Search This Blog

Saturday, September 11, 2021

আজীবন গণমানুষের নেতা




ব্রিটিশ শাসিত ভারত। সিরাজগঞ্জ শহরের উপকন্ঠে ইছামতি নদীর তীর ঘেষে প্রায় সব ধরণের গাছগাছালি, ঘন বনজঙ্গল ঘেরা এক অপূর্ব  সুন্দর বিরাট সবুজ গ্রাম ছিল দিয়াড় পাঁচিল। দইভাঙা খাল হয়ে স্রোতস্বিনী যমুনার একটি উপশাখা ব'য়ে গেছে গ্রামটির সামনে দিয়ে। যমুনার এ শাখাকে গ্রামের লোকজন খাল বলেই ডাকে। খালের পাড়েই গ্রামের মসজিদ আর মসজিদের পাশেই নৌকা বাঁধার ঘাট। সেখানে বাঁধা আছে জমিদারের কাচারির বিরাট ছইওয়ালা নৌকা। জমিদারের নায়েব পাইক পেয়াদা নিয়ে খাজনা আদায়ে এসেছে। অনাদায়ী খাজনা না দিতে পারায় গ্রামের রইসউদ্দিনকে বেঁধে নৌকায় তোলা হয়েছে। গ্রামের বহু মানুষ জড়ো হয়ে করজোড়ে নায়েব সাহেবকে কাকুতি মিনতি করছে রইস উদ্দিনকে না নিয়ে যেতে কিন্তু পাথরের মূর্তির মতন অনড় নায়েব সাহেব রইসউদ্দিনকে ছাড়বেন না। আরও কয়েকবার তাকে সময় দেয়া হয়েছে কিন্তু সে খাজনা পরিশোধ করেনি। তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে গেল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না।
নৌকার পাশেই কয়েকটি নয় দশ বছরের বালক পানিতে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে গোসল করছিল। ওই কান্নার রোল শুনে তাদের ভেতর থেকে একটি স্বাস্থ্যবান বালক হঠাৎ ভেঁজা শরীরে নৌকায় ওঠে এসে বলল, না, কিছুতেই ওনারে নিয়া যাইবার দিমু না। ওনারে ছাইড়া দ্যান।" গর্জে উঠল নায়েব, ধর্ হারামজাদারে।' তেড়ে এলো এক পেয়াদা। সঙ্গে সঙ্গে বালক ছুটে গিয়ে নায়েবকে এক ধাক্কায় পানিতে ফেলে দিল আর নৌকার বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পেয়াদাকেও নৌকা থেকে পানিতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করল। মুক্ত করে নিয়ে এলো রইসউদ্দিনকে। সারা এলাকায় বিদ্যুৎতের মতন ছড়িয়ে গেল এই খবর। ধন্যধন্য পড়ে গেল রফাত সরকারের নাতির সাহসের। কিন্তু প্রমাদ গুণল পরিবারের লোকেরা, না জানি কী ফরমান জারি হয় জমিদার বাহাদুরের। সরকার কতৃক 'সরকার' উপাধি পাওয়া রফাত সরকারের ঠিকই ডাক পড়ল পরদিন জমিদারের কাচারিতে। সারা গ্রামের মানুষের চোখে মুখে আতংকের কালো ছায়া নেমে এলো। দুরন্ত নাতির জন্য কী বেইজ্জতি যে হন, দশ গ্রামের মানি লোকটা! কিন্তু না, হাসি মুখে ফিরে এলেন তিনি। শাস্তি বা জরিমানা দূরে থাক উল্টো এমন দুর্দান্ত সাহসী নাতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ জমিদার বাহাদুর। আর খাজনা মওকুফ করে দিলেন রইসউদ্দিনের। রাতরাতি যেন হিরো হয়ে গেল রফাত সরকারের ডানপিটে নাতি!
সেই বালক একটু বড় হয়ে বাড়ি পালিয়ে যোগ দিলেন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে। সেখান থেকে যোগ দিলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে। নাম লেখালেন নেতাজী সুবাস বোসের 'আজাদ হিন্দ ফৌজে'। নেতাজীর সাক্ষাৎ শিষ্য হয়ে রুখে দাঁড়ালেন কোলকাতার হিন্দু মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে। শিয়ালদহ 'সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি'র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে 'যুব বিগ্রেড' গড়ে তুলে দাঙ্গা প্রতিরোধে রাতদিন নিরলস পরিশ্রম করেন। প্রতিষ্ঠা করেন 'শিয়ালদহ বাস্তহারা সমিতি মার্কেট'। '৪৭-এর দেশ বিভাগের পর তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজে এলাকার যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে তোলেন। তাঁর কর্মমুগ্ধ জনগণ নিজেদের অর্থায়নে তাঁকে দাঁড় করিয়ে দেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। প্রথমে সদস্য পরে সদস্যদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৬২-তে ইশ্বরদিতে উত্তরবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের সম্মেলন আহব্বান করলে তিনি সিরাজগঞ্জে একটি হাসপাতাল এবং জুট মিলস্ স্থাপনের দাবি তোলেন। আইয়ুব খান সে দাবি মেনে নেন। প্রতিষ্ঠিত হয় সিরাজগঞ্জ কওমী জুট মিলস্ এবং খোকশাবাড়ি হাসপাতাল। পরবর্তিতে দীর্ঘকাল চেয়ারম্যান থাকাকালে এলাকার রাস্তাঘাট, বাজার-হাট, স্কুল, মক্তব, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, ফুটবল টিম প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজসেবা কাজে আজীবন সম্পৃক্ত রাখেন নিজেকে। খরস্রোতা যমুনার সর্বনাশা ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জকে রক্ষার জন্য তিনিই প্রথম শৈলাবাড়ি গ্রোইন বাঁধ নির্মাণ করেন। তাঁরই ব্রেইন চাইল্ড এই বাঁধের অনুসরণেই পরবর্তীকালে সিরাজগঞ্জ শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়।
বালক বয়সে জমিদারের খাজনা আদায়ের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সিরাজগঞ্জের একটি গ্রাম থেকে উঠে আসা  সাধারণ মানুষের অসাধারণ এই নেতা আর কেউ নন সিরাজগন্জ খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মানব দরদী মরহুম ফরহাদ হোসেন।  তাঁর জীবনেে নানা ঘটনা, গণমানুষের জন্য নিবেদিত কর্মকাণ্ডের অসংখ্য  কাহিনী আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। উদ্বেলিত করে নতুন প্রজন্মকে। 
আজ তার ৩১তম মৃত্যু বার্ষিকী। সকাল ৮টায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত খোকশাবাড়ি হাসপাতালের সবুজ আঙিনায় চির নিদ্রায় শায়িত তাঁর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হয় দিনটির কর্মসূচি। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতাকারে বিকাল ৫টায় খলিসাকুড়াতে আলোচনা ও দোয়ার অনুষ্ঠান।
১০.০৯.২০২১

Wednesday, September 8, 2021

"কুষ্টিয়া শহরে কি আছে?



"কুষ্টিয়া শহরে কি আছে?

কিছুই নাই!

মজমপুর বাসস্টান্ড থেকে উঠবেন আটোতে, দশ মিনিট পড়ে ৫ টাকা দিয়ে বড়বাজার রেলগেটে নামবেন। কুষ্টিয়া শহর ঘুরে দেখা শেষ।

তারমাঝে রথখোলার মন্দির পাড় হওয়ার সাথে সাথে পুরাতন কলকাতার আবহাওয়া পাবেন হালকা। যারা পুরাতন কলকাতাতে ঘুরেছেনে তারা বুঝবেন। আশে পাশের বিল্ডিং গুলা, দোকানের প্যাটার্নের, রাস্তার পানিপুরি ফুচকার মাঝে এ আমেজটা আছে।

বড় বাজার রেলগেটে নেমেই দেখবেন হাতের ডানে গান্ধী হোটেল। হাতে অফুরন্ত সময় থাকলে ধাম করে ডাবল ডিমের একটা মোগলাই এখানে খাওয়া যেতেই পারে। গান্ধী হোটেলর অপরদিকে কচুরী পাবেন খেতে৷

বড় বাজার থেকে ইচ্ছা হলে দুই মিনিট হেটে গড়াই নদীর তীরে যেতে পারেন, আবার আরেকটা অটো নিয়ে লালন শাহ এর মাজার ঘুরে দেখতে পারেন। মাঝ রাস্তাতে পড়বে টেগর লজ! রবী ঠাকুরের বাড়িতে উকি দিতেই পারেন। আর পুরা এই এলাকার মাঝে আছে, এক সময়কার এশিয়ার সব থেকে বড় বস্ত্রকল 'মোহিনী মিল'।

মোহিনী মিলের গেটের পাশেই কিন্তু পাবেন বিখ্যাত তিলের খাজার কারখানা। সাহস নিয়ে ঢুকে পড়বেন। ধীম ধাম গরম তিলের খাজা চালান করবেন পেটে। কুমিল্লার রসমালাই অনেক বিখ্যাত! খুব টেস্ট, বিশ্বাস করেন কুষ্টিয়া রসমালাই বিশেষ করে অশোকের রসমালাই খাওয়ার পড়ে, আপনাকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে৷ কুমারখালীর দই খাওয়ার পড়েও আপনাকে বগুড়ার দই-এর টেস্টের সাথে একটা পরীক্ষা করা লাগতেই পারে।

যেখানে শাহের বারাম খানা!! সেখানে গিয়ে গান শুনবেন। খানেক জিড়াবেন। একটা কুলফি খাবেন৷ অতঃপর রানীর ঘাটে বসে কালী নদীর শান্ত পানির দোলনের সাথে হাওয়া দেখবেন বাতাস খাবেন।

কুষ্টিয়াতে কিন্তু আবার গরুর দুধের চা বেশী চলে। আমরা মাঝে মাঝেই চা খেতে চলে যাই মোল্লা তেঘরিয়ার মোরে,কখনো রাহিনীতে আবার কখনো কাটাইখানা মোড়ে।ইচ্ছে হলে চা এর সাথে টা হিসেবে আপনি পোড়া রুটিও খেতে পারেন।আহা কি স্বাদ!অমৃতের মতো৷ গরম গরম পেটিস খেতে হলে হরিবাসোর মোরে মন্দিরের পাশে! বিকালে আড্ডাবাজির জন্য সরকারি কলেজের পুকুর হচ্ছে বেস্ট।সেখানকার ঝালমুড়ি খেয়ে দেখতে পারেন।মন্দ নয়!

বিকালে আগে ঘোরার জায়গা ছিলো রেইনউইক বাধ! এখন সেটা হরিপুর শেখ রাসেল ব্রীজ। ব্রীজে এপার ওপার দুইপারে জনসমুদ্র! এই জনসমুদ্র ভালো না লাগলে হুট করে চলে যাবেন মোহনায়! পদ্মার পেট ফুড়ে গড়াই এখানেই জন্মেছে! আহা কি তার রুপ! মনে হয় সাগর। শহরের দিকে গড়াই শুকনা।এটা কিন্ত কুষ্টিয়ার মিনি কক্সবাজার।

কুষ্টিয়া গিয়ে খুব টাইম ট্রাভেল এ ভ্রমণ করতে মন চাইলে হুট করে চলে যাবেন কুমারখালী!! এই শহরের আনাচে কানাচে এমন ভাবে অতীতকে আকড়ে ধরে আছে, আপনি না চাইলেও চলে যাবেন ব্রিটিশ আমলে। কুমারখালী গেলে রমেশের সন্দেশ কিন্তু মাস্ট। আর হ্যা, কুমারখালীর মটকা সাথে মটকা চা। এইটা কিন্তু এন্ডেমিক জিনিস ভাইয়া। লুংগি গামছা আর বেডশীট নিতে ভুলেন না কুমারখালী আসলে।একটু মশল্লা গুড় চেখে দেইখেন এখানকার।

হুম, জগতি! জগতিতেও যাবেন কিন্তু! দেশের সব থেকে প্রাচীন দুইটা রেল স্টেশনের একটা সে৷ আর দেখবেন চিনিকল। শহরের মাঝে দাঁড়িয়ে গ্রামে দেখার সৌভাগ্য জগতিতে গেলেই হবে। আর গড়াই রেলব্রীজ? বাংলাদেশের সব থেকে পুরাতন!! ১২০ হবে তার বয়স জলদিই।

দেশের অন্যতম বৃহত্তর চালের আরত খাজা নগর, আর অন্যতম প্রাচীন পোড়াদহ জংশন দেখতে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে, বাংলাদেশের জায়েন্ট বিআরবি কেবলস এর সবগুলা ইন্ড্রাস্ট্রিই। পোড়াদহের রসগোল্লাটাও একটু খেয়ে নিয়েন বিরতিতে।

কুষ্টিয়া মানুষগুলা খুব রাফ! তবে এদের স্বভাব মুখে মধু অন্তরে বিষ টাইপের না। আমাদের কাছে মধু মানে মধুই, আর বিষ মানে বিষই। মাঝামাঝি পন্থা কুষ্টিয়ানদের মাঝে নেই। যেটা পিছে বলি সেটা সামনে বলতেও দ্বীধা নেই আমাদের।

কুষ্টিয়ার আসল মজা কিন্তু গড়াইয়ের তীরে না, রেনউইক বাধেও না। কুমারখালিতেও না। সেই মজা নেই সাইজির আখড়া বাড়িতেও। সেই মজা পাবেন না কুঠি বাড়ি, টেগর লজ কিংবা মীর মশাররফ হোসেন কাঙাল হরিনাথের বাড়িতেও।

কুষ্টিয়ার আসল মজা হচ্ছে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সড়ক। আমি না চোখ বুঝে, একটা জীবন এই তিন কিলো মিটার দীর্ঘ সড়কে কাটিয়ে দিতে পারি। কুষ্টিয়ার যে কাউকে জিজ্ঞাসা করেন। সবার আগে এন এস রোডের কথাই বলবে। একরাস্তার উপরের একটা শহর।

কুলফি হাতে এনএস রোডে ঘুরাঘুরি, রথখোলার পানিপুরি, এখন আবার মোটামুটিভাবে সব হোটেলেই পাবেন লুচি সবজি।আধুনিক ছোয়া লাগলেও কুষ্টিয়া আজো বড্ড পুরাতন!! তাই মায়া কুষ্টিয়াতে ঢুকলে লাগবেই। একটা জেলা শহর, একটা প্রাচীন শহর! এত নিস্তব্ধ! অথচ চারিদিকে কত প্রাণ!! এইটাই বুঝি এই শহরের সব থেকে বড় বৈশিষ্ট!!

এন এস রোডের সূচনা হচ্ছে পৌরসভার গেট থেকে!! প্রায় দেড়শ বছরের পুরাতন এই ভবনকে দেখে রাজপ্রাসাদ বলে ভ্রম হতেই পারে। শহরের প্রায় অর্ধেক থেকে এই ভবন আর এই গেট দেখা যায়। এক অনিন্দ্য মনরম এই ভবন। আহা!! অতীত আর বর্তমানের মেল বন্ধন।ভালো কথা,কুষ্টিয়ার বিখ্যাত লাল রঙা দেওয়াল কিন্ত পৌরসভাতেই বেশী পাবেন।

সাথে শাহী মসজিদ,মডেল মসজিদ,ছোট খাটো ইকো-শিশুপার্কগুলিও ঘুরে এসেন।ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় আর ইসলামিয়া কলেজ সাথে সরকারি কলেজে একটু পদাপর্ণ কইরেন।কিছু তো ফিল হবেইইই।

অনেক কিছুই বললাম। বাদ গেলো অনেক কিছুই।কুষ্টিয়া আসলেই একটা মায়ার শহর! যারা কুষ্টিয়ার লোক না, কিন্তু কুষ্টিয়া একবার হলেও বেড়াতে গেছে, তারাও এই মায়াটা অনুভব করে। আহা! কুষ্টিয়া!

 কুষ্টিয়ার তুলনা কুষ্টিয়া নিজেই!!

তারপরেও কুষ্টিয়া শহরে কি আছে?
কিছুই নেই!

না ভুল, কুষ্টিয়া শহরে মায়া আছে! কুষ্টিয়া মায়া নগর। কুষ্টিয়া আরশীনগর।"
 ভালোলাগা আর ভালোবাসা নিয়ে ফিরবেন। দাওয়াত রইল আমার শহরে..

Monday, September 6, 2021

#আমরা_কিসের_চর্চা_করছি?? #আর_কি_লালন_করছি??



:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::★
পরীমণি যেদিন জামিন পেলেন, সেদিন এশিয়ার নোবেল খ্যাত ম্যাগসেসে পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের কৃতি বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী। অথচ ফেসবুক জুড়ে ছবি, প্রোফাইল পিকচার, গল্প, কাহিনী, স্ট্যাটাস এমনকি পত্র-পত্রিকায় শুধুই পরীমণি আর হুডখোলা জিপে যেন তাঁর দিগ্বিজয়ী হাস্যোজ্জ্বল ছবি।

তাঁরা দুজনেই নারী। কিন্তু, ডঃ ফেরদৌসী কাদরী'র তেমন কোন খবর নেই। সংবাদের শিরোনামে তিনি নেই, নেই সংবাদপত্রের প্রথম পাতায়। মানব কল্যাণে তাঁর কতটা অবদান, তা নিয়ে নেই কোন আলোচনা!

ভিনদেশী নুসরাতের ছেলের বাবা কে? — এ-ই আমাদের আলোচনার বিষয়!

অপূর্ব কয় বিয়ে করলেন, কনের বাড়ি কোথায় সেটাও প্রথম পাতায়, বিনোদন পাতায়। অথচ ক্যাপটেন নওশাদ, যিনি নিজে জীবন দিয়ে বিমান ভর্তি যাত্রীদের জীবন বাঁচিয়ে গেলেন, তা আর প্রথম পাতায় জায়গা পেল না।

আজ আমাদের চর্চার বিষয় হলো পরীমণি, পিয়াসা, মৌ, পাপিয়া, হিরো আলম, অনন্ত জলিল, সেফুদা, আনভীর, শাহেদ, ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ডেসটিনি!!

প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের ডেসটিনি কোথায়??

বলতে দ্বিধা নেই, আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিখ্যাত বিজ্ঞানী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি কিংবা ডাক্তার তৈরি হওয়ার সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। কারন, আমরা জ্ঞানের কদর করছি না তাই। আর বেড়ে যাবে, ফেইসবুকার, মোটিভেশনাল স্পিকার আর ইউটিউবারের সংখ্যা।

কথায় আছে, "যেদেশে জ্ঞানীর কদর হয় না, সেদেশে গুণী জন্মায় না"।

#Cartasy from online.

Thursday, September 2, 2021

#নৈতিকতার অভাব!!!!

নৈতিকতার অভাব!
নৈতিকত শিক্ষার অভাব! সনদপত্র আমরা সবাই পাইতেসি কিন্তু শিক্ষিত হচ্ছি কই! হইছি সনদপত্র ধারি শিক্ষিত মূর্খ!
অশিক্ষিত মুর্খ হতেও অধিক অধম এবং অধিকতর ক্ষতিকর, এক জন জালেম হতে !
সশিক্ষিত বা সুশিক্ষিত মানুষ  হতে পারিনি! 
আর সাশক রা অস্থিতিশীল করে এই  মূরখ দেরকে নিয়ে শোষন করতেছে.....
সাথে অাছে নোববো রাজার অাকার ধারি সব দালাল....
এরা এদানিং নিজেদের নাকি বুদ্ধিজিবী মনে করে 
হাস্যকর.....হা..হা..হা..অাজোব....! নির্লজ্জ বেহায়া.…...!
  আমরা আমাদের পরিবারকে হারাম টাকাই লালন পালন করতেছি তবে নৈতিকত আদর্শ সততা আসবেইবা কিকরে!
 পরিক্ষার আগে আমারা আমাদের সন্তানকেও কিনে দিতেছি
প্রশ্নপত্র GPA 5 পাওয়ার জন্য সে সন্তান নৈতিকতা পাবেইবা কোথাথেকে!?
অপরাধিকে আমরা এদানিং অনুকরনিও হিসেবে নিতে শুরু করেছি তাকে নায়ক বা নায়িকা মহা মানব বানাতে শুরু করেছি! 
কিছু হলেই  দেশের দোষ!  দোষ দেওয়ার আগে এটাকি কখনও ভেবে দেখেছেন নিজে কি নৈতিকতা  দিয়েছেন আপনার  নিজের সন্তান কে,  কি দিয়েছেন এ দেশকে!????????? কখনও কি এসব অন্যয় এর প্রতিবাদ করেছেন!  করেননি বরং মেরুদণ্ড হীন দালাল পা-চাটা কুত্তার মতো পা চাটতে গেছেন দূর্নীতি করে অর্থ আয়ত্ত করতে গেছেন! তাহলে কি আশা করেন আপনি?  আপনি করবেন অন্যয় দূর্নীতি আর আপনার সাথে অন্যরা করবে ন্যয় আর সৎ কর্ম, বিষয়টি কেমন হাস্যকর নায়কি! 
আপনি মনগড় ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে পারেন না কোনো দিনও না.... 
ইতিহাস কখনো পরিবর্তন করাজায়না। ইতিহাস সাক্ষী আছে যারা ইতিহাস পরিবর্তন করতে গেছেন তারা নিজেরাই আজ ইতিহাস এ-র ভিলেন রুপে ইতিহাস হয়ে গেছে। 
দোষ দেওয়া টা খুব সহজ তবে সমাধান করাটা ততোটাই কঠিন! দোষ দেওয়া বাদ দিয়ে পরিবর্তন করুন নিজেকে সমাধান চলে আসবে..... (ইনশাআল্লাহ)

Sunday, August 29, 2021

মুজিবনগরের প্রধানমন্ত্রীত্ব কে চায়?


============================
পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে প্রস্তাবিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর স্বাভাবিক দাবিদার ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চল হতে ঐ সময়ে আগত কিছু কিছু আওয়ামী লীগ নেতা ও পরিষদ সদস্যগণের মধ্যে এ-কথাও জোরেসােরে বলাবলি হচ্ছিল যে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এএইচএম কামারুজ্জামান হবেন প্রধানমন্ত্রী, কেননা তিনি পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তথাপি এমনিতেই রাষ্ট্র হয়ে গিয়েছিলাে যে জনাব তাজউদ্দিন দিল্লিতে নিজেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সেই সুবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
.
প্রবাসী সরকার গঠনের পূর্বে সামগ্রিকভাবেই আওয়ামী নেতৃবৃন্দের মধ্যে নেতৃত্ব-প্রতিযােগিতা যে কত মারাত্মক রূপ লাভ করেছিল তার একটি বিবরণ দিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখেছেন :
.
'নেতৃত্বের ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষির মাঝপথে অবস্থান করছিলেন, ঠিক সে সময় তাজউদ্দিনের প্রণীত বিবৃতি অনুসারে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘােষণা করে ভারতে অবস্থিত স্বাধীন বাংলাদেশের বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করা হয়। ফলে নেতৃত্বের প্রতিযােগিতায় লিপ্ত নেতারা প্রায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। দেশের হাজার হাজার মানুষকে যখন জবাই করা হচ্ছিল এবং হাজার হাজার মানুষ দেশের অভ্যন্তরে হানাদার বাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ দিচ্ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা তখন সরকারের যেকোন একটি পদ লাভের জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাজউদ্দিন সৈয়দ নজরুল ইসলামের নাম ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রস্তাব করলে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামারুজ্জামান এবং দলের সিনিয়র নেতা হিসেবে মােশতাক আহমদ ছিলেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।'[1]
.
অনুরূপ একটি চিত্র ওঠে আসে ‘একাত্তরের কলকাতা’ শীর্ষক গ্রন্থের লেখক ফজলুল বারীর মন্তব্যেও। তিনি লিখেছেন : ‘তাজউদ্দিনের সমস্যা ছিল প্রচুর। নির্বাসিত হয়েও দেশীয় রাজনীতির সংকীর্ণতা কোন কোন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা প্রবাসী সরকারকে আঘাত করেছিল পদে পদে। প্রবাসী সরকারকে, মুক্তিযুদ্ধকে সর্বদলীয় করার জন্যে তাজউদ্দিনের আগ্রহের সমর্থক ছিলেন না আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী। মন্ত্রিসভার অবশিষ্ট সদস্যরাও এ পদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন—তাও অপ্রকাশিত থাকে না। এরা অভিযােগ করে বলেন, তাজউদ্দিনের কারণেই ভারতে বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃতি দিতে দেরি করেছে। বিরােধীরা তাজউদ্দিনবিরােধী প্রচারণায় নেতৃত্ব তুলে দেন শেখ ফজলুল হক মণির হাতে।'[2]
.
বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে হাইকমান্ড নামে পরিচিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খােন্দকার মােশতাক আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের সঙ্গে আলাপ-আলােচনা না করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিল্লিতে হাই কমান্ডের অন্তর্ভুক্ত সদস্য তাজউদ্দিন আহমদের স্বউদ্যোগে প্রধানমন্ত্রিত্বের পরিচয় প্রদান কারােরই মনঃপুত হয়নি। ৮ এপ্রিল দিল্লী হতে তাজউদ্দিন আহমদ কলকাতায় ফিরে এলে ভবানীপুর এলাকার রাজেন্দ্র রােডের এক বাড়িতে তাঁকে ছেঁকে ধরা হয়। দিল্লীর ঘটনাসমূহের আনুপূর্বিক কর্মধারার খুঁটিনাটি বর্ণনা—উপস্থিত যুবনেতা এবং বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত আওয়ামী নেতৃত্বের নিকট অগ্রহণযােগ্য না হলেও আপত্তির মূল পয়েন্টটি ছিলে তাজউদ্দিনের প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের বিষয়টি। বলতে গেলে আপত্তি, অভিযােগ এবং পারস্পরিক অবস্থানের টানাটানির ভিতরেই ঐ বৈঠকের পরিসমাপ্তি ঘটে। রাতে এম মনসুর আলী আনুপূর্বিক ঘটনাসমূহ বিশ্লেষণ করে আমাকে বললেন যে, তাজউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক আচরণ ও নৈতিকতা সঠিক হয়নি। তবু বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীরূপে তাজউদ্দিনকে মেনে নেয়া ব্যতীত গত্যন্তর নেই। সেদিন পাশাপাশি একত্রে একটি কক্ষে অবস্থানকালে জননেতা হিসেবে মনসুর আলীর যে ধীশক্তি, অস্থিরতাহীন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নৈর্ব্যক্তিক ক্ষমতা দেখেছি তা সেই সময়ে বিরাজমান সরকারগঠনের জটিলতা নিরসনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বস্তুত এম মনসুর আলীই উদ্যোগ নিয়ে প্রথমে এএইচএম কামারুজ্জামানকে এবং পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল হতে বিস্তারিত আলাপ-আলােচনার ভিত্তিতে খােন্দকার মােশতাককে দিল্লীতে পেশকৃত সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে জায়েজ করাতে সমর্থ হয়েছিলেন।
.
আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা জনাব আব্দুর রাজ্জাক সারাটি জীবনই মনে মনে এই ক্ষোভ পােষণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ১৮ বছর পরেও একই কথা বলেছেন : ‘তাজউদ্দিন নিজেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘােষণা করলেন, আমরা বুঝলাম এটা ষড়যন্ত্র। তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পালন করলেন না। আমরা এইটা কোনােভাবেই মেনে নিতে পারলাম না।[3] তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্ব-প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মী মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে ছিলেন মারাত্মকভাবে দ্বিধান্বিত। শুধু শেখ ফজলুল হক মণিই নন, এই পদের মূল উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন খন্দকার মােশতাক আহমেদ। খন্দকার মােশতাক আহমদ সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকে শেষ প্রহর পর্যন্ত।[4] এমনকি, ভারতে বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশনার হােসেন আলীও খন্দকার মােশতাকের ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে কাজ করতেন।[5] তবে আওয়ামী রাজনীতির ডান-বাম আদর্শের দ্বিধা সংকটকালে সেকুলার অসাম্প্রদায়িক ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে কামারুজ্জামান ছিলেন অনেকের নিকটই গ্রহণযােগ্য। [6]
.
ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেছেন,
শ্রীমতি গান্ধী তাজউদ্দীন সাহেবের মতের সাথে একাত্মতা পােষণ করবার পর মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দেশের ভেতরে–বাইরে এবং ভারতবর্ষের সাথে সাহায্য–সহযােগিতার সম্পর্ক প্রসারিত করবার প্রয়ােজন এবং সেই সমস্ত দিক বিবেচনায় একটি সরকার গঠন করা অবশ্যকর্তব্য হয়ে দাঁড়াল। সেই সরকার গঠনের ব্যাপারেই আমরা এম, আর, সিদ্দিকী, আব্দুর রউফ এঁদের সাথে আলােচনা করেছি। তারা সবাই একমত হলেন একটা সরকার গঠন এখনই প্রয়ােজন। দিল্লীতে বসেই আমরা কিছু চিঠিপত্র পেলাম। যেমন সৈয়দ সুলতান সাহেবের কাছ থেকে, ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিক উদ্দিন ভূঞার কাছ থেকে। এই চিঠিগুলােতে লেখা ছিল যেন অবিলম্বে সরকার গঠন করা হয় এবং তাজউদ্দীন সাহেব যেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তখন। আমরা সবাই একমত হলাম যে, হাইকমান্ড হিসেবে যেটা কাজ করছিল সেটাই এখন ক্যাবিনেট হিসেবে কাজ করুক এবং তাজউদ্দিন সাহেব তার প্রধানমন্ত্রী হােন। কিন্তু তাজউদ্দীন সাহেবের প্রচণ্ড দ্বিধা ছিল নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। আত্মপ্রকাশ করানাের বিষয়টিতে। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনি তাে আওয়ামী লীগকে চেনেন না, এটা নিয়ে আওয়ামী লীগে কিন্তু নানা রকম ভুল বােঝাবুঝির চেষ্টা করানাে হবে।‘ আমি বললাম, কিন্তু সরকার গঠন করা ছাড়া এই মুহূর্তে তাে আর কোন উপায় নেই। এরপর আমাদের হাইকমান্ডের মতাে করেই আমরা একটি সরকার গঠন করি। আমরা যে সরকার গঠন করেছিলাম তা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির। [7,p 70]
তাজউদ্দীন সাহেব দলের সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে জাতির এই দুর্দিনে ভারতের সাহায্য–সহযােগিতা পাবার জন্য তিনি দিল্লী গেছেন—কর্তব্যের ডাকে তিনি সেখানে গেছেন এবং দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও সে অধিকার তার আছে। এই যুক্তিগুলাে এত জোরালাে ছিল যে এর বিরুদ্ধে আর কোন কথা উঠতে পারল না। ধীরে ধীরে সকলেই আমাদের যুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হলেন। তখন এই প্রশ্ন যারা কোন একটা মতলব থেকে তুলেছিলেন তারা যদিও এই যুক্তি অস্বীকার করতে পারছিলেন না, কিন্তু মনে মনে ফুসছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে সকলেই এই কথাটা মেনে নিলেন।
.
১০ এপ্রিলে তাজউদ্দীন সাহেবের যে বক্তৃতা প্রচার করার কথা সেদিন শেখ মণি তাজউদ্দীন সাহেবকে বললেন, ‘মামা, আপনার সঙ্গে একটু কথা আছে।' তাজউদ্দীন সাহেব এবং শেখ মণি একটা ঘরে গিয়ে আলাপ করতে লাগলেন। প্রায় ঘন্টাখানেক তারা আলাপ করার পর সেখানে। আমাকে ডাকা হল। আমি যাবার পর তাজউদ্দীন সাহেব বললেন, “দেখেন, শেখমণি বলছে টেপ করা বক্তৃতাটা আজকে যাতে প্রচার করা না হয়, এটা দু–তিনদিন পর হলেও কোন অসুবিধা হবে না। আমরা যখন আগরতলা যাচ্ছি, সেখানে যারা আছে তাদের সাথে আলাপ করে একমত হয়ে এটা করা যাবে।‘ শেখ মণি বিপ্লবী সরকারের কথা বলেছিলেন এবং গতরাতেই একটা আলাপআলােচনার মাধ্যমে যুক্তির মাধ্যমে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠে একমত হতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আগরতলাতে যাওয়ার পর এটা নিয়ে আবার একটা ঝামেলার যে আশঙ্কা তা আমি খুব অনুভব করলাম। সেইসাথে যারা সত্যিকার অর্থে তখন যুদ্ধে লিপ্ত তাদের কাছ থেকে আমরা চিঠিপত্র–খবরাখবর পাচ্ছি প্রত্যেকেই চাপ দিচ্ছেন যে সরকার গঠন করতে একদিনও যেন দেরি না হয়। দ্বিতীয়ত, এটা যদি প্রচারিত না হয় তাহলে দিল্লীতে এটা বুঝে ফেলবে যে, আমাদের সরকার গঠন করার ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে কোন অসুবিধা রয়েছে এবং সেটা ভবিষ্যতে আমাদের যে কোন কাজে তাদের বিশ্বাস সৃষ্টিতে সহায়ক হবে না। এ সমস্ত ভেবে আমি এর প্রতিবাদ করলাম। কিন্তু শেখ মণি খুব। উত্তেজিত হয়ে গেল। আমি তখন সমস্ত যুক্তিগুলাে তাদের দিলাম যে কেন এই সরকার গঠনের কথা এখনি প্রচার করার প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। সেইসাথে আরাে বললাম যে, আগরতলাতে হােক বা যেখানেই হােক, যাদের সাথে আমাদের দেখা হবে তারা এটা মেনে নিতে বাধ্য। কারণ, আমরা তাে এমন কাউকে নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছি না যে লােকগুলাের নাম আগে ছিল না। যারা যেভাবে কাজ করছিলেন তারা সেভাবেই কাজ করতে থাকবেন। এটা হচ্ছে আমাদের ধারাবাহিকতা, এবং তাজউদ্দীন সাহেব যখন ঢাকাতে ছিলেন তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর মতই কাজ করছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপ্রধানের মতই কাজ করছিলেন। অতএব আমরা এটা নূতন কিছু করছি না যে এটা কেউ অনুমােদন করবে না। এটা তাে আগেই অনুমােদিত হয়ে আছে। তখন শেখ মণি বললেন, ‘আপনি অত বুঝবেন না আমাদের ভেতরের কথা, বঙ্গবন্ধু আমাদের কী অথরিটি দিয়ে গেছেন।‘ এই কথাটাই মণি বলতে চাইলেন যে, বঙ্গবন্ধু তাকে একটা অথরিটি দিয়ে গেছেন। তাজউদ্দীন সাহেব আমার আর শেখ মণির মধ্যকার বিরােধটা মিটানাের জন্য বললেন, ঠিক আছে, মণি যখন বলছে যে আগরতলাতে গিয়ে এই সরকার অনুমােদন করানাের জন্য যা কিছু করা দরকার সে তা করবে, তখন তার কথাটা মেনে নিন। আমি খুব দ্বিধাগ্রস্ত মনে বললাম ঠিক আছে, দেখি আমি কী করতে পারি। ইতােমধ্যে বক্তৃতার টেপ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে চলে গেছে, কাজেই এটা। ফিরিয়ে আনা যাবে কিনা আমি ঠিক জানি না।‘ আমি বাইরে এসে গােলােক মজুমদারকে ফোন করলাম। আমি বললাম, “যে টেপটা আমি আপনাকে দিয়েছি সেটা কোথায় ?’ তিনি বললেন, যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে সেটা চলে গেছে।‘ আমি বললাম যে, ‘টেপটার সম্প্রচার আপাতত কি স্থগিত করা যায়?’ তখন তিনি বললেন, যদি আপনারা বন্ধ করতে চান তাহলে আমি হয়ত চেষ্টা করলে এখনাে করতে পারি। কিন্তু তা করা কি ঠিক হবে? বরং এটা করলে নানা জায়গায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হবে।‘ তখন আমি গােলােক মজুমদারকে বললাম যে, তাহলে যেভাবে এটা নির্ধারিত হয়েছে। সেভাবে চলতে থাকুক।‘ এই একটিমাত্র কাজে আমি তাজউদ্দীন সাহেবের কথা অমান্য করেছিলাম। এটা ঠিক হয়েছিল, কি সঠিক হয়নি তা বিচার করবে আগামী ইতিহাস। আর পরবর্তীকালে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে সেগুলাে দেখলে। বােঝা যাবে এটা বন্ধ করার চেষ্টার পেছনে কী চিন্তাভাবনা বা ষড়যন্ত্র ছিল। আমি ফিরে এসে তাজউদ্দীন সাহেবকে বললাম ‘গােলােক মজুমদারকে আপনার ইচ্ছার কথা বলেছি। তিনি হয়ত বা চেষ্টা করবেন এটা বন্ধ করার ব্যাপারে। কিন্তু টেপটা এখন আর তার হাতে নেই।‘ এর পরে রাতে আমরা খেতে বসেছি; খাবার টেবিলে শুধু তাজউদ্দীন সাহেব, শেখ মণি আর আমি। কারণ সেই সময় তােফায়েল আহমদ অসুস্থ হয়ে কলকাতাতে চলে গেছেন। মনসুর আলি সাহেবের জুর, তিনি শুয়ে পড়েছেন। আমি রেডিওটা অন করে দিয়েছি, এই সময় খবর হয়। রেডিও অন করতেই শুনি একটি ঘােষণা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বেতার ভাষণ প্রচার করা হবে। আমরা তিনজনই তিনজনের চোখের দিকে তাকালাম। কারাে মুখে কোন কথা নেই, আমরা চুপচাপ। আমরা চুপচাপ রেডিও–র ঘােষণা শুনলাম আর খেয়ে নিলাম। সকলেই বুঝলাম যে কী হয়ে গেছে।
.
References:
[1] মওদুদ আহমদ, বাংলাদেশ স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা, ইউপিএল, ঢাকা, চতুর্থ সংস্করণ, ২০১০, পৃষ্ঠা ২১৮
[2] ফজলুল বারী, একাত্তরের কলকাতা, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৯৩, পৃ. ২৮
[3] সাক্ষাৎকার, বিস্তারিত দ্রষ্টব্য, শেখ ফজলুল হক মণি, বিতর্কিত মানুষ, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, ২৪ জুন ১৯৮৯।
[4] ফজলুল বারী, পূর্বোক্ত, পৃ. ২৮
[5] Rafiqul Islam, BU, A tale of milions, Bangladesh Liberation War 1971, Annanya, Dhaka, 2005, P. 215
[6] সালিম সাবরিন, এম মনসুর আলী, উৎস, ২০১৮, পৃষ্ঠা ৯৭-৯৯
[7] রিমি সিমিন হোসেন, তাজউদ্দীন আহমদ আলোকের অনন্তধারা, 3rd ed. প্রতিভাস, 2006. pp. 70-76
[8] সংগ্রামের নোটবুক
=====================
Prepared by সংগ্রামের নোটবুক
Website post link https://songramernotebook.com/archives/124430

Tuesday, August 24, 2021

জগদল রাজবাড়ির নিয়তি



ঝি ঝি পোকা ডাকছে। মানে বিকেল ৫ টা বেজে গেছে একটু পরেই নামবে অন্ধকার। এত তাড়াতাড়ি অন্ধকার নামার কারণ এখানকার  ঘন গাছ-পালা। 
পাখিরা শেষ বারের মত তাদের ভাব আদান - প্রদান করছে বুঝা যাচ্ছে তাঁদের কিচিরমিচির শব্দের আধিক্য শুনে। 
সূর্য অস্ত হতেই গা থমথমে পরিবেশ। তারওপর পাতায় জমে থাকা বৃষ্টি ফোঁটা পরার টুপটাপ শব্দ। 
এমন সময় নদীর তীরের মন্দিরটায় রাজপত্নী সন্ধ্যাপ্রদীপ দিচ্ছে। আর রাজা শ্রী বীরেন্দ্র কুমার কাছারি বাড়িতে দিনের শেষ হিসেব টা দেখছেন। 

কাজ শেষে মস্ত বড়ো একটা ঘরে গেলেন যেখানে হাজারো বই।কলেরগান চালিয়ে গান শুনছেন আর হাতে একখানা বই নিয়ে পড়ছেন ফাঁকে ফাঁকে ফুক দিচ্ছেন হুঁকায়।
 সংগ দিচ্ছেন বৃদ্ধ  পুষা কুকুর।

পুজা পার্বণে বিশাল আয়োজন, গান, বাজনা, খাজনা, ইত্যাদি নিয়ে জগদল বাড়ি সারাক্ষণ মেতে থাকে। 
হঠাৎ বাংলা ভাগ l  ১৯৪৭ দেশ ভাগের ভয়াবহ অবস্থা। 
রাজবাড়ি ছেড়ে রাজা পাড়ি দিলেন ওপার বাংলায়। 
সঙ্গে নিয়ে গেলেন তাঁর সব পোষা কুকুর। 
কিন্তুু গেলো না রাজার পাশে থাকা  সংগ দেওয়া বৃদ্ধ কুকুরটি l হয়তো বাড়ির মায়া ছাড়তে পারে নি। 
রাজবাড়িটি চলে গেল পাকিস্তান সরকার এর দখলে। 

বিরাট এই বাড়িতে নিরবতা আর কুকুরটির অসহায় চাহনি এই বুঝি মালিক এলো। 
......!

Monday, August 23, 2021

অবৈধ অনুপ্রবেশ

প্রতিবেশী দেশ সমূহের সীমান্তে (বাংলাদেশ অংশে) কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জরুরী প্রয়োজন বাংলাদেশের... 

ভারত ও মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত যথাক্রমে ৪ হাজার কিলোমিটার ও ১৯৩ কিলোমিটার।বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮০ শতাংশের বেশী এলাকায় বেড়া রয়েছে এবং বাকি অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। বাংলাদেশ- মায়ানমার  সীমান্তের অংশেও কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। তবে কিছু জায়গা এখনো অরক্ষিত। যার ফলে উভয় দেশের  সীমান্ত এলাকায় অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

মূলত ভারত-মায়ানমার তাদের সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক, চোরাচালান রোধ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্যই কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছিল। ভারতের দাবী বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ সীমান্ত দিয়ে সেই দেশে অনুপ্রবেশ করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বাংলাদেশ থেকে হয়তো হাতে গোনা কিছু মানুষ ভারতে অনুপ্রবেশ করে অবৈধভাবে । কিন্তু ভারত থেকে এর বেশী মানুষ অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সামগ্রী ভারতে পাচার হয়ে যায়। বাংলাদেশ সীমান্তের অংশে কোন বেড়া ও প্রতিবন্ধকতা না থাকার কারনে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বিজিবির পক্ষে সেটা রোধ করা সম্ভব হয়না অনেকাংশেই। শুধু মাত্র বাংলাদেশ থেকে ইলিশের মৌসুমে হাজার হাজার কেজি পদ্মার ইলিশ পাচার হয়। সাথে স্বর্ণ চোরাচালান,  চামড়া পাচার,  নারী ও শিশু পাচারতো আছেই। যা বিজিবির পক্ষে মোকাবেলা করা খুবই কঠিন। সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে প্রতিবন্ধকতা ও বেড়া থাকলে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সেটা অনেকাংশেই রোধ করতে পারতো। কারন বেড়া থাকলে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বিজিবির হাতেই থাকতো। আর অপরাংশে ভারতে থেকে অবাধে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ফেনসিডিল, নিষিদ্ধ উত্তেজক ঔষধ, ভারতীয় কাপড়, প্রসাধনী ইত্যাদি বাংলাদেশে ঢুকছে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। যদি বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ হয় তাহলে এইসব অবৈধ জিনিস এইদেশে আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। 

মায়ানমারের সাথে স্থল সীমান্তের অংশে কাঁটাতারের বেড়া ও নিয়ন্ত্রণ কম থাকার কারনে এই সীমান্ত সুরক্ষা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা বিজিবির জন্য কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে মায়ানমার স্থল সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া থাকলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ইচ্ছে করলে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যেতো। আর তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস্ব করে দেওয়া ভয়াবহ মাদক ইয়াবার আগমন ঠেকানো যেতো আরো প্রবলভাবেই। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন স্বেচ্ছারিতা ও অনিয়ম এর প্রতিবাদ করা যেতো ভালোভাবেই। বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে বেড়া নির্মাণ হলে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি বাংলাদেশ অংশের পুরো সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। সাথে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠির ষড়যন্ত্র, ও দেশীয় বিদেশী সন্ত্রাসীদের সহজেই মোকাবেলা করতে পারবে সাথে মূল্যবান সামগ্রী পাচার রোধ করতে পারবে। তাই সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া দ্রুত প্রয়োজন।

Copyright- Bangladesh Military Affairs