Search This Blog

Wednesday, May 6, 2026

সিংহের মত এক দিন বাঁচা শেয়ালের মত একশ বছর বাঁচার চেয়ে শ্রেয়”— টিপু সুলতান


“সিংহের মত এক দিন বাঁচা শেয়ালের মত একশ বছর বাঁচার চেয়ে শ্রেয়”— টিপু সুলতান

আজ ৪মে ঠিক এই দিনে, ১৭৯৯ সালে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতেই শাহাদাত বরণ করেন টিপু সুলতান। ইতিহাসে “মহীশূরের বাঘ” নামে পরিচিত এই মহান শাসক শুধু একজন যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, সংস্কারক এবং উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক।

টিপু সুলতানের প্রকৃত নাম ছিল ফতেহ আলী খান। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭৫০ সালে দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যে। তাঁর পিতা হায়দার আলী ছিলেন মহীশূরের শক্তিশালী শাসক এবং একজন দক্ষ সামরিক নেতা। শৈশব থেকেই টিপু সুলতান যুদ্ধকৌশল, প্রশাসন ও কূটনীতির শিক্ষা লাভ করেন। পিতার সান্নিধ্যে থেকে তিনি অল্প বয়সেই যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন এবং দ্রুতই নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৭৮২ সালে হায়দার আলীর মৃত্যুর পর তিনি মহীশূরের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং শাসনভার গ্রহণ করেন।

শাসক হিসেবে টিপু সুলতান ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও প্রগতিশীল। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে ভারতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যান। তাঁর শাসনামলে মহীশূর একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, রাজস্বব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দেন।

টিপু সুলতানের অন্যতম বড় অবদান ছিল সামরিক প্রযুক্তিতে নবতর উদ্ভাবন। তিনি লোহার নলযুক্ত রকেট অস্ত্রের উন্নত ব্যবহার করেন, যা সে সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত আধুনিক। এই রকেট প্রযুক্তি ব্রিটিশদের বিস্মিত করে এবং পরবর্তীতে তারা এই প্রযুক্তি অনুসরণ করে ইউরোপে নতুন ধরনের রকেট উদ্ভাবন করে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর কৌশল, সাহসিকতা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে ব্রিটিশদের অন্যতম ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করে।

তাঁর জীবনের সঙ্গে “বাঘ” প্রতীকটি বিশেষভাবে জড়িত। কথিত আছে, একবার শিকারের সময় তিনি খালি হাতে একটি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে তাকে হত্যা করেন, এরপর থেকেই তিনি “শের-ই মহীশুর" তথা মহীশূরের বাঘ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর সিংহাসন, রাজকীয় পোশাক, অস্ত্র এবং সামরিক পতাকায় বাঘের প্রতীক ব্যবহৃত হতো, যা তাঁর সাহস ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও টিপু সুলতান ছিলেন সক্রিয়। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট গঠনের উদ্দেশ্যে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। যদিও সেই জোট বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও এটি তাঁর দূরদর্শিতা ও কৌশলগত চিন্তাভাবনার প্রমাণ বহন করে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, নতুন ক্যালেন্ডার প্রবর্তন, রেশম শিল্পের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে মহীশূর অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।

টিপু সুলতান নিজেকে মুসলিম বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন এবং সে সময়ে উসমানীয় খলিফা ৩য় সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সমর্থন ও বৈধতা অর্জন করা।
তিনি ওসমানীয় দরবারে দূত পাঠান এবং চিঠির মাধ্যমে নিজের সালতানাতকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা করেছিলেন যে, খলিফার সমর্থন পেলে ভারতের মুসলিমদের মধ্যে তাঁর প্রভাব আরও বাড়বে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, উসমানীয় সুলতান টিপুর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাকে সম্মানজনকভাবে গ্রহণ করেন। তবে বাস্তবিক সামরিক সহায়তা বা জোট গঠন তেমন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ সে সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য নিজেই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল।

১৭৯৯ সালে শ্রীরঙ্গপত্তনম-এ সংঘটিত যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ফলে মহীশূরের পতন ঘটে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিপু সুলতান যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেন এবং বীরের মতো শহীদ হন। তাঁর এই শাহাদাত তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

#searchinghistory
#muslimhistory 
#TipuSultan

Saturday, May 2, 2026

ইতিহাস কি তবে আমাদের ভুল শেখাচ্ছে? বাংলাদেশের আজকের অবকাঠামো কি পাকিস্তান আমলেরই দান?

ইতিহাস কি তবে আমাদের ভুল শেখাচ্ছে?
বাংলাদেশের আজকের অবকাঠামো কি পাকিস্তান আমলেরই দান?

‎ব্রিটিশ ২০০ বছর শাসন আমলে পূর্ব বাংলায় মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল "ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়। সেটিরও বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কলকাতার প্রভাবশালী মহল।
‎ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছরে পূর্ব বাংলায় কোনো উন্নয়ন করেনি। যদি কিছু করার উদ্যোগও নেওয়া হতো, সেগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত কলকাতার দাদা-বাবুরা। কলকাতাকে তারা ভারতের রাজধানী বানিয়েছিল।
‎বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের শেখানো হয় যে পাকিস্তান ২৪ বছর আমাদের শোষণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন গুলো পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল। 
‎ পাকিস্তান আমলে মোট ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
‎◾রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩)
‎◾চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬)
‎◾জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০)
‎◾জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮)
‎◾পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিঃ) (১৯৬১)
‎▶ পাকিস্তান আমলে মোট ৪ টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
‎◾বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৯৬২ সাল
‎◾রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১৯৬৪ সাল
‎◾চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১৯৬৮ সাল
‎◾খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৯৬৯ সাল
‎উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে মোট ৫ টা, যার মধ্যে ৪ টাই পাকিস্তান আমলের। আর পরবর্তী ৫০ বছরে হয়েছে ১ টা। 
‎ ▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার মোট ৮৭ টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে৷ যার মধ্যে রয়েছে 
‎◾নটর ডেম কলেজ, ঢাকা (১৯৪৯)
‎◾সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (১৯৪৯)
‎◾বাঙলা কলেজ (১৯৬২)
‎◾ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ
‎উল্লেখ্য বর্তমানে ঢাকা শহরে মোট ৩৯ টি কলেজ আছে, যার ভেতর ৮ টি তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে, ২১ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান আমলে, আর মাত্র ১০ টি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে। 
‎▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৮ টা সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। 
‎◾চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭)
‎◾রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮)
‎◾ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
‎◾সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
‎◾স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩)
‎◾স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বর্তমান নামঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) (১৯৬৬)
‎◾শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮)
‎◾রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০)
‎উল্লেখ্য ইংরেজ শাসন আমলের ২০০ বছরে মোট ১টি মেডিকেল তৈরি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ৷ 
‎ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৭ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়। 
‎▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ১৭ টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯টি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে করেছে ১৭ টি। আর বাংলাদেশ সরকার ৫০ বছরে করেছে ৩২টি৷ 
‎▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৪ টি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। 
‎◾ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ(১৯৫৮)
‎◾মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ(১৯৬৩)
‎◾ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ( ১৯৬৩)
‎◾রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (১৯৬৫)
‎উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ আছে ১২ টা এর ভেতর ৪ টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। 
‎▶ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী, নৌ অফিসার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার জন্য ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনী কর্তিক এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর নাম "বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (BMA)" 
‎▶ এছাড়াও প্রতিষ্ঠা হয়েছে.... 
‎◾ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’ (১৯৫০) যার বর্তমান নাম "বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)"। 
‎◾ চট্টগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
‎◾এরকম আরো অনেক বিশেষায়িত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। এছাড়া দেশ ব্যাপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাই স্কুল। 
‎★অনেকেই অভিযোগ করেন পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে পুর্ব পাকিস্তান পিছিয়ে ছিলো, কারন পূর্ব পাকিস্তানে কম উন্নয়ন করা হয়েছে। লক্ষ করুন, ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র ১ টা, বিপরিতে পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৮ টা। অর্থাৎ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির আগ থেকেই আমরা উচ্চ শিক্ষার দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ১৮ গুন পিছিয়ে ছিলাম আমরা!
‎১৯৪৭ সালের পরবর্তী ১০ বছরে পুর্ব পাকিস্তানে যদি ১০ টা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হতো আর পশ্চিম পাকিস্তানে যদি একটাও তৈরি করা না হতো, তবুও তো আমরা পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়েই থাকতাম। আসলে ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা পাকিস্তানের তুলনায় এত বেশি পিছিয়ে ছিলাম, যার ফলে এই অঞ্চল কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে উন্নয়নের দৌড়ে খাপ খাওয়াতে পারেনি।
‎★ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার ছিলো মাত্র ১২%। ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে স্বাক্ষরতার হার দাড়ায় ২৪.৭%। অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছরে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার দ্বীগুন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের আদমশুমারী না হওয়ায় পাকিস্তান আমলের প্রকৃত স্বাক্ষরতার হার জানা যায়নি।
‎▶শিল্প প্রতিষ্ঠান, মিল ও কল-কারখানা
‎◾ বাংলাদেশ সচিবালয় ( ১৯৭১ সালের পর এ সচিবালয়ের পুরাতন ৬ নং ভবনটি ভেঙ্গে ২০ তলা ভবন তৈরী করা হয়)
‎◾ পাকিস্তানের সেকেন্ড ক্যাপিটাল হিসাবে শেরেবাংলা নগর কে পরিকল্পিতভাবে তৈরী
‎◾ সংসদ ভবন
‎◾ বাইতুল মোকাররম মসজিদ 
‎◾ বাংলা একাডেমি 
‎◾ ইসলামিক একাডেমি (বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন) 
‎◾ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
‎◾ কমলাপুর রেলস্টেশন (পূর্বতন রেলস্টেশন টি ছিলো গুলিস্তান-ফুলবারিয়ায়)
‎◾ মীরপুর চিড়িয়াখানা 
‎◾ কুর্মিটোলা বিমানবন্দর (ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
‎◾ যমুনা সেতু (১৯৬৬ সনে সংসদে অনুমোদিত) 
‎◾ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ( ১৯৬১ সালে এর পরিকল্পনা গ্রহন করে তখনকার পূর্বপাকিস্তানের অনেক কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষনে প্রেরণ করা হয়, যারা এখন ইরান ইরাকে কর্মরত। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়)
‎◾ শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
‎◾ আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র 
‎◾ কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র 
‎◾ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল 
‎◾ গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প
‎◾ রামপুরা টেলিভিশন ভবন
‎◾ ঢাকা স্টেডিয়াম
‎◾ ঢাকা যাদুঘর (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন)
‎◾ WAPDA এবং এর অধিনে শতশত বাধ ও সেচ প্রকল্প
‎◾ ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বনানী প্রভৃতি আবাসিক এলাকা গঠন ও নগরায়ন 
‎◾ শত শত পাট ও কাপড়ের কল যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
‎◾ শিল্পায়নের জন্য গড়ে তোলা হয় East Pakistan Industrial Development Corporation (EPIDC)
‎◾ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখান
‎◾ গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি 
‎◾ মংলা সামুদ্রিক বন্দর ( চট্টগ্রাম বন্দরটি মুঘল আমলে তৈরী)
‎◾ঢাকার নিউমার্কেট সহ বিভাগীয় শহরে একটি করে নিউমার্কেট তৈরী
‎◾তেজগাঁও শিল্প এলাকা
‎◾হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প এলাকা
‎◾খালিশপুর শিল্প এলাকা।
‎◾আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ): ১৯৫১
‎◾খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস: ১৯৫৯
‎◾চিটাগং ড্রাই ডক: ১৯৬০
‎◾ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৬৮
‎◾ঢাকা জুট মিলস লিমিটেড: ১৯৫০ এর দশক
‎◾ আমিন জুট মিলস লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৫৩
‎◾ খুলনা জুট মিলস: ১৯৫০ এর দশক
‎◾ ইস্পাহানী কটন মিলস: পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
‎◾ কাপ্তাই জল বিদ্যুত - ১৯৬২
‎◾ চন্দ্রঘোনা পেপার মিল - ১৯৫৩
‎◾ কর্ণফূলী রেয়ন মিল – ১৯৫৩
‎◾ প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজ – ১৯৫৩
‎◾বাংলাদেশে একটিমাত্র তেল শোধনাগার সেটিও পাকিস্তান করে দিয়েছে।
‎১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তান ঘাস খেয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ একটি পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে।
‎তাদের বিমান বাহিনীর আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের কারণে দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীর মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ১৪৩৪ টি যুদ্ধবিমান ও রনকৌশল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। যার মেরুদণ্ড হিসেবে আছে আমেরিকান এফ-১৬, জেএফ-১৭ থান্ডার এবং আধুনিক চীনা জে-১০সি।
‎তাদের কাছে আছে শাহীন-৩ (২,৭৫০ কিমি পর্যন্ত পাল্লার), গৌরী এবং গজনভীর মতো একাধিক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তাদের কাছে বাবর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং যা স্থল ও সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
‎তাদের সেনাবাহিনীর কাছে ২,৬০০টিরও বেশি প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কের একটি বহর রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত খালিদ, ভিটি-৪ এবং টি-৮০ইউডি ট্যাঙ্ক।
‎দেশটি তার প্রতিরক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে গিয়েছে। চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে নিজস্ব জঙ্গি বিমান বানিয়েছে। তাদের কাছে বুরাকের মতো উন্নত ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে এবং উইং লুং ড্রোনের জন্য চীনের সাথে সহযোগিতা করে। 
‎তাদের কাছে আটটি সাবমেরিন রয়েছে, উপকূলরেখা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য নৌবহরে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট এবং দ্রুতগামী মিসাইল বোট রয়েছে।
‎এছাড়াও তাদের কাছে ৩,০০০টিরও বেশি কামান (টানা ও স্ব-চালিত উভয়ই) এবং একাধিক রকেট লঞ্চার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
‎এমনকি পাকিস্তানের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পেয়েছে। শিক্ষার মানেও পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশটি বড় খেল দেখিয়েছে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে। তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি তে নিজেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে কূটনীতি ও সামরিক পার্সপেক্টিভে। যারা আমেরিকা এবং ইরানকে ও এক টেবিলে বসাতে পারছে। 
‎আর ১৯৭১ সালে বিজয়ী বাংলাদেশের যুদ্ধ করে দাসত্বের সার্টিফিকেট নিয়েছে। তারা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়ে পৃথিবীর প্রথম চেতনা বোমা বানিয়েছে। যা চীনের হাইড্রোজেন বোমার চেয়েও ভয়ংকর। 
‎ এই পর্যন্ত সংসদের মতো একটা স্থানে চেতনা বড় নাকি আধুনিকতা বড়! এই নিয়ে কয়েকশ অধিবেশন চলছে।আফসোস🙂
‎#কপিপোষ্ট

Friday, May 1, 2026

ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আল-গজনবি রাহি.। তিনি ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের সুলতান।



আজ ৩০ এপ্রিল ঠিক এই দিনে, ১০৩০ সালে ইন্তেকাল করেন মুসলিমদের ইতিহাসে 'ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আল-গজনবি রাহি.। তিনি ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের সুলতান। তার সাম্রাজ্য মূলত আধুনিক আফগানিস্তান, ইরান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার জীবদ্দশায় তিনি ১৭বার ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ঐতিহাসিক সূত্রে সুলতান মাহমুদকে ইসলামের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে দেখা যায়। আব্বাসীয় খলিফার আনুগত্য স্বীকার করে তিনি 'ইয়ামিন-উদ-দৌল্লা এবং আমিন-উল-মিল্লাত' উপাধি ধারণ করেছিলেন।

সুলতান মাহমুদ একজন অসাধারণ সামরিক কৌশলবিদ, ইনসাফপরায়ণ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তার সামরিক দক্ষতা এতটাই উন্নত ছিল যে তিনি তার ১৭টি ভারত অভিযানের একটিতেও পরাজিত হননি। তিনি একটি সুসংহত এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে তুর্কি, আরব এবং ভারতীয় সৈন্যদের সমন্বয় ছিল। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জ্ঞানী ও গুণীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার দরবারে বিখ্যাত পণ্ডিত ও কবি যেমন আল-বেরুনী এবং ফেরদৌসী সমাদৃত ছিলেন।

ভারতে প্রেরিত সুলতান মাহমুদ গজনবীর ১৭টি সফল অভিযানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

১. ১০০০: খ্রিস্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদের প্রথম ভারত অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে তিনি খাইবার গিরিপথে অবস্থিত ভারতের সীমান্ত দুর্গ ও কয়েকটি সীমান্ত নগরীর অধিকার করেন।

২. ১০০১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবের হিন্দু শাহী শাসক জয়পাল। মাহমুদ পেশোয়ারের কাছে তাকে পরাজিত করেন এবং বিপুল ধনসম্পদ লাভ করেন। জয়পাল বন্দি হন, তবে পরে মুক্তি পান এবং অপমানে আত্মহত্যা করেন।

২. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ মুলতান আক্রমণ করেন। সেখানকার শাসক দাউদ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন এবং মাহমুদ প্রচুর কর আদায় করেন।

৩. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ ভাতিন্ডার শাসক বিজয় রায়কে পরাজিত করেন। ভাটিণ্ডার রাজার সাথে মাহমুদের পিতার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাহমুদের আমলে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজয় রায়। ফলস্বরূপ পরাজিত হতে হয় তাকে এবং তিনিও আত্মহত্যা করেন।

৪. ১০০৫ খ্রিস্টাব্দ: তিনি মুলতানের শাসনকর্তা বিদ্রোহী ইসমাইলী শাসক আবুল ফতেহ দাউদকে দমন করেন এবং সাথে সাথে মুলতানও অধিকৃত করেন।

৫. ১০০৭ খ্রিস্টাব্দ: এ সময় সুলতান মাহমুদ সুখপালের বিরুদ্ধে তার পঞ্চম অভিযান পরিচালনা করেন।

৬. ১০০৮ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানটি ছিল রাজা আনন্দপালের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। আনন্দপাল কনৌজের প্রতিহার শাসক এবং অন্যান্য ভারতীয় রাজাদের সাথে জোট গঠন করেও মাহমুদের কাছে পরাজিত হন।

৭. ১০০৯ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ  নগর কাটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তেমন কোন বাধা না পাওয়ায় খুব সহজেই এ শহর জয় করেন এবং বিপুল পরিমাণ গনিমত লাভ করেন।

৮. ১০১০ খ্রিষ্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদ মুলতানে আরো একটি অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানকার বিদ্রোহী শিয়া মুসলিমদের বিতাড়িত করেন।

৯. ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ নন্দনা অধিকার করেন এবং ত্রিলোচন পালকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।

১০. ১০১৪ খ্রিস্টাব্দ: মাহমুদ থানেশ্বর আক্রমণ করেন এবং সেখানকার হিন্দুরা তার বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হয়।

১১. ১০১৫-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ দুবার কাশ্মীর আক্রমণ করেন, তবে দুর্গম ভূখণ্ড এবং প্রবল প্রতিরোধের কারণে তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

১২. ১০১৮-১০১৯ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। তিনি কনৌজ আক্রমণ করেন এবং সেখানকার প্রতিহার শাসক রাজ্যপাল পালিয়ে গেলে কনৌজ সহজেই মাহমুদের হস্তগত হয়। 

১৩. ১০২০-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ বুন্দেলখণ্ডের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ করেন। চান্দেল্ল শাসক গণ্ড দেব প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুহূর্তে সে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যায়।

১৪. ১০২১-১০২২ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ গোয়ালিয়রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে গোয়ালিয়রের রাজা তার বশ্যতা স্বীকার করে।

১৫. ১০২৩ খ্রিস্টাব্দ: গোয়ালিয়রের রাজা সুলতান মাহমুদের বশ্যতা স্বীকার করার পর তিনি ১০২৩ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় হিন্দু রাজা নন্দার বিরুদ্ধে সৈন্যসামন্ত নিয়ে কালিঞ্জর আক্রমণ করেন। এই অভিযানকালে তিনি গোন্ডার বিখ্যাত দুর্গ অবরাধে করেন। কালিঞ্জরের রাজা তখন বার্ষিক কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

১৬. ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিযান। তিনি গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা করেন। হিন্দুরা এখানে তীর্থ করতে আসত। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ছিল অশ্লীল চিত্র দ্বারা শোভিত। সোমনাথ বিগ্রহের খ্যাতি ছিল সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী এবং কর্মরত ব্রাহ্মণগণ মনে করতেন যে, বিগ্রহসমূহের অলৌকিক ক্ষমতা মাহমুদের আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। হিন্দুদের বিশ্বাস যে ভ্রান্তিমূলক ছিল, তা প্রমাণ করার জন্যই সুলতান মাহমুদ সোমনাথ জয় করতে মনস্থ করেছিলেন। ইবনে খালদুন, ফিরিস্তা এবং ডব্লিউ হেগ প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ এই মত সমর্থন করেন।

১৭. ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ: সোমনাথ অভিযানের পর ফেরার পথে মাহমুদ জাঠদের দ্বারা আক্রান্ত হন। এই অভিযানে তিনি জাঠদের পরাজিত করেন।

সুলতান মাহমুদ এর ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য–
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: পৌত্তলিকতার ধ্বংস সাধন করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সুলতান মাহমুদ ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ইসলামের এই সুমহান দায়িত্ব পেয়ে মাহমুদ হিন্দুস্তানে ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্রত ছিলেন। ফলস্বরূপ এ সকল অভিযানে কয়েকজন রাজাসহ অসংখ্য হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। তবে তিনি উদার এবং ইনসাফরায়ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কারও উপর ধর্ম চাপিয়ে দেননি কখনো। যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ ব্যতীত অবৈধ লুটতারাজ তার দ্বারা হয়নি।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: একথা সত্য যে সুলতান মাহমুদ গজনী সম্রাজ্যের বিস্তারে জোর দিয়েছিলেন। গজনিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তৃতে রাজ্য দখল তার জন্য অপরিহার্য ছিল। এছাড়াও উপমহাদেশের হিন্দু রাজন্যবর্গ কর্তৃক চুক্তিভঙ্গ, আনুগত্যহীনতা, শত্রুকে সাহায্য দান ও বিশ্বাসঘাতকতা সুলতান মাহমুদকে বারবার অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য করেছে। 

অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য: প্রতিটি অভিযানেই সুলতান মাহমুদ বিপুল পরিমাণ গনিমত অর্জন করতেন। মধ্য এশিয়ার শত্রু দমন করা ও গজনীকে কেন্দ্র করে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য এর সম্পদের প্রয়োজন ছিল।

এত বড় মুসলিম বিজেতা হয়েও সুলতান মাহমুদ কখনো অহংবোধ করেননি। বরঞ্চ আল্লাহর সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি যুদ্ধের নিয়মের বাইরে কখনো শত্রুকে হত্যা করেননি। অসীম সাহসিকতার মাধ্যমে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। হিন্দুত্ববাদীরা সবসময় সুলতান মাহমুদকে হিংস্র, বর্বর ও ধ্বংসকারী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও প্রকৃত ইতিহাসবিদদের কলমে সুলতান মাহমুদ একজন আল্লাহভীরু দ্বীনদার শাসক হিসেবেই অমর হয়ে আছেন, যিনি যুদ্ধের ময়দানেও নফল সালাত আদায় করেছেন এবং যার রাত্রি কেটেছে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।

#searchinghistory 
#muslimhistory 
#mahmudgaznavi