Search This Blog

Thursday, September 24, 2026

পাকিস্তানি সেনারা ২৫ মার্চ নিরীহ বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা একটা ফিকশনকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে তা হল বাঙালিরা একদম চুপচাপ ছিল। পাকিস্তানিরা নিরীহ বাঙালির উপর হামলা করে।


🖋পাকিস্তানি সেনারা ২৫ মার্চ নিরীহ বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা একটা ফিকশনকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে তা হল বাঙালিরা একদম চুপচাপ ছিল। পাকিস্তানিরা নিরীহ বাঙালির উপর হামলা করে।

তবে বাস্তবতা হল শেখ মুজিব একদিকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। অন্যদিকে ভারত থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তার ক্যাডার বাহীনিকে লেলিয়ে দেয় অবাঙালিদের পেছনে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ একটা ঘটনা উল্লেখ করেছেন(গর্ব সহকারে), ❝ ২৬ অক্টোবর (১৯৬৯) শেখ মুজিব কয়েক দিনের জন্য লন্ডন সফরে যান। সবাই জানত তিনি আগরতলা মামলা চলাকালে প্রবাসী বাঙালিদের এবং তাঁর কৌসুলি স্যার টমাস উইলিয়ামকে কৃতজ্ঞতা জানাতে লন্ডনে যাচ্ছেন । যাওয়ার আগে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর নীলক্ষেত-বাবুপুরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আজিমপুর-নিউ পল্টন ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তালুকদারকে ইঙ্গিতে বলেন, ‘লাল ফিতা পেলেই ধরবে।' লাল ফিতা বলতে তালুকদার বুঝলেন পাঞ্জাবি সেনা। ৩ নভেম্বর তালুকদার নীলক্ষেতে তাঁর অফিসে বসে কাজ করছিলেন। সেখানে মন্টু, খসরু এবং আরও কয়েকজন ছিলেন। খবর এল, নিউমার্কেটের ভেতরে সেনা ঢুকেছে । কয়েকজনের গায়ে ইউনিফর্ম, বাকিরা সাদাপোশাকে। তখন বেলা ১১টা। নিউমার্কেটের ১ নম্বর ও ২ নম্বর গেটের মাঝামাঝি জায়গায় তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা হলো । পিটিয়ে এবং ছুরি মেরে কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। ❞

১৯৭১ সালে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পরে। ২ মার্চ আওয়ামী লীগের ক্যাডারেরা নিউমার্কেট ও বায়তুল মোকাররমের অস্ত্র দোকানগুলো থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে। তারা এসব অস্ত্র ট্রাকে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্ররা একটি উন্মুক্ত ফায়ারিং রেঞ্জে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তারা অবাঙালিদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও সিনেমা হল লুট করতো।

এছাড়া তারা ঢাকা শহরে বিহারি, গুজরাটি, মনিপুরী, আসামি সহ সব অবাঙালিদের আবাসিক এলাকায় হামলা করে। মুক্তিপণ আদায়ে ধনী পশ্চিম পাকিস্তানিদের অপহরণ করা হয়। ফলে আতঙ্কিত বহু অবাঙালি সেনানিবাসে আশ্রয় গ্রহন করে। 

৩ মার্চ পল্টন ময়দানে এক সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার পক্ষে চার ছাত্র নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব এবং আবদুল কুদ্দুস মাখন শপথ বাক্য পাঠ শেষে ‘জয়বাংলা বাহিনী'র উপ-প্রধান (ডেপুটি চীফ) কামরুল আলম খান খসরু আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গান ফায়ার’ করে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা জানান।

একই দিনে ৩ মার্চ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীদের নেতৃত্বে উন্মত্ত জনতা ঢাকার নবাবপুর, ইসলামপুর ও পাটুয়াটুলির মতো জায়গায় হাজার হাজার অবাঙালির বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড চালায়। জিন্নাহ এভিনিউতে অবাঙালি মালিকানাধীন বহু দোকানপাট লুট করা হয়। শহরের উপকণ্ঠে একটি বস্তিতে অবাঙালিদের ৫০টি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাদের অনেকে জীবন্ত দগ্ধ হয়। আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের নির্দেশে ঢাকায় টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশনে পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তে রবীন্দ্রনাথের পূর্ব বাংলা বিরোধী গান ‘আমার সোনার বাংলা' বাজানো হয়।

৬ মার্চ ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে ৩৪১জন কয়েদী পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের সঙ্গে যোগ দেয়।  ককটেল এবং বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে ছাত্র লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরী ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে রাসায়নিক বিস্ফোরক লুট করে। 

১৬ থেকে ২৩ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের আড়ম্বরপূর্ণ শাসনতান্ত্রিক আলোচনার সময়ও আওয়ামী লীগ তাদের সমান্তরাল সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং ঢাকা ও তার আশপাশের কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দলীয় ক্যাডারদের প্রকাশ্যে প্রশিক্ষণ দেয়। অবাঙালিদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। একদল দাঙ্গাবাজ ক্যাডার ঢাকায় সেনাবাহিনীর একটি জীপে হামলা চালায় এবং জীপের আরোহী ৬ সৈন্যকে অপহরণ করে। শহরে পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র লুট করা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পাকিস্তানি সৈন্যদের কাছে খাদ্য সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

২৩ মার্চ চীনা কন্স্যুলেটে লীগের বানানো নতুন পতাকা উত্তোলন করতে গেলে লীগের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাধে। চীনারা তাদেরকে এ পতাকা উত্তোলনে বাধা দেয়। আওয়ামী লীগের বিক্ষোভকারীরা বহু স্থানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা টুকরো টুকরো করে এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি পায়ের নিচে পিষ্ট করে। ইপিআর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সপক্ষ ত্যাগ করায় আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

পুরো প্রদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়৷ ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি ছিল আরো ভয়াবহ। সর্বত্র অবাঙালিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চলে। কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের ক্যাডারেরা একজন লাহোরের অধিবাসী সরকারি কর্মকর্তা ওয়াকার নাসিম বাটের মাথা কেটে, কাটা মাথা নিয়ে আনন্দ মিছিল করে (ছবিতে)। 

খুলনা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহসহ সারা দেশে বিহারিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চলে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এর ভয়াবহতা ছিল সবচেয়ে বেশি। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, সৈয়দপুরে হাজার হাজার বিহারিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। 

বাঙালিদের প্রিয় সাংবাদিক এন্থনি মাসকোরেনহাস সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে লিখেছিলেন,

❝ Thousands of families of unfortunate Muslims, many of them refugees from Bihar were mercilessly wiped out. Women were raped or had their breasts torn out... Children did not escape the horror: the lucky ones were killed with their parents.... The real toll have been as may high as 100,000. ❞ 

বাঙালি ইতিহাসবেত্তা প্রফেসর তাজ হাশমি তার ক্যারিশমা দেখিয়েছেন এক লাইনে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে অবাঙালিদের অবস্থা কেমন ছিল তা বিশ্লেষণ করে। তবে বাঙালি সেই লাইন নিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। 

এ সময় আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা খোদ ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় ১৫ হাজার লোড করা রাইফেল লুট করে। গোটা ঢাকা শহর জুড়ে ব্যারিকেড ও সড়ক প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল বোমা, ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে আওয়ামী লীগ
 ২৬ মার্চ প্রত্যুষে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের সহায়তায় একটি সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটাতে যাচ্ছে। সশস্ত্র অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে ২৫ মার্চ গভীর রাতে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে আসে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রাদেশিক রাজধানীতে আওয়ামী লীগের অভ্যুত্থান নস্যাতে বেশ কয়েকটি জায়গায় আগেভাগে আঘাত হানে। 

বিস্তারিত পড়াশোনা:

১। ব্লাড এন্ড টীয়ার্স, কুতুবউদ্দিন আজিজ 
২। ডেড রেকনিং, শর্মিলা বোস
৩। 50 years of Bangladesh, Prof. Taj Hashmi, (Chapter 7)
৪। আওয়ামী লীগ, উত্থান পর্ব, মহিউদ্দিন আহমেদ পৃ: ২০৯

©️ একজন দেশপ্রেমিক

Wednesday, September 16, 2026

জিন্নাহর রাজনীতিটা না বুঝলে আপনি আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিটাই বুঝবেন না।


জিন্নাহর রাজনীতিটা না বুঝলে আপনি আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিটাই বুঝবেন না। কে কার সাথে কী করতেসে, কেন করতেসে, কোন কথাটা কোন জায়গা থেকে আসতেসে, কিছুই ধরতে পারবেন না। আপনি ঘটনা ঘটতে দেখবেন আর হাঁ কইর‍্যা তাকাইয়া থাকবেন।

আজ বাংলাদেশের সামনে যেই চ্যালেঞ্জটা দাঁড়াইয়া আছে, ওইটার মোকাবেলা করতে হইলে আপনাকে জিন্নাহর রাজনীতিটাই করতে হবে। কোনো রাখঢাক ছাড়া। আনএপোলোজিটিক্যালি। কোন গ্লানি ছাড়া। কোন ব্যখ্যা দেয়া ছাড়াই।

জিয়াউর রহমান ঠিক ওইটাই করসেন। শুনতে খারাপ লাগবে। জিয়ার রাজনীতির এসেন্স যে জিন্নাহর পলিটিক্যাল মিশন এইটা প্রমাণ কইর‍্যা দেওয়া যাবে।
আর এইজন্যই ভারতমাতা জিন্নাহকে অপ্রাসঙ্গিক কইর‍্যা রাখতে চায়। লোকটা মইর‍্যা গেসে আটচল্লিশ সালে। আটাত্তর বছর হইয়া গেল। তবু ছবি টাঙাইলে ছিঁড়তে হয়। কেন?

কারণ প্রশ্নটা জিন্নাহর না। প্রশ্নটা হইলো একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর আলাদা রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকতে পারে কিনা। জিন্নাহকে বৈধ মানলে ওই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ। আর ওই উত্তরটা দিল্লির চলবে না।

জিন্নাহ ঘৃণা কোনো বাংলাদেশের নিজস্ব জিনিস না। ওইটা হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি। আমদানি করা, প্যাকেট খুইল্যা আপনার হাতে ধরাইয়া দেওয়া, আর আপনি ওইটারে চেতনা বইল্যা বুকে জড়াইয়া ধরসেন। আপনাকে কী কী মনে রাখতে বলা হয়, আর কী কী ভুলতে বলা হয়। মনে রাখতে বলা হয় ক্ষতটা। ভুলতে বলা হয় ক্ষতটা কে তাজা রাইখ্যা লাভ করে। মনে রাখতে বলা হয় ভারতমাতার বন্ধুত্ব। ভুলতে বলা হয় সেই বন্ধু আপনাকে কী দিসে।

মনে রাখতে বলা হয় কৃতজ্ঞতা। ভুলতে বলা হয় কৃতজ্ঞতার মেয়াদ থাকে, নাগপাশের থাকে না।

মনে রাখতে বলা হয় আপনি বাঙালি। ভুলতে বলা হয় ওইপারের বাঙালি আপনাকে কোনোদিন নেয় নাই। আপনাকে বাঙ্গালি বলে স্বীকারই করে নাই। কারণ আপনি গরু খাওয়া মুসলমান।

ভারতমাতা এই মন্ত্রটা রোজ আপানার কানে পড়ে। ষোলো কোটি মানুষ ওই মন্ত্র শুনতে শুনতে বড় হইসে। শোনাটা এতো স্বাভাবিক হইয়া গেসে যে ওইটা যে একটা মন্ত্র, ওইটাও আর টের পাওয়া যায় না।

একবার ওই বয়ানের জোয়ালটা ঘাড় থেকে নামান। বুলন্দ আওয়াজে নামান, চুপচাপ না। নিজের সার্বভৌমত্বটা নিজেরা উদযাপন করেন, কারো অনুমতি না নিয়া।

তাইলে দেখবেন ওই প্রেতাত্মাটা আর নাই। ইন্ডিয়ার বয়ান, প্রগতিশীলতার বয়ান, জিন্নাহ ঘৃণা আর আওয়ামী লীগের বয়ান, দুইটা আসলে একটাই জিনিস, আর ওইটার খাদ্য একটাই। আপনার ইতিহাসের ভুল বোধ। খাওয়া বন্ধ করেন॥

Sunday, September 13, 2026

ইতিহাসের বই আমাদের শেখায়, ভারত ভাগ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। কিন্তু এটি আংশিক সত্য কথা।


ইতিহাসের বই আমাদের শেখায়, ভারত ভাগ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। কিন্তু এটি আংশিক সত্য কথা।

ভারত ভাগের আসল দলিল সই হয়েছিল তারও ২৭ বছর আগে, ১৯২০ সালের এক ধুলোমলিন বিকেলে।

নাগপুরের এক জনাকীর্ণ প্যান্ডেলে সেদিন প্রায় ৫ হাজার মানুষের সামনে একজন মানুষকে অপমান করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সেই মানুষটি কোনো পাল্টা চিৎকার করেননি। তিনি শুধু শান্ত পায়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন তিনি একা বের হননি, তার সঙ্গে বেরিয়ে গিয়েছিল ভারতের অখণ্ডতা।

কে ছিলেন সেই ব্যক্তি। আর কংগ্রেসের অন্দরমহলে ঠিক কী ঘটেছিল, যা একজন হিন্দু মুসলিম ঐক্যের দূতকে বানিয়ে দিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় খলনায়ক।

১৯২০ সালের নাগপুর অধিবেশন-

সাল ১৯২০, ডিসেম্বর মাস। স্থান নাগপুর। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন চলছে। প্যান্ডেলের নিচে প্রায় ৫ হাজার মানুষ। বাতাসে ধুলো আর চরম উত্তেজনা।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন একজন মানুষ। পরনে লন্ডনের সেভিল রো থেকে বানানো দামি স্যুট, চোখে মুখে আভিজাত্যের ছাপ। তিনি কথা বলতে চাইলেন, কিন্তু ৫ হাজার মানুষের জনসমুদ্র তাকে থামিয়ে দিল।

চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে টিটকারি, চিৎকার এবং অপমান।

মঞ্চে দাঁড়ানো লোকটির অপরাধ, তিনি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে মহাত্মা ডাকতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন মিস্টার গান্ধী। অপমানে ও ক্ষোভে সেই ব্যক্তি মঞ্চ থেকে নেমে সোজা বেরিয়ে গেলেন অধিবেশন থেকে। আর কখনো তিনি কংগ্রেসে ফিরে আসেননি।

যিনি বেরিয়ে গেলেন, তিনি আর কেউ নন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

ঐতিহাসিকদের পর্যবেক্ষণ

অথচ মাত্র চার বছর আগেও এই কংগ্রেসেই তাকে ডাকা হতো হিন্দু মুসলিম ঐক্যের দূত বলে। ইতিহাসের পাতায় এই ঘটনাটি কেবল একজন নেতার দলত্যাগ নয়। ঐতিহাসিকরা বলেন, ১৯২০ সালের সেই নাগপুর অধিবেশনই আসলে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের বীজ বুনে দিয়েছিল।

কিন্তু কেন কংগ্রেসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি নিজের ঘরেই এমন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

জিন্নাহর প্রারম্ভিক রাজনীতি ও লখনৌ চুক্তি

গল্পের শুরুটা কিন্তু এমন ছিল না। ১৯১৫ সাল পর্যন্ত জিন্নাহ ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি ছিলেন একজন পুরোদস্তুর সাংবিধানিক রাজনীতিবিদ। ধর্ম বা আবেগ নয়, তিনি বিশ্বাস করতেন যুক্তি আর তর্কে।

বিখ্যাত কবি ও রাজনীতিবিদ সরোজিনী নাইডু তখন জিন্নাহ সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি হিন্দু মুসলিম ঐক্যের প্রকৃত দূত, লম্বা, রাজকীয় এবং আমাদের ভবিষ্যতের আশা।

১৯১৬ সালে জিন্নাহর হাত ধরেই ঐতিহাসিক লখনৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ, দুই মেরুর দুই দলকে তিনি এক মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন। তখন জিন্নাহর পরিচয় কোনো মুসলিম নেতা হিসেবে ছিল না। তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী।

গান্ধীর উত্থান ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

কিন্তু রাজনীতিতে খুব শীঘ্রই এমন এক ঝড় আসতে চলেছিল, যার জন্য জিন্নাহ নিজেও প্রস্তুত ছিলেন না। সেই ঝড়ের নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গান্ধী ফিরলেন এক নতুন মন্ত্র নিয়ে। তার রাজনীতি ড্রয়িং রুমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি রাজনীতিকে নিয়ে গেলেন রাস্তায়, কৃষক আর শ্রমিকদের মাঝে।

জিন্নাহ ছিলেন যুক্তিবাদী ব্যারিস্টার, আর গান্ধী ছিলেন আধ্যাত্মিক পপুলিস্ট। জিন্নাহ কথা বলতেন ইংরেজিতে সংবিধান নিয়ে, আর গান্ধী কথা বলতেন অন্তরাত্মা ও ধর্ম নিয়ে।

বিখ্যাত ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি ওলপার্ট তার জিন্নাহ অব পাকিস্তান বইয়ে এই সময়টাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, জিন্নাহ গান্ধীর রাজনীতিকে মনে করতেন বিশৃঙ্খল।

চরকা কাটা কিংবা ভজন গাওয়া, এগুলো জিন্নাহর কাছে রাজনীতি ছিল না। জিন্নাহ বিশ্বাস করতেন, সাধারণ জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন না করে রাস্তায় নামালে তা কেবল অরাজকতাই ডেকে আনবে।

কংগ্রেসের সাধারণ কর্মীরা ধীরে ধীরে গান্ধীর জাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল, আর যুক্তিবাদী জিন্নাহ ক্রমশ একা হয়ে পড়লেন।

খিলাফত আন্দোলন ও ধর্মের রাজনীতি

কিন্তু আসল ফাটলটা ধরল যখন রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনা হলো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খলিফাকে রক্ষার জন্য ভারতে শুরু হলো খিলাফত আন্দোলন।

গান্ধীজি দেখলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে মুসলিমদের সমর্থন দরকার। তাই তিনি হিন্দুদের নেতা হয়েও এই ইসলামী আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন দিলেন।

এখানেই জিন্নাহ থমকে গেলেন। তিনি ছিলেন একজন সেক্যুলার মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো মানে বারুদের স্তূপে আগুন দেওয়া।

ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লেখক জাসবন্ত সিং তার বইয়ে জিন্নাহর এই অসহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, জিন্নাহ গান্ধীকে সাবধান করে বলেছিলেন, আপনি আগুনের সঙ্গে খেলছেন। মোল্লাতন্ত্রকে রাজনীতিতে ডেকে এনে আপনি এমন এক শক্তিকে জাগিয়ে তুলছেন, যাকে পরে আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

কিন্তু গান্ধীজি সেই সতর্কবার্তা শোনেননি।

সংবিধানের জনক বি আর আম্বেদকরও পরবর্তীকালে জিন্নাহর এই অবস্থানের প্রশংসা করে লিখেছিলেন, মিস্টার জিন্নাহ ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি খিলাফতের বিরোধিতা করার সাহস দেখিয়েছিলেন।

কংগ্রেস যখন মুসলিমদের খুশি করতে ব্যস্ত, তখন জিন্নাহ একা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ধর্মীয় উন্মাদনা দিয়ে দেশের মুক্তি আসতে পারে না। কিন্তু কংগ্রেস তখন সংখ্যার লোভে জিন্নাহর যুক্তি শুনল না। তিনি নিজ দলেই হয়ে পড়লেন বহিরাগত।

চূড়ান্ত অপমান ও বিদায়

অবশেষে এলো সেই দিন, ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাস, নাগপুর অধিবেশন। গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব আনলেন। জিন্নাহ এর বিরোধিতা করতে মঞ্চে উঠলেন। তিনি চাইলেন আবেগের বদলে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে।

মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে জিন্নাহ বললেন, আমি মিস্টার গান্ধীর প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি।

মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ চিৎকার করে উঠল, মিস্টার গান্ধী নয়, মহাত্মা বলো, মহাত্মা বলো।

জিন্নাহ থামলেন। কিন্তু তিনি ভিড়ের কাছে মাথা নোয়ানোর পাত্র নন। তিনি আবার বললেন, আমি মিস্টার গান্ধীর কথা বলছি।

এবার ভিড় আরও হিংস্র হয়ে উঠল। কেউ জুতো ছুড়ল, কেউ বা গালি দিল।

জিন্নাহর প্রথম জীবনীকার হেক্টর বলিথো এই দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক হার ছিল না। এটি ছিল জিন্নাহর জন্য চূড়ান্ত ব্যক্তিগত অপমান।

জিন্নাহ কোনো পাল্টা চিৎকার করলেন না। তিনি বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে সোজা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করলেন।

বলা হয়, জিন্নাহর সঙ্গে সেদিন তার স্ত্রী রুট্টি জিন্নাহও ছিলেন। তারা দুজন যখন ধীর পায়ে সেই কোলাহলপূর্ণ প্যান্ডেল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কংগ্রেসের সঙ্গে জিন্নাহর সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল।

স্বেচ্ছা নির্বাসন ও উপসংহার

সেদিন রাতেই জিন্নাহ নাগপুর থেকে বোম্বাইয়ের ট্রেন ধরেন। সাংবাদিকরা যখন তাকে প্রশ্ন করলেন, তিনি বিষণ্ণ মনে বলেছিলেন, আমি কংগ্রেস এবং গান্ধীর সঙ্গ ত্যাগ করলাম, কারণ আমি জনতার উন্মাদনা দিয়ে রাজনীতি করায় বিশ্বাসী নই।

এরপর জিন্নাহ প্রায় এক দশকের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে লন্ডনে চলে গেলেন স্বেচ্ছা নির্বাসনে। কিন্তু সেই ১৯২০ সালের অপমান তিনি কোনোদিনও ভুলতে পারেননি।

ঐতিহাসিক আয়েশা জালাল তার বিশ্লেষণে বলেন, জিন্নাহর কংগ্রেস ত্যাগ ছিল যুক্তিবাদী রাজনীতির বিদায়। জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অতিরিক্ত মাত্রায় সেক্যুলার, যিনি গান্ধীর ধর্মীয় পপুলিজমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেননি।

ট্র্যাজেডি হলো, যে মানুষটি ধর্মকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন, সেই মানুষটিকেই ইতিহাসের ফেরে পড়ে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করতে হলো।

নাগপুরের সেই মঞ্চে যদি জিন্নাহকে কথা বলতে দেওয়া হতো, তাকে অপমান না করা হতো, তবে হয়তো ভারতের ইতিহাস অন্যরকম হতো।

১৯২০ সালে কংগ্রেস জিন্নাহকে কোণঠাসা করেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই কোণঠাসা বাঘটিই ফিরে এসে ১৯৪৭ সালে মানচিত্র ছিঁড়ে তার জবাব দিয়েছিলো।

-সাদিক রহমান।

#fyp #viral #trending #reach #foryou #followers #following #everyone #highlights #writer #writing

Friday, September 11, 2026

শের আলী আফ্রিদি - যে নামটি ব্রিটিশরা মুছে ফেলতে চেয়েছিল


আসুন আমরা গৌরবের ইতিহাস পড়ি ৷ 
কতকাল আর মিথ্যে ইতিহাসের কবলে পড়ে মিথ্যেকে লালন করে আত্মহত্যার মত পাপ করবেন !! গৌরব না করে নিরক্ষর ব্যক্তির মত তেলবাজি বাদ দিয়ে সাদাকে সাদা,কালোকে কালো বলতে শিখুন ৷ 
—————————————————————————————শের আলী আফ্রিদি - যে নামটি ব্রিটিশরা মুছে ফেলতে চেয়েছিল

ব্রিটিশ ভারতের ২০০ বছরের ইতিহাসে ভাইসরয় ছিল সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তাকে বলা হতো ভারতের মুকুটহীন সম্রাট। তার নিরাপত্তা ছিল নিশ্ছিদ্র, তার আদেশে লাখো মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতো। সেই ইতিহাসে মাত্র একবার, মাত্র একজন মানুষ সেই অজেয় ক্ষমতার বুকে ছুরি বসাতে পেরেছিলেন। তার নাম শের আলী আফ্রিদি। 

অথচ আশ্চর্যের বিষয়, যে ইতিহাসে ব্যর্থ বিপ্লবীদের নিয়েও মহাকাব্য লেখা হয়, সেখানে সফল হওয়া এই একমাত্র বীরের নামটি আজ বিস্মৃত।
পেশোয়ারের পাহাড় থেকে ব্রিটিশ ঘোড়সওয়ার
শের আলী আফ্রিদির জন্ম ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশোয়ার জেলার খাইবারের তিরাহ উপত্যকায়। তিনি ছিলেন আফ্রিদি গোত্রের একজন খাঁটি পাঠান। পাঠানদের রক্তে যে স্বাধীনচেতা জেদ আর তেজ থাকে, শের আলীর মধ্যেও তার কোনো কমতি ছিল না।

যৌবনে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঞ্জাবের একটি অশ্বারোহী বাহিনীতে যোগ দেন। নিজের যোগ্যতায় তিনি ঘোড়সওয়ার থেকে পদোন্নতি পেয়ে অফিসারও হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশ বাহিনীতেও কাজ করেন। অর্থাৎ তিনি ব্রিটিশ সিস্টেমের ভেতর থেকেই ব্রিটিশদের চিনেছিলেন।

কিন্তু পাহাড়ি সমাজের চিরন্তন ব্যাধি - পারিবারিক শত্রুতা। ১৮৬৭ সালে নিজের বংশের শত্রু হায়াত নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ব্রিটিশ আদালত তাকে গ্রেফতার করে। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। আর শাস্তি ভোগের জন্য বেছে নেওয়া হয় তখনকার সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা - কালাপানি, আন্দামানের সেলুলার জেল।
কালাপানি - যেখানে মানুষ জীবন্ত কবর পেত
তখন আন্দামান ছিল পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন এক নরক। যাকে সেখানে পাঠানো হতো, ধরে নেওয়া হতো সে আর কখনো মূল ভূখণ্ডে ফিরবে না। 

শের আলীকে প্রথমে সেলুলার জেলে রাখা হলেও পরে তার ভালো আচরণের জন্য তাকে পোর্ট ব্লেয়ারের হোপটাউন এলাকায় কিছুটা খোলামেলা জায়গায় কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি কখনো বাবুর্চির কাজ করতেন, কখনো নাপিতের। এই স্বাধীনভাবে চলাফেরার কারণেই তিনি জেলের অন্য এক জগতের সাথে পরিচিত হন।

সেখানে তিনি দেখা পান ওয়াহাবি আন্দোলনের বন্দী, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের বেঁচে যাওয়া সৈনিক এবং বাংলার বিভিন্ন রাজনৈতিক বন্দীদের। তাদের মুখে তিনি শুনতেন কীভাবে ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষকে লুট করছে, কীভাবে মসজিদের আজান বন্ধ করা হচ্ছে, কীভাবে কৃষকের ফসল কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশদের সম্পর্কে তার যে ক্ষোভ ছিল, তা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ থেকে হয়ে উঠল জাতীয় চেতনা। তিনি বুঝতে পারলেন, তার শত্রু শুধু একজন নয়, পুরো ব্রিটিশ শাসন।

তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন, যেন মৃত্যুর আগে দেশের জন্য বড় কিছু করে যেতে পারেন।
লর্ড মেয়ো - অহংকারের প্রতীক
অন্যদিকে, ১৮৬৯ সালে ভারতের ভাইসরয় হয়ে আসেন লর্ড মেয়ো, পুরো নাম রিচার্ড সাউথওয়েল বোর্ক। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অহংকারী, কঠোর এবং আয়ারল্যান্ডে কৃষক বিদ্রোহ দমনে কুখ্যাত একজন শাসক।

তিনি ঠিক করলেন আন্দামানের জেল ব্যবস্থা কতটা উন্নত হয়েছে তা তিনি নিজে পরিদর্শন করবেন। তার এই সফর ছিল মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি প্রদর্শনের সফর।

১৮৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বিশাল লটবহর নিয়ে আন্দামানে আসেন। তার সাথে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা, গভর্নর, পুলিশ প্রধান। চারপাশে কড়া নিরাপত্তা।
৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭২ - সেই সন্ধ্যা
সারাদিন ধরে তিনি মাউন্ট হ্যারিয়েট পাহাড়, রস দ্বীপ এবং বিভিন্ন কয়েদি স্টেশন পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি জেটিতে ফিরে আসেন। তার স্ত্রী লেডি মেয়ো জেটির কাছেই একটি স্টিম বোটে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

সূর্য ডুবে গেছে, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু মশালের আলো জ্বলছে। ভাইসরয় জেটি দিয়ে বোটের দিকে হাঁটছেন। তার দুই পাশে দুইজন উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ অফিসার, পেছনে সশস্ত্র দেহরক্ষী।

আর ঠিক সেই অন্ধকারের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শের আলী। তিনি আগে থেকেই জানতেন আজ বড়লাট আসবে। তিনি তার লুঙ্গির ভাঁজে একটি ধারালো ছুরি এবং একটি নাপিতের ক্ষুর লুকিয়ে রেখেছিলেন।

নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেদ করে তিনি বাঘের মতো লাফিয়ে পড়লেন লর্ড মেয়োর উপর। কেউ কিছু বোঝার আগেই তিনি উপর্যুপরি দুবার আঘাত করলেন। একটি আঘাত পিঠে, আরেকটি ঘাড়ে। এতটাই গভীর ছিল আঘাত যে লর্ড মেয়ো আর্তনাদ করে অগভীর পানিতে পড়ে গেলেন।

মুহূর্তের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে গেল। রক্ষীরা শের আলীকে ধরে ফেলল এবং মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর শুরু করল। লর্ড মেয়োকে রক্তাক্ত অবস্থায় তুলে বোটে নেওয়া হলো, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বোটেই তার মৃত্যু হয়।

ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম, একজন কর্মরত ভাইসরয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভারতীয় প্রতিনিধি, একজন ভারতীয়ের হাতে নিহত হলেন।
জবানবন্দি ও শাহাদাত
ধরা পড়ার পর যখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো, তিনি একটুও ভয় পাননি। ব্রিটিশ বিচারক যখন জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কেন তাকে হত্যা করলে?"

শের আলী অত্যন্ত শান্ত গলায় জবাব দিয়েছিলেন, "আমি অনেক দিন ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম, যেন আমি কোনো বড় কাফেরকে মারতে পারি। আল্লাহ আজ আমার দোয়া কবুল করেছেন। আমি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জন্য মারিনি, আমি আমার দেশের শত্রুকে মেরেছি। এটা খোদার হুকুম ছিল।"

ব্রিটিশরা ভেবেছিল এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে। কিন্তু তদন্তে কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি একাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এরপর কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র এক মাসের মধ্যে বিচার শেষ করা হয়। ১৮৭৩ সালের ১১ মার্চ আন্দামানের ভাইপার দ্বীপে তাকে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কেন আমরা তাকে মনে রাখিনি?
আজ আমাদের পাঠ্যবইয়ে আমরা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের গল্প পড়ি, যিনি পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবে হামলা করে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমরা ক্ষুদিরাম বসুর গল্প পড়ি, যিনি কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে ভুল করে দুজন নিরপরাধ ইংরেজ নারীকে মেরে ফেলেছিলেন।

তাদের আত্মত্যাগ অবশ্যই শ্রদ্ধার যোগ্য, তাদের সাহস নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু তারা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে সফল হতে পারেননি।

অথচ শের আলী আফ্রিদি, যিনি সফল হয়েছিলেন, যিনি করে দেখিয়েছিলেন যা আর কেউ পারেনি, তাকে আমরা ভুলে গেছি। কারণ কি তিনি মুসলিম ছিলেন বলে? কারণ কি তিনি পাঠান ছিলেন বলে? নাকি কারণ ব্রিটিশদের লেখা ইতিহাসে ইচ্ছা করেই একজন মুসলিম বীরকে জায়গা দেওয়া হয়নি, আর স্বাধীনতার পরেও আমরা সেই ব্রিটিশদের লেখা ইতিহাসই আঁকড়ে ধরে আছি?

এটাই আমাদের বড় ব্যর্থতা। আমরা আমাদের নিজেদের স্বর্ণালী ইতিহাস জানি না, আর যে ইতিহাস আমাদের জানানো হয়, তা অর্ধেক সত্য আর অর্ধেক মিথ্যা।

তথ্যলিপি
#simantosokun

Saturday, September 5, 2026

সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ


মুসলিমরা দক্ষিন এশিয়া শাসন করেছে ৮০০ বছরেরও অধিক। কিন্তু একমাত্র বাংলা ছাড়া এর আশেপাশে আর কোথাও মুসলিম মেজরিটি নেই। ১৮৮১ সালের গননায় ধরা পরে বাংলা মুসলিম মেজরিটি। বাংলায় ৯৯% ই ধর্মান্তরিত মুসলিম, যাদের পুর্ব পুরুষ এক সময় হিন্দু বা বৌদ্ধ ছিলো। কারোর মনে কি আসে না সারা ভারতের এতোগুলো রাজ্যের মধ্যে বাংলা কিভাবে মুসলিম মেজরিটি হল? কি ছিলো সে একটা আসল ফ্যাক্টর যার জন্য হিন্দু বাংলা মুসলিম বাংলায় রুপান্তর হলো?
.
এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে একজন ব্যাক্তি। রাজা গণেশের পুত্র যদু তথা জালালউদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ। রাজা গনেশ ছিলো হিন্দু জমিদার। সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের শাসন আমলে সে অনেক প্রতাপশালী হয়ে উঠে এবং ছলচাতুরির মাধ্যমে সুলতানকে হত্যা করে ক্ষমতা নেয়। তার শাসনামলে মুসলিম সুফি ও আলেমদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হতে থাকে। গনেশ ধর্মীয় বিদ্দেষ এর কারনে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ ভেংগে দেয়। অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বাংলার বিখ্যাত সুফি সাধক নূর কুতুবুল আলম তখন জৌনপুরের সুলতান ইব্রাহিম শর্কীকে বাংলা আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান। এই চরম সংকটের মুহূর্তে রাজা গণেশ আপস করতে বাধ্য হন। সুফি সাধক শর্ত দেন গনেশকে মুসলিম হতে হবে। গনেশ বলে এই বুড়ো বয়সে সে পাপ করতে পারবে না। তখন গনেশ তার পুত্র যদুকে জোর করে মুসলিম বানায় এবং পাপেট হিসাবে ক্ষমতায় বসায়। ইব্রাহিম শার্কি চলে গেলে গনেশ আবার ক্ষমতা নিয়ে আগের রুপে আসে এবং আবারও মুসলিমদের উপর অত্যাচার শুরু করে।
.
যদুকে আবারও হিন্দু বানানোর জন্য সে স্বর্নের গরুর মুর্তি বানিয়ে যজ্ঞ করে। কিন্তু এইবার যদু বেকে বসে। সে হিন্দু হতে অস্বীকার করলে গনেশ যদুকে জেলে ঢুকিয়ে রাখে। বলা হয় বাংলায় অরাজের সুযোগে শক্তিশালি আমর্ত্যদের সাহায্যে যদু তার পিতার মৃত্যু হলে বাংলার ক্ষমতা নিজের আয়ত্বে নেয়। সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ নাম দিয়ে তার ১৭ বছরের ঐতিহাসিক বাংলা শাসনের শুরু করে। বাংলার সুলতানদের মধ্যে তিনিই প্রথম মক্কা ও মদীনায় অর্থ প্রেরণ করে সেখানকার খলিফার স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন। পিতা যত মসজিদ ভেঙ্গেছিল , তিনি তার দ্বিগুন মসজিদ তৈরি করেন।

প্রাচীন প্রবাদ রয়েছে, "যথা রাজা, তথা প্রজা"। রাজা গণেশের মতো প্রতাপশালী হিন্দু রাজার ছেলের স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ তৎকালীন হিন্দু সমাজে বিশাল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, রাজার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেসময় বহু উচ্চপদস্থ হিন্দু রাজকর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য, সামাজিক মর্যাদা লাভ এবং বর্ণপ্রথার প্রভাব থেকে মুক্ত হতে এই সময়ে ব্যাপক ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটে। জালালউদ্দিন কেবল ধর্ম পরিবর্তনই করেননি, তিনি বাংলার স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে ইসলামী প্রশাসনের এক চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তিনি ফার্সি ও আরবি ভাষার পাশাপাশি স্থানীয় বাংলা ভাষারও পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার এই স্থানীয়করণের নীতির কারণে সাধারণ হিন্দু-বৌদ্ধ কৃষক ও মজুর শ্রেণি মুসলিম শাসনকে নিজেদের শাসন বলে মেনে নেয়, যা সামাজিক স্তরে ইসলামের প্রসারকে আরও দ্রুত ও সহজ করে দেয়।
.
ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জেমস ওয়াইজ তার এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেংগল (১৮৯৪) বই তে উল্লেখ করেন "তার শাসনে বাংলায় যত মানুষ মুসলিম হয়, তা পরবর্তী ৩০০ বছরের চাইতেও বেশী" । গোটা দক্ষিন এশিয়াতে একমাত্র মুসলিম বাংলার পেছনে তার অবদান আছে।
.
Collected

শতশত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীকে হত্যা করেছিলো আওয়ামী লিগ আর ইন্ডিয়া যৌথভাবে


মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে  শতশত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীকে  হত্যা করেছিলো আওয়ামী লিগ আর ইন্ডিয়া যৌথভাবে। শরনার্থীদের রিলিফের টাকা আর বাংলাদেশকে বিকিয়ে দেয়ার ৭ দফা গোলামি চুক্তিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করেন জহির রায়হান। তখনো তিনি তা প্রকাশ করেননি। আওয়ামীরা ডকুমেন্টারির ব্যাপারে জেনে যায় এবং তা প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ আসতে থাকে।  ইতিমধ্যেই তার ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার গুমের শিকার হন।  জহির রায়হান নিশ্চয়ই জানতেন এই গুমের পেছনে কারা জড়িত। ভাইকে ফেরৎ পাওয়ার জন্য তিনি এই ডকুমেন্টারি প্রকাশের হুমকি দেন। তখন কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। দেশ চালায় ইন্ডিয়া। মিরপুর থানা ইন্ডিয়ান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।  থানা থেকে ফোন আসে ভাইকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ভাইকে ফেরৎ আনতে থানায় গিয়ে গুম হন জহির রায়হান।
সাগর-রুনি দম্পতি সাংবাদিক হিসেবে নিশ্চয়ই জানতেন পিলখানা হত্যাকান্ডের পেছনে কারা জড়িত। দেশপ্রেমিক হিসেবে এই রহস্য জনসমক্ষে আনার জন্য ডকুমেন্টারি তৈরি করেন। আর প্রকাশের আগেই আওয়ামী লিগ ও ইন্ডিয়ার অপকর্ম গোপন রাখতেই নৃশংসভাবে তাদের খুন করা হয়।
কপি

Facebook Meta
#Jahirraihan #sagarruni #AwamiLeague #AwamiLeague  #KillerHasina

Saturday, August 29, 2026

The main reason why Pakistan lost in 1971


Question: 
One of the reasons why #Pakistan lost in 1971 was the distance from #Bangladesh to the main Pakistan. If #India attacks us this time, how will Pakistan overcome that distance barrier, meaning what is their military strategy this time?

Answer: 

The main reason why Pakistan lost in 1971 was not distance. Pakistan lost due to the rebellion of the East Bengal Regiment and EPR. Pakistan created the EPR and East Bengal Regiment to protect East Pakistan. Those two forces, instead of protecting East Pakistan in 1971, started a proxy war on behalf of India. 

When the soldiers of their own army kill their commanding officer and rape his 8-month-old pregnant wife, then no army in the world can win a war. When an officer of their own air force renders his subordinate student unconscious with chloroform, kidnaps the student and hijacks the plane, then even the most powerful air force in the world is bound to collapse. 

The ratio of Bengalis and West Pakistanis at the pilot level of the Pakistan Air Force was about 40 vs 60. After the Matiur Rahman incident, the Pakistan Air Force did not dare to give planes to any Bengalis. As a result, it could not fly skilled pilots and planes like Saiful Azam. When the best pilots of its own air force have to be kept in place, then the war cannot be won. 

The Mecca Agreement will work only if the Bangladesh Army and the BGB resist. But it turned out that at the beginning of the war, these two forces sided with India like in 71, then no agreement will work. If the East Bengal Regiment and EPR had not rebelled, Pakistan would not have lost in 71.

প্রশ্নঃ 
একাত্তরে পাকিস্তান হেরে যাবার অন্যতম কারণ মূল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের দুরত্ব। এবার যদি ভারত আমাদের আক্রমণ করে, তাহলে পাকিস্তান কীভাবে সেই দুরত্বের বাঁধা অতিক্রম করবে, মানে তাদের এবারের সামরিক স্ট্রেটেজিটা কী?

উত্তরঃ 

৭১ সালে পাকিস্তানের হেরে যাবার প্রধান কারণ  দূরত্ব ছিল না। পাকিস্তান  হেরেছিল ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট ও ইপিআর এর বিদ্রোহের কারণে। পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য পাকিস্তান ইপিআর আর ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট তৈরি করেছিল। সেই দুই বাহিনী ৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করার বদলে নিজেরাই ভারতের হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করে। 

যখন নিজ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা তাদের কমান্ডিং অফিসারকে হত্যা করে, তার ৮ মাস বয়সী প্রেগন্যান্ট স্ত্রীকে রেপ করে, তখন দুনিয়ার কোন সেনাবাহিনীর পক্ষেই যুদ্ধে জেতা সম্ভব না। যখন নিজ বিমান বাহিনীর অফিসার তার অধঃস্থন ছাত্রকে ক্লোরোফরম দিয়ে অজ্ঞান করে, ছাত্রকে অপহরণ করে এবং বিমান ছিনতাই করে, তখন দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীও ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য। 

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাইলট পর্যায়ে বাঙ্গালি আর পশিম পাকিস্তানির অনুপাত ছিল প্রায় ৪০ বনাম ৬০। মতিউর রহমানের ঘটনার পরে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী আর কোন বাঙ্গালীকে বিমান দেবার সাহস করছিল না। ফলে সাইফুল আজমের মত দক্ষ বৈমানিক ও বিমান উড়াতে পারে নাই। যখন নিজ বিমান বাহিনীর সেরা পাইলটকে বসিয়ে রাখতে হয়, তখন যুদ্ধে আর জেতা যায় না। 

মক্কা চুক্তি তখনই কাজে দিবে যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি প্রতিরোধ করবে। কিন্ত দেখা গেল যুদ্ধ শুরুর সময়ে এই দুই বাহিনী ৭১ এর মত করে ভারতের পক্ষে চলে গেল, তাহলে কোন চুক্তি কাজে দিবে না। যদি ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট ও ইপিআর বিদ্রোহ না করত, তবে পাকিস্তান ৭১ সালে হারত না।