মোহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া: তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র । ১৮১৯ সালে মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া এই মহান পুরুষ ১৮৪০ সালে পিতার ওফাতের পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ নেন।
সে সময় বাংলার নিপীড়িত কৃষকসমাজ একদিকে হিন্দু জমিদার, অন্যদিকে ইউরোপীয় নীলকরদের দ্বিমুখী শোষণে জর্জরিত ছিল। দুদু মিয়া নিরস্ত্র নিপীড়িত কৃষকদের সংগঠিত করে জমিদার ও নীলকরদের ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, এবং তাদের শক্তিমত্তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেন। ফলে ১৮৩৮ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশক ফরায়েজী অধ্যুষিত এলাকায় শান্তি বজায় ছিল।
দুদু মিয়ার সবচেয়ে বিপ্লবী ঘোষণা ছিল যে, জমি থেকে অন্যায় ভাবে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী। জমির হক একমাত্র কৃষকের। শ্রমের ওপরই যে জমির প্রকৃত মালিকানা নিহিত, এই মতবাদ সেকালের বাংলায় ছিল এক যুগান্তকারী চিন্তা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিপীড়িত কৃষকরা তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর পতাকাতলে সমবেত হয়। একইসাথে তিনি গ্রামীণ সমাজে নিজস্ব বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে ফরায়েজী খলিফার অনুমতি ছাড়া সরকারি আদালতে যাওয়া নিষিদ্ধ করেন। এটি ছিল এক ধরনের সমান্তরাল সামাজিক শাসনব্যবস্থা, যা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও স্বনির্ভর করে তোলে।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়, ১৮৬১ সালে মুক্তি পান এবং ১৮৬২ সালের ২৪/২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।
#searchinghistory
#MuslimHistory
#farayezimovement

No comments:
Post a Comment