেরা (Camera Obscura) আবিষ্কার করেন।

২]-(ইবনে সিনা)- আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক। তার গবেষণার মাধ্যমেই মানুষ জানতে পারে, হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব সম্পর্কে। তার লেখা বই ৬০০ বছর ধরে ইউরোপে পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হয়েছিল। 

৩]-(আল-জাজারি)- বিশ্বের সর্বপ্রথম রোবোটিক যন্ত্রের আবিষ্কারক। রোবোটিক চাকর (Automatic Servant): তিনি এমন এক যন্ত্র তৈরি করেন যা অতিথিদের হাতে পানীয় পরিবেশন করত সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নড়াচড়া করত, টাইম অনুযায়ী কাজ করত। এটি ইতিহাসের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট (মানবাকৃতির যন্ত্র)।, তিনিই বিশ্বের সর্বপ্রথম ঘড়ি (যান্ত্রিক ঘড়ি) আবিষ্কার করেন ১২শ শতকে। তিনি ১২০৬ সালে "Castle Clock" নামে বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করেন।, তিনিই প্রথম স্বয়ংক্রিয় জলতোলার যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা বিদ্যুৎ ছাড়াই পানি তুলে সেচের কাজে ব্যবহার হতো।

পরে ইউরোপীয় ইঞ্জিনিয়াররা এই নকশা থেকে আধুনিক পাম্প তৈরি করেন।, তিনিই প্রথম হ্যান্ড ওয়াশিং মেশিন আবিষ্কার করেন যা পানির পাত্রে সেন্সর টাইপ সিস্টেম ছিল কেউ হাত রাখলে পানি বের হতো, আবার থামত অর্থাৎ, ১২শ শতকে আল-জাজারি “সেন্সর-ভিত্তিক সিস্টেম” তৈরি করেন!

আল-জাজারি ছিলেন বিশ্বের প্রথম রোবোটিক্স, হাইড্রলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও অটোমেশনের জনক। তিনি উপাধি পেয়েছিলেন- Father of Robotics and Mechanical Engineering." আধুনিক বিজ্ঞানীরা যেমন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বা আইজ্যাক নিউটন তারা পরবর্তীকালে আল-জাজারির কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হন।

৪]-(জাবির ইবনে হাইয়ান)- আধুনিক রসায়ন Chemistry-র জনক, তিনিই বিশ্বের প্রথম (Nitric, Sulphuric) এসিড তৈরি করেন পরীক্ষাগারে, তিনিই প্রথম ডিস্টিলেশন পদ্ধতিতে আধুনিক পারফিউম ও ঔষধ তৈরির ভিত্তি স্থাপন করেন।

৫]-(ইবনে খালদুন)- ইতিহাস বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞানের জনক (Father of Sociology) তিনিই প্রথম  অর্থনীতি তত্ত্বের ধারণা  শ্রম ও উৎপাদনের ওপর বিশ্লেষণ করেন। 

৬]-(আব্বাস ইবনে ফিরনাস)- উড়োজাহাজের ধারণার জনক। তিনিই ইতিহাসে আকাশে উড়া প্রথম ব্যাক্তি।  

৭]-(আল- বাত্তানি)- গ্রহের গতি বিশ্লেষণ করে সূর্য ও চাঁদের গতিপথ নির্ণয় করেন।

৮]-(মারিয়াম আল-আস্তুরলাবি)-(নারী বিজ্ঞানী)- 

অ্যাস্ট্রোল্যাব (Astrolabe) উন্নয়ন আর ন্যাভিগেশন যন্ত্র উন্নত করেন।

যতটা সম্ভব সংক্ষেপে লেখার চেষ্টা করেছি এরকম আরো অসংখ্য মুসলিম বিজ্ঞানির আবিষ্কারের ইতিহাস আছে। যাদের প্রত্যেকের আবিষ্কার নিয়ে বিস্তারিত লিখতে গেলে, একেকটা বিশাল বিশাল রচনা লেখা সম্ভব। তবুও কেমন করে যেন, পৃথিবীর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আরব সভ্যতার এই বিশাল অবদানগুলোকে এমন ভাবে মুছে দিয়েছে, যেন তারা কখনো ছিলই না। অথচ তাদের হাত ধরেই এই আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনা হয়েছিল।

মধ্যযুগকে ইউরোপিয়ানরা অন্ধকার যুগ বলে প্রচার করে যেন মুসলিম বিজ্ঞানীদের ঢেকে দেওয়া যায়, অনেক আবিষ্কারই তারা চুরি করেছে সুতরাং আসল ঘটনা ঢাকতেই হতো। স্পেন আন্দালুসিয়া থেকে শুরু করে আব্বাসীয় বাগদাদ, ততকালীন আব্বাসীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা চায়নায় পুরোটা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার হয়েছে মধ্যযুগে, ইসলাম ধর্ম শুধু ছড়ায়নি পাশাপাশি আবিষ্কার, সার্জারি, বিজ্ঞান সবকিছু ছড়িয়েছে। যখন রোমানরা স্পেনে হস্তক্ষেপ করে তখন ভবিষ্যতে প্রজন্মের উন্নয়নের উদ্দেশ্য মুসলিম বিজ্ঞানিদের লেখা প্রায় ১০ লক্ষ+ বই থাকা সমস্ত ল্যাব লাইব্রেরী ধ্বংস করে দেওয়া হয়। আর চেঙ্গিস খানের বাহিনী ধ্বংস করে জ্ঞানে আলো বাগদাদ। 

আন্দালুসিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী পিয়ের কুরী বলেছিলেন- মুসলমানদের আন্দালুসিয়া রাজ্য থেকে মাত্র ৩০টা বই উদ্ধার হয়ে আমাদের হাতে এসেছিল। সেগুলোর সাহায্যে আমরা পরমাণু পর্যন্ত দ্বিখণ্ডিত করতে সক্ষম হয়েছি। যদি পুড়ে যাওয়া ১০ লক্ষ বইয়ের মধ্যে অর্ধেকও বেঁচে যেত, তাহলে হয়তো আজ আমরা গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াতাম।”

No comments:

Post a Comment