Search This Blog

Sunday, April 28, 2024

ইরাকের বিখ্যাত আলেম মালেক বিন দিনার।

ইরাকের বিখ্যাত আলেম মালেক বিন দিনার।
 একবার এক বিশাল মাহফিলে বক্তব্য দিতে দাড়াতেই
 এক শ্রোতা বলে উঠলেন, আপনার বক্তব্য শুরু করার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। মালেক বিন দিনার প্রশ্ন করার অনুমতি দিলেন। বয়স্ক শ্রোতা বললেন, আজ থেকে দশ বছর আগে আপনাকে মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি, আপনি সে অবস্থা থেকে কিভাবে ফিরে এলেন? এবং ওয়াজ করার জন্য এখানে এলেন?

মালেক বিন দিনার কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন। তারপর বললেন- ঠিক বলেছেন, আমিই সেই ব্যক্তি। শুনুন তাহলে আমার কাহিনী: এক কদরের রাতে মদের দোকান বন্ধ ছিল দোকানীকে অনেক অনুরোধ করে এক বোতল মদ কিনলাম বাসায় গিয়ে খাবো এই শর্তে। বাসায় ঢুকলাম।ঢুকেই দেখি আমার স্ত্রী নামাজ পড়ছে। আমি আমার ঘরে চলে গেলাম এবং বোতলটা টেবিলে রাখলাম।

আমার তিন বছরের শিশু মেয়েটা দৌড়ে এলো, টেবিলের সাথে ধাক্কা খেয়ে মদের বোতল মাটিতে পরে ভেঙ্গে গেল। অবুজ মেয়েটি খিলখিল করে হাসতে লাগল। ভাঙ্গা বোতল ফেলে দিয়ে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সে রাতে আর মদ খাওয়া হলোনা আমার। পরের বছর আবার লাইলাতুল কদর এলো। আমি আবার মদ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। বোতলটা টেবিলে রাখলাম। হঠাৎ বোতলটার দিকে তাকাতেই কান্নায় বুক ফেটে গেল। তিন মাস হলো আমার শিশু কন্যাটি মারা গেল। বোতলটা বাইরে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। স্বপ্নে দেখছি এক বিরাট সাপ আমায় তাড়া করছে। এতো বড় সাপ আমি জীবনেও দেখিনি। আমি ভয়ে দৌড়াচ্ছি। এমন সময় এক দুর্বল বৃদ্ধকে দেখলাম। বৃদ্ধ আমাকে বলল, আমি খুব দূর্বল এবং ক্ষুধার্ত। এই সাপের সাথে আমি পারবনা। তুমি এই পাহাড়ের ডানে উঠে যাও। পাহাড়ে গিয়ে দেখি দাউদাউ আগুন জ্বলছে।আর পিছনে এগিয়ে আসছে সেই সাপ। বৃদ্ধের কথা মতো ডানে ছুটলাম। দেখলাম সুন্দর একটা বাগান। বাচ্চারা খেলছে। গেইটে দারোয়ান।

দারোয়ান বলল: বাচ্চারা দেখতো এই লোকটিকে? একে সাপটা খেয়ে ফেলবে নয়তো আগুনে ফেলে দিবে। দারোয়ানের কথায় বাচ্চারা ছুটে এলো। তার মাঝে আমার মেয়েটাও আছে। 
মেয়েটা আমার ডান হাত জড়িয়ে ধরে বাম হাতে থাপ্পর দিয়ে সাপটিকে দূরে ফেলে দিলো। অমনেই সাপ চলে গেল। আমি অবাক হয়ে বললাম: মা তুমি এতো ছোট! আর এতো বড় সাপ তোমায় ভয় পায়?
 মেয়ে বলল: আমি জান্নাতি মেয়ে। জাহান্নামের সাপ আমায় ভয় পায়। বাবা! ঐ সাপকে তুমি চিনতে পেরেছো?
 আমি বললাম: না মা। আমার মেয়ে বলল: বাবা! এতো তোমার নফস। নফসকে তুমি এতো বেশি খাবার দিয়েছ যে সে আজ এতো বড় এতো শক্তিশালী হয়েছে। সে তোমাকে আজ জাহান্নাম পর্যন্ত তারিয়ে নিয়ে এসেছে।

মেয়েকে বললাম: পথে এক দূর্বল বৃদ্ধ আমাকে এখানে আসার পথ বলে দিয়েছে সে কে?
 মেয়ে বলল: তাকেও চিননি? সে তোমার রুহ। তাকে তো কোন দিনও খেতে দাওনি তুমি। সে না খেয়ে এতোই দূর্বল হয়ে পরেছে যে, কোন রকম বেচে আছে।

আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সেই দিন থেকে আমি আমার রুহকে খাদ্য দিয়ে যাচ্ছি আর নফসের খাদ্য একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছি। চোখ বন্ধ করলেই সেই ভয়াল রুপটি দেখতে পাই আর দেখি রুহকে। আহা! কতো দূর্বল হাটতে পারেনা। ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন মালিক বিন দীনার।

তাই আসুন, নিজের নফসকে হেফাজত করি। নয়তো চিরস্থায়ী হবে জাহান্নাম। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তওফিক দান করুক।

Saturday, April 20, 2024

ওয়েস্টার্ন দের মানুষিক ভ্যাসসম্মহীন কুরুচি

এদেশের তথকথিত আধুনিক ইন্ডিয়ান- ওয়েস্টার্ন দালাল এবং তাদের দালাল মিডিয়া  ৬০ বয়সের বুড়া ব্যাবসায়িদের ফাদেফেলে তাদের টাকা লেখা রুচির দুর্ভিক্ষ  বইকে প্রমোট করে, 

প্রমোট করে ওয়েস্টার্ন দের মানুষিক ভ্যাসসম্মহীন কুরুচি সমকামীতা কিংবা ট্রান্সজেন্ডার নামক মানুষিক বিকৃত মতবাদ,

আর মুসলিম দেশে ইসলামিক বই মেলাকে যেখানে মানবতার এবং ইসলামের উত্কৃষ্ট জীবনী বিদ্যমান সাহাবী আক্রম দের এনং বড়ো বড়ো ইসলামিক  মনীষীদের জীবনী..তাদের দালাল মিডিয়া এগুলাকে মনের ভুলেও দেখায়না...

আর যে রাজনইতিক দল এগুলা সাপোর্ট করে তায়েবা কতটা ফানাফিক কাফের আমাদের ইলামকে তারা কিভাবে খোকলা করে দিতেছে...

এখনই আমাদের ভেবে দেখা উচিত নোয়েলে কিছু দিন পরে আর ভাবার মতো সময়ে থাকবেনা....

বাঙালি এতিহ্যর নাম করে ইসলামকে মুছে দিয়ে হিন্দুত্ববাদ পশ্চিমাদের কুরুচিগুলা আধুনিকতার নামে দিয়ে আমাদের নতুনদের মাঝে বিষ ঢুকিয়ে দিতেছে ...

ইসলামকে প্রমান করতে চাচ্ছে পুরাতন সেকেলে...

এখনো যদি আমরা চুপ থাকি তাহলে পরকালে কি মুখ দেখবেন? নাকি ভুলেই গেছেন যে মরতে হবে?!!!!

আমাদের ভেতরে শিরক তো ঢুকিয়েদিয়েসে বার্থডে যার নাম বুয়ের সংগীত নাম হোলিখেলা দ্য গান , স্কুল এ রং খেলার নাম হলো লেপ্তে দিয়েসে আমাদের মাঝে!!!!

ঈমান বলে কি আর আমাদের মাঝে আর কিছু অবশিষ্ট আছে?

আর এখন তো মূর্তি পূজার উৎসবে এ গিয়ে সোর সরি হোলি খেলে ট্রেডিশন এর নাম দিয়েসেন ! খবতো মুসলিম বলেন নিজেকে এগুলা একটাও কি ইমামের কোনো বিধান আছে?

এগুলাতো সব গুলা শিরক!!!!

কোন দিক থেকে আমরা আর মুসলিম আছি????

Wednesday, April 10, 2024

সম্রাট আওরঙ্গজেব




সম্রাট আওরঙ্গজেব ৪৯ বছর ধরে ভারত শাসন করেছেন। তাঁর সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল ৪০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। বলতে গেলে, ভারতবর্ষের প্রায় সম্পূর্ণ এলাকা ছিল তার রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত। প্রজার সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৮০ লক্ষ।

আওরঙ্গজেব বছরে রাজস্ব আদায় করতেন ৪৫০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার। ঐ সময়ে ফ্রান্সের সম্রাট ছিলেন চতুর্দশ লুই। লুই এর চেয়ে আওরঙ্গজেব এর রাজ্যে দশগুণ বেশি রাজস্ব আদায় হত। 

তাঁর অধীনে ভারতবর্ষের অর্থনীতি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। ১৭০০ সালে তিনি ভারতবর্ষের অর্থনীতিকে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেন। ভারতবর্ষের জিডিপি ছিল পুরো পৃথিবীর জিডিপির চার ভাগের এক ভাগ।

১৭০৭ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান আওরঙ্গজেব ৮৮ বছর বয়সে নিজের সম্পত্তির একটা উইল তৈরী করলেন। মৃত্যুর পরে উইলে দেখা গেল- তাঁর কাছে ১৪ রুপি আর নিজ হাতে বোনা কিছু টুপি আছে। এগুলো বিক্রি করে তাঁর জানাযা আর দাফনে খরচ করতে বলেছেন। আর সারাজীবন কুরআন শরীফ নকল করে ৩০০ রূপি জমিয়েছেন। এই টাকাগুলো 
গরীবদের মাঝে দান করে দিতে বলেছেন।

দরবার আর রাজকোষে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল- উইলের বাইরে সম্রাটের কোথাও কোনো সম্পদ নেই। তিনি ছিলেন কুরআনের একজন হাফেজ এবং সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাধারণভাবে জীবনযাপন করেছেন। তিনি টুপি এবং নিজের হাতের লিখা কুরআন বিক্রি করতেন আর রাজ্যের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন না।

Saturday, April 6, 2024

পবিত্র কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশনা যেভাবে এসেছেঃ



কুরআন হাদিসের জ্ঞানে পারদর্শী নন, অথচ নিজেদের অতি জ্ঞানী কিংবা মহাপন্ডিত ভাবেন এমন কিছু লোক বলে থকেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নয়। অথচ, প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা মিরাজের রাতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ৫০ ওয়াক্ত থেকে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত করে উম্মতের জন্য উপহারস্বরূপ দান করেছেন। আর মানুষের জন্য প্রতি দিন এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ বা অত্যাবশ্যক।

নামাজের এই ৫ টি ওয়াক্তও পবিত্র কুরআনুল কারিমের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। দিন এবং রাতের যেই যেই সময়গুলোতে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে তারও নির্দেশনা এসেছে কুরআনুল কারিমে। যদিও অজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ বলে থাকেন যে, কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশনা কোথায়? কুরআনে তো এ কথা উল্লেখ নেই।

উহাদের কথার ভিত্তি নেই, কুরআনের আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় নির্ধারিতঃ

বস্তুতঃ পন্ডিতম্মন্য উক্ত ব্যক্তিগনের ধারণাপ্রসূত এসব কথার আদৌ ভিত্তি নেই এবং এগুলো মোটেই সঠিক নয়। বরং, পবিত্র কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়গুলো সুস্পষ্ট করে দিয়ে বলেন-

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ

সুতরাং, তোমরা আল্লাহর তাসবিহ তথা পবিত্রতা ঘোষনা কর, যখন সন্ধ্যায় (মাগরিব ও ইশার নামাজ দ্বারা) উপনীত হবে এবং সকালে (ফজর নামাজ দ্বারা) উঠবে। -সুরা রূম : আয়াত ১৭

وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ

আর অপরাহ্নে (আসর নামাজ দ্বারা) ও জোহরের সময়ে। আর আসমান ও জমিনে সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই।' -সুরা রূম : আয়াত ১৮

আল্লাহ তাআলা সুরা রূমের উল্লেখিত দু'টি আয়াতে তাসবিহ বলতে নামাজ পড়াকে বুঝিয়েছেন। এ আয়াতদ্বয়ে যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তাহলো- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ের কথা।

প্রথম আয়াতে 'তুমসুনা' (সন্ধ্যা) শব্দ দ্বারা মাগরিব ও ইশা, 'তুসবিহুন' (সকাল) শব্দ দ্বারা ফজর নামাজকে বুঝিয়েছেন। আর দ্বিতীয় আয়াতে 'আশিয়ান' (বিকাল/অপরাহ্ন) শব্দ দ্বারা আসর নামাজ এবং 'তুজাহিরুন' (দুপুর) শব্দ দ্বারা জোহর নামাজের সময়ের উল্লেখ করেছেন। -ফাতহুল কাদির, আহসানুল বয়ান

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রাসূলে কারিম আজীবন আদায় করেছেনঃ

যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কুরআনে নির্ধারিত নেই বলে নামাজীদের অন্তরে ওয়াসওয়াসা দিতে চান তাদের জন্য আরেকটি বিষয় জেনে রাখা উচিত যে, রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সারা জীবনের প্রাকটিস ছিল দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। মুসলিম উম্মাহ তো তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শই ফলো করে থাকে। সুতরাং, বিভ্রান্তির বীজ যতই বুনতে চান না কেন, প্রকৃত মুসলিম কোনও অবস্থায়ই ষড়যন্ত্রের জালে আটকে যাবে না। তারা রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ অনুযায়ী প্রতি দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। করেই যাবেন ইনশাআল্লাহ।

তাওফিক প্রার্থনা করছি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকটেঃ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যাবতীয় ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারীদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ইবাদতে মগ্ন-নিমগ্ন হওয়ার তাওফিক দান করুন। তাদের পেতে রাখা ঈমান বিধ্বংসী আকর্ষনীয় ও লোভনীয় বহুমাত্রিক রঙিন ফাঁদে পা না দিয়ে এবং সকল বিভ্রান্তির হাত থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে যথাসময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।