জিন্নাহর রাজনীতিটা না বুঝলে আপনি আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিটাই বুঝবেন না। কে কার সাথে কী করতেসে, কেন করতেসে, কোন কথাটা কোন জায়গা থেকে আসতেসে, কিছুই ধরতে পারবেন না। আপনি ঘটনা ঘটতে দেখবেন আর হাঁ কইর্যা তাকাইয়া থাকবেন।
আজ বাংলাদেশের সামনে যেই চ্যালেঞ্জটা দাঁড়াইয়া আছে, ওইটার মোকাবেলা করতে হইলে আপনাকে জিন্নাহর রাজনীতিটাই করতে হবে। কোনো রাখঢাক ছাড়া। আনএপোলোজিটিক্যালি। কোন গ্লানি ছাড়া। কোন ব্যখ্যা দেয়া ছাড়াই।
জিয়াউর রহমান ঠিক ওইটাই করসেন। শুনতে খারাপ লাগবে। জিয়ার রাজনীতির এসেন্স যে জিন্নাহর পলিটিক্যাল মিশন এইটা প্রমাণ কইর্যা দেওয়া যাবে।
আর এইজন্যই ভারতমাতা জিন্নাহকে অপ্রাসঙ্গিক কইর্যা রাখতে চায়। লোকটা মইর্যা গেসে আটচল্লিশ সালে। আটাত্তর বছর হইয়া গেল। তবু ছবি টাঙাইলে ছিঁড়তে হয়। কেন?
কারণ প্রশ্নটা জিন্নাহর না। প্রশ্নটা হইলো একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর আলাদা রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকতে পারে কিনা। জিন্নাহকে বৈধ মানলে ওই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ। আর ওই উত্তরটা দিল্লির চলবে না।
জিন্নাহ ঘৃণা কোনো বাংলাদেশের নিজস্ব জিনিস না। ওইটা হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি। আমদানি করা, প্যাকেট খুইল্যা আপনার হাতে ধরাইয়া দেওয়া, আর আপনি ওইটারে চেতনা বইল্যা বুকে জড়াইয়া ধরসেন। আপনাকে কী কী মনে রাখতে বলা হয়, আর কী কী ভুলতে বলা হয়। মনে রাখতে বলা হয় ক্ষতটা। ভুলতে বলা হয় ক্ষতটা কে তাজা রাইখ্যা লাভ করে। মনে রাখতে বলা হয় ভারতমাতার বন্ধুত্ব। ভুলতে বলা হয় সেই বন্ধু আপনাকে কী দিসে।
মনে রাখতে বলা হয় কৃতজ্ঞতা। ভুলতে বলা হয় কৃতজ্ঞতার মেয়াদ থাকে, নাগপাশের থাকে না।
মনে রাখতে বলা হয় আপনি বাঙালি। ভুলতে বলা হয় ওইপারের বাঙালি আপনাকে কোনোদিন নেয় নাই। আপনাকে বাঙ্গালি বলে স্বীকারই করে নাই। কারণ আপনি গরু খাওয়া মুসলমান।
ভারতমাতা এই মন্ত্রটা রোজ আপানার কানে পড়ে। ষোলো কোটি মানুষ ওই মন্ত্র শুনতে শুনতে বড় হইসে। শোনাটা এতো স্বাভাবিক হইয়া গেসে যে ওইটা যে একটা মন্ত্র, ওইটাও আর টের পাওয়া যায় না।
একবার ওই বয়ানের জোয়ালটা ঘাড় থেকে নামান। বুলন্দ আওয়াজে নামান, চুপচাপ না। নিজের সার্বভৌমত্বটা নিজেরা উদযাপন করেন, কারো অনুমতি না নিয়া।
তাইলে দেখবেন ওই প্রেতাত্মাটা আর নাই। ইন্ডিয়ার বয়ান, প্রগতিশীলতার বয়ান, জিন্নাহ ঘৃণা আর আওয়ামী লীগের বয়ান, দুইটা আসলে একটাই জিনিস, আর ওইটার খাদ্য একটাই। আপনার ইতিহাসের ভুল বোধ। খাওয়া বন্ধ করেন॥

No comments:
Post a Comment