Search This Blog

Friday, January 31, 2025

*Bangla Sultanate*

**Bangla Sultanate**! The Bangla Sultanate, also known as the Bengal Sultanate, was an independent medieval Islamic kingdom that ruled Bengal (modern-day Bangladesh and the Indian state of West Bengal) from the 14th to the 16th century. Here are some key points about it:

1. **Founding**: The Bengal Sultanate was established in **1352** by **Shamsuddin Ilyas Shah**, who unified the region and declared independence from the Delhi Sultanate.

2. **Capital**: The capital of the Sultanate was initially in **Gaur** (also known as Lakhnauti), and later shifted to **Pandua** and then **Sonargaon**.

3. **Golden Age**: The Sultanate reached its peak during the reign of **Alauddin Hussain Shah** (1494–1519), a period often referred to as the "Golden Age" of Bengal. It was a time of cultural, economic, and architectural prosperity.

4. **Economy**: Bengal was a wealthy region due to its thriving trade, especially in textiles (like muslin), rice, and spices. It had strong trade connections with Southeast Asia, the Middle East, and China.

5. **Culture**: The Bengal Sultanate was known for its syncretic culture, blending Islamic, Hindu, and local Bengali traditions. It contributed significantly to Bengali literature, art, and architecture.

6. **Architecture**: The Sultanate left behind impressive architectural landmarks, such as the **Adina Mosque** in Pandua and the **Sixty Dome Mosque** in Bagerhat (now a UNESCO World Heritage Site).

7. **Decline**: The Sultanate began to decline in the early 16th century due to internal conflicts and external invasions. It was eventually conquered by the **Mughal Empire** in **1576** under Emperor Akbar.

 **Bengal Sultanate**. It was a fascinating period in history, marked by a unique blend of Islamic, Hindu, and indigenous Bengali traditions. Let’s dive deeper:

---

### **Social Structure**
1. **Religious Harmony**:
   - The Bengal Sultanate was known for its religious tolerance and syncretism. While the rulers were Muslim, the majority of the population was Hindu. The Sultanate promoted coexistence, and many Hindus held high administrative positions.
   - Sufi saints played a significant role in spreading Islam in Bengal, often through peaceful means and cultural integration.

2. **Caste System**:
   - The Hindu caste system existed, but the Sultanate’s policies often softened its rigidity. People from lower castes found opportunities in trade, administration, and the military.

3. **Urban and Rural Life**:
   - Urban centers like **Gaur**, **Pandua**, and **Sonargaon** were bustling with trade, crafts, and cultural activities.
   - Rural areas were primarily agrarian, with rice cultivation being the backbone of the economy. Villages were self-sufficient and had strong community ties.

---

### **Cultural Achievements**
1. **Language and Literature**:
   - The Bengal Sultanate played a crucial role in the development of the **Bengali language**. Persian was the official language of the court, but Bengali flourished as a literary and cultural language.
   - The Sultanate patronized Bengali poets and writers. For example, **Maladhar Basu** wrote the *Sri Krishna Vijaya*, a Bengali adaptation of the *Bhagavata Purana*, under the patronage of Sultan **Ruknuddin Barbak Shah**.

2. **Music and Art**:
   - Music and dance were integral to both Hindu and Islamic traditions. Sufi music and devotional songs (like *Baul* and *Kirtan*) became popular.
   - Artisans produced exquisite textiles, pottery, and metalwork, which were highly sought after in international markets.

3. **Architecture**:
   - The Bengal Sultanate is renowned for its distinctive architectural style, which blended Islamic and indigenous Bengali elements. Key features included curved roofs, terracotta ornamentation, and large domes.
   - Notable examples include:
     - **Adina Mosque** (Pandua): One of the largest mosques in South Asia.
     - **Sixty Dome Mosque** (Bagerhat): A UNESCO World Heritage Site.
     - **Eklakhi Mausoleum** (Pandua): A unique example of Sultanate-era architecture.

4. **Festivals and Traditions**:
   - Both Hindu and Islamic festivals were celebrated with great enthusiasm. For example, **Eid**, **Muharram**, **Durga Puja**, and **Pohela Boishakh** (Bengali New Year) were widely observed.
   - The Sultanate’s rulers often participated in or patronized these festivals, fostering a sense of unity among the people.

---

### **Economic and Social Impact**
1. **Trade and Commerce**:
   - Bengal was a major hub for trade, exporting textiles (especially muslin), rice, sugar, and spices. The Sultanate’s ports, such as **Chittagong**, were bustling with merchants from Arabia, Persia, China, and Southeast Asia.
   - The wealth generated from trade contributed to the flourishing of art, culture, and architecture.

2. **Education and Learning**:
   - Madrasas and schools were established to promote Islamic education, while traditional Hindu *pathshalas* (schools) continued to thrive.
   - Scholars and poets from across the Islamic world were attracted to the Sultanate’s court, making it a center of learning and intellectual exchange.

---

### **Legacy**
The Bengal Sultanate left a lasting impact on the region’s culture and identity. Its syncretic traditions laid the foundation for modern Bengali culture, which continues to celebrate its diverse heritage. The architectural marvels from this period remain a testament to the Sultanate’s grandeur and creativity.

---

Sunday, January 12, 2025

ঢাকা প্রায় ২৫০০ বছর ধরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র ছিল।


ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৬১০ সালে বাংলাদেশের বর্তমান রাজধানী ঢাকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলা অঞ্চলে নিযুক্ত মুঘল সুবাহদার ইসলাম খান। ১৬০৮ সালে রাজমহল থেকে তিনি রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন৷ আর এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। কিন্তু মুসা খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তার এখানে আগমন দুই বছর পিছিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঢাকাকে কমপক্ষে আরও চারবার এই অঞ্চলের রাজধানী নামকরণ করা হয়। প্রথমবার ১৯৬০ সালে মীর জুমলা, দ্বিতীয়বার ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরে।

কিন্তু এখন পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন এক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, এই সময়ের আগেও অন্তত দুইবার ঢাকা ছিল এই অঞ্চলের রাজধানী। এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে 'পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন: ঢাকার উৎপত্তির বিশ্লেষণ' শীর্ষক একটি পাবলিক বক্তৃতায় নতুন এই তথ্য জানানো হয়।

আগের ইতিহাসের বইগুলিতে বলা হয়েছে যে, ঢাকা ৪০০ বছরের পুরোনো শহর। তবে আবিষ্কারটি থেকে জানা যায়, ঢাকা প্রায় ২৫০০ বছর ধরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র ছিল।

খননের কাজ যেভাবে শুরু
আবিষ্কারটি সাধারণভাবে বলতে একেবারে 'নতুন' নয়। অনুসন্ধানটি ২০১৬-১৭ সালে শুরু হয়েছিল; পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করার পর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিরাপত্তা সেবা বিভাগ 'পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ' নামে একটি প্রকল্প চালু করে।

এক্ষেত্রে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও তার দলকে খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অধ্যাপক সুফি বলেন, "ইসলাম খান ঢাকায় আসার পর একটি দুর্গে বসবাস করতেন। অনেক স্থানীয় ঐতিহাসিক এই দুর্গটিকে মুঘল দুর্গ বলে উল্লেখ করেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "কিন্তু খানের একজন অ্যাডমিরাল মির্জা নাথান 'বাহারিস্তান-ই-গায়বি' (অদৃশ্যের বাগান) নামে একটি বই লিখেছেন। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকায় আগে থেকেই একটি দুর্গ ছিল।"

ঢাকায় প্রথমবারের মতো মানব বসতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এটিই প্রথম দাবি যে, ঢাকা সিল্ক রুটের সাথে যুক্ত ছিল।"

অধ্যাপক সুফি মনে করেন, ইসলাম খানের আগমনের আগে ঢাকা বাংলা অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে অন্তত দুইবার ছিল। প্রথমবার ঐতিহাসিক যুগে (আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ) আর অন্যটি ১৫ শতকে।

ঢাকা কেন বারবার রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে?

অধ্যাপকের সুফির মতে, ঢাকাকে রাজধানী ও ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে এই অঞ্চলের অবস্থান ও জলবায়ু ছিল দুটি মূল কারণ।

অধ্যাপক সুফি বলেন, "ঢাকার ভৌগোলিক অবস্থান খুবই অনন্য। যা বিশ্বের অন্যসব শহরের মতো নয়। যদিও ঢাকা বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত বলে মনে করা হয়। তবে ঢাকার মধ্য দিয়ে প্রায় ৫০টি নদী ও খাল প্রবাহিত ছিল।"

অধ্যাপক আরও বলেন, "ঢাকা থেকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতই ছিল বেশ সহজ। একইসাথে বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো ব্যাপার এই যে, এই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি বন্যামুক্ত। যা এটিকে চট্টগ্রামের মতো অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা সুবিধা দিয়েছে।"

কার্টেসি – মতিউর রহমান জীবন

Tuesday, July 30, 2024

স্বাধীনতার নামে আজও চলছে জুলুম

স্বাধীনতার নামে আজও চলছে জুলুম (রেমিট্যান্স/হুন্ডি)

ইংরেজদের জুলুম, নির্যাতন, করের হতে অপামর জনতা প্রতিবাদী হয়। ইংরেজরা ছিল অল্পকিছু লোক আর ভারতবর্ষে তাদের বিরোধী অসংখ্য। তারা আমাদের কিছু লোককে শিক্ষিত করে চাকরি দিল। বাবু, সাহেব নাম দিল আর কিছু লোককে ওদের সুরক্ষা ও আমাদের আন্দোলন প্রতিরোধে ব্যবহার করতো। ফলে কখনও সংঘর্ষ হলে শুধু ইংরেজদের সাথে হতো তা নয় বরং স্বজাতীর লোকদের সাথে সংঘর্ষে জড়াতে হতো। রক্তাক্ত অনেক সংগ্রাম হতো, এসব কর্মকর্তা, দেহরক্ষী বাহিনী দালাল ও স্বাধীনতার শত্রু বলে অভিহিত করা হতো।

ইংরেজরা বিদায় নিল, এরপর অন্যায়, জুলুম, নির্যাতনের জন্য আবার বিভক্তি। তাদের রেখে যাওয়া বহু আইন আজও ভারতবর্ষে বিদ্যমান।

আজ দেখুন- আমাদের দেশে একই ফেতনা বিদ্যমান- আমাদের করের টাকায় যাদের বেতন চলে, সরকারের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য, প্রতিবাদ করলে সেসব প্রশাসনের লোকগুলোকে ব্যবহার করা হয় আমাদের বিরুদ্ধে।

রসূল (সা) বলেছেন – ‘(হে কা’ব!) তুমি নির্বোধ আমীর (শাসক) থেকে আল্লাহ’র আশ্রয় চেও। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: নির্বোধ আমীর কে?
রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: (ওরা হল) এমন সব আমীর যারা আমার পরে আসবে। তারা না আমার দেখানো পথে চলবে, আর না আমার আদর্শ মাফিক রীতি-নীতি চালু করবে।

কাজেই যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে, ওরা আমার (কেউ) নয়, আমিও তাদের (কেউ) নই এবং তারা (কেয়ামতের দিন আমার) হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে আসতে পারবে না।
আর যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে না এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার এর সহায়তা করবে না, ওরা আমার, আমিও তার এবং (কেয়ামতের দিন) তারা আমার হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে সহজে আসতে পারবে’ [মুসনাদে আহমদ, ৩/৩২১ ; ; মুসতাদরাকে হাকিম-) 

আরও বর্ণিত আছে – হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ‘শেষ জামানায় জালেম ও অন্যায়-অবিচারক শাসকদের আগমন ঘটবে। তাদের মন্ত্রীরা হবে ফাসেক (পাপিষ্ট, পঁচন ধরা), তাদের বিচারকরা হবে খেয়ানতকারী, তাদের (সাথে থাকা) আলেমরা হবে মিথ্যুক। তোমাদের মধ্যে যারা সেই জামানা পাবে, তারা ওদের কর-উসূলকারী, আরেফ এবং সৈন্য হতে যেও না। [ত্বাবরানী, হাদিস ৪১৯০;) 

আমাদের করের টাকায় ইংরেজরা মূর্তি তৈরি করতো আজও বহু চেতনা, স্বাধীনতার নামে মূর্তিসহ শিরকের প্রসার আমাদের করের টাকায় হয়। আর প্রতিবাদ করলে আমাদের স্বদেশীয় প্রশাসনের লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও আমরা স্বাধীনতার দাবিদার, গর্বিত যদিও আমাদের মতবাদের কোন মূল্য তারা দেয় না।

এবার আসি ইসলাম ও কর নিয়ে আলোচনা করি!

ইসলামী রাষ্ট্র কার্যক্রম ও উন্নয়ন চালানোর খাত হল- যাকাত, গনিমত, উসুর, জিজিয়া ও বহিঃবিশ্বের লোকেরা ব্যবসা করতে এলে কর দিত। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত পরে আলোচনা হবে। ভোগ্যপন্যের করের নামে নির্যাতন, দাসত্ব ছিল না। যাকাত সমর্থ্যবানরা দিত সবাই নয়। ধরুন- একজন হতদরিদ্র রিকশাওয়ালা, ফকির বাজার হতে ৫০০ টাকার জামা, পন্য কিনতে যে পরিমান কর দেয়। সেই একই পরিমান কর মিলিনিয়ার ব্যবাসায়ী দেয় অথচ সেই বাধ্যতামূলক যাকাত তার হতে নেওয়া হয় না। (ইনকাম tax ভিন্ন হিসাব আর বেশিরভাগ লোকই প্রকৃত ইনকাম tax দেয় না)। একই এলাকায় বস্তিবাসী, ডুপ্লেক্সের বাসিন্দার বিদ্যুৎ, গ্যাস বিলের করের পরিমাণ একই। তাই গরিবের ছেলে অভুক্ত থাকে আর তাদের দেওয়া করের টাকায় আমলা, মন্ত্রীর ছেলে দামী গাড়ি, বাড়ীর বিলাসীতা করে। অথচ খেলাফায়ে রাশেদীনের যুগে- খলিফার পোষাক, আহার সাধারণ জনগণের মত বা অনেকক্ষেত্রে (তাকওয়ার কারনে) আরও নিম্ন পর্যায়ের ছিল। সামান্যই তারা ভাতা নিতেন।

এর বিপরীতে বর্তমান অর্থনীতি সুদ ভিত্তিক ও জুলুমের। আমরা যা পুরাপুরি পরিত্যাগ করতে পারি না অনেক কিছু মানতে প্রায় বাধ্য। তাই  সুদ ও জুলুমভিত্তিক অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স দিয়ে জালেমকে মুসলিম মারায় সাহায্য করার চেয়ে অন্যভাবে টাকা পাঠানো উত্তম।

আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার ধারনার মূল কারিগর হল নাইট টেম্পলাররা। নাইট টেম্পলাররা ছিল সন্ন্যাসী যোদ্ধা। যাদের মিশন ছিল ধর্মীয় আদেশ, নীতিমালা ও অন্যান্য কার্যাবলী সাধন করা এবং নিজ ধর্ম ও মানুষদের রক্ষার্থে জীবন দেওয়া।

টেম্পলাররা জেরুজালেমে খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীদের প্রতিরক্ষার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিল। শহরটি ১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের মাধ্যমে খ্রিস্টানদের দখলে চলে যায় এবং তীর্থযাত্রীরা ইউরোপ জুড়ে হাজার হাজার মাইল ভ্রমণ করে সেখানে যেতে শুরু করেছিল।

এই তীর্থযাত্রীদের কোনো না কোনোভাবে মাসের পর মাস খাদ্য, পরিবহন এবং বাসস্থানের জন্য তহবিল আবশ্যক ছিল যাতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বহন করা এড়াতে পারে। কারণ এটি তাদের ডাকাতদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।

টেম্পলাররা সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। একজন তীর্থযাত্রী লন্ডনের টেম্পল চার্চে তার নগদ অর্থ রেখে যেতে পারতেন এবং জেরুজালেমে গিয়ে তা তুলে নিতে পারতেন। টাকা বহনের পরিবর্তে তিনি ক্রেডিট চিঠি বহন করতেন। চিঠি বক্তব্য সোজা বাংলায় এই- ‘চাহিবা মাত্র প্রাপককে তার সম্পদ দিতে হবে’ অনেকটা আধুনিক চেকের মতো। নাইট টেম্পলারার ছিল বর্তমানের টাকা পাঠানোর কোম্পানিদের মত।

যদিও টেম্পলাররা এই ধরনের পরিসেবা প্রদানকারী বিশ্বের প্রথম সংস্থা ছিল না। কয়েক শতাব্দী আগে, চীনের ট্যাং রাজবংশ “ফেইকুয়ান” – উড়ন্ত অর্থ – ব্যাবহার করত। এটি ছিল দুই-অংশের একটি নথি যা ব্যবসায়ীরা আঞ্চলিক অফিসে জমা দিত এবং রাজধানীতে তাদের নগদ টাকা ফেরত পেত।

কিন্তু সে ব্যবস্থা সরকার পরিচালনা করত। টেম্পলাররা একটি প্রাইভেট ব্যাংকের অনেক কাছাকাছি ছিল – যদিও এটি পোপেদের মালিকানাধীন ছিল। ইউরোপ জুড়ে রাজা ও রাজকুমারদের সাথে মিত্রতা এবং দারিদ্র্যের শপথ নেওয়া সন্ন্যাসীদের অংশীদারিত্ব দ্বারা পরিচালিত হত এই সিস্টেম।

নাইটস টেম্পলাররা দীর্ঘ দূরত্বে অর্থ স্থানান্তরের চেয়েও অনেক বেশি কাজ করেছিল। ইউরোপ হতে জেরুজালেম পৌছতে দীর্ঘসময় লাগতো তীর্থযাত্রীদের। পক্ষান্তরে টেম্পলরা ঘোড়া দিয়ে পরস্পর যোগাযোগ করে সহজে পৌঁছে যেতে পারতো। তাই তারা এমন করত – তীর্থযাত্রীদের রেখে যাওয়া আমানত সম্পদ বা মুদ্রা সুদের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধার দিত। এভাবে তারা সম্পদশালী হয়ে গিয়েছিল। আর জেরুজালেম পৌছে তীর্থযাত্রী সম্পদ নেওয়ার আগে তা পোছে দিত। অনেক সময় অনেক তীর্থযাত্রী নিরাপত্তার জন্য সম্পদ দেরিতে তুলতেন। এভাবে তারা অন্যের টাকা, সম্পদ দ্বারা নিজেরা সমৃদ্ধ হতো। আবার অনেক তীর্থযাত্রী মাঝপথে মারা যেত তাতেও তাদের লাভ হতো।

বর্তমানে ব্যাংকগুলো তাই করে অন্যের সম্পদ দ্বারা তারা ব্যবসা করে আমানত ভাঙ্গিয়ে। তারপর দেখা যায় চার্চের অনুমতিক্রমে অনেকে সম্পদ না তুলে চিরকুট/চিঠি চেক সদৃশ্য কাগজের মাধ্যমে জমি, পণ্য কেনাবেচা করত। প্রথমে সালাউদ্দিন আইয়ুবী ও পরে খ্রিস্টানরা ওদের অত্যাচার, ফেতনা ও জুলুমের জন্য উচ্ছেদ করে। ধারনা করা হয় তাদের বংশধররাই আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্হা তৈরি করেছে।

নাইট টেম্পলাররা চিরকাল ইউরোপের ব্যাংক ছিল না। ১২৪৪ সালে ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলার পরে ১৩১২ সালে টেম্পলাররা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় এবং পরে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।

তখন সম্পদের বিনিময়ে চেক সদৃশ কাগজ দেওয়া হতো। যাতে যেকোন সময় চেক ভাঙ্গিয়ে সম্পদ নেওয়া যেত, তাই বর্তমান মুদ্রার মত তা উঠানামা করত না। কেউ চাইলে অবরোধ দিয়ে মুদ্রা বা কাগুজে চেককে সাধারণ কাগজে পরিণত করতে পারতো না।

দেশে দেশে মুদ্রার ভিন্নতা হ্রাসবৃদ্ধি করে জালেমরা ইয়েমেন, আফ্রিকার মত দেশগুলোকে দরিদ্র্য করে রাখছে
অথচ স্বর্নমুদ্রা ও রৌপ্য মুদ্রা থাকলে তারাই ধনী থাকতো।

তার উপর ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর জন্য আমরা অনেকটা তাদের উপর নির্ভরশীল। SWIFT এর পূর্ণরূপ Society for Worldwide Interbank Financial Telecommunications. ২০০ এর অধিক দেশ এই সিস্টেম ব্যবহার করে লেনদেন করে। প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ লেনদেনের এক ব্যাংকের টাকা অন্য ব্যাংকে এই সিস্টেমের মাধ্যমেই গিয়ে থাকে। প্রত্যেক ব্যাংকের ১১ ডিজিটের একটি SWIFT কোড থাকে। যার প্রথম চার ডিজিট ব্যাংকের নাম, পরের দুটি দেশের কোড, পরের দুটি লোকেশান কোড এবং পরের তিনটি শাখা কোড নির্দেশ করে। যখন এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানো হয় SWIFT কোড ব্যাবহার করে পাঠানো হয়।

তাই যখন SWIFT সিস্টেম থেকে কোন দেশকে বের করে দেওয়া হয়, তাদের ব্যাংকিং ও লেনদেনে বিপর্যয় নেমে আসে। যেমন - SWIFT  হতে বের করে দেওয়ায়
ইউরোপের কোন ব্যক্তি রাশিয়ায় আর রাশিয়ার কোন লোক ইউরোপে টাকা পাঠাতে পারবে না। তাই যেখানে  অর্থনীতি আগ্রাসন বিদ্যমান সেখানে শুধু হুন্ডি হারাম ঘোষণা দিয়ে বাকী জুলুমের সত্যি লুকিয়ে রাখা বোকামি।

Thursday, July 25, 2024

Dektetor Murderer Shekh Hasina!!




More then 50-60 people killed on sport here in Chittagong road, Hirajhil, shirdhirgong and around nearby, Narayanganj,Bangladesh at 20/07/2024, no internet no media to capture it! More than 70-150 people who were seriously injured that day also died two days later. Most of the people who saw this confirmed that those are not our army these are Indian BSF!
On TV channels and no one else tells this story ! They shoot at the mosque of innocent students and people everywhere. People are dead everywhere no one is here to stop it. The students are protesting for legal rights, but the government killed them.
More then 2000-3000 people were died around bangladesh.but no sounds about it. All are scielent like nothing happened...
Awami leg destroying Bangladesh freedom. They are trying to sale Bangladesh to India. And we are scielent....

Saturday, July 6, 2024

The Seljuk Empire

The Seljuk Empire was founded in 1037 by Tughril (990–1063) and his brother Chaghri (989–1060), both of whom co-ruled over its territories; there are indications that the Seljuk leadership otherwise functioned as a triumvirate and thus included Musa Yabghu, the uncle of the aforementioned two.[18]

During the formative phase of the empire, the Seljuks first advanced from their original homelands near the Aral Sea into Khorasan and then into the Iranian mainland, where they would become largely based as a Persianate society. They then moved west to conquer Baghdad, filling up the power vacuum that had been caused by struggles between the Arab Abbasid Caliphate and the Iranian Buyid Empire.

The subsequent Seljuk expansion into eastern Anatolia triggered the Byzantine–Seljuk wars, with the Battle of Manzikert in 1071 marking a decisive turning point in the conflict in favour of the Seljuks, undermining the authority of the Byzantine Empire in the remaining parts of Anatolia and gradually enabling the region's Turkification.

The Seljuk Empire united the fractured political landscape in the non-Arab eastern parts of the Muslim world and played a key role in both the First and Second Crusades; it also bore witness to in the creation and expansion of multiple artistic movements during this period[19] By the 1140s, the Seljuk Empire began to decline in power and influence, and was eventually supplanted in the east by the Khwarazmian Empire in 1194 and the Zengids and Ayyubids in the west. The last surviving Seljuk sultanate to fall was the Sultanate of Rum, which fell in 1308.

Thursday, July 4, 2024

হায়দারাবাদের পথে বাংলাদেশ'


✅'
নব্বই দশকের শেষের দিকে একটা বই লিখেছিলাম, বইটির নাম ছিল ‘হায়দারাবাদ ট্রাজেডি ও আজকের বাংলাদেশ’। আমার জানা মতে ভারতের হায়দারাবাদ দখল নিয়ে বাংলাভাষায় লেখা সেটাই ছিল প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ। সেখানে ভারত কিভাবে হায়দারাবাদ দখল করেছিল সেই ইতিহাস তুলে ধরে আশংকা প্রকাশ করেছিলাম, বাংলাদেশের পরিণতিও কি হায়দারাবাদের পথ ধরে এগোবে! বইটি প্রকাশ করেছিল, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লি:। বইটা এখন আর বাজারে নেই, প্রিন্ট ও পাওয়া যায়না। হয়ত দরকার নেই! কারন হিসাবে পুস্তক ব্যবসায়ীরা হয়তো ভাবেন ভারত তো হায়দারাবাদ দখল করে ‘হায়দারাবাদ’ নামটাকেই আজ পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে! কে এসব বই পড়বে!

তবে আমার বিশ্বাস ইতিহাস বিলুপ্ত করা যায়না। শীঘ্রই হায়দারাবাদের ইতিহাস হয়ত বাংলাদেশ হয়ে ফিরে আসতে যাচ্ছে। তাই হায়দারাবাদ দখলের ব্লু প্রিন্ট ইতিহাস প্রত্যেকটি বাংলাদেশীর জানা অত্যন্ত জরুরী এবং প্রয়োজনীয় ছিল। হায়দারাবাদের করুন ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষকে অনেককিছু বলতে চায়, জানাতে চায়, সতর্ক করতে চায়! ইতিহাস কোনদিন বিলুপ্ত হয়না!

কি ছিল হায়দারাবাদ ট্রাজেডি ও আজকের বাংলাদেশ বইটিতে
পৃথিবীর বিস্ময়, জ্যোতির পাহাড়, ‘কোহিনুর’ হীরার জন্মদাত্রী, হীরক-আকর সমৃদ্ধ গোলকুন্ডার কন্যা হায়দারাবাদ। গোদাবরী, কৃষ্ণা, তুঙ্গভদ্রা, পূর্ণা, ভীমা, পেনগঙ্গা, ওয়ার্ধা, মুসী, প্রানহিটা নদী বিধৌত সুজলা সুফলা দেশ হায়দারাবাদ।

ইতিহাস খ্যাত অজন্তা-ইলোরা গুহা। আওরঙ্গাবাদ, ওসমানাবাদ শহর। গোলকুণ্ডা, গুলবার্গ, ওয়ারাংগাল, রাইচুর, পারেন্দা, নলদূর্গ প্রভৃতি ঐতিহাসিক দূর্গের ঐতিহ্যমণ্ডিত হায়দারাবাদ। হীরক, স্বর্ণ, লৌহ, কয়লা, অভ্র প্রভৃতি মূল্যবান আকরিক সম্পদে সমৃদ্ধ হায়দারাবাদ। মক্কা মসজিদ, চার-মিনার সৌধ মসজিদ সহ পাঁচশ বছরের মুসলিম শাসনের আভিজাত্য সম্বলিত হায়দারাবাদ ,আজ নিঝুম গোরস্থানে নিভে যাওয়া এক প্রদীপের মত, নাম নিশানাহীন, ভারতশাষিত তেলেঙ্গানা অঙ্গ-রাজ্য মাত্র!
বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় বড় (৮২,৬৯৬ বর্গ মাইল) বিস্তৃত দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে সুবিশাল রাজ্য ছিল হায়দারাবাদ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনেও একধরণের স্বাধীন রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হত দেশটি। হায়দারাবাদের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ছিল। নিজস্ব মুদ্রা ছিল, সেনাবাহিনী ছিল, আইন আদালত ছিল, বিচার ব্যবস্থা ছিল, হাইকোর্ট ছিল, শুল্ক বিভাগ ছিল।

নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, ভাষা ছিল। নিজস্ব স্বাধীন পতাকা ছিল, জাতীয় সঙ্গীত ছিল, দেশে দেশে নিজস্ব রাষ্ট্রদূত ছিল, এমনকি জাতিসংঘে নিজস্ব প্রতিনিধি ও ছিল। অর্থাৎ একটা স্বাধীন দেশের যা যা পদমর্যাদা থাকে, সবই হায়দারাবাদের ছিল। তাছাড়াও ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া এ্যাক্টে হায়দারাবাদকে স্বাধীন মর্যাদা দান করে বলা হয়েছিল, দেশীয় রাজ্যগুলির পদমর্যাদা এবং স্বাভাবিক কার্যাবলী, স্বাধীন ভারতের কাছে রাজ্যগুলির অনুমতি ব্যতিরেকে হস্তান্তর করা যাবেনা। তারপরও নাজী হিন্দুত্ববাদী ভারত, আন্তর্জাতিক সকল আইন-কানুন নর্ম উপেক্ষা করে, হায়দারাবাদে সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে দেশটি দখল করে নেয়, কিন্তু আজও তা স্বীকার করেনা । ওরা বলে জনগনের অনুরোধে পুলিশি এ্যাকশানকরে দেশটিতে শান্তি শৃঙ্খলা সংহত করা হয়েছে!

ভারত কি ভাবে হায়দারাবাদ দখল করলো:

নাজী হিন্দুত্ববাদী ভারতের আশপাশের রাজ্যগুলি দখল করার ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে যে ,প্রথমে তারা কিছু এজেন্টের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে বিরোধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারপর সেই সুযোগে দূর্বল দেশটির উপর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশটি দখল করে নেয়। ৪৭সালের পার্টিশনের সময় যেমনটা আমরা দেখেছি, ত্রিবাঙ্কুরে, যোধপুরে, ভূপালে, জুনাগড়ে এবং হায়দারাবাদে। পরে সিকিমে।

ফিরে আসি হায়দারাবাদের কথায়। মুসলিম শাসিত হায়দারাবাদের জন্মলগ্ন থেকে দেশটির জনগন কোনদিন সাম্প্রদায়িকতা কাকে বলে জানতোনা। সেই হায়দারাবাদে হিন্দু মহাসভা, আর্য্য সমাজ প্রভৃতির শাখা সৃষ্টি করে ভারত সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা শুরু করলো।
বংশ পরম্পরায় প্রচলিত জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে, গান্ধীজীর নির্দেশে, তার শিষ্য রামানন্দ তীর্থ, নরসীমা রাও (ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী), ওয়াই বি চ্যবন প্রমুখ, ‘বন্দেমাতরম’ কে জাতীয় সঙ্গীত করার আন্দোলন শুরু করে দিল।

মোগল আমল থেকে প্রচলিত হায়দারাবাদের নিজস্ব জাতীয় ভাষা, উর্দুভাষার পরিবর্তে হিন্দুস্থানি ভাষা প্রচলন করার দাবিতে ভাষা আন্দোলন শুরু করা হল। ষ্টেট কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রামানন্দ তীর্থর মাধ্যমে বর্ডার এলাকা গুলোতে অস্ত্রধারী ক্যাডারদের জড় করে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে, হায়দারাবাদের সীমান্ত অঞ্চলকে ফ্রীজোন ঘোষণা করলো।

তারপর, শ্রেণী সংগ্রামী নামধারী কমিউনিস্টদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তেলেঙ্গানা বিদ্রোহ সৃষ্টি করে হায়দারাবাদ দখলের প্রস্তুতিমূলক ড্রেস রিহার্স্যাল শেষ করলো! এবার দেশটি দখলের ফাইনাল মঞ্চায়নের পালা।
প্রথম ভাগে, বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে হায়দারাবাদ কে ভিতর থেকে অস্থিতিশীল এবং জনগনকে বিভক্ত ও দূর্বল করে ফেলা হল, যাতে করে সেনাবাহিনীর সামান্য আঘাতেই হায়দারাবাদের পতন ঘটে।

প্রিয় পাঠক! আগ্রাসী ভারতের হায়দারাবাদ দখলের নক্সা বা ব্লু-প্রিন্ট পর্যালোচনা করলে, বর্তমান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনীতির বেশ কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেননা কি?

১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট স্বাধীন পাকিস্তানের ঘোষণা দেয়া হল।ঐ একইদিনে হায়দারাবাদও স্বাধীনতা ঘোষণা করলো। বর্ণবাদী হিন্দু নেতারা হায়দারাবাদের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারলনা! জওহরলাল নেহেরু হুঙ্কার দিয়ে বললেন ‘ যদি এবং যখন প্রয়োজন মনে করবো, হায়দারাবাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করা হবে।’ নেহেরুর এই দাম্ভিক উক্তি সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে ১৯৪৮ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন বৃটিশ বিরোধীদলীয় নেতা উইনস্টন চার্চিল কমন্স সভায় বলেছিলেন, 
“Nehru’s threat to the language, which Hitler might have used the devouring of Austria” (B K Bawa. The last Nizam).

দেশের ভিতরে নানান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পর ভারত ফাইনালি হায়দারাবাদ দখলে সেনা অভিযানের পরিকল্পনা করলো। লেঃ জেঃ ই এম গোর্দাদ , জিএসও সাউর্দান কমান্ড-এর উপর আক্রমণের প্ল্যান তৈরির ভার দেয়া হল। তাকে দেয়া হল —

১) একটি আর্মাড বিগ্রেড।
২) ১৭ ডোগরা রেজিমেন্টের থার্ড ক্যাভালরি ও নবম ব্যাটালিয়ন।
৩) নবম ইনফ্যান্ট্রি ব্যটালিয়ন সহ আরও ৩ টি ইনফ্যান্ট্রি ব্যটালিয়ন।
৪) ৪টি অতিরিক্ত ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন।
৫) ৩রেজিমেন্ট ফিল্ড আর্টিলারি ও একটি এ্যান্টি ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট।
৬) ১৮ ক্যাভালরি সার্ভিস মেইনটেইনেন্স ট্রুপস।
৭) বিপুল সংখ্যক ফোরম্যান ও ষ্টুয়ার্ট ট্যাংক।
৮) রয়্যাল ইন্ডিয়ান বিমান বাহিনী!

অপর পক্ষে হায়দারাবাদের ছিল মাত্র-
১) ১২ হাজার সেনা।
২) ৮ টি ২৫ পাউন্ডের কামান।
৩) ৩ রেজিমেন্ট সেনা যানবাহন।
৪) ১০ হাজার পুলিশ ও কাস্টম বাহিনী, ও কিছু জানবাজ বেসরকারি রেজাকার বাহিনী।

১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যেদিন পাকিস্তানের প্রাণপ্রিয় নেতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ইন্তেকাল করলেন, সমস্ত মুসলমান জাতি তখন শোকে মুহ্যমান, ঠিক সেই সময়টিকে হায়দারাবাদ আক্রমণের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিলেন ভারতীয় খলনায়করা।
১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় বাহিনী, মে: জেঃ জে এন চৌধুরির নেতৃত্বে হায়দারাবাদ অভিমুখে ত্রিমুখী অভিযান শুরু করলো। অভিযানের নাম দেয়া হল ‘অপারেশন পোলো’। ১৯৪৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫ দিনের যুদ্ধে, হায়দারাবাদ বাহিনীর সেনাপতি মেজর জেনারেল আল ইদরুস (নিজাম কে না জানিয়ে) বেইমানী করে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলো ।

এভাবেই চিরতরে নিভে গেল স্বাধীন হায়দারাবাদের স্বাধীনতার প্রদীপ! আজ হায়দারাবাদ নামটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে হিন্দুত্ববাদীরা নাম দিয়েছ তেলেঙ্গানা। শকুনের দল স্বাধীন দেশটিকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যের মধ্যে বিলিবন্টন করে দিয়েছে। হায়দারাবাদের নামনিশানা পর্যন্ত পৃথিবীর মানচিত্রে আর অবশিষ্ট নেই!

ভারতীয় সাংবাদিক ভি টি রাজশেখর এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘মুসলমানদের বড় অক্ষমতা তারা নাজী হিন্দুদের মনের কথা বুঝতে সক্ষম হয়নি’। কথাটির সত্যতা বাংলাদেশের মুসলমানরা আজ হাড়েহাড়ে উপলব্ধি করার কথা থাকলেও,তারা সাপেরচাইতেও খল ভারতকে মিত্র ভেবে হাত বাড়িয়ে বসে আছে! প্রাণের কানুকে ভালবেসে আজ তারা গভীর খাদের শেষ কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে তবুও বেহুঁশ। এবার সামান্য আঘাতেই হায়দারাবাদের মত বাংলাদেশেরও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার পালা!
বাংলাদেশের মানুষ কি করে বিশ্বাস করে যে ভারত তার বন্ধু রাষ্ট্র !
ভারত কোনদিনই বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র ছিলনা। তার বহু প্রমান আমার বিভিন্ন লেখায় তুলে ধরেছি। এখানে স্থানাভাবে তার পুনঃরাবৃত্তি সম্ভব নয়। স্মৃতি তাজা করার জন্য মাত্র দু একটা উপমা তুলে ধরতে চাই। 

১৯৪৭ থকে ৫০ সাল পর্যন্ত জওহরলাল নেহেরু ৩বার পুলিশ এ্যাকশন করে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান (আজকের বাংলাদেশ) দখল করার পরিকল্পনা করেছিল। এ তথ্য ফাঁস করেছেন মিঃ নিরোদ সি চৌধুরী তাঁর এক প্রবন্ধে। জয়প্রকাশ নারায়ন সৈন্য ঢুকিয়ে পূর্ব পাকিস্তান গ্রাস করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শুধু কি নেহেরু- জয়প্রকাশ! প্যাটেল বলেছিলেন ‘পূর্ববাংলাকে ৬মাসের মধ্যেই আমাদের পা’য়ে এসে পড়তে হবে ‘। ‘৪৭ থেকে বর্তমান মোদির জমানা পর্যন্ত ভারত প্রতিটি পদক্ষেপে নিজেকে পররাজ্য লোভী, চরম হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক দেশ বলে প্রমান রেখেছে! তারপরও ৯০%মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ বলে ভারত নাকি তার ‘নাড়ীর বন্ধু ‘!

বাংলাদেশের (ভারত নিয়োজিত) প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতকে যা দিয়েছি সারা জীবন মনে রাখবে"। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর মত’!

অতএব স্ত্রীর সম্পত্তিতে তো স্বামীর অধিকার থাকা বাঞ্ছনীয়। সেজন্যই আজ বাংলাদেশের সবকটা নদী ভারতের অধিকারে! বাংলাদেশের রাস্তাগুলোতে চলছে ভারতীয় ট্রাক বহর! রেলপথ ভারতের জন্য উন্মুক্ত! সমুদ্রবন্দরে ভারতের অবাধ অধিকার প্রতিষ্ঠিত! বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল ভারতের নজরদারিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান থেকে মন্ত্রনালয়ের সচিব বেশিরভাগ পদ ভারতীয় র’অপারেটরদের হাতে! পুলিশ প্রশাসনে গ্রাম পর্য্যায় পর্যন্ত ভারতীয় ক্যাডারদের দৌরাত্ম। তাদের অস্ত্র মুসলমানদের ক্রশফায়ারে হত্যা করার জন্য উন্মুক্ত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে !

দেশের মুসলমান যুবকরা বেকার, অথচ লক্ষ লক্ষ ভারতীয়রা এদেশে চাকরীকরে, ব্যবসা করে ভারতে টাকা পাচার করছে। ভারত এখন বাংলাদেশ থেকে সর্বাধিক রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশে।
দেশের প্রায় সবকটা সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন ভারতের নিয়ন্ত্রনে।
দেশের ভিতরে ‘ইসকন’, ‘হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য' ইত্যাদি নামের বেশ কিছু সংগঠন এবং এনজিও মুসলমানদের বাড়ীঘর দখল, অত্যাচার, হত্যা প্রভৃতির মাধ্যমে সংখ্যাগুরু মুসলমানদের ভিতর ত্রাস সঞ্চার করে রেখেছে। ৯৮% মুসলমান দেশে ইউনিভার্সিটি হলে গরুর গোস্ত খাওয়া নিষিদ্ধ করা হচ্ছে! মেয়েদের হিজাব নিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসবই নিত্যদিনের খবর। তারপরও বলা হচ্ছে বংলাদেশ নাকি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র!

বিজেপির গুরু ভিডি সাভারকর ১৯২৩ সালে হিন্দুর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছিলেন, “হিন্দু এমন এক মানুষ যিনি সিন্ধু থেকে সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ভারতবর্ষকে নিজের পিতৃভূমি, পূণ্যভূমি এবং তার ধর্মের জন্মস্থান বলে মনে করে।" ভারত তোষনকারী আওয়ামীলীগ নেতানেত্রীরা, ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য সেই হিন্দুত্ববাদী ভারতের যতই দালালি করুক,যতইগুনগান করুক, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র বলে যতই প্রচার করুক না কেন, ভারত বন্ধুত্বের একটা নজীরও স্থাপন করতে পারেনি।
ভারতীয় দালালরা ‘৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপমা টেনে জনগনের মগজ ধোলাই করতে চায়, তাদের জানিয়ে দেবার সময় এসে গেছে যে , ভারত আমাদের স্বাধীনতার জন্য ৭১ সালে সেনা অভিযান করেনি, তাদের উদ্দেশ্য ছিল, শক্তিশালি পাকিস্তান ভেঙ্গে দূর্বল করে ফেলা, এবং বাংলাদেশ নামক পূর্ববাংলাকে ১৯৪৭ এর আগের হিন্টারল্যান্ড বা ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা, যা আজকের বাস্তবতা।

১৭কোটি মুসলমানের দেশটাকে ভারত জল, স্থল আকাশ সমুদ্র চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। আজ প্রয়োজন নবজাগরণের, সৎ বন্ধু অন্বেষণের, এবং প্রয়োজন আত্মবাদে বলীয়ান হয়ে ওঠার। বাংলাদেশের শোষিত মানুষকে আহ্বান জানাই! বিলীন হয়ে যাওয়ার আগে আত্মবলে বলীয়ান হয়ে জেগে উঠুন! আমাদের প্রিয় রাসূল (সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন “ক্ষমতা মদমত্ত জালেমের জুলুমবাজির প্রতিবাদে সত্য কথা বলা, ও সত্য মতের প্রচারই সর্বোৎকৃষ্ট জেহাদ।" আসুন এই রমযানে আমরা সকলে একহয়ে সেই জেহাদে প্রবৃত্ত হই। প্রিয় দেশটাকে ঘৃন্য দূর্বৃত্তের হাত থেকে রক্ষা করি! হায়দারাবাদের মত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আগে আমাদের আড়াই লক্ষ মসজিদের পূন্য দেশ কে ,আমাদের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমকে, হায়দারাবাদ বা তার পূণ্য চারমিনার মসজিদের মত অপরিচ্ছন্ন দূর্বিত্তের নাপাক পদস্পর্শ থেকে হেফাজত করি! ১৮ কোটি মুসলমানের ঈমানি শক্তি এক হলে আল্লাহর রহমতে যেকোন বৃহত শক্তির বিরূদ্ধে বিজয় গৌরব অর্জন কঠিন নয়।

লেখক : আরিফুল হক
বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বহু গ্রন্থের লেখক
আমার দেশ, ১৩ মার্চ ২০২৪।
[সংগৃহীত ]
#everyonehighlightsfollowers #foryoupageシforyou #foryoupageviralシ゚ #fypシ #viralphoto #everyonefollowers #everyoneactive #ইতিহাসের_অধ্যায়

Saturday, June 29, 2024

নালন্দা থেকে নরেন্দ্র : মুসলিম বিদ্বেষের পুনরুৎপাদন (০১)

নালন্দা থেকে নরেন্দ্র : মুসলিম বিদ্বেষের পুনরুৎপাদন (০১)
=========================
"... ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে নালন্দা মহাবিহার তথা বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য বখতিয়ার খিলজিকে দায়ী করা হয়। নালন্দার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ-পঞ্চম শতাব্দী থেকে। তখন নালন্দা ছিল নিছকই একটি সমৃদ্ধ শহর। তবে ভৌগোলিকভাবে নালন্দার অবস্থান সম্বন্ধে ঐতিহাসিকরা সন্দিহান। পালি বৌদ্ধ সাহিত্য ও জৈন উপাদান থেকে নালন্দার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা হল, বর্তমান বিহার রাজ্যের রাজগীর শহরের উপকণ্ঠ। বৌদ্ধভিক্ষুদের আবাসস্থলই সংস্কৃত বা পালি ভাষায় ‘বিহার”। অর্থাৎ নালন্দা মহাবিহার তথা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধদের সম্পত্তি, হিন্দুদের নয়। এই বিহার বা মহাবিহারই পরবর্তীকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। তার মধ্যে অন্যতম নালন্দা মহাবিহার তথা বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা মহাবিহারের বিকাশ ঘটেছিল খ্রিস্টীয় পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীতে গুপ্ত সম্রাটদের এবং পরবর্তীকালে কনৌজের সম্রাট হর্ষবর্ধনের পৃষ্ঠপোষকতায়। গুপ্ত যুগের উদার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ফলশ্রুতিতে খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দী পর্যন্ত ভারতে এক বিকাশ ও সমৃদ্ধির যুগ চলেছিল। পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে অবশ্য সেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সেই সময় পূর্ব ভারতে পাল শাসনকালে বৌদ্ধধর্মের তান্ত্রিক বিকাশ ছিল ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

উপমহাদেশের ইতিহাস বিশাল বৈচিত্র্যে ভরপুর। এখানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জাতি গোষ্ঠী ধর্মের নানামুখী সংঘাত ও সংমিশ্রণের ইতিহাস, একই সঙ্গে আছে শিক্ষা সভ্যতার প্রগতি ও বিলয়ে ভরা ইতিহাস। মধ্যযুগে এই ইতিহাস রচনায় কাণ্ডারি ছিলেন বৌদ্ধ নৃপতিরা। সংসারত্যাগী বুদ্ধ মতবাদের প্রচার প্রসার ও পৃষ্ঠপোষকতা করতে গিয়ে তাঁরা রাজ্য জুড়ে স্থাপন করেছেন অসংখ্য বৌদ্ধবিহার। এই সব বিহার থেকে কিছু কিছু বিহার পরে অবাধ জ্ঞানচর্চা করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের খোলস ছাড়িয়ে হাজার বছর আগে খ্যাতি পেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপে।

নালন্দার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবকাঠামোর ভিত্তি ভূমি স্থাপন করে দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ শাসকরা আমাদের প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে গিয়েছিলেন। যে সহজ সরল উত্তরটি আমাদের সামনে ভেসে আসে তা হল ধর্মীয় বিদ্বেষ ও হিংসা। বৌদ্ধশাসন আমলে হিন্দু ব্রাহ্মণদের আয় রোজগারের পথ বন্ধ ও সামাজিক প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাস পাচ্ছিল। ব্রাহ্মণদের মনের ভিতর যে আগুন বংশপরম্পরায় হাজার বছর ধরে গোপনে অতি কষ্টে সংরক্ষিত ছিল, তার বিস্ফোরণ ঘটায় হিন্দু রাজাদের শাসনামলে এসে। সুযোগ হাতে পেয়েই তাঁরা নিরীহ প্রগতিশীল অহিংসবাদী বৌদ্ধদের উপর নির্মম অত্যাচার, উৎপীড়ন, দমন ও হত্যা করে উপমহাদেশ থেকে বিতাড়িত করে। রাজানুকূল্য বন্ধ করায় ধস নামে এই সব সর্বজনীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। উপরন্তু ব্রাহ্মণ্যবাদের পূর্ণ কর্তত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জোরালো করেছিল দেবদাসী, সহমরণ ও তীব্র জাতি ভেদ প্রথার মতো ঘৃণ্য সব প্রথার।

দেখব নালন্দার সফল অগ্রগতি ও শেষে করুণ পরিণতি নিয়ে। পালরাজাদের শাসনামলে সোমপুর, বিক্রমশীলা ও নালন্দা একই প্রশাসনের অধীনে কাজ করত। প্রয়োজনে শিক্ষকরা এই তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করে উন্নত শিক্ষার মান বজায় রাখার চেষ্টা করতেন। চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এবং ভারতীয় ইতিহাসবিদ প্রজ্ঞাবর্মণ গুপ্ত রাজা কুমারগুপ্তকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বলে উল্লেখ করে গেছেন। খনন কার্যে প্রাপ্ত একটি সিলমোহর থেকেও এই দাবির পক্ষে জোরালো প্রমাণ দেয়। 'নালন্দা' শব্দটি এসেছে ‘নালম' এবং 'দা' থেকে। 'নালম' শব্দের অর্থ পদ্ম ফুল, যা জ্ঞানের প্রতীক রূপে প্রকাশ করা হয়েছে। আর 'দা' দিয়ে বোঝানো হয়েছে দান করা। তার মানে 'নালন্দা' শব্দের অর্থ দাঁড়াল ‘জ্ঞান দানকারী’। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮০০ বছর ধরে জ্ঞান বিতরণের মতো দুরূহ কাজটি করে গেছে নিরলসভাবে। নালন্দা ঠিক কবে স্থাপিত হয়েছিল তা আজ সঠিক ভাবে বলা হয়তো সম্ভব নয়। কোথাও পাওয়া যায় ৪২৭ সাল, আবার এক জায়গায় পাওয়া ৪৫০ সাল। যাই হোক, ধরে নিই ৪২৭ থেকে ৪৫০ সালের কোনো এক সময়ের মধ্যে এটি স্থাপিত হয়ে থাকবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনা থেকে ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বদিকে অবস্থিত বড়গাঁও গ্রামের পাশেই। পাটনার আদি নাম পাটালিপুত্র। ২৩০০ বছর আগে মৌর্যদের রাজধানী ছিল এই পাটালিপুত্র। সম্রাট অশোক এখান থেকেই রাজ্য পরিচালনা করতেন বলে জনশ্রুতি আছে। ‘বিহার' শব্দের অর্থ ‘বিচরণ’, বৌদ্ধভিক্ষুরা যেখানে অবস্থান করেন বা বিচরণ করেন তাকে বলে বৌদ্ধবিহার। প্রাচীন বৌদ্ধসভ্যতার স্বর্ণযুগে এই অঞ্চলে প্রচুর বৌদ্ধবিহারের উপস্থিতি থাকায় পরবর্তীতে ভারতের এই রাজ্যের নামকরণ হয়েছে 'বিহার'। মৌর্যদের পর বিহার চলে আসে গুপ্তরাজাদের শাসনে। পরে মোগল সম্রাট আকবর ১৫৭৪ সালে বিহার দখল করেন। মোগলদের পর বিহার হাত বদল হয়ে আসে নবাবদের দখলে। নবাব সিরাজদৌল্লাকে পরাজিত করে ইংরেজরা বিহার দখল নেয়। ১৯১১ সালে বাংলা থেকে বিহার ও ওড়িশা পৃথক হয়।

নালন্দা প্রাথমিক অবস্থায় ছিল একটি মহাবিহার। যেখানে মূলত বৌদ্ধদর্শনের খুঁটিনাটি, বুদ্ধের শিক্ষা, বুদ্ধের অনুশাসন বিষয়ে পাঠ দান চলত। স্থিতিশীল রাজ্য পরিচালনা, দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বিকল্প নেই একটি সভ্য, উন্নত ও প্রগতিশীল মনন সম্পন্ন জাতির। যা তৈরি করতে শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, এ সত্য সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সেসময়কার নেতৃস্থানীয় বৌদ্ধভিক্ষু এবং তাঁদের পৃষ্ঠপোষক বৌদ্ধশাসকরা। তাঁদের যৌথ আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ত্যাগ স্বীকারের বিনিময়ে বৌদ্ধধর্মের পাশাপাশি তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থার উপযোগী, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক জ্ঞানবিজ্ঞানের আরও অনেক শাখা যুক্ত করে তাঁরা নালন্দাকে ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেন। সম্রাট অশোক এখানে একটি বিহার তৈরি করেন। গুপ্তসম্রাটরাও কয়েকটি মঠ নির্মাণ করে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখেন। মূলত গুপ্ত সম্রাট কুমারগুপ্তের আমলেই এই মহাবিহারটির পূর্ণ বিকাশ লাভ করে। পরবর্তীতে বৌদ্ধ সম্রাট হর্ষবর্ধন ও বাংলার পাল সম্রাটরা পৃষ্ঠপোষকতা করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে খ্যাতির চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দেন।

নালন্দাকে তাঁরা গড়ে তুলেছিলেন তৎকালীন সময়ের বিশ্বে শ্রেষ্ঠ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসাবে। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই নালন্দায় লেখাপড়ার সুযোগ পেত না। এর জন্য প্রয়োজন হত শিক্ষার্থীর যোগ্যতার। শিক্ষার্থীরা সত্যিই নালন্দায় লেখাপড়া করার যোগ্য কি না, তা প্রমাণের জন্য প্রবেশদ্বারে দিতে হত মৌখিক পরীক্ষা। সাফল্যের সঙ্গে এই ভর্তি পরীক্ষায় উতরে গেলেই মিলত এখানে বিদ্যালাভের নিশ্চয়তা। পরীক্ষা মোটেই সহজ ছিল না। এতটাই কঠিন ছিল প্রতি দশ জনে মাত্র তিন জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারত। ভাবতে অবাক লাগে তৎকালীন সময়ে নালন্দায় বিদ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০। তাঁদের শিক্ষাদান করতেন প্রায় আরও ২,০০০ শিক্ষক। গড়ে প্রতি ৫ জন ছাত্রের জন্য ১ জন শিক্ষক। কত বড়ো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে তবেই এত বিপুল সংখ্যক ছাত্রের বিদ্যাদান সম্ভব এত শিক্ষক নিয়ে, তাও আবার থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থাসহ। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশাল খরচ চালানোও যেনতেন ব্যাপার ছিল না। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যাতে নালন্দার প্রশাসনকে কারও উপর নির্ভরশীল হতে না হয় সেদিক বিবেচনা করে ২০০ গ্রামকে শুধু মাত্র নালন্দার ব্যয় মিটানোর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন বিদ্যোৎসাহী বৌদ্ধশাসকরা। এই সব গ্রামগুলোর অবস্থান শুধু নালন্দার আশেপাশে ছিল না, ছিল সমগ্র বিহার রাজ্যের ৩০টি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। চিনতে পারার সুবিধার্থে বিশেষ চৈত্য বা স্তূপ তৈরি করে গ্রামগুলোকে পৃথক করে রাখা হয়েছিল অন্য গ্রাম থেকে। এই সব গ্রামের করের টাকা থেকেই ছাত্র ও শিক্ষকদের খাদ্যদ্রব্য সহ প্রয়োজনীয় সব খরচের জোগান আসত।

বাইরের কোনোপ্রকার উটকো ঝামেলা যাতে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশের বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সেজন্য উঁচু লাল ইটের বেষ্টনি দিয়ে ঘেরা ছিল সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। ভিতরে ঢোকার জন্য ছিল বিশাল প্রবেশদ্বার। সেসময় যখন-তখন ভারতীয় উপমহাদেশের দেশীয় রাজাদের অন্য রাজ্যে হামলা করা এবং দখল করা ছিল নিত্যনৈমন্তিক ব্যাপার। শিক্ষার প্রাকৃতিক পরিবেশ যথাসাধ্য স্নিগ্ধ ও কোমল রাখতে সমগ্র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে তৈরি করা হয়েছিল সুরম্য উদ্যান, যেগুলো সেজে উঠেছিল বিচিত্র ফুল ও ফলের গাছ দিয়ে। স্নান ও প্রয়োজনীয় জলের সুবিধার জন্য খনন করা হয়েছিল কয়েকটি দীঘিও। ছাত্রদের জন্য ছিল ছাত্রাবাস। জলের সমস্যার জন্য ছাত্রদের জ্ঞান অর্জনে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকটা মাথায় রেখে প্রতিটি ছাত্রাবাসে পানীয় জলের অসুবিধা দূর করতে তৈরি করা হয়েছিল বেশ কিছু কুয়ো। মোট কথা সমগ্র নালন্দা ছিল নিখুঁত পরিকল্পনায় গড়া একটি শিক্ষাস্বর্গ। বৌদ্ধধর্মের পাশাপাশি বেধ, বিতর্ক, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, সাহিত্য, গণিত, জ্যোতিষবিদ্যা, শিল্পকলা, চিকিৎসাশাস্ত্র সহ তৎকালীন সর্বোচ্চ শিক্ষাব্যাবস্থার উপযোগী আরও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নিয়মিত পাঠ দান চলত এখানে। শিক্ষকদের পাঠদান আর ছাত্রদের পাঠ গ্রহণে সর্বদা মুখরিত থাকত এই বিদ্যাপীঠ। নালন্দার সুশিক্ষার খ্যাতির সুবাতাস এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে অনুন্নত প্রতিকুল এবড়োখেবড়ো শ্বাপদসংকুল দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সুদূর তিব্বত, চিন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, পারস্য, গ্রিস তুরস্ক থেকে ছুটে আসত বিদ্যানুরাগীরা।

ছাত্রদের প্রয়োজনীয় বইয়ের অভাব দূরীকরণ এবং একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন শাখার জ্ঞানের সমাবেশ ঘটাতে তৈরি করা হয়েছিল তিনটি সুবিশাল গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারের সমস্ত বইই ছিল হাতে লেখা। তখন ছাপার যুগ শুরু হয়নি। বিশাল সংখ্যক কপি-লেখক নিযুক্ত ছিল এইসব বইয়ের অনুলীখনের জন্য। গ্রন্থাগার ভবনগুলো পরিচিত ছিল যথাক্রমে রত্নসাগর, রত্নদধি ও রত্নরঞ্জক নামে। গ্রন্থাগারের নামকরণ থেকেই অনুমান করা যায় নালন্দার শিক্ষকদের জ্ঞানের গভীরতা। চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের মতে, এখানে যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষার কাজে নিযুক্ত ছিলেন তাঁদের জ্ঞানের খ্যাতি প্রসারিত ছিল বহুদূর ব্যাপী, চারিত্রিক দিক দিয়েও তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সৎ চরিত্রের অধিকারী। নির্লোভী এই শিক্ষকরা ভালো করেই জানতেন বহুদূর দূরান্তের ছাত্ররা বন্ধুর পথের কষ্ট মাথায় নিয়ে তাঁদের কাছে ছুটে আসতেন বিদ্যাতৃষ্ণায়। তাই তাঁরাও আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন।

এত সুবিশাল একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছিলেন বঙ্গদেশের সন্তান শীলভদ্র। যিনি ছিলেন হিউয়েন সাঙের গুরু। প্রায় ২২ বছর হিউয়েন সাঙ তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি কুমিল্লা জেলার চান্দিনাতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। আরও একজন বঙ্গীয় স্বনামধন্য পণ্ডিত ব্যক্তির কথা উল্লেখ না-করে উপায় নেই। তিনি হলেন ঢাকার বিক্রমপুরে বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করা অতীশ দীপঙ্কর। বর্তমানে অতীশ দীপঙ্করের বাসস্থান 'নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা' নামে পরিচিত। তিনি ১৫ বছর ওদন্তপুরী ও সোমপুর বিহারের শিক্ষকতা ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন বেশ সফলতার সঙ্গে।

ইন্দোনেশিয়ার শৈলেন্দ্র রাজবংশও যে এই মহাবিহারের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিল, তাও পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে স্পষ্ট। কথিত আছে, জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর ১৪টি চতুর্মাস নালন্দায় অতিবাহিত করেছিলেন। আরও বলা হয় যে, গৌতম বুদ্ধও নালন্দার নিকটবর্তী পাবরিক নামক আম্রবনে উপদেশ দান করেছিলেন। বুদ্ধের দুই প্রধান শিষ্যের অন্যতম সারিপুত্ত নালন্দা অঞ্চলেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং এখানেই নির্বাণ লাভ করেন। উক্ত দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীতেও একটি গ্রাম হিসাবে নালন্দার অস্তিত্ব ছিল।

গুপ্তযুগেই বিহার থেকে মহাবিহারে রূপান্তর হয়েছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বিশ্বমানের। পালরাজা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কারণ পালরাজারা ছিলেন মহাযান বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। আর নালন্দা ছিল তাঁদেরই অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। একটি সিলমোহর থেকে জানা যায় যে, এই মহাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শাদিত্য নামে এক রাজা।

ভারত থেকে বৌদ্ধধর্মের অন্তর্ধানের সঙ্গে নালন্দা মহাবিহারের অবলুপ্তির একটি সম্পর্ক রয়েছে। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে ভারতের বিভিন্ন স্থান পর্যটনের সময় হিউয়েন সাঙ লক্ষ করেছিলেন যে, বৌদ্ধধর্ম ধীরে ধীরে পতনের দিকে এগিয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, তিনি নালন্দার পরিসমাপ্তির দুঃখজনক পূর্বাভাসও পেয়েছিলেন। সেই সময় বৌদ্ধধর্ম দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিল। কেবলমাত্র অধুনা বিহার ও বাংলা অঞ্চলের রাজারাই এই ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করছিলেন। পাল শাসনকালে বৌদ্ধধর্মের প্রথাগত মহাযান ও হীনযান সম্প্রদায়ে গোপন আচার-অনুষ্ঠান ও জাদুবিদ্যা-কেন্দ্রিক তান্ত্রিক ক্রিয়াকর্ম অন্তর্ভুক্ত হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশে বৈষ্ণব ও শৈব দার্শনিকদের আবির্ভাব এবং একাদশ শতাব্দীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজবংশের রাজ্যচ্যুতির ঘটনা থেকেই বোঝায় যায় যে, সেই সময় বৌদ্ধধর্মের উপর ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজনৈতিক, দার্শনিক ও নৈতিক আঘাত নেমে এসেছিল।

বখতিয়ারের বিরুদ্ধে নালন্দা মহাবিহার তথা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করার নিরঙ্কুশ অপবাদ বহুল প্রচারিত। কোনো কোনো ঐতিহাসিক লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১০০ সালে বখতিয়ার খিলজি ধ্বংস করেছেন। ভারতীয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বখতিয়ারের এই আক্রমণের তারিখ জানিয়েছেন ১১০০ সাল। অথচ স্যার উলসলি হেগ বলছেন, বখতিয়ার ওদন্তপুরী আক্রমণ করেছেন ১১৯৩ সালে। আর স্যার যদুনাথ সরকার এই আক্রমণের সময়কাল বলছেন ১১৯৯ সাল। সবচাইতে মজার যে, বখতিয়ার খলজি বঙ্গ বিজয় করেন ১২০৪ সালের ১০ মে। স্যার যদুনাথ সরকার বখতিয়ারের বঙ্গ আক্রমণের সময়কাল বলছেন ১১৯৯ সাল। অন্যদিকে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে বৌদ্ধদের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা হয় ১১৯৩ সালে। যে লোকটি ১২০৪ সালে বঙ্গে প্রবেশ করেন, সে কীভাবে ১১৯৩ সালে নালন্দা ধ্বংস করেন? বখতিয়ার খলজি মাত্র ১৭ জন সঙ্গী নিয়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলের ভিতর দিয়ে দ্রুত বেগে ঘোড়া ছুটিয়ে কৌশলে সেনরাজা লক্ষণ সেনের প্রাসাদে হামলা করেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, ধ্বংস করা তো দূরের কথা, বখতিয়ার নালন্দার ধারেকাছেই যাননি। শরৎচন্দ্র দাশ তাঁর 'Antiquity of Chittagong' প্রবন্ধে লিখেছেন, বিক্রমশীলা ও ওদন্তপুরী বিহার দুটিকে ধ্বংস করা হয়েছিল ১২০২ সালে। এই তালিকায় নালন্দার উল্লেখ নেই। ঐতিহাসিক মিনহাজের ‘তবকাত-ই-নাসিরি' গ্রন্থেও নালন্দা ধ্বংসের উল্লেখ নেই। এই গ্রন্থে বখতিয়ার খিলজির অভিযান থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। ১২৩৪-৩৬ সাল নাগাদ, অর্থাৎ বখতিয়ারের (মৃত্যু হয় ১২০৬ সালে) বিহার জয়ের ৩১ বছর পরও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠন চালু ছিল। সেসময়ে তিব্বত থেকে ধর্মস্বামী এসে নালন্দা বিহারকে চালু অবস্থাতেই দেখেছেন। সেখানে মঠাধ্যক্ষ রাহুল শ্রীভদ্রের পরিচালনায় ৭০ জন সাধু পড়াশোনা করেছেন। 

কিন্তু সবাই যখন বলেন নালন্দা ধ্বংস হয়েছে, তাহলে তো ধ্বংস হয়েছেই। কিন্তু ধ্বংসটা কে করল? অনেকে মনে করেন নালন্দা ধ্বংস আসলে হিন্দু-বৌদ্ধ সংঘাত। বুদ্ধগয়া 'গয়া-দর্শন রাজগীর নালন্দাপাওয়াপুরী' নামক এক পর্যটক সহায়ক পুস্তিকায় বলা হয়েছে — পঞ্চম শতাব্দীতে ব্রাহ্মণ দার্শনিক এবং প্রচারক কুমারভট্ট এবং শংকরাচার্যের প্রচেষ্টাতেই বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ক্ষয় হয়ে গিয়েছিল। বারো বৎসর ব্যাপী সূর্যের তপস্যা করে তাঁরা (ব্রাহ্মণরা) যজ্ঞাগ্নি নিয়ে নালন্দার প্রসিদ্ধ গ্রন্থাগারে এবং বৌদ্ধবিহারগুলিতে অগ্নিসংযোগ করেন। ফলে নালন্দা অগ্নিস্মাৎ হয়ে যায়। অন্য এক সুত্র তিব্বতীয় শাস্ত্র ‘পাগসাম ইয়ান জাং'-এ বলা হয়েছে উগ্র হিন্দুরা নালন্দার গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে ডি আর পাতিল মনে করেন নালন্দার গ্রন্থাগার পুড়িয়েছিল শৈব সম্প্রদায়ের মানুষরা। কিন্তু বিশিষ্ট তাত্ত্বিক লেখক ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত নালন্দা মহাবিহার ধ্বংসের জন্য ব্রাহ্মণ্যবাদীদের আক্রমণকেই স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি তাঁর 'বাঙ্গলার ইতিহাস' গ্রন্থে লিখেছেন — “নালন্দায় লাইব্রেরি কয়েকবার বিধ্বস্ত হয়।” 

P. al. Jor-এর তিব্বতীয় পুস্তকে উল্লিখিত হয়েছে যে, “ধর্মসগন্ধ অর্থাৎ নালন্দার বৃহৎ লাইব্রেরি তিনটি মন্দিরে রক্ষিত ছিল। তীর্থিক (ব্রাহ্মণ) ভিক্ষুদের দ্বারা অগ্নিসংযোগে তাহা ধ্বংস হয়। মগধের রাজমন্ত্রী কুকুতসিদ্ধ নালন্দায় একটি মন্দির নির্মাণ করেন। সেখানে ধর্মোপদেশ প্রদানকালে জনাকতক তরুণ ভিক্ষু দুজন তীর্থিক ভিক্ষুদের গায়ে নোংরা জল ছিটিয়ে দেয়। তার ফলে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ‘রত্নসাগর', 'রত্নধনুক' এবং নয়তলাযুক্ত 'রত্নদধি' নামক তিনটি মন্দির অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করে। উক্ত তিনটি মন্দিরেই সমষ্টিগতভাবে ধর্মগ্রন্থ বা গ্রন্থাগার ছিল।” 

এস দাস সম্পাদিত 'P. al. Jor: History of the Rise, Progress and Downfall of Buddhism in India' গ্রন্থখানি পড়ে দেখতে পারেন। পেয়ে যাবেন আরও বিস্ফোরক তথ্য। বুদ্ধপ্রকাশ তাঁর 'Aspects of Indian History and Civilisation' গ্রন্থে স্পষ্ট করে বলেছেন — “নালন্দায় অগ্নিসংযোগের জন্য হিন্দুরাই দায়ী।” ষষ্ঠ শতকের রাজা মিহিরকুল বৌদ্ধদের মোটই সহ্য করতে পারতেন না। তাঁর পাটলিপুত্র আক্রমণ করার সময়ই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়। যতদূর জানা যায়, সেই সংখ্যাটা মোট তিনবার। প্রথমবার স্কন্দগুপ্তের সময়ে (৪৫৫-৪৬৭ সালে) মিহিরকুলের নেতৃত্বে মধ্য এশিয়ার যুদ্ধবাজ হানদের দ্বারা। উল্লেখ্য, মিহিরকুলার নেতৃত্বে হানরা ছিল প্রচণ্ড রকমের বৌদ্ধ-বিদ্বেষী। বৌদ্ধ ছাত্র ও ধর্মগুরুদের হত্যা করা হয় নির্মমভাবে। স্কন্দগুপ্ত ও তাঁর পরবর্তী বংশধরেরা একে পুনর্গঠন করেন। 

প্রায় দেড় শতাব্দী পরে আবার ধ্বংসের মুখে পড়ে। আর তা হয় বাংলার শাসক শশাঙ্কের দ্বারা। শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার অন্তর্গত গৌড়ের রাজা। তাঁর রাজধানী ছিল আজকের মুর্শিদাবাদ। রাজা হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ও ধর্মবিশ্বাস এই ধ্বংসযজ্ঞে প্রভাব বিস্তার করে। রাজা হর্ষবর্ধন প্রথমদিকে শৈব (শিবকে সর্বোচ্চ দেবতা মানা) ধর্মের অনুসারী হলেও পরে বৌদ্ধ ধর্মের একজন পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হন। কথিত আছে, সেই সময়ে ধীরে ধীরে গজিয়ে উঠা ব্রাহ্মণদের বিদ্রোহও নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিলেন। অন্যদিকে রাজা শশাঙ্ক ছিলেন ব্রাহ্মণ্যধর্মের একজন শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক। উল্লেখ্য, হিন্দু রাজা শশাঙ্কের সঙ্গে বুদ্ধের অনুরক্ত রাজা হর্ষবর্ধনের সবসময় শত্রুতা বিরাজমান ছিল এবং খুব বড়ো একটি যুদ্ধও হয়েছিল। রাজা শশাঙ্ক যখন মান্ধায় প্রবেশ করেন তখন বৌদ্ধদের পবিত্র স্থানগুলোকে ধ্বংস করেন, খণ্ড-বিখণ্ড করেন বুদ্ধের ‘পদচিহ্ন'। বৌদ্ধধর্মের প্রতি তাঁর বিদ্বেষ এত গভীরে যে তিনি বৌদ্ধদের ধর্মীয় স্থান ছাড়াও, বুদ্ধগয়াকে এমনভাবে ধ্বংস করেন, যাতে এর আর কিছু অবশিষ্ট না থাকে। হিউয়েন সাঙ এভাবে বর্ণনা করেছেন — “Sasanka-raja, being a believer in heresy, slandered the religion of Buddha and through envy destroyed the convents and cut down the Bodhi tree (at Buddha Gaya), digging it up to the very springs of the earth; but yet he did not get to the bottom of the roots. Then he burnt it with fire and sprinkled it with the juice of sugar-cane, desiring to destroy them entirely, and not leave a trace of it behind. Such was Sasanka's hatred towards Buddhism.” 

এ বিষয়ে ঐতিহাসিক এইচ হিরাস তাঁর ‘The Royal Patrons of the University of Nalanda' গ্রন্থে কী জানিয়েছেন, একটু দেখি — “Nalanda University was not far from the capital, Pataliputra and its fame had also reached Mihirkula's ears. The buildings of Nalanda were then probably destroyed for the first time, and its priests and students dispersed and perhaps killed.” রাজাদের মধ্যে অন্তর্কলহ, শত্রুতা, হত্যা ও উপাসনালয় ধ্বংস সেসময় খুব অস্বাভাবিক কিছু একটা ছিল না।

বস্তুত এ সময়ে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা বৌদ্ধের অসংখ্য মহাবিহার হয় অগ্নিসংযোগ নয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সমসাময়িক রচিত গ্রন্থগুলিতে এসব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আছে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘বৌদ্ধধর্ম’, রাহুল সাংকৃত্যায়নের ‘ভারতে বৌদ্ধধর্মের উত্থান পতন' গ্রন্থেও স্পষ্ট উল্লেখ আছে। একাদশ শতকের শেষভাগে বৌদ্ধ চন্দ্ৰবংশ উৎখাত করে বাংলায় (অবিভক্ত দক্ষিণ-পূর্ব) ব্রাহ্মণ্যবাদী বর্মারাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই বংশেরই এক রাজা জাতবর্মা। জাতবর্মা ছিলেন পরম বিষ্ণুভক্ত। জাতবর্মা সোমপুর বৌদ্ধবিহারটি অবরুদ্ধ ও লুণ্ঠন করে এবং অগ্নিসংযোগে মহাবিহারটি ধ্বংস করেন। ওই মহাবিহারের মঠাধ্যক্ষ করুণাশ্রী মিত্রকেও অগ্নিদগ্ধ করে খুন করে। হিন্দুরাজা ভোজবর্মার বেলাবলিপিতে জাতবর্মা কর্তৃক সোমপুরের মহাবিহার ধ্বংসের ইতিহাস উল্লেখ আছে। 

ঐতিহাসিক মিনহাজের বর্ণনায় বিহার ও নদিয়া জয়ের কাহিনি পাওয়া যায়। নালন্দা অভিযান, নালন্দা জয়, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের কোনো ঘটনা বা তথ্য বর্ণিত হয়নি। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ইতিহাসবিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি ড. আবদুল করিমও সহমত। আবদুল করিম ও সুখময় মুখোপাধ্যায় — এই দুজন গবেষকই বখতিয়ার খলজির উপর ব্যাপক গবেষণা করেছেন (আবদুল করিম — 'বাংলার ইতিহাস সুলতানি আমল', সুখময় মুখোপাধ্যায় — ‘বাংলার ইতিহাস') এছাড়া শ্রী রমেশচন্দ্র মজুমদার — ‘বাংলা দেশের ইতিহাস' গ্রন্থ থেকেও বখতিয়ার সম্বন্ধে জানা যায়। মিনহাজের 'তাওয়ারিখ' গ্রন্থে বখতিয়ার সংক্রান্ত তথ্যাবলির বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন। ইসামি রচিত 'ফুতুহ উস-সালাতিন' এবং হাসান নিজামি রচিত ‘তাজ-উল-মাসির' গ্রন্থেও নালন্দা অভিযানের কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই।

অনেকে মনে করেন, বখতিয়ার দুর্গ ভেবে বৌদ্ধভিক্ষুদের আবাসস্থল ওদন্তপুর মহাবিহার আক্রমণ করেন বিনা বাধায়। দুর্গ দখলের পর উনি লক্ষ করলেন দুর্গের বাসিন্দারা সকলেই মুণ্ডিতমস্তক। জিজ্ঞাসাবাদের পর জানতে পারলেন, তাঁরা বৌদ্ধ আর দখলিকৃত দুর্গটি আসলে বৌদ্ধবিহার। ড. দীনেশচন্দ্র সরকার দেখিয়েছেন, ওদন্তপুর বৌদ্ধবিহার ধ্বংস হয় ১১৯৩ সালে। এ ছাড়া আরও অনেক গবেষক বলেছেন, ওদন্তপুর ধ্বংস হয় ১১৯১-৯৩ সময়কালে। অথচ সুখময় মুখোপাধ্যায় দেখিয়েছেন, বখতিয়ার বিহার বিজয় করেন ১২০৪ সালে। অতএব বখতিয়ার কর্তৃক উদন্তপুর বা ওদন্তপুর বিহার ধ্বংসের কাহিনিও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দীতেই বাংলার বর্মন-সেনবংশীয় রাজাদের শাসনকালেই বৌদ্ধধর্ম অত্যন্ত বিপন্ন হয়েছিল। দ্বাদশ শতাব্দীতে এসে সেনরাজাদের শাসনকালে বৌদ্ধরা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। ওদন্তপুরে কিছু বৌদ্ধ কোনোরকমে টিকে থাকার কারণ বাংলার পূর্বাঞ্চলে বর্মন-সেনরাজাদের অধিকার তেমন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রসঙ্গত বলে রাখি, বখতিয়ারের সময়কালেই বাংলায় ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে প্রসার ও প্রচার হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অমুসলিম মুসলিম হয়েছিলেন তাঁর সময়েই। তার বড় কারণ সুফি ধর্মপ্রচারক। দক্ষিণবঙ্গ মুসলিম শাসনে আসার বহু বছর আগে একদল সুফি ধর্মপ্রচারক বাস করতেন। সুফিদের প্রভাবেই এখানকার মানুষ ইসলাম ধর্মে চলে আসে। তবে বেশিরভাগ নীচু জাতি ও বৌদ্ধধর্ম থেকেই মানুষ ধর্মান্তরিত হয়। কেবলমাত্র অস্ত্রের আস্ফালনেই নিজ ধর্ম ত্যাগ করে বিজয়ী বাহিনীর ধর্মকে গ্রহণ করেছিলেন আত্মরক্ষার তাগিদে, বাংলার মানুষদের এতটা কাপুরুষ ভাবার কোনো যুক্তি দেখি না। নিম্নবর্ণের প্রতি উচ্চবর্ণের উপর্যুপরি ঘৃণা আর অবজ্ঞাই ধর্মান্তরের মূল কারণ॥"

— অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় / ভারতে ইসলাম ভারতীয় মুসলিম (প্রথম খণ্ড)॥ [ আরোহী প্রকাশন (কলিকাতা) - মে, ২০২১ । পৃ: ১৩৫- ১৪২