Search This Blog

Wednesday, November 17, 2021

মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী.....


মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ...

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। সন্তোষের মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। লাইন-প্রথা উচ্ছেদ, জমিদারদের নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন সারাজীবনই তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তার উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার সর্বশেষ কীর্তি ছিল ফারাক্কা লং মার্চ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯১১ সালে মওলানা মোহাম্মদ আলীর সান্নিধ্যে এসে রাজনীতিতে নামেন। ১৯১৭-১৮ সালে তিনি প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে তুরস্কের সাহায্যে ভারতবর্ষ স্বাধীন করার পরিকল্পনা রেশমী রুমাল আন্দোলন করেন এবং ’১৯ সালে কারাবরণ করেন। দেশবন্দু চিত্তরঞ্জন দাসের সাহচর্য লাভ করেন, দেশবন্ধুর স্বরাজ আন্দেলনে অংশ নেন। খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন। তিনি ১৯২৫ হতে ১৯২৭ আসামে ও পূর্ব বাংলায় কৃষক-মজুরদের স্বার্থে সংগঠন গড়ে জমিদার ও সুদখোর মহাজনবিরোধী আন্দোলন করেন। ১৯২৮ সালে কলকাতায় খিলাফত সম্মেলন ও ১৯২৯ সালে আসামের ভাসান চরে দ্বিতীয় বারের কৃষক- প্রজা সম্মেলনে যোগদেন।

বনাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ভাসানী ১৯৩৬ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দেন। আসামের প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি হন। ১৯৩৭ সালে আসামে কুখ্যাত লাইন প্রথাবিরোধী আন্দোলন করেন এবং আসাম প্রাদেশিক পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন করেন। ১৯৪৭ সালের ৫ মার্চ আসামে আন্দোলনের ডাক দেন অতপর বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৪৮ সালের ১৭ মার্চ পূর্ব বাংলার ব্যবস্থাপক সভায় বাংলা ভাষার পক্ষ সমর্থনে পাকিস্তানে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক প্রকাশ করেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা করে সভাপতি হন। ১৯৫৫ সালের ১৫ জুন পূর্ব বাংলার স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে জনসভা করেন। ১৯৫৭ সালের ৬ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশে বিখ্যাত “আসসালামু আলাইকুম” ঘোষণা করেন। ওই বছরের মার্চ মাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধে আওয়ামী লীগ ত্যাগ এবং ২৬ জুলাই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬৫ সালে আইয়ুববিরোধী নির্বাচনে মিস ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে অংশগ্রহণ করেন। পাক-ভারত যুদ্ধে দেশপ্রেমিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৬৬ সালে ন্যাপের পক্ষ থেকে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন, ১৯৬৮ সালে আইয়ূবের পতনের লক্ষে ১০ দফা “দাবি সপ্তাহ” পালন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব আহূত গোলটেবিল বৈঠক বর্জন। ১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে সন্তোষে ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলন, পাকিস্তানের টোবাটেক সিং-এ মার্চে কৃষক সম্মেলন, পাঁচবিবির মহিপুরে এপ্রিলে কৃষক সম্মেলন করেন। ৪ ডিসেম্বর পল্টনের জনসভায় স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান ঘোষণা দিয়ে বলেন, “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালইয়া দ্বীন”।

স্বাধীনতার পর তিনি দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলেন। কিন্তু গণমানুষের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করেছেন। ১৯৭২ সালে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাপ্তাহিক হক- কথা প্রকাশ করেন। ৯ এপ্রিল ঢাকার পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনসভায় ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেন। দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৪ ভাসানীর দেশব্যাপী ভুখা মিছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নাড়া দেয়। ১৯৭৬ সালে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ফারাক্কা মিছিলের ডাক। ১৬ ও ১৭ মে রাজশাহী হতে কানসাট পর্যন্ত ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। ১৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

(সংগৃহীত)

Saturday, November 13, 2021

তেলের দাম ও ভাড়া বৃদ্ধির অনুপাতের অঙ্ক কেউ করল না কেন?

তেলের দাম কেন বেড়েছে? আমার ফেসবুকের পোস্টের নিচে এই মন্তব্য থাকে যে আমরা সারাক্ষণ তেল দিই, তাই তেলের দাম বাড়ে! এ ব্যাপারে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ লেখাটা ১৪ দিন আগের লেখায় খানিকটা উদ্ধৃত করেছিলাম।

এবার আমরা একটা সরল অঙ্ক কষব। ৬৫ টাকার ডিজেলের দাম হয়েছে ৮০ টাকা। ৬৫ টাকায় বেড়েছে ১৫ টাকা। শতকরা বাড়ল কত? (১৫/৬৫) x ১০০ = ২৩.০৭। অর্থাৎ দেশে ডিজেলের দাম বেড়েছে ২৩ ভাগ। কিন্তু এর ফলে একটা বাসের টিকিটের দাম কী করে ২৭ ভাগ কিংবা ৩০ ভাগ বাড়বে!

ধরা যাক, একটা বাসের ক্রয়মূল্য ৬০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর এই বাসটা চলবে। তাহলে প্রতি মাসে বাসের ক্রয়মূল্য এক লাখ টাকা। ধরা যাক, বাসটায় কর্মচারী আছেন পাঁচজন। তাঁদের মাসিক বেতন এক লাখ টাকা। রুট পারমিট, মেরামতি খরচ, গ্যারেজ খরচ, সার্ভিস চার্জ, লাইসেন্স নবায়ন খরচ মাসে আরও ২০ হাজার টাকা। এর রোজ তেল লাগে তিন হাজার টাকা। তাহলে মাসে তেলের খরচ ৯০ হাজার টাকা। মাসে মোট খরচ আগে ছিল ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাসে এখন তেলের খরচ বেশি লাগে ৯০ x .২৩ = ২০.৭ হাজার টাকা। তাহলে এখন মাসিক খরচ দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা। মাসিক খরচ ৩ লাখ ১০ হাজার টাকার চেয়ে এখন ২১ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। শতকরা হারে বেড়েছে (২১/৩১০) x ১০০ = ৬.৭৭। অর্থাৎ বাসভাড়া বাড়তে পারে ৬.৭৭ ভাগ।

অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে মাত্র একটি উপাদানের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেটির শতকরা বৃদ্ধির সমান খরচ বা তারও বেশি খরচ পুরো জিনিসটার বাড়ে না। একটা উদাহরণ দিই। ধরুন, একজন একটা ডিম ভাজা বিক্রি করেন ২০ টাকায়। ডিমের দাম ১০ টাকা। পেঁয়াজ, মরিচ, নুনের দাম দুই টাকা। তেলের দাম এক টাকা। এখন এই তেলের দাম হয়েছে ১ টাকা ২৩ পয়সা। তাতে তিনি ডিম ভাজার দাম ২০ টাকা ২৩ পয়সা রাখতে পারেন। কিন্তু পুরো ডিম ভাজার দাম ২০ x .২৩ = ৪.৬০ টাকা বাড়াতে পারেন না। এখন তিনি ডিম ভাজার দাম ২৪ টাকা ৬০ পয়সা রাখতে পারেন না। কারণ, তাঁর খরচ আসলে বেড়েছে শুধু ২৩ পয়সা। তঁাকে ডিমের দাম রাখতে হবে ২০ টাকা ২৩ পয়সা।

এখন আসছে দ্বিতীয় প্রশ্ন। যাঁরা তেলের দাম বাড়ান, তাঁদের একটা অকাট্য যুক্তি আছে। আর তা হলো, যদি বাংলাদেশে তেলের দাম প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বেশি হয়, তাহলে আমাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা তেল প্রতিবেশী দেশে পাচার হয়ে যায়, যা আমাদের জন্য সমূহ ক্ষতি আর বেদনার কারণ। আমরা এই বেদনা বুঝি। আমরা ফরেন কারেন্সি দিয়ে বিদেশ থেকে তেল এনে ভর্তুকি দিয়ে কৃষককে কিংবা পরিবহন খাতকে দেব বলে দাম কমিয়ে রাখছি, সেই কষ্টার্জিত তেল চলে যাবে প্রতিবেশী দেশে, ভর্তুকির গুড় পিঁপড়ায় খাবে, তা হতে দেওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে কি আমরা একটা কথা বলতে পারি! আমাদের সীমান্তগুলোকে নিশ্ছিদ্র করুন। আমরা তেলের বদলে গরু চাই না। আমাদের চাষিরা এরই মধ্যে দেশেই গরু-ছাগল উৎপাদন করে দেশকে লাইভস্টকের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে ফেলেছেন। আর যা যা আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে বা দূরদেশ থেকে আমদানি করতে হবে, তা আমরা নিয়মকানুন মেনে কর-শুল্ক দিয়ে আনব। তাতে আমাদের অর্থনীতি পুষ্ট হবে।

By using this site, you agree to our Privacy Policy.

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

প্রথমেই আমি বলতে চাই আমি কোন দলের পক্ষে বক্তব্য রাখতেছি না।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে ঘটে যাওয়া জেল হত্যার বিশ্লেষণ ; হতেও পারে সত্যান্বেষী তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদর্শক... 

যে ২২টি বিষয় তরুণ-প্রজন্মকে জানতেই হবেঃ

১. ১৫ অগাষ্ট হত্যার পর বাকশাল নেতা মোশতাক রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। গঠন করেন মন্ত্রীসভা। বাকশাল মন্ত্রীসভার প্রায়সকলে মোশতাকের মন্ত্রীসভার সভায় ছিলেন।

২. মোশতাক সারাদেশে সামরিক আইন জারি করেন। ঐ সময় সেনাপ্রধান ছিলেন শফিউল্লাহ।

৩. মুক্তিযোদ্ধা জিয়া সে সময় সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ছিলেন।

৪. ১৫ অগাষ্টের পরে মোশতাকের মন্ত্রীসভার শপথ অনুষ্ঠানে যাননি জিয়াউর রহমান। বিজয়ীর বেশে গিয়েছিল তাহের-ইনু বাহিনী এবং তৎকালীন মুজিব বিরোধী নেতারা।

৫. ১৫ অগাষ্টের পরেও কমপক্ষে দশ দিন, অর্থাৎ ২৪শে আগাষ্ট পর্যন্ত জেনারেল শফিউল্লাহ ছিলেন সেনা প্রধান।

৬. রাষ্ট্রদূত হিসাবে সরকারি চাকুরী কনফার্ম করারপর 'সেনাপ্রধান' পদ ছাড়েন শফিউল্লাহ। এরপর যথা নিয়মে ডেপুটি চীফ অব ষ্টাফ থেকে প্রমোশন পেয়ে ২৫শে আগষ্ট সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।

৭. সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর রক্ষী বাহিনীর প্রভাবমুক্ত একটি শক্তিশালী পেশাদার ও সেনাবাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন শহীদ জিয়া।

৮. জিয়াকে মেনে নিতে পারেননি ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ। তিনি ভেতরে ভেতরে জিয়াউর রহমানকে সরানোর চক্রান্ত শুরু করেন।

৯. তার অংশ হিসেবে খালেদ মোশারফ ১৯৭৫ সালের ২রা নভেম্বর সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করেন।

১০. ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোশতাকের অনুমোদন নিয়ে মেজর জেনারেল হিসেবে নিজে নিজের প্রমোশন নেন এবং এরপর প্রশাসন চলে যায় খালেদ মোশারফের নিয়ন্ত্রণে।

১১. ১৯৭৫ সালের ৫ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোশতাক। মোশতাক এবং খালেদ বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেন ৬ই নভেম্বর। বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। শেখ মুজিবুর রহমান ১০ই জানুয়ারী ১৯৭২ এ দেশে ফেরার ২ দিন পর ১২ জানুয়ারী সায়েমকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন।

১২. ১৫ই আগাষ্ট থেকে মোশতাক-শফিউল্লাহর জারী করা সামরিক আইন বহালথাকায় রাষ্ট্রপতি সায়েম একাধারে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, ৭ই নভেম্বর সংঘটিত হয় সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব। জিয়াকে বের করে আনা হয় বন্দীদশা থেকে।

১৩. ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর জেলের মধ্যে সংঘটিত হয় ৪ নেতা হত্যাকান্ড। আবার ৬ই নভেম্বর পাল্টা ক্যু’তে নিহত হন খালেদ মোশারফ। ১৯৭৭ সালের ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সায়েম।

১৪. অর্থাৎ জেল হত্যাকান্ডের সময় জিয়া বন্দী ছিলেন। ক্ষমতা ছিল খালেদের হাতে।

১৫. ১৯৭৭ সালের ২০শে এপ্রিল প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপ্রতি সায়েম। অঅর্থাৎ CMLA পদ থেকেও সরে যান। ফলে প্রেসিডেন্ট এবং CMLA উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দাযিত্ব আসে জিয়াউর রহমানের কাঁধে।

১৬. ৩রা জুন ১৯৭৮ঃ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বাধীন  বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার গৌরব অর্জন করেন প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়া। ঐ নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন।

১৭. ১৯৭৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২৬০টি এবং আওয়ামীলীগ ৩৯টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে মোট ২৯টি দল অংশ নেয়।১৮. ১৯৭৮ সালের মে মাসে শহীদ জিয়া ১৯ দফা কর্মসূচী ঘোষনা করেন।

১৯. এই কর্মসূচীর উপর জনগনের আস্থা আছে কিনা সেটি যাচাইয়ে ৩০শে মে ১৯৭৮ এ গণভোট হয়।

২০. জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারি করেননি। ১৫ই আগস্ট সামরিক আইন জারী করেন মোশতাক। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বরং তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।

২১. জিয়াউর রহমান ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেননি। ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল মোশতাক সরকার ১৯৭৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর।

২২. জিয়াউর রহমান দালাল আইন বাতিল করেন নি। ১৯৭৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, যে কিনা বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলো শেখ মুজিব কর্তৃক।

(সংগ্রহ করা)