Search This Blog

Monday, August 23, 2021

অবৈধ অনুপ্রবেশ

প্রতিবেশী দেশ সমূহের সীমান্তে (বাংলাদেশ অংশে) কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জরুরী প্রয়োজন বাংলাদেশের... 

ভারত ও মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত যথাক্রমে ৪ হাজার কিলোমিটার ও ১৯৩ কিলোমিটার।বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮০ শতাংশের বেশী এলাকায় বেড়া রয়েছে এবং বাকি অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। বাংলাদেশ- মায়ানমার  সীমান্তের অংশেও কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। তবে কিছু জায়গা এখনো অরক্ষিত। যার ফলে উভয় দেশের  সীমান্ত এলাকায় অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

মূলত ভারত-মায়ানমার তাদের সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক, চোরাচালান রোধ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্যই কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছিল। ভারতের দাবী বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ সীমান্ত দিয়ে সেই দেশে অনুপ্রবেশ করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বাংলাদেশ থেকে হয়তো হাতে গোনা কিছু মানুষ ভারতে অনুপ্রবেশ করে অবৈধভাবে । কিন্তু ভারত থেকে এর বেশী মানুষ অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সামগ্রী ভারতে পাচার হয়ে যায়। বাংলাদেশ সীমান্তের অংশে কোন বেড়া ও প্রতিবন্ধকতা না থাকার কারনে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বিজিবির পক্ষে সেটা রোধ করা সম্ভব হয়না অনেকাংশেই। শুধু মাত্র বাংলাদেশ থেকে ইলিশের মৌসুমে হাজার হাজার কেজি পদ্মার ইলিশ পাচার হয়। সাথে স্বর্ণ চোরাচালান,  চামড়া পাচার,  নারী ও শিশু পাচারতো আছেই। যা বিজিবির পক্ষে মোকাবেলা করা খুবই কঠিন। সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে প্রতিবন্ধকতা ও বেড়া থাকলে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সেটা অনেকাংশেই রোধ করতে পারতো। কারন বেড়া থাকলে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বিজিবির হাতেই থাকতো। আর অপরাংশে ভারতে থেকে অবাধে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ফেনসিডিল, নিষিদ্ধ উত্তেজক ঔষধ, ভারতীয় কাপড়, প্রসাধনী ইত্যাদি বাংলাদেশে ঢুকছে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। যদি বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ হয় তাহলে এইসব অবৈধ জিনিস এইদেশে আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। 

মায়ানমারের সাথে স্থল সীমান্তের অংশে কাঁটাতারের বেড়া ও নিয়ন্ত্রণ কম থাকার কারনে এই সীমান্ত সুরক্ষা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা বিজিবির জন্য কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে মায়ানমার স্থল সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া থাকলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ইচ্ছে করলে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যেতো। আর তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস্ব করে দেওয়া ভয়াবহ মাদক ইয়াবার আগমন ঠেকানো যেতো আরো প্রবলভাবেই। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন স্বেচ্ছারিতা ও অনিয়ম এর প্রতিবাদ করা যেতো ভালোভাবেই। বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে বেড়া নির্মাণ হলে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি বাংলাদেশ অংশের পুরো সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। সাথে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠির ষড়যন্ত্র, ও দেশীয় বিদেশী সন্ত্রাসীদের সহজেই মোকাবেলা করতে পারবে সাথে মূল্যবান সামগ্রী পাচার রোধ করতে পারবে। তাই সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া দ্রুত প্রয়োজন।

Copyright- Bangladesh Military Affairs

No comments:

Post a Comment